মায়াজাল

মায়াজাল
গল্প: মায়াজাল
লেখেক: হাসিব_আল_আকাশ
পর্ব: 2

আকাশ তখন আজকের সব ঘঠনা সুচিন্তকে বলে, সব শুনে সুচিন্ত যা বলে এতে আকাশের চুল দাড়িয়ে যায়, নিজের কানকে সে বিশ্বাস করতে পারে না

সুচিন্ত: আমিতো এতদিন ভেবেছিলাম এটা CPH4 এর জন্য তুমি শপ্ন দেখেছো কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে এই ড্রাগটার জন্য তোমার গত জন্মের কথা মনে পরেছে

আকাশ তখন কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না, আকাশ তখন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে

আকাশ: এটা কি সম্ভব?

সুচিন্ত: হ্যা হয়তো সম্ভব, কারণ আমাদের দেহের মৃত্যু হয় কিন্তু আমাদের আত্মার মৃত্যু হয়না আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে ঘুরে বেড়ায়, আর আমার মনে হচ্ছে তোমার পূর্বজন্মের কথা মনে পরেছে

(CPH4 হচ্ছে যখন কোনো মহিলা গর্ভবতী হয় তখন তার শরীলে খুবি সামান্য পরিমাণে CPH4 সৃষ্টি হয় আর এটি গর্ভবতী মহিলার পেটের বাচ্চার মস্তিষ্ক আর হাড় ঘঠনে সহায়তা করে এবং এটি বাচ্চাটির শরীল ঘঠনেও সহায়তা করে, গতবছর এই CPH4 ড্রাগের কৃত্রিম সংস্করণ আবিষ্কার হয় আর আকাশ এটি একমাস আগে সেবন করে আর তার পরে থেকেই তার এই শপ্ন দেখার শুরু, আকাশ মাত্রা অতিরিক্ত সেবন করে যার ফলে আকাশের মস্তিষ্ক ফাস্ট চলতে শুরু করে, আর তার পূর্বজন্মের কথা মনে পরে)

আকাশ ব্যাপারটা হজম করতে পারে না,

আকাশ: এটা কি সম্ভব?

সুচিন্ত: হ্যা অবশ্যই সম্ভব, আমাদের জনার বাহিরেও অনেক কিছু আছে, সাইন্স ফিক্সেশনের মতে সবই সম্ভব

আকাশ: তাহলে এখন কি করণীয়?

সুচিন্ত: তুমি খুব লাকি তুমি তোর গত জন্মের কথা মনে করতে পারছো

আকাশ: আমার দরকার নেই এইসব গত জন্মের কথা মনে করার, আমি কীভাবে সুস্থ হবো সেটা দেখুন

সুচিন্ত: আমি তোমাকে কিু ঔষধ লিখে দিচ্ছি সে গোলা খাও আর যদি কিছু মনে পরে তাহলে জানাবে


আকাশ ডাক্তারের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে

সবকিছু তার এলোমেলো লাগছে, কেন আমার সাথেই এমন হচ্ছে? কেন?
আকাশ ডাক্তারের কেবিন থেকে বেরিয়ে চলে যায় একটা বারে মানিক চিন্তা মুক্তির জন্যই যায় সেখানে, আকাশ নেষা খুব কমই করে সেদিন CPH4 খেয়েছিল কারণ সে মাতৃগর্ভের কথা মনে করতে চাইতো তাই সে এই ড্রাগটি সেবণ করেছ

কিন্তু মাত্রা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে তার এখন এই দশা, আকাশ নিজেকেই নিজে দোষারোপ করতে থাকে আর বারে গিয়ে অনেক বেশি ড্রিক করে ফেলে যার জন্য সে গাড়ি চালাতে পারছিলো না, চোখে মুখে সবকিছু ঝাপসা দেখে সে, গাড়ি সামলাতে না পেরে সে গাড়িটি একটা দেয়ালে ঠুকে দেয় তারপর আকাশ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,
জ্ঞান ফিরতেই সে দেখতে পায় সে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে বেড থেকে সে উঠে বসে, আর গতকাল রাতে কথা মনে করতে চায় তার কিছুই মনে পরছে না ড্রিং করার পর কি হয়েছে তার সাথে আকাশের কিছুই মনে নেই,
আকাশের জ্ঞান ফিরেছে দেখে নার্স বলে

নার্স: আপনি শুয়ে পড়ুন আপনি এখনো সুস্থ হয় নি,

আকাশ নার্সের কাছে জানতে চায় তার কি হয়েছে? নার্স তাকে জানায় কালকে নাকি তার এক্সিডেন হয়েছে আর একটি মেয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে

আকাশ: কে নিয়ে এসেছে তার নাম জানেন?

নার্স: না, তবে আপনার বোন বাহিরে আছে সে হয়তো কিছু জানে

আকাশ তখন তার বোনকে ডেকে পাঠা তার কেবিনে আসতে

ঐ দিকে

বৃষ্টি হাসপাতালের করিডরের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে
নার্স তখন তাকে এসে জানায় তার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরেছে তখন বৃষ্টি তার ভাইয়ের কেবিনে যায়

বৃষ্টি: ভাইয়া এখন কেমন আছিস তুই?

আকাশ: হুম ভালো, আচ্ছা কে গতকাল রাতে আমাকে হাসপাতালে এনেছে জানিস?

বৃষ্টি: নীলা

বৃষ্টির মুখে নিলা নামটি শুনে আকাশ খুব ঘাবড়ে যায়

বৃষ্টি: ভাইয়া কি হয়েছে?

আকাশ: নাহ কিছুনা, তুই অফিসে যাস নি?

বৃষ্টি: তোর এই অবস্থায় আমি অফিসে যাব তুই কীভাবে ভাবলে?

আকাশ: গতকাল রাতে আমার কীভাবে এক্সিডেন্ট হয়েছিল কিছু জানিস?

বৃষ্টি: তোর কি গতকাল রাতে কথা কিছুই মনে নেই?

আকাশ: না!

বৃষ্টি: তুই নাকি দেয়ালের সাথে গাড়ি ঠুকে দিয়েছিস, তোর ভাগ্য ভালো নীলা তোকে দেখেছিল, সেই তোকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে,

আকাশ: কে আমাকে হাসপাতালে এসেছে?

বৃষ্টি: নীলা!

আকাশ: কালকে যে আমাদের অফিসে ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল সে?

বৃষ্টি: হুম

আকাশ তখন আবার শক খায়, আকাশ তখন বৃষ্টিকে বলে তুই বাহিরে যা আমাকে একটু একা থাকতে দে,
বৃষ্টি চলে যায়, আকাশ তখন একা বসে আছে তার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সত্যি কি পূর্ব জন্ম বলে কিছু আছে? আকাশের তখন মাথা ব্যাথা শুরু করে, অতিরিক্ত চিন্তার ফলে তার মাথা ব্যাথা শুরু করে আর সে বেড থেকে নিচে পরে যায়, মাথাটা খুব ভারী লাগছে তার এই অবস্থায় নার্স তাকে দেখে ফেলে আর তারাতাড়ি ডাক্তারকে নিয়ে আসে আর ডাক্তার তাকে ঘুমের ডোজ দেয় আর আকাশ ঘুমিয়ে পরে

কোনো এক নদীর পারে বসে আছে মায়া আর আদিত্য,
আদিত্যর মাথায় কাধ রেখে বসে আছে মায়া, জায়গাটা কোথায় জানে না আকাশ আর মায়ার হাতটা ধরে বলছে

মায়া: আদিত্য কত সুন্দর দৃশ্য না?

আদিত্য: তোমার থেকে সুন্দর না

মায়া: যাও তুমি সবকিছুই বড়িয়ে বাড়িয়ে বলো ( লজ্জা পেয়ে )

আদিত্য তখন তার পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা পায়েল বের করে
আদিত্য: এটা তোমার জন্য

মায়া: তুমি পরিয়ে দাও ( লজ্জা পেয়ে )

আদিত্য তখন মায়াকে পরিয়ে দেয় আর পেছে থেকে কেউ একজন তাদের দেখে কিন্তু কে সেটা বুঝা যাচ্ছে না

লোকটা এগিয়ে এসে আদিত্য কে পানিতে ফেলে দেয়
আর তখন-ই আকাশেে ঘুম ভেঙে যায়
লাফিয়ে উঠে বসে সে, এ কি হচ্ছে আমার সাথে কেন হচ্ছে এসব দেখার কারণ CPH4? আমার এই ড্রাগটি নেয়া উচিত হয়নি,
আকাশ বসে এসব ভাবতে থাকে আর তখন কেবিনে ডাক্তার আসে

ডাক্তার: এখন কেমন বোধ করছেন?

আকাশ: ভালো, আমি কবে ছাড়া পাব?

ডাক্তার: তোমাকে কিছু টেস্ট করে বিকেলেই ছেড়ে দিব

আকাশ: আচ্ছা

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সে চলে যায় বাসায়

রাতে খাবার টেবিলে

মা: এই সবাই চলে আসো খাবার রেডি

বৃষ্টি নিচে এসে বসে পরে

মা: কিরে তোর ভাই কই?

বৃষ্টি: মনে হয় রুমে

যা ওকে নিয়ে আয়

বৃষ্টি তখন আকাশের রুমে আসে, আকাশ লেপটপে বসে কাজ করছে

বৃষ্টি: ভাইয়া মা তোকে খেতে ডাকছে আয় নিচে আয়

আকাশ: আমি খাব না তুই যা

বৃষ্টি: খাবি না মানে নিচে চল বলছি

বৃষ্টি আকাশের হাত ধরে টানতে টানতে নিচে আনে

মা: বাবা এখন কেমন বোধ হচ্ছে তোর?

আকাশ: হুম ভালোই

মা: তোর সুন্থ হওয়াতে কাল বাড়িতে পূজো রেখেছি কালকে বাড়িতে থাকবি

আকাশ: মা তুমি তো জানোই আমি এসব পূজা ঠাকুরে বিশ্বাস করি না, পূজো রেখেছো ভালো কথা আমাকে এর মাঝে টেনো না

মা: তোর সুস্থ হওয়ায় এই পূজো রেখেছি তুই থাকনা

আকাশ: না মা সরি থাকতে পারবো না, আমার অফিসে অনেক কাজ পরে আছে

মা: তোর দাদা একটু বুঝা তো

বৃষ্টি: মা ও যখন পূজোতে থাকতে চাইছে না তাহলে থাক

মা: তুই তো তোর ভাইকেই সাপোর্ট করবি ভাইের নেওটা না

আমরা তখন হেসে দিলাম

বৃষ্টি: মা ভাইয়াকে বিয়ে দিয়ে দাও বৌদি এসে ওর বিশ্বাস বদলে দিবে

আকাশ: মুখ বন্ধ করে খা এত কথা বলছিস কেন?

বৃষ্টি: মুখ বন্ধ করে খাওয়া যায় নাকি?

আকাশ: চুপচাপ খা

বৃষ্টি: ভাইয়া বিয়েটা করে নে নতুন বৌদি আসবে আমারও গল্প করার সঙ্গী হবে

আকাশ: তোর বুঝি গল্প করার অভাব?

বৃষ্টি: হুম অভাব ই তো

আকাশ: আগে মনের মতো কাউকে পাই তারপর

বৃষ্টি: কত মেয়ে তোর জন্য ফিদা, তুই তো পাত্তা দিস না

আকাশ: ওদের মনের মতো লাগেনি তাই

বৃষ্টি: তারাতাড়ি তোর মনের মতো একটা মেয়ে খুঁজে নে আমি বৌদির মুখ দেখতে চাই😑

আকাশ: চুপ করে খেতে পারলে খা, এত কথা বললে খাবি কখন?

তখন তাহারা চুপচাপ খেয়ে নেয় রুমে এসে তার লেপটপ নিয়ে বসে অনলাইনে পর্ণজন্মের পোস্ট নিয়ে ঘাটাঘাটি করে সে জানতে পারে ওদের ধর্মে পূণজনম নিয়ে অনেক কিছু লিখা আছে, সে সব পড়ে

আকাশ ডাক্তার সিচিন্তকে কল দেয়

ডাক্তার: হ্যালো

আকাশ; হ্যালো স্যার আপনি ফ্রী আছেন?

ডাক্তার: হুম বলো

আকাশ তখন দুপুরের শপ্নের ব্যাপারে বলে সব শুনে ডাক্তার বলে

ডাক্তার: যখন তোমার এই ঘঠনাটা মনে পড়েছে তাহলে সব মনে পড়বে একটু সময় নাও, আর মানুষিক চিন্তা করবে না, তাহলে তোমার সমস্যা হবে, আর এই ঔষধ গোলো ঠিকঠাক ভাবে খাবে কেমন

আকাশ: আচ্ছা

কল রেখে সে ঘুমাতে যায় সকালে অফিসে যেতে হবে,
সে বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকে ঘুম আসছে না, হয়তো মানুষিক টেনশনে অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করে সে একটা সময় ঘুমিয়ে পরে


চলবে
22 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

সকল পর্ব

মায়াজাল
পর্ব 1 13-Sep-2024
0
0
0.0