নীলাঃ আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে রে ।
আমি ভাবছি নীলা মজা করতেছে । কারন নীলা অনেক সময় আমার সাথে মজা করে । তাই বললাম,,,,,
আমিঃ তুমি কি কখনো সিরিয়াস হবে না ।
নীলাঃ রকি আমি সত্যিই বলছি ।
আমিঃ হোয়াটটট কি বলছো তুমি ।
নীলাঃ এখন আমি কি করবো । আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না । প্লিজ তুমি কিছু একটা করো । আমি কিছু জানি না । আমি শুধু তোমাকে চাই ।
বলেই নীলা অনেক কান্না করতে লাগলো । ওর কান্না দেখে আমারো অনেক কান্না আসছে । আমি নীলাকে বললাম,,,,,,
আমিঃ প্লিজ নীলা তুমি কান্না করো না । তুমি তোমার বাবাকে জানাও যে তুমি আমাকে ভালোবাসো ।
নীলাঃ কি বলছো তুমি পাগল হয়ে গেছো । বাবা এমনিতেই প্রেমের বিয়েতে বিশ্বাসী না । তোমার কথা বললে আমাকে মেরেই ফেলবে । আমি বলতে পারবো না । তুমি কিছু একটা করো প্লিজ ।
আমিঃ আচ্ছা কিছু চিন্তা কইরো না । আমাকে কিছু সময় দাও । আমি কিছু একটা করছি ।
নীলাঃ ঠিক আছে ।
তারপর আমি নীলার কথা আমি আমার পরিবারে জানালাম । নীলার সমস্যার কথা জানালে প্রথমে রাজি না হলেও পরে আমার মুখের তাকিয়ে তারা রাজি হয় ।
আমি নীলাকে পালিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেই । তারপর নীলাকে ফোন করলাম ।
নীলাঃ হ্যালো বলো কি ভাবলে ?
আমিঃ নীলা আমার ফ্যামিলিকে আমি রাজি করিয়েছি । তুমি কি আমার সাথে পালিয়ে আসতে পারবে ।
নীলা অনেক্ষন চুপ থাকে । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ কি হলো নীলা কথা বলো ।
নীলাঃ আচ্ছা ঠিক আছে । কিভাবে কোথায় আসতে হবে বলো ।
আমিঃ আমি কুষ্টিয়া স্টেশনে গিয়ে থাকবো । তুমি শুধু তোমার বাসা থেকে স্টেশন অবধি আসবে ।
নীলাঃ আচ্ছা ঠিক আছে । কালকেই পালাবো ।
আমিঃ ওকে । তাহলে রেডি থেকো ।
নীলাঃ হুমম । ওইই শুনো না ।
আমিঃ হুমম বলো ।
নীলাঃ ভালোবাসি অনেক । কখনো ভুল বুঝো না ।
আমিঃ আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি নীলা । দেখা হচ্ছে স্টেশনে ।
নীলাঃ হুমম ।
তারপর খুশি মনে ফোন রেখে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম । কারন পরের দিন কুষ্টিয়া যেতে হবে । অনেক কাজ ।
পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়ে নাস্তা করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । রাস্তা যেন শেষ ই হচ্ছে না । কখন যে আমার প্রিয় মানুষ টার সাথে দেখা হবে ।
আমি শুধু ছটফট করছি । পাশের সিটে বসে থাকা মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললো,,,,,,,,,,,,,
মেয়েটিঃ কি হয়েছে ভাইয়া । আপনি এরকম করছেন কেন ?
আমিঃ আজকে আমি অনেক এক্সাইটেড ।
মেয়েটিঃ কেন ভাইয়া ।
আমিঃ আমি আমার প্রিয় মানুষ টার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি ।
মেয়েটিঃ ওহহ লাভ স্টোরি ।
আমিঃ হুমম (বলে হালকা হাসলাম)
মেয়েটিঃ আর আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে । আপনি কি গল্প লিখেন ।
আমিঃ হুমম ।
মেয়েটিঃ আপনি কি রকি ভাইয়া ।
আমিঃ হুমম ।
মেয়েটিঃ ভাইয়া আমি নিশাত । আপনার অনেক বড় ফ্যান । আমি আপনার সব গল্পই পড়ি । ধন্যবাদ ভাইয়া এতো সুন্দর গল্প লেখার জন্য ।
আমিঃ থ্যাংক ইউ ।
নিশাতঃ ভাইয়া কিছু মনে না করলে একটা সেলফি নিতে পারি ।
আমিঃ হুমম ।
তারপর নিশাত আমার সাথে সেলফি তুললো । আর আমি শুধু ছটফট করছি । তারপর নিশাত বললো,,,,,,
নিশাতঃ ভাইয়া আপনার লাভ স্টোরি টা শুনতে পারি । সময় তো অনেক আছে ।
আমিও কোনো কাজ না পেয়ে নিশাত কে আমার লাভ স্টোরি শুনিয়ে দিলাম । তারপর নিশাত বললো,,,,,
নিশাতঃ ওয়াও ভাইয়া । অনেক সুন্দর । কে সেই ভাগ্যবতি মেয়ে । আমিও তাকে দেখতে চাই ।
আমিঃ আচ্ছা দেইখেন ।
নিশাতের সাথে কথা বলতে বলতে কুষ্টিয়া স্টেশনে পৌছে গেলাম । স্টেশন থেকে নেমে হাত মুখ ধুয়ে নিলাম । নিশাত আমার সাথেই ঘুরতেছে । বলছে নীলাকে দেখে গল্পের পূর্ণতা দেখেই যাবে ।
আমিও ওকে কিছু বলছি না যেহেতু আমার পাঠিকা । অনেক্ষন ধরে স্টেশনে দাড়িয়ে আছি । তারপর নীলাকে ফোন দিলাম,,,,,
আমিঃ হ্যালো ।
নীলাঃ হুমম বলো ।
আমিঃ তুমি কই । আমি তো স্টেশনে আসছি ।
নীলাঃ আচ্ছা থাকো আমি বেরিয়ে পড়েছি । তুমি থাকো ।
আমিঃ বাসায় কি বলেছো ।
নীলাঃ বলেছি আমার ক্লাস আছে ।
আমিঃ ওকে আসো ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলাম । মনে অনেক আনন্দ হচ্ছে সাথে অনেক ছটফট ও করছে । কেন করছে জানি না । হয়তো ওকে সামনা সামনি দেখবো তাই ।
এমন সময় নিশাত এসে বললো,,,,
নিশাতঃ ভাইয়া নীলা আপু কই ।
আমিঃ আসতেছে ।
নিশাতঃ ওকে ।
তারপর আমি আর নিশাত অনেক্ষন গল্প করলাম । প্রায় ঘন্টা খানেক কেটে গেল । নীলা এখনো আসলো না । নিশাত বললো,,,,,,
নিশাতঃ ভাইয়া কই আসতেছে না তো । একটু ফোন করেন না । আমাকে তো আবার যেতে হবে ।
আমিঃ হুমম ।
তারপর নীলা কে ফোন করলাম । ফোনের ওপাশ থেকে একটা মেয়ে বলতেছে,,,,
"""আপনি যে নাম্বারে ফোন করেছেন সেটা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে""""
চলবে,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
পাঁচ বছর পর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
264
Views
17
Likes
0
Comments
5.0
Rating