তোর উঠানে বিকেল ছোঁয়া
#তোর_উঠনে_বিকাল_ছায়া🥀\r\nদ্বিতীয় খন্ড\r\nলেখিকা-ফাতেমা \r\nআমি কলেজে পৌঁছে ছাতাটা মেলে ক্লাসের দিকে অগ্রসর হলাম। \r\nআমি কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে সবাই আমাকে ঘিরে ধরলো,\r\n--কিরে ছায়া তুই তো আমার ড্রিম বয় কে বিয়ে করে নিলি। \r\nডক্টর. নির্ঝর চৌধুরী তুই জানিস আমার কতো দিনের স্বপ্ন তার সাথে সেলফি নিবো।। \r\nআজ পর্যন্ত একটা সেলফি নিতে পারলাম না আর তুই তার বউ হয়ে গেলি৷ \r\n--অথই আর কিছু বলার আছে?\r\n--ও মা তুই এতো রাগছিস কেন রে। \r\n--আমি রাগছি না আর কিছু বলার না থাকলে আমাকে জ্বালাস না প্লিজ৷ এটা কলেজ ক্লাস করতে দে। \r\nকথাটা বলে অথই কে পাশ কাটিয়ে চলে এলাম। \r\nক্লাস রুমে বসতে রুহি এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। \r\n--কিরে মেরে জান উদাস কেন এতো? \r\n--কই।। --\r\n--কই মানে আমি দেখতে পাচ্ছি ত৷ \r\n--ধুর ভালো লাগে না৷। \r\n--কি হয়েছে।। \r\n--তোর থেকে ত কখনো কিছুই লুকায় না তুই ত সব জানিস তাই না। \r\n--হুম জানি ত কি হয়েছে বল। \r\n--চল আম তলায়।। --\r\n--আচ্ছা চল।। \r\nরুহি আর ছায়া ওদের কলেজের পুরেন আম গাছের তলায় বসলো, \r\n--শুন, \r\nছায়া বলতে শুরু করলো ওর বিয়ের গল্প। \r\nএদিকে,\r\n--স্যার আমাদের সামনে মস্ত বিপদ অপেক্ষা করছে। \r\nমাথা নিচু করে নির্ঝর এর সামনে কথাটা বলল তার গার্ড।। --\r\n--তার মানে কাজটা আজও হয় নি। \r\n--ধরেই ফেলেছিলাম কিন্তু শেষ মুহুর্তে । \r\nনির্ঝর রেগে তার সামনের টেবিল টা উল্টে ফেলে দিলে আর বিকট কাচ ভাঙা শব্দ হলো,\r\n--শেষ মুহূর্তে শেষ মুহুর্তে শুনতে শুনতে আজ ৫ মাস পর্যন্ত আমি ক্লান্ত। \r\nতুমি ভুলে যাচ্ছো এখন আমি একা নই আমার সাথে ছায়ার জীবন টাও বিপদের মধ্যে তুমি কি করে এতোটা কেয়ারলেস হতে পারো। \r\n--স্যার সরি স্যার৷ কি করব ওরা ভিশন চালাক আর শক্তিশালী বটে। \r\n--ডক্টর নির্ঝর নিজের রুপে আসলে ওরা বুঝবে ওরা ওদের বাপের উপর কথা বলছে। \r\n--স্যার এবার কি করব। \r\n--ছায়াকে ২৪ ঘন্টা কড়া গার্ড এ রাখো আমার ছায়ার কিছু হলে একটাকেও ছাড়বো না। \r\nনাউ গেট লস্ট।। \r\nগর্ড নির্ঝর এর কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। \r\nআর নির্ঝর ছায়ার ছবি হাতে বসে বসে ভাবছে,\r\n--কি করলে ছায়া কেন করলে বিয়েটা। \r\n,\r\n,\r\nএদিকে,\r\n--ছায়া সব ত শুনলাম কিন্তু এখন কি করবি।। -\r\n--জানি না রুহি। \r\n--তুই ওনাকে সত্যি বলে দে। \r\n--পারবো না সত্যি বলে দিলেও সমস্যা। \r\n--তাই ত কিন্তু এখন করব টা কি। \r\n--জানি না হয়ত এভাবে সারা জীবন নির্ঝরের ঝামটা রাগ সহ্য করতে হবে। \r\n--তুই চিন্তা করিস না ছায়া সব ঠিক হয়ে যাবে। \r\n--চিন্তা করা আমি ছেড়ে দিছি৷ জীবন টাকেও যেভাবে চলবে চলুক। \r\nছায়ার চোখের পানি গুলো কষ্ট দিচ্ছে রুহি কে।। কিন্তু রুহি করবে টা কি ওরা দু জন ই এখন প্রাপ্ত বয়স্ক না।। \r\nদু\'জন দু\'জনের দুঃখ বুঝতে পারে ফিল করতে পারে কিন্তু সমাধান দিতে পারে না। \r\nকলেজের ক্লাস শেষ হলে ছায়া বাইরে বের হলো বাসায় আসার উদ্দেশ্য। \r\nরিকশা ডাকতে গিয়ে মনে পরলো নির্ঝর এর কথা, \r\n--খবরদার আমি না আসলে কোথাও গেলে খবর আছে। \r\nকথাটা মনে পরতে ছায়া থেমে যায়৷। এবং কলেজ গেটের সাইডে দাঁড়িয়ে পরে। \r\nতখন মেইন রোড থেকে একটা গাড়ি ফুল স্প্রিডে সামনের দিকে ছুটেছে । \r\nহটাৎ ছায়ার চোখ পরলো নির্ঝর এর দিকে। \r\nফর্সা ছেলেটা নীল রঙের সার্ট আর প্যান্ট পরা। \r\nউপরের সাদা এপ্রন টা হাতে, \r\nহটাৎ ছায়া খেয়াল করলো নির্ঝর দৌড়াচ্ছে ওর কাছে আসছে৷। ছায়া এক অন্য জগতে হারিয়ে গেল।। সে মুগ্ধ নয়নে নির্ঝর এর দিকে তাকিয়ে আছে।। \r\nকিছু সময় পর নির্ঝর প্রচুর বেগে ছায়াকে পেছন থেকে আসা গাড়িটা থেকে বাঁচিয়ে আনে। \r\nঘটনা চক্রে ছায়া কিছু বুঝে উঠার আগে সবার সামনে ছায়ার গালে চড় পরে। \r\n--এই বেয়াদব মেয়ে কতো বার বলছি গাড়ি গাড়ি তুমি আমাকে কি শুনতে পাও না নাকি।। তোমার কিছু হয়ে গেলে কি হতো। \r\n(হাঁপাতে হাঁপাতে) \r\n--আপনি মুক্তি পেয়ে যেতেন। \r\nআমার কথা শুনে নির্ঝর আমার দিকে তাকিয়ে পরলো। \r\nতার কল্পনায় ছিল না ছায়া এমন রিপ্লাই দিবে।\r\nনির্ঝর হুট করেই ছায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। \r\nএতে ছায়া ভিশন অবাক হলো কিন্তু তার কাছে নির্ঝর এর কাছে আসা টা ভিশন ভালো লাগলো। \r\n--বাসায় চলো। \r\nকথাটা বলে নির্ঝর ছায়াকে নিয়ে বাসায় চলে এলো। \r\nরাস্তায় কেউ কোন কথা বলে নি। \r\nছায়া কখনোই একটা চুপচাপ মেয়ে নয়। \r\nও সব সময় কথা বলে। \r\nখুবই ফাজিল টাইপ মেয়ে ও। \r\nবাচ্চামি করতে পছন্দ করে। \r\nকিন্তু আজ হটাৎ এমন চুপচাপ কেন। \r\nনির্ঝর এর বুকের মাঝে ধক ধক শব্দ শুরু হয়েছে। \r\nধিরে ধিরে তারা তাদের বাসায় পৌঁছে যায়। \r\nবাসায় পৌঁছে ছায়া গাড়ি থেকে নেমে চুপচাপ ঘরে চলে এলো।। নির্ঝর গাড়ি পার্ক করে ভেতরে এলো। \r\n--কিরে নির্ঝর ছায়াকে উদাস কেন লাগছে কিছু হয়েছে?\r\n--জানি না মা৷ \r\n--তুই জানিস না তো কে জানে নির্ঝর। \r\n(কিছুটা রেগে) \r\n--মা আমি দেখছি তোমরা কেন চিন্তা করো। \r\nকথাটা বলে নির্ঝর রুমের দিকে চলে এলো। \r\n,\r\nছায়া এসে কাপড় পাল্টে ফ্রেশ হয়ে নামাজে বসেছে। \r\n১ঃ২০ বাজে।। \r\nনামাজ শেষ করে উঠে বসতে নির্ঝর কে দেখতে পায়। \r\nহাত দুটো বুকে গুঁজে বসে আছে। ছায়ার সামনে এক দৃষ্টিতে ছায়াকে দেখে চলেছে। \r\nছায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,\r\n--কিছু বলবেন। \r\nনির্ঝর ছায়ার কথায় পাত্তা না দিয়ে ছায়ার দিকে এগোতে থাকে। \r\nএকটা সময় ছায়া মিশে যায় দেয়ালে আর নির্ঝর তার হাত দুটো দিয়ে ছায়াকে আটকে নেয়। \r\n--বলো কি বলছিলে। \r\n--ক কখন? \r\n--কেন তখন কলেজের সামনে।। কি আমি মুক্তি পেতাম নাকি। \r\nএবার ছায়া শক্ত হয়ে বলল,\r\n--আমি বলেছিলাম আমার মৃত্যু হলে আপনি মুক্তি পেতেন। \r\n--আবার বলো।। -\r\n--কেন শুনতে পান নি। \r\n--আমি বলেছি আবার বলো। \r\nছায়ার দিকে রক্ত চক্ষু নিক্ষেপ করে। \r\nছায়া কিছুটা ভয় পেয়ে যায় নির্ঝর কে দেখে। \r\nতার পরেও বলে, \r\n--আমার মৃত্যু হলে আপনি মুক্তি পেতে. \r\nকথাটা শেষ করার আগের নির্ঝর ছায়ার ঠোঁট জোড়া আবদ্ধ করে নেয়।। হুট করেই এমন কিছু হবে ছায়া কল্পনা করে নি। তাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হতভম্ব চোখে দাঁড়িয়ে আছে। \r\nকিছু সময় পর,\r\n--দ্বিতীয় বার এ কথা বললে এর থেকে বাজে কিছু হবে সো বি কেয়ারফুল। \r\nকথাটা বলে নির্ঝর ওয়াশরুমে চলে গেল।। -\r\nছায়া নির্ঝর এর দিকে তাকিয়ে অবাক হচ্ছে। \r\nকিছু সয়ম পর মৃদু হাসি হেসে দিলো।। \r\nভালোবাসার মানুষের থেকে পাওয়া স্পর্শ তৃপ্তি। \r\nছায়া শাড়ি পরে নিচে চলে আসে। \r\n--ছায়া মা তোর কি হয়েছে (নির্ঝর এর মা) \r\n--কই কিছু না তো মা। \r\n--মন খারাপ লাগছিল যে তখন \r\n--আসলে, \r\n--আসলে মা তখন মিষ্টি খেতে চেয়েছিল আমার কাছে বাইরে থেকে। তো আমি বললাম এখন না বাসায় চকলেট আছে তাই নিয়ে রাগ করেছিল। \r\nতো বাসায় এসে চকলেট দেওয়াতে এখন সে খুশি।। কি তাই না ছায়া। \r\nছায়ার কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলল নির্ঝর। \r\nছায়া বেশ বুঝতে পারছে নির্ঝর ঠিক কি বুঝাতে চাইছে। \r\nতাই ছায়া চুপচাপ হয়ে মাথা নিচু করে নেয়। \r\n--লুচু ব্যাটা (মনে মনে) \r\n--ওহ তুই বাচ্চা টি রয়ে গেলি ছায়া আমি তো ভাবলাম কি না কি। \r\nআয় খাবার বেড়ে দিচ্ছি খেয়ে নে। \r\nছায়ার শাশুড়ী মা খাবার দিলেন ছায়া আর নির্ঝর খেয়ে নিলো। \r\nবাসার বাকি সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত। \r\nতাই সবাই এক সাথে খেতে পারলো না। \r\nখাবার শেষে ছায়া ঘরে চলে আসে। \r\nচুল গুলো আঁচড়ে। \r\nভাবতে থাকে নির্ঝর এর কালকের রুপ আর আজকের রুপ দুটো কেমন গোলমাল ঠেকছে। \r\nকি হয়েছে ঠিক তা ছায়া নিজেও জানে না। \r\nচলবে,
17
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই