আমাকে দুচোখেই দেখতে পারতো না আজ সেই আমার বোনের ফর্ম ফিলাপের টাকা দিলো ।
মনে মনে আল্লাহ্কে ধন্যবাদ দিলাম । তারপর রিকশা গ্যারেজে জমা দিয়ে বোনের ফর্ম ফিলাপের টাকা পাঠিয়ে দিলাম । তারপর গ্যারেজে চলে আসলাম ।
রাত পর্যন্ত সেখানে কাজ করলাম । তারপর বাসায় চলে এলাম । এসে রাতে গোসল করে আর খেলাম না । না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম ।
পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়ে পাশের দোকান থেকে গরীবের ভিআইপি নাস্তা টং দোকানের একটা কলা একটা রুটি আর এক কাপ চা খেয়ে কলেজে চলে আসলাম ।
ক্লাসে এসে দেখি প্রিন্সিপাল,,কবীর স্যার আর একটা বড় কোম্পানির ম্যানেজার ওয়াদা করছেন এই বছর যে ফার্স্ট হবে তার জন্য ওই কোম্পানিতে একটা ভালো জব দেওয়া হবে ।
আমি ভাবলাম এটাই সুযোগ । কাজে লাগাতে হবে । কারন আমাদের মতো ছেলেদের জন্য টাকা ছাড়া জব নেই ।
তাই এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে । তারপর উনি আর প্রিন্সিপাল স্যার চলে গেলেন । আর কবীর স্যার ক্লাস নিতে লাগলেন ।
আমিও ক্লাসে মনোযোগী হলাম । কবীর স্যার এখন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন না । কারন উনি আমার সম্পর্কে সব জানেন । মাঝে মাঝে আমার খোঁজ খবর ও নেয় ।
যাইহোক ক্লাস গুলো করে বাসায় গিয়ে আবার গ্যারেজে চলে গেলাম । ওখানে রাত পর্যন্ত কাজ করে চাচাকে বললাম,,,,,,
আমিঃ চাচা আমি কয়েকদিন কাজে আসতে পারবো না ।
চাচাঃ কেন রে কি হইছে ।
তারপর আমি চাচাকে কলেজের সব ঘটনা খুলে বললাম ।
তারপর চাচা আমাকে বললো,,,,,
চাচাঃ একটু দাঁড়া আমি আইতাছি ।
তারপর চাচা ভিতরে চলে গেলেন । একটু পর বাহিরে এসে বললেন,,,,,,,
চাচাঃ এই টাকা গুলো রাখ কাজে লাগবে ।
মনের অজান্তেই চোখ থেকে পানি পড়তে লাগলো ।
চাচা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,,,
চাচাঃ আরে তুই তো ছেলের মতোই ।
আমিঃ চাচা আমি আপনার ঋণ আমি কোনো দিনই শোধ দিতে পারবো না ।
চাচাঃ আরে বাবার কাছে ছেলের কোনোদিন ঋণ থাকে না । যা দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
আমি চাচার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম বাসায় । এসে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে রান্না বসিয়ে পড়তে বসলাম ।
কারন পরীক্ষার বেশি দেরি নেই । আর যে করেই হোক আমাকে ফার্স্ট হতেই হবে । পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ পর আবার মাথা ব্যথা শুরু হয় ।
তাই অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে আর পড়তে পারলাম না । রান্না করে খেয়ে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে উঠে তবুও মাথা ব্যথা গেল না ।
পড়াশোনাও করতে পারছি না । তাই চাচার দেওয়া টাকা গুলো নিয়ে চলে গেলাম হাসপাতালে । ওখানে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে কিছু মেডিসিন নিয়ে এলাম ।
তারপর বাসায় এসে মেডিসিন গুলো খেয়ে আবার পড়তে বসলাম । এভাবেই চলতে চলতে পরীক্ষার দিনও চলে এলো ।
পরীক্ষার মধ্যেও অনেক মাথা ব্যথা করছে । কিন্তু সেদিকে নজর না দিয়ে পরীক্ষা গুলো দিয়ে গেলাম । পরীক্ষা গুলো অনেক ভালোই হইছে ।
চার মাস পর,,,,,
""
""
""
""
আজ রাকিবের রেজাল্টের দিন । নোটিশ বোর্ডে রেজাল্ট টাঙিয়ে দেয়া হইছে । কিন্তু রাকিবের কোনো পাত্তা নেই ।
কবীর স্যার ও একটা রেজাল্টের শীটে চোখ বুলালো । রেজাল্ট দেখে সবার মাথা ঘুরে গেল ।
কেননা শুধু এই কলেজ না,,এই বগুড়া জেলার মধ্যে রাকিব ফার্স্ট হইছে । সবাই ভাবছে এরকম গ্রাম থেকে উঠে আসা ক্ষ্যাত ছেলে কেমনে এই রেজাল্ট করে ।
কিন্তু কবীর স্যার অনেক খুশি । কারন উনি চায় রাকিব ই ফার্স্ট হোক । কবীর স্যারের চোখ শুধু রাকিবকেই খুঁজছে । কিন্তু রাকিব আসে নি ।
কবীর স্যার অনেক এক্সাইটমেন্ট নিয়ে রাকিবের ঠিকানা অনেক কষ্টে বের করে এবং ওর বাসাতে যায় ।
এসে দেখে আমি শুয়ে আছি । কবীর স্যার এসে বললেন,,,,,,
স্যারঃ আরে রাকিব এভাবে শুয়ে আছো কেন । আজকে তো রেজাল্ট বের হইছে । তুমি সারা বগুড়ার মধ্যে ফার্স্ট হইছো ।
আমার খুশি তে চোখ থেকে পানি পড়ছে । এতোদিন কষ্টের কান্না কাঁদছি । কিন্তু অনেকদিন পর খুশির কান্না কাদলাম ।
স্যার আবার বললেন,,,,,,
স্যারঃ কি হলো চলো আমার সাথে । আজকে তোমাকে আমি ট্রিট দিবো ।
আমি প্রথমে যেতে না চাইলেও স্যারের জোরাজুরিতে বের হলাম । তারপর প্রথমেই মিষ্টির দোকানে গিয়ে আমাকে,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,
পরের পর্বতেই শেষ করে দিবো ইনশাআল্লাহ । শেষ পর্বের জন্য । ধন্যবাদ ।
একটি ছেলের আত্মকথা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
485
Views
14
Likes
1
Comments
4.6
Rating