মিম মনে হয় ভুলেই গেছিলো এখানে আমরা ছাড়া
অনেকই আছে। মিম খেয়াল করে সাথে সাথে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে দরলো।
আমি এই যে ভাই ও আপুরা যার যার কাজ করেন এভাবে কি দেখছেন??
তারপর সবাই অন্য দিকে তাকালো।
আমিঃ ছাড়ো এখন ফুচকার বিল দিতে হবে।
মিমঃ নাহ আমার অনেক লজ্জা করতাছে।
তারপর আমি পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে
ফুচকাওয়ালা মামাকে টাকা দিলাম সাথে
একটা ধন্যবাদ ও দিলাম। কারন উনার জন্যই আজ এমনটা হলো ।
তারপর লজ্জায় আর কারো সাথে কথা না বলে সেখান থেকে আমি আর রানা বাসায় চলে এলাম ।
বাসায় আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে । দরজায় কলিং বেল বাজাতেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো ।
তারপর যে যার রুমে চলে আসলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে রাতে সবাই একসাথে ডিনার করলাম । রাতে শোবার সময় হঠাৎ করেই আম্মু আমার রুমে এলো ।
আমি আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ কিছু বলবে আম্মু ।
আম্মুঃ হ্যাঁ ।
আমিঃ কি বলবে বলো আম্মু ।
আম্মুঃ দেখ বাবা তুই যেটা করছিস সেটা ঠিক না ।
আমিঃ আমি কি করলাম আম্মু কিছুই বুঝতেছি না । একটু বুঝিয়ে বলবে প্লিজ ।
আম্মুঃ আমি জানি তুই আর মিম একে অপরকে অনেক ভালোবাসিস । এতে আমার কোনো আপত্তি নেই । কারন আমি জানি মিম অনেক ভালো মেয়ে । কিন্তু তোর মামা কখনোই রাজি হবে না । কারনটা তো জানিস ই । তোর মামাদের তুলনায় আমরা গরীব । আর আমি পঁচিশ বছর এদের থেকে দূরে ছিলাম । অনেক কষ্ট পাইছি । আমি চাই না এসবের কারনে আবার আমরা দূরে চলে যাই । তুই আমাকে ভুল বুঝিস না বাবা । পারলে তুই মিমকে ভুলে যা । আর হ্যাঁ কালকে সকালে আমরা এখান থেকে চলে যাবো । রেডি থাকিস
বলেই আম্মু চলে গেল । আমি শুধু হতভম্ব হয়ে শুনেই গেলাম । কি বলবো বুঝতে পারছি না । কি করবো তাও জানি না । আমার সাথেই কেন এমন হয় ।
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না । খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করলাম । তারপর ফ্রেশ হয়ে সবাই মিলে নাস্তা করে নিলাম ।
এসে রুমে সব গুছিয়ে নিলাম । তারপর দেখি মিম আমার রুমে আসলো । অনেক মন খারাপ করে আছে । আমি মিমের দিকে তাকাতেই পারছি না ।
কিছুক্ষণ পর মিম দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করতে লাগলো । আর কান্না করতে করতে বললো,,,,,,,,
মিমঃ প্লিজ আমাকে এভাবে রেখে তুমি যেও না । আমি তোমাকে যেতে দিবো না ।
আমিঃ আরে পা*গ*লি এভাবে বলছো কেন । আমি তো তোমার জীবন থেকে একেবারে চলে যাচ্ছি না । শুধু এই বাসা থেকেই যাচ্ছি ।
আসলে ওকে ছেড়ে যেতে আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে । কিন্তু আমি কান্না করলে মিম আরো ভেঙে পড়বে । তাই ওকে বুঝতে না দিয়ে শান্তনা দিচ্ছি ।
তারপর মিম বললো,,,,,,,,
মিমঃ তুমি একেবারেই চলে যাচ্ছো আমি জানি সেটা । কালকে তোমার আর ফুপ্পির কথা সব শুনেছি আমি ।
মিম কিভাবে শুনলো । আর এখন আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না ।
আমিঃ প্লিজ এরকম করো না । মামা মামি দেখে ফেলবে ।
মিমঃ দেখলে দেখুক । আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না । আমাকে রেখে যেও না প্লিজ । আমি ম*রে যাবো । (অনেক কান্না করে)
ওর এসব কান্ড কারখানা দেখে আমার চোখ থেকে পানি ঝরছে । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ দেখো এমনিতেই মামা,,আম্মু পঁচিশ বছর দূরে সরে থেকে অনেক কষ্ট পাইছে । আবার যদি আমাদের এই ব্যাপারটা মামা জানে তাহলে আর কখনোই এই বাসাতে আসতে দেবে না । আর আম্মু মামা মামি সবাই আবার অনেক কষ্ট পাবে । আমি চাইনা আমাদের জন্য তাদের এই ভালো সম্পর্ক নষ্ট হয় । তাদের জন্য না হয় আমাদের এই ভালোবাসাকে বলি দান দিলাম । প্লিজ তুমি ভালো থেকো ।
বলেই আমি চলে আসতে লাগলাম । কারন ওখানে থাকলে আমি মিমের কান্না আর কষ্ট দেখলে নিজেকেও সামলাতে পারবো না । মিম ওখানে অনেক কান্না করতে লাগলো ।
তারপর মামা মামি আর নানির থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম । বাসায় আসার পর আমার রুমে চলে আসলাম ।
এসে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার অন করে নিরবে অনেক কাঁদলাম । এক ঘন্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হলাম ।
রুমেই সারাদিন পার করলাম । রাতে খাওয়ার সময় আম্মু ডেকে গেল । তবুও আমি যাই নি । আম্মু আমার মনের অবস্থা ঠিক ই বুঝতে পারছে । কিন্তু কিছুই করতে পারছে না ।
এভাবে রুমেই তিন দিন কেটে গেল । আমি আর রুম থেকেও বের হইনা । রুমেই আম্মু খাবার দিয়ে যায় ।
সেদিন দুপুর বেলা হঠাৎ আম্মু হাঁপাতে হাঁপাতে আমার রুমে এসে হাজির । আমি আম্মুর এই অবস্থা দেখে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ কি হয়েছে আম্মু এরকম করছো কেন ?
আম্মুঃ মিম,মি...ম
আমিঃ মিম । কি হয়েছে মিমের । তাড়াতাড়ি বলো ।
তারপর আম্মু যা বললো তা শুনে পা থেকে মাটি সরে গেল । কারন আম্মু বললো,,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,,,,,
শেষ পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
তুই আমারই
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
278
Views
17
Likes
0
Comments
4.8
Rating