আমিও কয়েকদিন আর কলেজে গেলাম না । অনেক কষ্টে একটা গ্যারেজ থেকে রিকশা জোগাড় করলাম ।
সকাল থেকে বিকাল অবধি রিকশা চালায় আর বিকাল থেকে রাত অবধি গ্যারেজে কাজ করি ।
একদিন দুপুর বেলা আমি রিকশা নিয়ে দাড়িয়ে আছি ।
হঠাৎ দেখি আমাদের কলেজের সেই অহংকারী কবীর স্যার এসে বলছে,,,,,,,,
স্যারঃ এই রিকশা যাবে ।
আমিঃ জ্বি স্যার বলেন কই যাইবেন,,,,?
স্যারঃ আরে তুমি এখানে । তুমি সেই কলেজের ছেলেটা আর ওই গ্যারেজেও কাজ করো সেই ছেলেটা না ?
আমিঃ জ্বি স্যার আমিই সেই । (মাথা নিচু করে)
স্যারঃ তো তুমি এখানে কি করে । গ্যারেজে কাজ করো না ? আর কলেজেও দেখছি না কয়েকদিন ধরে ।
আমিঃ স্যার গ্যারেজে কাজ করে তো সংসার আর আমার পড়াশোনার খরচই ঠিক ভাবে চালতে পারি না । এখন তো আমার ছোট বোনের ও পড়াশোনার খরচ চালাতে হয় । সাত দিনের মধ্যেই ফর্ম ফিলাপের টাকা যোগাড় করতে হবে । তাই কলেজে না গিয়ে ওই সময়টা রিকশা চালাই ।
আমার কথা শুনে স্যার একদম চুপ হয়ে গেলেন । আমি স্যারের দিকে তাকাতেই দেখলাম স্যারের চোখ থেকে আমার কথা শুনে টপটপ করে পানি পড়ছে ।
তারপর আমি স্যারকে বললাম,,,,,,,
আমিঃ স্যার কাঁদছেন কেন । প্লিজ কাঁদবেন না । আমি কি কোনো ভুল করেছি । সরি আর করবো না । আর এগুলো বলবোও না ।
আমার কথা শেষ হওয়া মাত্র স্যার আমাকে এক ঝটকায় জড়িয়ে ধরলেন । আর জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন । আমি তো একদম হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম ।
তারপর আমিই বললাম,,,,,,,
আমিঃ স্যার কি করছেন । আমার শরীর তো ঘামে ভেজা । আর শার্ট টাও ঘামে ভেজা । আপনার শরীরটা নোংরা হয়ে যাবে । প্লিজ ছাড়ুন ।
স্যারঃ প্লিজ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও । আমি তোমাকে না বুঝেই কত দিন কত কিছু বলেই না অপমান করেছি । প্লিজ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও ।
আমিঃ আরে স্যার এগুলো কি বলছেন । আপনি আমার গুরুজন । তাই আপনি শুধু বকতে না আমাকে মারতেও পারেন । আমি কিছুই মনে করি নি স্যার ।
স্যারঃ তুমি আমার ছেলে হলে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করতাম ।
আমিঃ বাদ দিন না স্যার । কোথায় যাবেন বললেন না তো ।
স্যারঃ ******* জায়গায় ।
তারপর আমি স্যারকে রিকশা চালিয়ে গন্তব্যে স্থানে পৌছে দিলাম । তারপর স্যার আমাকে একটা খাম দিলেন । আমি হাতে নিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ এটা কি স্যার ।
স্যারঃ খুলে দেখো ।
তারপর আমি খুলে দেখলাম দশ হাজার টাকা ।
আমিঃ স্যার এতো টাকা কিসের জন্য । ভাড়া তো ২০ টাকা । এটা রেখে আমাকে বিশ টাকা দিন । তাহলেই আমি খুশি ।
স্যারঃ এটা তোমার ভাড়া না । তোমার বোনের ফর্ম ফিলাপের টাকা আর তোমার পড়াশোনার জন্য কিছু টাকা ।
আমিঃ স্যার প্লিজ এটা আমি রাখতে পারবো না । আমি এতিম ঠিক আছে । আমাকে সিমপ্যাথি দেখাবেন না । আমি দয়ার পাত্র হতে চাই না ।
স্যারঃ প্লিজ এটা রাখো । এটা তোমার উপর আমার দয়া না । আমার ভুলের কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত করলাম এটা ভাববো । তুমি আমাকে স্যার ভাবলে এটা আমার অনুরোধ ।
আমি অনেক কিছুই বলতে গিয়েও স্যারের এই কথা শোনার পর আর বলতে পারলাম না । শুধু বললাম,,,,,
আমিঃ ঠিক আছে স্যার । ধন্যবাদ ।
তারপর স্যার চলে গেলেন । মনে মনে ভাবলাম যে আমাকে দুচোখেই দেখতে পারতো না আজ সেই আমার বোনের ফর্ম ফিলাপের টাকা দিলো ।
মনে মনে আল্লাহ্কে ধন্যবাদ দিলাম । তারপর রিকশা গ্যারেজে জমা দিয়ে বোনের ফর্ম ফিলাপের টাকা পাঠিয়ে দিলাম । তারপর গ্যারেজে চলে আসলাম ।
রাত পর্যন্ত সেখানে কাজ করলাম । তারপর বাসায় চলে এলাম । এসে রাতে গোসল করে আর খেলাম না । না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম ।
পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়ে পাশের দোকান থেকে গরীবের ভিআইপি নাস্তা টং দোকানের একটা কলা একটা রুটি আর এক কাপ চা খেয়ে কলেজে চলে আসলাম ।
""
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
একটি ছেলের আত্মকথা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
344
Views
12
Likes
2
Comments
5.0
Rating