সেদিন দুপুর বেলা হঠাৎ আম্মু হাঁপাতে হাঁপাতে আমার রুমে এসে হাজির । আমি আম্মুর এই অবস্থা দেখে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ কি হয়েছে আম্মু এরকম করছো কেন ?
আম্মুঃ মিম,মি...ম
আমিঃ মিম । কি হয়েছে মিমের । তাড়াতাড়ি বলো ।
তারপর আম্মু যা বললো তা শুনে পা থেকে মাটি সরে গেল । কারন আম্মু বললো,,,,,
আম্মুঃ মিম আ*ত্ম*হ*ত্যা করার চেষ্টা করেছে । ও হাতের শিরা কে*টে ফেলছে । এখন হাসপাতালে আছে । তোর মামা ফোন করেছিল ।
আমার মাথা চক্কর দিতে লাগলো । মিম এসব কেন করেছে । তাড়াতাড়ি করে হসপিটালের উদ্দেশ্যে আমি আর আম্মু রওনা করলাম ।
আজকে মনে হয় রাস্তাও শেষ হচ্ছে না । মিম কে অনেক দেখতে ইচ্ছে করছে । অবশেষে আমরা হসপিটালে পৌছে গেলাম ।
গিয়ে দেখি মামি কান্না করছে । আম্মুকে দেখে আরো বেশি কান্না করতে লাগলো । আর মামা এসে কোনো কথা না বলেই,,,,,
মামাঃ ঠাসসসসসস ঠাসসসসসসস
হ্যাঁ মামা আমার গালে দুইটা চড় বসিয়ে দিলো । আমি অবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইলাম । তারপর মামা আমার কলার ধরে বললো,,,,,,,
মামাঃ তোর জন্য আমার মেয়েকে ম*র*তে হবে হুমম । বল কেন এটা করলি । আজ তোর জন্যই আমার মেয়েটা আ*ত্ম*হ*ত্যা করতে গিয়েছে ।
আমি কিছুই বলছি না শুধু ভাবছি মামা এগুলো জানলো কি করে । মিম কি বলে দিয়েছে । মামা আবার বললো,,,,,,
মামাঃ কি রে কথা বলিস না কেন ।
আমিঃ না মানে মামা ।
মামাঃ চুপ কর । তুই আমাকে মামা বলে মনেই করিস না । তা না হলে এরকম কাজ কিভাবে করতে পারলি ।
আমিঃ না মানে আমি......
পুরো কথা বলার আগেই মামা আবার বললো,,,,,,,
মামাঃ আমাকে একবার তোদের সম্পর্কের কথা বলতে পারতি তো । আমি কি না করতাম । আমি তো আরো অনেক খুশি হতাম । কারন ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকবে । আমি তোকে দেখার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে তোদের বিয়ে দিবো । কিন্তু আপাকে জানাতে পারি নি । তার আগেই আমার মেয়েটা এরকম করলো । মিম ও আমাকে কিছুই জানায় নি । তোরা যেদিন শেষ কথা বলেছিলি আসার আগে । আমি সব শুনেছিলাম । (কান্না করে)
আমি মামাকে শান্তনা দিতে লাগলাম । তখনই ডাক্তার বেরিয়ে এলো । মামা বললো,,,,,
মামাঃ কি খবর ডাক্তার আমার মেয়েটার কি অবস্থা ।
ডাক্তারঃ সময় মতো নিয়ে আসাতে She is out of danger.
আমিঃ ধন্যবাদ ডাক্তার ।
ডাক্তারঃ ধন্যবাদ আমাকে না । আল্লাহ্ কে দিন । আর আপনাদের মধ্যে রাকিব কে ।
আমিঃ আমি ।
ডাক্তারঃ রোগী আপনার সাথে দেখা করতে চায় ।
তারপর আমি মিমের কেবিনে ঢুকলাম । তারপর মিমের কাছে গিয়ে ওর কপালে আলতো একটা চুমু দিলাম । তারপর বললাম,,,,,,,
আমিঃ মিম এসব পা*গ*লা*মি*র মানে কি ?
মিমঃ আমি তো আগেই বলেছি তোমাকে ছাড়া আমার মৃ*ত্যু*তে*ই কম কষ্ট ছিলো । তুমি আমার না হলে এ জীবন রেখে কি করবো । তুমি শুধু আমারই । আর কারো না । তোমার উপর শুধু আমার অধিকার ।
আমিঃ আল্লাহ্ তোমার কথা শুনেছে । মামা আমাদের মেনে নিয়েছে ।
মিম অনেক খুশি হয়ে হাসি মুখে বললো,,,,,
মিমঃ সত্যিই ।
আমিঃ হুমম সত্যিই ।
মিমঃ তাহলে আমাকে জড়িয়ে ধরে আই লাভ ইউ বলো আর দশ টা কিস করো ।
আমিঃ এই যাও তো । এখানেও তোমার রোমান্স চাই ।
মিমঃ হ্যাঁ চাই । তুমি দিবা নাকি তাই বলো ।
তারপর আমি মিমের সব আবদার পূরণ করলাম । তারমধ্যেই মামা মামি আর আম্মু চলে এলো । এসেই আমাদের দেখে কাশি দিলো । আর আমি সাথে সাথে মিম কে ছেড়ে দিলাম ।
মামা তখনই বললো,,,,,,
মামাঃ আপা ওদের বিয়ে মনে হয় খুব তাড়াতাড়িই দিয়ে দিতে হবে ।
আম্মুঃ তুই যা ভালো মনে করিস ।
সাতদিন পর সুস্থ হয়ে মিমকে রিলিজ দেয়া হলো । এখন সে অনেকটাই সুস্থ । দুই পরিবারের মতেই আমাদের বিয়ে টা সম্পূর্ণ হয়ে গেল । আজ আমার বাসর রাত ।
তবে আজকে ভিতরে যেতে অনেক নার্ভাস ফিল হচ্ছে । তবুও পাঁচ কেজি সাহস নিয়ে রুমে প্রবেশ করলাম । তাকিয়ে দেখি মিম লম্বা ঘোমটা টেনে খাটের মাঝখানে বসে আছে ।
আমি তার পাশে যেতেই বললো,,,,
মিমঃ ওখানেই দাঁড়াও ।
আমি দাড়িয়ে পড়লাম । মিম খাট থেকে নেমে এসে আমার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো । আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ বেঁচে থাকো মা । স্বামী নিয়ে সুখে সংসার করো ।
মিমঃ কিহ আমি তোর মা (রাগি চোখে)
আমিঃ ওহহ সরি বউ ।
মিমকে বললাম,,,,,,
আমিঃ এসব ড্রেস চেঞ্জ করে অযু করে আসো ।
মিম কোনো কথা না বলে আমার কথা মতো ড্রেস চেঞ্জ করে অযু করে এলো । আমিও ওযু করে এসে দুইজন মিলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আমাদের সংসার জীবনের জন্য দোয়া করলাম ।
নামাজ শেষে মিম কে বললাম,,,,
আমিঃ মিম চলো ছাদে যাবে ।
মিমঃ হ্যাঁ । কিন্তু একটা শর্তে ।
আমিঃ কি বলো ।
মিমঃ আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে ।
আমি মিমকে কোলে তুলে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে যাচ্ছি । কোলে থাকা অবস্থায় মিম আমার গলায় ছোট ছোট চুমু এঁকে দিচ্ছে ।
ছাদে গিয়ে মিমকে দোলনায় বসিয়ে দিলাম । আমিও তার পাশে বসলাম । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ মিম আমি তোমার কোলে একটু মাথা রাখবো ।
মিমঃ ঠিক আছে রাখো ।
আমি মিমের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি । কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমি মিম কে বললাম,,,,,
আমিঃ মিম আজকের চাঁদটা দেখছো । কত সুন্দর ।
মিমঃ হুমম অনেক সুন্দর ।
আমিঃ তুমি কোন চাঁদের কথা বলছো ।
মিমঃ কেন আকাশের ওই চাঁদটা ।
আমিঃ কিন্তু আমি তো এই চাঁদের কথা বলছি (মিম কে দেখিয়ে)
মিমঃ ধ্যাত কি যে বলো ।
বলেই মিম আমার কপালে আলতো একটা চুমু দিলো । আমি বললাম,,,,
আমিঃ চুপচাপ শান্ত হয়ে থাকো তো । আমার চাঁদ টাকে একটু মন ভরে দেখতে দাও ।
এভাবে আরো কিছুক্ষণ মিমের সাথে গল্প করার পর মিম বললো,,,,,,
মিমঃ চলো এখন আমরা রুমে যাই ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
মিমকে আবার কোলে তুলে নিয়ে রুমে আসলাম । এসেই ওকে বিছানায় শুয়ে দিলাম । মিম আমার হাত টেনে বললো,,,,,,
মিমঃ কই যাও । শুনো না আমার একটা জিনিস দরকার । দিবে ?
আমিঃ বলো কি চাও ?
মিমঃ তোমার মতোই আমার একটা কিউট ছোট্ট রাকিব লাগবে । 🙈
আমিঃ তাহলে তো অনেক পরিশ্রম করতে হবে । আর কিউট ছোট্ট রাকিবকে ডাউনলোড করতে মিশনে নামতে হবে ।
মিমঃ তো নামো সমস্যা কি ।
তারপর লাইট অফ করলাম । আর কিছু দেখা যাচ্ছে না । আমি এখন ডাউনলোড করতে মিশনে নামছি গাইস । আমার জন্য দোয়া কইরেন ।
সমাপ্ত...
তুই আমারই
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
394
Views
21
Likes
4
Comments
4.9
Rating