অনলাইন ব‌উ (পর্ব ২)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আসলে সত্যি বলতে কি খুব ভালাই লাগে।
প্রতিদিন সকালে ইনবক্সে অসংখ্য ফুল, হার্ট ইমুজি।
কথা যতটুকু হয় তার চেয়ে বেশি ইমুজি ব্যবহার করে।
আমি আবার ইমুজি কম বুঝি।
আজকে আমি সকালে লাইনে আসতে দেরি হলো।
অনলাইনে এসে দেখি অনেক মিষ্টি কথা। অনেক কান্না ইমুজি। তারপর আমাকে গলি দিসে। আমি ভেবে অবাক হই। এই মেয়ের কি সাহস একটু কথা বললাম তাতেই গালি দেয়। আসলে কি সেই অধিকার তার এখনো আছে? বুঝতে পারছি না।

আমি হ্যায়!
বিবি:- কুত্তা! শয়তান,খাটাশ,
আমি অবাক হয়ে রিপ্লাই দিলাম.. ময়না পাখি! তুমি কি রেগে আছো?
বিবি:- না, ওই শয়তান! তুই লাইনে আসতে এতো দেরি করছো কেন?

আমি ভাবছি ইয়া আল্লাহ এটাই বুঝি সম্পর্ক? একটা ছোট মেয়ে আমাকে গালি দেয়। আমি রাগ করে কিছু বলতে পারবো না ‌তাহলে হয়তো বলবে ব্রেকআপ। আমি তো এতো সহজে হাত ছাড়া করতে চাই না।যাই হোক মেয়েদের রাগের মাঝে একটা মজা। অনেক আদর যত্ন করে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, রাগ ভাঙাতে আলাদা একটা মজা আছে। আমি একটু অন্যরকম মানুষ। আমার কাছে ভালোবাসা প্রকাশ এর চেয়ে বেশি মজা লাগে। সুন্দরী মেয়েদের ন্যাকামো। ভাঙ্গা ভাঙ্গা রহস্য করে কথা বলা।ইশার ইঙ্গিতে ভালোবাসা প্রকাশ। আবার প্রথম প্রথম ঝামটা মেরে কথা বল।

যাই হোক আমি ভাবছি কি অদ্ভুত সম্পর্ক তাই না? যদি I love you টা না বলে গালি দিত। তাহলে হয়তো খুব বেশি ঝগড়া হয়ে যেত।
আমার ময়না অভিমান করেছে।
এখন কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না? আমি প্রেম-টেরেম কখনো করিনি তো।
তাই মেয়েদের কিভাবে রাগ ভাঙাতে হয় বুঝি না।

আমি:-দেখো আমি তোমার সাথে কথা বলার জন্য পাগল হয়ে আছি।
কিন্তু সকালে ঘরে মেহমান এসেছে তাই কথা বলতে পারিনি।
প্লিজ রাগ করনা ময়না পাখি!
বিবি:-আমি তোমার কেউ না। তুমি নক করবা না
আমি:-প্লিজ রাগ করনা জান! দেখ তুমি যদি রাগ করে থাকো তাহলে আমি কার সাথে কথা বলবো?
আমার এই পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন হলে তুমি।
বিবি:- আমি তোমার জন্য সেই ভোর থেকে অপেক্ষা করছি।
আমি:- ভুল হয়ে গেছে আর কখনো এমনটা হবে না। এখন কথা বলো..
ময়না!..
সোনা পাখি..
আমার জান..
ওই কলিজা শোন না..,
বিবি:- কি?
আমি:- তুমি কি জানো রেগে গেলে তোমাকে দেখতে অনেক বেশি মিষ্টি লাগে।
রাগে তোমার গাল দুটো লাল টমেটো হয়ে যায়। উফ্ সেই লাগে তখন।
কি বিশ্বাস হচ্ছে না আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখো।
বিবি:- হ‌ইছে, আর লাগবে না।
আমি:- দেখো তুমি যদি কথা না বলো আমার খুব বেশি কষ্ট হয়।
তুমি কি চাও আমি কষ্ট পাই?
বিবি:- কি করো এখন?
আমি:-তোমাকে পটাই
বিবি:- নাস্তা করেছো?
আমি:- হুম, তুমি করছো?
বিবি:- না
আমি:-কেন?
বিবি:- তুমি কথা বলিনি তাই।
আমি:-ঠিক আছে বাবা আর ভুল করবো না
বিবি:- মনে থাকবে?
আমি:- না থাকলে মনে করিয়ে দিবা 😁
বিবি:- তুমি একটা অসভ্য ছেলে।
আমি:- তোমাকে কি নামে ডাকবো?
বিবি:- তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে জান বলে ডাকবো।
আমি:- আমি কিন্তু যখন যা ডাকতে ইচ্ছে তাই বলে ডাকবো।
বিবি:-ঠিক আছে।
আমি:- আচ্ছা একটা সত্যি কথা বলবে?
বিবি:-কি?
আমি:- জান বড় না স্বামী বড়?
অনেক ভেবে বলল- জান বড়
আমি:- তাহলে জান কে স্বামী বলে ডাকতে সমস্যা কি?
বিবি:-ইস সখ কতো?
আমি:- আমার এতো সখ নেই। বলছিলাম ডাকলে তো সমস্যা নাই।
বিবি:- তুমি না অনেক বেশি দুষ্টু।
আমি:- তোমার থেকে বেশি?
বিবি:- হুম।
আমি:- ঠিক আছে পরে কথা বলব,এখন রাখি।
বিবি:-ঠিক আছে।
অনেক গুলো ইমুজি দিলাম।
সেও দিল ,হঠাৎ করে কিছু কিস ইমুজি দিলাম।
সে রাগি ইমুজি দিল। আমি ব্রেকেন হার্ট ইমুজি দিলাম।সে কিস ইমুজি দিল । অনেক লাভ,ফুল এগুলো দিয়ে বায় দিলাম।

দুপুরে..
মিষ্টি মেয়ে!? কোথায় তুমি?
সে:- হুম
আমি - কেমন আছো তুমি?
সে:- ভালো।
আমি:- গোসল করছো? দুপুরে খাইছো?
সে:- না , তোমার সাথে কথা না বলে কিছুই করবো না।
আমি:- কেন? আমাকে ভালোবাসো?
সে:- তুই আমার কলিজা। তোকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
আমি:- সত্যি বলছো?
সে:- হুম, সত্যি সত্যি সত্যি। আমি তোকে প্রচন্ড ভালোবাসি।
আমি:- সত্যি বলতে কি আমার খুব বেশি ভয় হয়।
সে:- কেন।
আমি:- যদি মায়া লাগিয়ে চলে যাও।
সে:- আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যাব না।
সেই বিশ্বাস রাখতে পারো। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আমি:- আচ্ছা তোমার নামটা তো জানা হলো না।
সে:- আছিয়া। তোমার নাম কি?
আমি:- রাজু।
আছিয়া:- তুমি কি করো?
আমি:- তোমার সাথে জমিয়ে প্রেম করি। তুমি কি করো?
আছিয়া:-আমিও তোমার সাথে প্রেম করি।
আমি:- জান তুমি আমাকে পাখি বলে ডাক কেন?
আছিয়া:-আমার ভালো লাগে।
আমি:- পাখি ডাকলে কেমন জানি লাগে। কারণ এটা মেয়েদের সাথে মানায়।
আছিয়া:- তুমি আমার জান, তুমি আমার কলিজা। তুমি আমার পাখি সব কিছু।
আমি:- সবকিছু যদি হ‌ই স্বামী বলে একটা ডাক দাও না?
সে:- আমার লজ্জা করে।
আমি:- আমি এতো কিছু বুঝি না। তোমার ডাকতে হবে?
সে:- অনেক ভেবে বলল- স্বামী!
আমি:- জ্বী আমার মিষ্টি বউ?

আমি নাছোড়বান্দা কথা বলার আগে একবার স্বামী ডাক না শুনলে মন ভরে না।
কারণ আমি চাই ওর হৃদয়ে আমাকে খোদাই করে নিতে। আমাকে সত্যিই স্বামী ভেবে হৃদয়ে স্থান দিতে। তাহলে হয়তো খুব সহজেই আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না।

পাঁচ দিন হলো আমাদের সম্পর্কের বয়স।
ভোরে উঠে ইনবক্সে অসংখ্য কিস,লাভ, ফুল ইমুজিতে ভরে আছে। জান, কলিজা, পাখি, সোনা,বাবু শতাধিক ডাক। আমিও তাকে আরো বেশি লিখে দিলাম।

ভোরে ঘুম থেকে উঠে অনলাইনে.. হ্যায় ব‌উ
সে:- স্বামী বলো?

আমি আনন্দে ইমুজি দিয়ে ভরে দিলাম।
দুজনের ইমুজিতে, প্রপোজ,লাভ,কিস, জড়িয়ে ধরা, উষ্ণ হার্ট সব কিছু চলছে। আমি হঠাৎ করে প্রেগন্যান্ট এবং হসপিটাল আর বেবি,ফিটার ইমুজি দিলাম। সে লজ্জিত,ইমুজি দিল। অনেক হলো ইমুজির খেলা।

আমি:- আমার আছিয়া কথা বলো?
সে:- হুম
আমি:- আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসি। এবং আমি তোমাকে আমার বউ হিসাবে পেতে চাই।
সে:- আমিও
আমি:- ঠিক আছে। একবার স্বামী বলে ডাক দাও না? তোমার জান পাখিটা কে একটুখানি শান্তি দাও?
সে:- স্বামী!
আমি সুযোগ পেয়ে হাত ছাড়া করতে চাইলাম না। সাথে সাথে বললাম। এখন থেকে আমি তোমাকে আমার বউ হিসাবে মেনে নিলাম। আমার দেহ আমার মন আমার অস্তিত্ব সব কিছু তোমাকে ব‌উ হিসেবে মেনে নিলাম। তুমি আমার জীবন, তুমি আমার মরণ, তুমি আমার শেষ আশ্রয় স্থল। তুমি আমার সারা জীবনের সঙ্গী। তুমি আমার বউ। হয়তো দুই শতাধিক ব‌উ লিখে দিলাম। সে অফলাইনে চলে গেল।

আমি খুব খুশি হলাম এখন তোমার উত্তরের অপেক্ষায়।
বিকেলে অনলাইনে আসলাম। ডাটা অন করে দেখি
আছিয়া:- কবুল আমি তোমাকে আমার স্বামী হিসেবে মেনে নিলাম।
আমি:- ব‌উ তিন বার কবুল বলতে হবে।
ব‌উ‍:- তিন বার শেষ করে। অসংখ্য সামি লিখে পাঠিয়ে দিল।
আমি:- অসংখ্য ব‌উ

কখনো আমাদের মাঝে কোন খারাপ কথা হয়নি। শুধু ইমুজি দিয়ে সংসার চলে।
আমার জানতে ইচ্ছে করে ওর সম্পর্কে, পরিবার সম্পর্কে। কিন্তু ও জানতে চাইনি তাই আমিও জিগ্গেস করিনি। কারণ আমি আগেই ভাগ্য কে মেনে নিয়েছি। আমি জানি আমাদের মাঝে সত্যি কোন ভালোবাসা হয়নি। এমনকি মায়া তাও হয়নি। আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, কিছু মায়া ওর হৃদয়ে রেখে দিতে। যদি আমার জীবনে চলে আসে আমি নির্দ্বিধায় মেনে নিব।তার বয়স কম তাই বুদ্ধি বিবেচনা কম।
আমি শুধু কৌশলে তাকে আমার জীবনের সাথে বন্দী করে রাখতে চাইছি। হয়তো পরে ভালোবাসা হয়ে যাবে।
আমি সব ছেলেদের মতো সুযোগ পেলে নোংরা কথা বলতে পছন্দ করি না। আমি একটু রোমান্টিক কথা বলতে পছন্দ করি।
এক মাসে একটা এমন কথা হয়নি।যেটা সবার সামনে বলতে লজ্জা হবে। তবে ইমুজি দিয়ে আমাদের বিবাহিত সংসার চলে।

পরদিন ভোরে..
অনেক ইমুজিতে সংসার হলো। প্রতিদিন ইমুজি শতাধিক আসে।

আমি:- কেমন আছো আমার জান?
ব‌উ:- জান! ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
আমি:- একটু আগেও খারাপ ছিলাম। এখন খুব ভালো আছি।
ব‌উ:- কেন খারাপ ছিলা?
আমি:- কারণ তোমার সাথে কথা বলতে পারিনি তাই। তোমার কথা ছাড়া আমি ভালো নেই।
ব‌উ:- কেন?
আমি:- আমার সুখ গুলো তোমার মাঝে হারিয়ে গেছে, তাই তুমি ছাড়া আমি ভালো থাকি না।
ব‌উ:- জান তুমি খাইছো?
আমি:- মিষ্টি খাই তুমি খাইবা?
ব‌উ:- না
আমি:- পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্বাদু মিষ্টি হলো তোমার কথা।
ব‌উ:-ভালো
আমি:- তুমি কি কখনো খড় দুপুরে পিপাসার্ত আর ক্লান্ত হয়ে ডাবের জল খেয়েছো?
ব‌উ:- হুম, কেন?
আমি:- তোমার সাথে কথা বললে মনে হয় আমি ডাবের জল পান করি। তখন হৃদয়ে প্রশান্তিতে ভরে যায়।
‌ব‌উ- ভালো।
আমি:- সুন্দরী তুমি এত মিষ্টি কেন?
ব‌উ:- তোমার জন্য
আমি:- ব‌উ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। নিজের থেকেও অনেক বেশি।
তুমি আমার দেহের প্রতিটা নিঃশ্বাসের সাথে আসা যাওয়া কর। তোমার সাথে কথা বলতে না পারলে মনে হয় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। মুমুর্ষ রোগীর মতো ছটফট করি।

ব‌উ:- জান আমি ও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি আমার কলিজা। তুমি আমার সামি।

বলে অসংখ্য I love you লিখে দিল।
আমিও রিপ্লে দিলাম। অনেক ইমুজী দিল হঠাৎ করেই একটা ইমুজি দিল। দুটো সন্তান সব ফেমেলী ইমুজি।

আমি:- দেখো বাচ্চা কোথায় পেলে?
ব‌উ:- তোমার ভালোবাসা থেকে।
আমি:- এখনো বাসর হলো না। অথচ দুটি বাচ্চার বাবা আমি। তোমার কি একটুখানি লজ্জা শরম নাই? সমাজের মানুষ কি বলবে?
ব‌উ:-আহারে আমার লজ্জাবতী সামি!।
প্রেম করছো,কবুল বলাইছো, স্বামী ডাকাইছো, এতো কিছু করে এখন বাচ্চার বাবা হতে লজ্জা করে তাই না?
আমি:- ঠিক আছে সমাজে থেকে তারিয়ে দিলে দিক।

দুজনে মিলে সুন্দর নাম রাখলাম, তবে আমি টুকটুকির মা বেশি ডাকি। এভাবে মনে হয় মানুষের অনলাইনে প্রেম করে?
আমি কখনো প্রেম ভালোবাসা করিনি,আর বুঝি না। তবে যাই হোক মেয়েদের সাথে কথা বলার নেশা তো ছেলেদের সম্পদ।
এভাবে চলছে ও বলে প্রেম করে। আমি ভাবছি অভিনয় করা আর কথা বলা ছাড়া কিছুই না এগুলো। হয়তো এভাবে কথা বলতে বলতে দুজনের ভিতরে গভীর মায়া জন্ম নেয়।

এভাবে কেটে গেল ১২ দিন আমার মনে হয় দুজনের মধ্যে অভিনয় আর একটু কথা বলে ভালো লাগা ছাড়া কিছুই নেই। আমার শুধু কথা বলতে ভালো লাগে তাই বলছি। তবে মনে একটা আশা আছে যদি সে আমার হতে চায়। আগে আমার করবো তার পর প্রচন্ডভাবে ভালবাসবো। আগে মায়া বাড়িতে কষ্ট পাওয়া মতো লোক আমি নয়।

আমি:- জান!
সে:- বলো জান?
আমি:- যাকে জান বলে ডাকো তাকে ছেড়ে যাবে না তো?
সে:- না, কখনো ছেড়ে যাবো না।
আমি:- সত্যি বলছি কলিজার টুকরা। তুই যদি ছেড়ে যাও আমি প্রচন্ড কষ্ট পাবে। আমার খুব বেশি ভয় হয় যদি আমাকে কষ্ট দাও?
সে:- আমি কখনো তোমাকে কষ্ট দিব না।
আমি:- যাকে জান বলে ডাকো তাকে কষ্ট দিতে কি তোমার ভাল লাগবে বল?
সে:-না
আমি:- যদি কখনো আমাকে ছেড়ে যাও আমি ভালো থাকতে পারবো না। আমার অস্তিত্বের সাথে তুমি মিশে গেছো। প্রচন্ড ভালোবাসি তোমায়। তুমি ছাড়া আমি থাকতে পারবো না
সে:-তুমি আমার সামি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

এভাবে চলছে আমাদের কথা। আমি জানি এগুলো সব কিছুই মিথ্যা অভিনয়। অনলাইনে সবাই অভিনয় করে আমিও অভিনয় করছি। আমার অভিনয় তাকে পাওয়া জন্য।আর সে অভিনয় করছে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। আমি জানি এই পুতুল খেলা হয়তো আর কিছু দিন পর থাকবে না।

২০ দিন হয়ে গেল.. জমিয়ে প্রেম চলছে।
শুধু প্রতি ঘন্টায় ভালোবাসি,আর সারা দিনের আপডেটেড খবর।আর শুধু কল্পনায় হারিয়ে যাওয়া। ভবিষ্যতে পরিবারের স্বপ্ন দেখার নামিই হয়তো প্রেম। এর বাহিরে কিছু ধরা পড়ে নি। তবে জীবনে প্রথম যাকে ভালো লেগেছিল। তাকে দেখার সাথে সাথে শান্তি পেতাম। কথা বললে মনে হত পৃথিবীর সমস্ত আনন্দ বুকে বন্দী হয়ে থাকতো। এখন হাজার বার I love you শুনলেও তেমন কোন অনুভূতি হয় না। শুধু মনে হয় আবার কিছু অভিনয় করতে হবে।

আগে মানুষ কাউকে ভালো লাগলে কথা বলতো।দুজন দুজনার মনের কথা শেয়ার করতো।এক সময় দুজনের মানের মাঝে গভীর মায়া তৈরি হতো। দুজনে সুখ দুঃখ গুলো ভাগ করে নিত। যখন দুজন দুজনকে বুঝতে পারতো।ভালো লাগা খারাপ লাগা দেখলেই অনুভব করতে পারতো। দুজনে দুজনকে সব সময় সুখী করতে চাইতো।তখনি দুজনে মিলে জীবনে এক সাথে চলার সঙ্গী হতে চাইতো। শুধু তখনি দুজনে বলতো আমি তোমাকে আমার করে পেতে চাই। সারা জীবনের জন্য ‌। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
সেই ভালোবাসায় কখনো অমিল হতো না। কখনো স্বার্থ থাকতো না। কখনো কোন অভিযোগ থাকতো না। থাকতো শুধু দুজন দুজনকে জীবন দিয়ে সুখি করার আকাঙ্ক্ষা।
আর এখন মানুষ এসেই বলে তোমাকে ভালোবাসি। কারণ সে স্বার্থ খুঁজতে এসেছে।তারপর তোমার বাবা কি করে। বাবার অর্থ-সম্পদ আছে কেমন জানতে।
তারপর বলে তুমি কি করো? চাকরি বা ভালো কোন লেখাপড়া যেন ভবিষ্যতে বড় চাকরি পাও। তাহলে সে রাণীর মতো চলতে পারবে। এরপর বলে পরিবারে কে কে আছে। ঝামেলা কম চায় পরিবার ছোট হলে। মনের মত। এরপর বলে তোমার ছবি দাও। দেখতে নায়ক হবে ছেলেটা।
যদি সুন্দর না হয় তাহলে অনেক বড় লোক হতে হবে।তা না হলে অনেক বেশি মেধাবী ভালো লেখাপড়া হলেও চলবে। কারণ পড়ে অনেক বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবে।
এগুলো না হলে ব্লগ করে চলে যায়। না হলে ব্রেকআপ বলে চলে যায়। কিছু দিন পর আরেকটি ছেলে সাথে জমিয়ে কথা বলে। সব কিছু বিলিয়ে দেয়। ছেলেরা ধোঁকা খেয়ে এখন মিথ্যা ভন্ডামি করে শুধু যৌন বাসনা পূরণ করে প্রেম করে। কিছু দিন পর পর স্যাড স্ট্যাটাস দিয়ে অনলাইন ভরে রাখে।

ব‌উয়ের কথা ছেড়ে অন্য কথা বলছি তাই না?

আমি:- সোনা পাখি! তুমি পড় কোন ক্লাসে তাও তো জানা হলো না?

আমি ইচ্ছে করেই জিগ্গেস করিনি। কারণ তার কথা আমি বুঝতে পারছি ।সে অনেক ছোট একটা মেয়ে।

সে:- এইটে
আমি:- মাত্র এইটে। তুমি তো অনেক ছোট। তোমার এখন প্রেম করার বয়স হয়নি।
সে:- আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। আমার ক্লাসের মেয়েরা আরো এক বছর আগে থেকেই প্রেম করে। অনেকে তো চার পাচ প্রেম করেছে।
আমি:- ইয়া আল্লাহ! কি বলো এগুলা! তুমি কয়টা করছো?
সে:-আগে কখনো করিনি।এই প্রথম।

আমি ভেবে অবাক হলাম আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি,তখনো প্রেম কি জানি না।শুনছি কিন্তু বুঝতে পারিনি। হয়তো এখনো জানি না প্রেম কি জিনিস। শুধু একটা নাম মনে হয় মাকাল ফলের মতো। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে যদি একটু প্রেম করতাম। তাহলে হয়তো আমিও বুঝতে পারতাম আসলে প্রেম কি?
আমি:- আচ্ছা আজকে truth ro Dare খেলা খেলবো
সে:- ঠিক আছে, আমি ট্রুথ
আমি:- তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
সে:- হ্যাঁ
আমি:- তুমি সবসময় কাকে বেশি মিস করো?
সে:- মা বাবা, তারপর তোমাকে।
আমি:- তোমার কি সামি আছে
সে‍:- হুম,
আমি:- কে সে
সে:-তুমি
আচ্ছা এখন আমি truth তুমি Dare
সে:- আচ্ছা এখন কাজ আছে বিকেলে কথা বলবো।

বিকেলে..
আমি:- ব‌উ! আমার মিষ্টি বউটা কি করে?
সে:- তার দুষ্টু সামির জন্য অপেক্ষা করে।
আমি:- ভালো তো, শুনছি অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়।
সে:-রাখো তোমার অপেক্ষায়। প্রতিদিন যদি অনলাইনে আসতে দেরি হয়, ঘুষি মেরে তোমার নাক ফাটিয়ে দিব বললাম।
আমি:-ইয়া আল্লাহ পুরুষ নির্যাতন করো। স্বামীর গায়ে হাত দিলে পাপ হবে?
সে:-হোক পাপ তোমাকে তো শিক্ষা দিতে হবে।
আমি:-এখন কোথায় তুমি?
সে:- রুমে বসে। তুমি কোথায়?
আমি:-এই গরমে একটা গাছের নিচে বসে আছি । ক্লান্ত শরীরে দখিনা এলোমেলো বাতাসে বসে।তোমার মতো মিষ্টি একটা ব‌উয়ের সাথে কথা বলতে খুব বেশি মিষ্টি লাগছে। মনে হচ্ছে জান্নাতে বাগানে বসে তোমার সাথে মোবাইল করি।
সে:- আচ্ছা জান্নাতে কি মোবাইল থাকবে।
আমি:- যদি তুমি প্রেম করতে চাও। তাহলে দুজনে দুটো নিয়ে যাবো।
সে:- আজকে ইস্কুলে যাবো না। সারা দিন তোমার সাথে কথা বলতে চাই।
আমি:- তা কিভাবে সম্ভব? আমার তো কাজ থাকতে পারে।
সে:- আমি এতো কিছু বুঝি না। সারা দিন কথা বলতে চাই ব্যাস।
আমি:- ঠিক আছে।

এভাবে সারা দিন কথা হলো দুজনের। হঠাৎ আছিয়া অনেক গুলো বাচ্চা ইমুজি দিল।
আমি:- এগুলো কি?
সে:- আমাদের ভালোবাসার ফসল। তোমার বাচ্চা।
আমি:- ইয়া আল্লাহ! এতো গুলো কেন?
সে:-আমার দোষ কি? কেউ যদি তার ব‌উকে ভালোবাসা বেশি দেয়।ফসল তো বেশি হবেই।
আমি:- তুমি কি আমাকে দেশ ছাড়া করবে? সরকার ঘাড় ধরে বের করে দিব। না হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাথে থাকতে হবে।
সে:- শোন তোমাকে একটা কথা বলতে চাই?
আমি:- আমি ভাবছি বলবো কিন্তু বলা হয় না।
সে:-আমি একটা জিনিস চাই দিবা?

আমি ভাবছি হয়তো কিছু টাকা চাইবে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে। কিছু মেয়ে কথা বলে কিছু দিন পর টাকা চায়। তুমি টাকা না দিলে কথা বলবে না। দিলে আর কিছু দিন পর আবার রিপ্লাই হবে। আমি ভাবছি হয়তো আর কথা বলবে না।এখনি তার স্বার্থ নিয়ে কথা হবে।
সে:- আমার স্বামী কে টা তো দেখাই হলো না। তোমার ছবি দাও?
আমি:- বললাম দেখো এখন আর ছবি দেখে কি হবে? তুমি তো আমাকে জীবন সঙ্গী করতে চাও।
সে:- তার পর আমি তোমাকে দেখতে চাই।
আমি:- আমিও তোমাকে দেখাতে চাই। কিন্তু..
সে:- কি?
আমি:- আমি সবার মতো সুন্দর না, তা ছাড়া অল্প কিছু দাঁড়ি আছে।
সে:- তাতে আমার কোন সমস্যা নাই। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি আমার সামি।
আমি:- ঠিক আছে। তোমাকে বিশ্বাস করলাম। সত্যি বলছি আমি কিন্তু তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমাকে কষ্ট দিও না।
সে:- তুমি চিন্তা করো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি কখনো কষ্ট দিব না।

আমি দুটো ছবি দিলাম একটা একটু বেশি সুন্দর। অন্যটা নরমাল আছে । সেও একটা ছবি দিল।ইডেট করা মোটামুটি মনে হয় তবে বেশি সুন্দরী না মোটামুটি হবে।

আমি:- সুবহানাল্লাহ! তুমি তো অনেক সুন্দরী। দেখলে নজর ফেরাতে পারি না। তোমার রূপের আগুনে চোখ জ্বলসে যায়। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সত্যি অসাধারণ! অতুলনীয় তুমি।

আছিয়া একটুখানি থেমে তার রিপ্লে দিল..
সে:- আমি তোমার সাথে প্রেম করবো না।
আমি:- তুমি কি মজা করছো আমার সাথে?
সে:- আমি সম্পর্ক করবো না।
আমি একটুখানি ভেবে বললাম - সত্যি বলছো তুমি?
সে:- আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই না।
আমি:- কেন?
সে:- আমার ইচ্ছা।
আমি:- তুমি আমাকে তিন বার কবুল বলে সামি হিসেবে মেনে নিছো। তুমি নাকি আমাকে ভালোবাসো।
সে:- রাগ তোর কবুল।রাখ তোর সামি,তোর মতো আনস্মার্ট একটি দাঁড়িওয়ালা ছেলে হবে আমার সামি ?অসম্ভাব! আমার বান্ধবী বয় ফ্রেন্ড হ্যান্ডসাম, অনেক স্মার্ট কতো কিউট।

থিমস পরিবর্তন হয়ে গেছে,ইমুজি ব্লাক হার্ট হয়ে গেল। আমি আর কি বলবো।

আমি:- দেখো তোমার যা ইচ্ছা তাই করো।
তোমার পছন্দ মতো একটা কিউট ছেলের সাথে প্রেম কর। আমি তোমাকে কখনো বলতে চাই না ভালোবাসো।কারণ আমি মনে করি তোমাকে পাওয়ার থেকে, তোমার খুশি টাই আমার কাছে বড় বিষয়ে।

আছিয়া.. নিরব..,

আমি:- একটা সত্যি কথা বলবে?
আছিয়া:- কি?
আমি:- এতো দিন যা বলেছিলে সব কিছুই মিথ্যা ছিল? সব কিছু অভিনয়? সামান্য একটু সত্যি হলেও বলো?
আছিয়া.. নিরব.,

আমি জানতাম এমনটাই হবে।তাই এতো দিন তার হৃদয়ে সামান্য একটু জায়গা করে নিতে চাইছিলাম। কিন্তু আমি হয়তো সম্পুর্ণ ব্যার্থ হলাম। আমি ভেবে অবাক হলাম এতো কঠিন এই টুকু মেয়ের হৃদয় বাহ। আমার গুরু সে!তার অভিনয় আমার থেকে ভালো, আমি তাই মুগ্ধ হয়ে গেছি। মনে মনে হাসছি ইচ্ছে করছে হাসির ইমুজি দিতে। কিন্তু তা করা যাবে না কারণ যদি সে আবার কখনো ফিরে আসতে চায় সেই আশায়। চিন্তা করলাম ভালো ভাবে আর একটুখানি অভিনয় করি।

আমি:- ওই শোন না জান পাখি?
সে: কি
আমি:- আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই?
সে:- না
আমি:-আচ্ছা কখনো ভালোবাসতে হবে না। শুধু একটা বন্ধু হতে পারি না?
সে:- না
আমি:- সত্যি চলে যাবে কষ্ট হবে না?
সে:-না
আমি:- আমাকে কষ্ট দিবা তুমি? যাকে জান ডাকো ,যে তোমার স্বামী তাকে কষ্ট দিতে পারবে?
সে:- নিরব..
আমি:- বিকেলে একটুখানি কথা বলবে?
সে:- না
আমি:- দেখো হঠাৎ করেই এভাবে কথা বলা বন্ধ করলে তোমার কষ্ট হবে তো?
সে:- না
আমি:-আমি তোমার সাথে প্রচন্ড কথা বলতে চাই। কিন্তু কি বলবো বা বলা উচিত ভেবে পাচ্ছি না।তাই বসে বসে নখ কামড়াচ্ছি।
সে:- একটা হাসি ইমুজি দিল

আমি ভাবলাম আমি কষ্টের কথা বলি সে হাসি ইমুজি দেয়। আমার জন্য সামান্য মায়া নেই।সে হয়তো অনেক ছেলের সাথে কথা বলে,তাই আমার কথা তাকে হিট করে না। কারণ যার পেট ভরা তাকে খাওয়ানো যায় না। মনে মনে গালি দিয়ে বললাম- যা ছেমরি
তোর মতো মেয়ে আমার লাগবে না। দেশে মেয়ের অভাব পড়েনি।

আমি:- শুধু বললাম ভালো থেকো তুমি। তোমার সুখে আমি সুখি,তোমার দুঃখে আমি দুঃখি।
"আল্লাহ হাফেজ"
সে:- নিরব...,

তারপর থেকেই সত্যিই মেয়েটির জন্য মন খারাপ হয়ে গেছে। কিছুই ভালো লাগে না। মনে হয় আমার কাছ থেকে কি যেন একটা হারিয়ে গেছে। যেটা থেকে আমি শান্তি পেতাম। এতো দিন কথা বলতে বলতে হয়তো কিছু মায়া তৈরি হয়ে গেছে।
যা থেকে খারাপ লাগছে। মনটা ভালো নাই কেমন জানি শূন্য শূন্য লাগে। একটা মাস কথা বলার অভ্যাস হয়ে গেছিল।
যাই হোক দুই দিনের মতোই তাকে ভুলে গেছি। তার স্মৃতিটুকু আমার ইনবক্সে যত্ন করে রেখে দিসি।

কেমন হলো গল্পটা কমেন্ট করে জানাবেন।
ভালো লাগলে ফলো করবেন। লাইক শেয়ার রেটিং দিয়ে সাথে থাকুন।

***সমাপ্ত***
380 Views
12 Likes
2 Comments
4.6 Rating
Rate this: