পলাশের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। ফাটলটি থেকে আবারও সেই অশুভ শক্তি বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তার মনে হয়, যা-ই থাকুক না কেন, এটি পিছু হটতে রাজি নয়। পলাশ বুঝতে পারে, এটি হয়তো রেড রুমের কেন্দ্রস্থল, সেই জায়গা যা সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলে এই অভিশাপকে কখনও থামানো যাবে না।
লাইভ চ্যাটে ভিউয়ার্সরা আতঙ্কিতভাবে লিখছে, "পলাশ, এবার কী করবে?", "তুমি কি পালাতে পারবে?", "আমাদের কী হবে?"
পলাশ দ্রুত ভাবে। তার হাতে সময় খুবই কম, আর সিদ্ধান্তটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিতে হবে। যদি সে এই ফাটলটিকে বন্ধ করতে না পারে, তাহলে এই শক্তি আরও ছড়িয়ে পড়বে, এবং তার ভিউয়ার্সরাও বিপদের সম্মুখীন হবে।
কিছুক্ষণ দ্বিধার পর, পলাশ একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। "বন্ধুরা, আমি জানি এটা শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে, কিন্তু আমি মনে করি আমার এখানে থাকাই ভালো। আমি যদি এখান থেকে বেরিয়ে যাই, তাহলে এই ফাটলটা আরও শক্তিশালী হয়ে যাবে। তোমরা সবাই আমার সাথে থাকো, আর আমি চেষ্টা করব এই অভিশাপকে এখানেই ধ্বংস করতে।"
ভিউয়ার্সরা তার কথায় স্তব্ধ হয়ে যায়। সবাই তাকে আশ্বাস দিতে থাকে, কিন্তু তারা সবাই ভয় পেয়েছে। তবে পলাশ তাদের সাহস দেয়। "আমি জানি এটা সহজ নয়, কিন্তু আমরা সবাই একসাথে এই ফাটলটাকে ধ্বংস করতে পারি। আমাদের একসঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে, ধ্যান করতে হবে, এবং বিশ্বাস রাখতে হবে যে এই অভিশাপ শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে।"
পলাশ আবারও সেই প্রাচীন বইটির দিকে ফিরে যায়। এই মুহূর্তে, বইটি তার একমাত্র আশা। সে দেখে, বইটির একেবারে শেষ পাতায় কিছু অস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে—যা হয়তো এই অভিশাপকে চিরতরে সিল করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
পলাশ ধীরে ধীরে সেই পাতাটি উল্টাতে থাকে। প্রতিটি শব্দ যেন তার মনে গভীর প্রভাব ফেলছে। পলাশ উপলব্ধি করে, এই প্রক্রিয়াটি তার জীবনেও ঝুঁকি আনতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে তার আর কোনো বিকল্প নেই।
সে বইটির মন্ত্র পড়া শুরু করে, সেই সঙ্গে লাইভ চ্যাটের ভিউয়ার্সরাও ধ্যান এবং প্রার্থনা চালিয়ে যেতে থাকে। প্রতিটি মন্ত্রের শব্দ কক্ষের ভেতর প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, এবং পলাশ অনুভব করতে পারে যে ফাটলটি আবারও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছে।
কিন্তু ফাটলটি শেষবারের মতো পলাশের দিকে এক ঝলকানি অন্ধকার ছুড়ে দেয়। সে পিছিয়ে যায়, কিন্তু মন্ত্র পড়া থামায় না। সেই অন্ধকার শক্তি তার দিকে আরও জোরে আঘাত হানে, যেন এটি তার শেষ প্রতিরোধ। পলাশ বুঝতে পারে, এটিই চূড়ান্ত পরীক্ষা।
তার চারপাশে বাতাস ভারী হয়ে আসে, আলো ফিকে হয়ে যায়, এবং কক্ষের দেওয়ালগুলো কাঁপতে থাকে। পলাশ দাঁতে দাঁত চেপে শেষ মন্ত্রটি উচ্চারণ করে। তার কণ্ঠের শক্তি যেন সমস্ত রুমে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। ফাটলটি আরো ছোট হতে শুরু করে, এবং পলাশ অনুভব করতে পারে, যে অশুভ শক্তি কিছুটা পিছু হটছে।
শেষ শব্দটি উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে, একটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। কক্ষটি ঝলমল করে ওঠে, এবং ফাটলটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পলাশ মাটিতে পড়ে যায়, তার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষিত হয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ নীরবতা বিরাজ করে। তারপর ধীরে ধীরে পলাশ উঠে দাঁড়ায়। কক্ষটি এখন শান্ত এবং নিরিবিলি। লাইভ চ্যাটের ভিউয়ার্সরা উল্লাস করতে থাকে, "তুমি পেরেছো!", "ফাটলটি বন্ধ হয়ে গেছে!", "আমরা বেঁচে আছি!"
পলাশ গভীর শ্বাস নেয়। সে জানে, অভিশাপ শেষ হয়েছে, অন্তত এই রেড রুমে। তবে পলাশের মনে হয়, এই ঘটনা তার জীবনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যাবে।
"ধন্যবাদ, বন্ধুরা," পলাশ ক্লান্ত স্বরে বলে। "তোমাদের সহায়তা ছাড়া আমি কখনও এই ফাটলটিকে বন্ধ করতে পারতাম না। তবে আমাদের এখনও সতর্ক থাকতে হবে। কে জানে, এই ধরনের আর কত অভিশপ্ত জায়গা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে লুকিয়ে আছে।"
কিন্তু পলাশের মনের গভীরে একটি ছোট শঙ্কা রয়ে গেছে। রেড রুমটি আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ হলেও, সে জানে পৃথিবীর কোনো এক জায়গায় হয়তো আরেকটি ফাটল তৈরি হতে চলেছে, এবং তখন সে এবং তার ভিউয়ার্সরা কী করবে, সেটাই দেখার বিষয়।
(সমাপ্তি)
সন্ত্রাসের লাইভ স্ট্রিম ( শেষের পাঠ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
145
Views
7
Likes
1
Comments
5.0
Rating