বলো ভালোবাসি (সাইকো )

#বলো_ভালোবাসি(সাইকো)\r\n#নাবিসা খান \r\n#পর্ব-১\r\n\"মেঘলা উঠ বোন কখন যাবো শপিং করতে? এতো কেউ ঘুমায়? বোন এই বোন উঠ প্লিজ তোর জিজু শপিং মলে এসে বসে আছে আমাকে কল করেছিল তাড়াতাড়ি যেতে বলল। প্লিজ বোন উঠ।\r\n\r\n\"মেঘলা পিটপিট করে তাকাল, এখনো ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ঘুম যেন চোখ থেকে সরতেই চাইছে না। মেঘলা ঘুম ঘুম চোখে লিনা এর দিকে তাকিয়ে শুধালো,\r\n\r\n\"আপু কি হয়েছে? এতো সকাল সকাল ক্যান ডেকে উঠালে?\"\r\n\r\n\"লিনা এবার বিরক্ত হলো। মেঘলাকে উদ্যেশ্য করে শুধালো,\r\n\r\n\"বোন আমার তুমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখো বেলা কয়টা বাজে । \r\n\r\n\"মেঘলা পিটপিট করে দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির দিকে তাকাল, দেখে বেলা দশটা বাজে। মেঘলা মাথায় হাত দিয়ে বলল,\r\n\r\n\"আপু জিজু তো সকাল ১০ টার দিকে শপিং মলে থাকতে বলেছিল। আপু আগে ডাক দিবে তো? কতো লেট হয়ে গেল।ইস জিজু হয়তো শপিং মলে এসে পড়েছে। \r\n\r\n\"হ্যাঁ তোমার জিজু শপিং মলে এসে আমাকে কল দিয়েছিল।বলল আমাদের তাড়াতাড়ি যেতে। এখন যাও তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে এসো।\r\n\r\n\"আচ্ছা আপু আমি পাঁচ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে আসছি। \r\n\r\n\"মেঘলা তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে গেল। লিনা মুচকি হেসে বলল, পা*গ*লী মেয়ে।\r\n\r\n\"মেঘলা ফ্রেশ হয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে লাগল। দুধে আলতা গায়ের রং ফর্সা শরীরে কালো থ্রি-পিস চুল গুলো ছেড়ে দিল। চোখে মোটা করে কাজল দিল ঠোঁটে গোলাপি রঙের লিপস্টিক দিল। কপালে ছোট কালো টিপ।কানে ঝুমকা দু হাতে কালো রঙের রেশমী চুড়ি। মেঘলা নিজেকে একবার আয়নায় দেখে নিল না বেশ ভালো লাগছে। মুখে স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে লিনার দিকে তাকিয়ে বলল,\r\n\r\n\"আপু দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে?\"\r\n\r\n\"লিনা মুচকি হেসে মেঘলা কে হালকা জড়িয়ে ধরে বলল,\r\nআমার বোন টা মাশআল্লাহ অনেক সুন্দর। আজকে আরো সুন্দর লাগছে আমার লক্ষী বোনকে।\r\n\r\nআচ্ছা চলো এখন অনেক লেট হয়ে যাচ্ছে।\r\n\r\n\"হ্যাঁ চল বোন। \r\n\r\n\r\n\r\n\"গাড়ি এসে থামলো শপিং মলের সামনে। মেঘলা,লিনা গাড়ি থেকে নামলো মেঘলা লিনার উদ্দেশ্যে বলল,\r\n\r\n\"লিনা তুই শপিং মলের ভিতরে যা আমি কল দিয়ে দেখি তোর জিজু কোথায়?\"\r\n\r\n\"আচ্ছা আপু। \r\n\r\n\"মেঘলা ফোন চাপতে চাপতে শপিং মলের ভিতরে প্রবেশ করলো। হঠাৎ কারো সাথে ধা*ক্কা লেগে মেঘলা পড়ে যেতে লাগল, কিন্তু লোকটা মেঘলার কোমড় জড়িয়ে ধরল, মেঘলা ভয় পেয়ে লোকটার শার্ট আঁকড়ে ধরল,মেঘলার মুখে এলোমেলো হয়ে চুল গুলো এসে পড়লো। মেঘলা এক হাতে চুল গুলো সরিয়ে পিটপিট করে তাকাল, লোকটার দিকে। মেঘলার চোখ অটোমেটিক বড় বড় হয়ে গেল। কারণ যার সাথে ধাক্কা খেয়েছে সে মেঘলার স্কুল ফ্রেন্ড রাফি। \r\n\r\n\"রাফি মেঘলা কে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল,\r\n\r\n\"দোস্ত কেমন আছিস?\"\r\n\r\n\"আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুই কেমন আছিস দোস্ত?\"\r\n\r\n\"আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো। \r\n\r\n\"ওরা হাসতে কথা বলতে লাগল, লিনা ওদের কথা বলতে দেখে ওরা চলে গেল। \r\n\r\n\"মেঘলা হাসতে হাসতে রাফির সাথে কথা বলতে লাগল, হঠাৎ কেউ মেঘলার হাত শক্ত করে ধরল, মেঘলা চমকে তাকালো তার দিকে তাকিয়ে তো মেঘলা কাঁপতে লাগল, আর আমতা আমতা করে বলল,\r\n\r\n\"আকাশ ভাই তুমি এখানে?\" \r\n\r\n\"আকাশ শান্ত চোখে তাকাল,মেঘলার দিকে। আর গম্ভীর কণ্ঠে শুধালো,\r\n\r\n\"ক্যান আমাকে আশা করিস নি তাই না?\" আমার জন্য কি তোদের প্রেম লিলা নষ্ট হয়ে গেল?\"\r\n\r\n\"আকাশের গম্ভীর কণ্ঠে মেঘলা কেঁপে উঠল, মেঘলা বুঝতে পারলো আজ কপালে দুঃখ আছে মেঘলা ঢুক গিলে বলল, \r\n\r\n\"ভাইয়া তুমি যা ভাবছো ঠিক তা.......\r\n\r\n\"মেঘলা কে কিছু বলতে না দিয়ে আকাশ টেনে নিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিল। আর নিজে ড্রাইভ করতে লাগল, মেঘলা ভয়ে কাঁপতে লাগল, মুখ দিয়ে আর একটা কথাও বের হলো না। \r\n\r\n\"গাড়ি এসে থামল,একটা পুরনো বাংলোর সামনে। আকাশ গাড়ি থেকে নেমে টেনে মেঘলা কে নামাল,মেঘলা বাড়িটির দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেল। আকাশের উদ্যেশ্যে বলল,\r\n\r\n\"ভাইয়া আমরা এখানে কেন আসলাম?\"\r\n\r\n\"আকাশ কোন উত্তর না দিয়ে টেনে মেঘলা কে নিয়ে যেতে লাগল, বাড়িটার ভিতরে প্রবেশ করে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে মেঘলা কে ছুড়ে ফেলল, বিছানার উপর। মেঘলা ছিটকে পড়ে গেল। আকাশ ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটা মোমবাতি আর একটা ব্লেট নিল। মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্লেট টার এক কোনা গরম করে নিন। আকাশের মুখে ফুটে উঠল ভিলেনী হাঁসি। আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে মেঘলার দিকে। মেঘলা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে লাগলো,আকাশ বাঁকা হেসে মেঘলার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,\r\n\r\n\"জান পাখি কোথায় পালাবে? আমার থেকে তোমার নিস্তার নেই। \r\n\r\n\"মেঘলা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,\r\n\r\n\"আসবে না আমার কাছে দেখো আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি আসবে না আমার কাছে। প্লিজ এবারের মতো ক্ষমা করে দেও আর কখনো তোমার কথার অবাধ্য হবো না প্রমিজ।\r\n\r\n\"ক্যান জান পাখি আগে মনে ছিল না এটা?\" তুমি তো জানো আমার ভালোবাসা অন্যরকম। আমি যেখানে আমার ব্যবহার টিস্যু পেপার অন্য কাউকে স্পর্শ করতে দেই না আর সেখানে আমার হৃদয়ে হাত দেওয়া এটা কীভাবে সহ্য করবো। তার শাস্তি তো তোমাকে পেতে হবে যাতে এইরকম ভুল আর কোন দিন না হয়। \r\n\r\n\"আকাশের মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠেছে। মেঘলা ভয় পেয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। এতে করে আকাশের কোন পরিবর্তন হলো না। আকাশ নিজের কাজ করার জন্য এগিয়ে গেল মেঘলার দিকে মেঘলা ভয়ে কাঁপতে লাগলো। আকাশ মেঘলার কাছে গিয়ে মেঘলাকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয় আসলো। মেঘলার ডান হাত শক্ত করে ধরে ব্লেট টা দিয়ে দুই থেকে তিন টা টান দিল। মেঘলা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। কিন্তু আকাশের কোন মায়া হলো না। আকাশ বিশ্ব জয়ের হাসি দিল। মেঘলা সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারাল, ঢলে পড়ল আকাশের বুকে। আকাশ মেঘলা কে আস্তে করে শুইয়ে দিল। তারপর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,\r\n\r\n\"জান পাখি তুমি ক্যান বুঝতে পারো না তুমি শুধু আমার। আমি তোমাকে অন্য কারো সাথে দেখতে পারি না আর সেখানে তুমি ওই ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরো কোন সাহসে?\" আজ থেকে তুমি কোন ছেলের সাথে কথা বলতেও একশ বার ভাববে। \r\n\r\n\"আকাশ মেঘলার হাত থেকে রক্ত পরিষ্কার করে মলম লাগিয়ে দিল তারপর ব্যান্ডেজ করে দিল। হঠাৎ আকাশের ফোনে কল আসলো আকাশ ফোন কানে ধরে হ্যালো বলল,\r\n\r\n\"হ্যালো,কাজ হয়ে গেছে?\"\r\n\r\n\"ওই পাশের ব্যক্তি,\r\n\"হ্যাঁ বস খেল খতম। \r\n\r\n\"ওকে গুড আমি আসছি। \r\n\r\n\"আকাশ বেরিয়ে গেল। \r\n\r\n\"৩ ঘন্টা পর মেঘলার জ্ঞান ফিরল, পিটপিট করে তাকাল, অচেনা জায়গা দেখে মেঘলা ভ্রু কুঁচকালো উঠে বসতে নিবে হাতে টান অনুভব হলো মেঘলা হাতের দিকে তাকাল,‌ব্যান্ডেজ করা হঠাৎ মনে পড়ে গেল কিছু ঘন্টা আগের কথা। মেঘলার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। মেঘলা আস্তে করে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসলো। তারপর বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল, দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,\r\n\r\n\"আমি কবে মুক্তি পাবো এই সাইকো লাভারের থেকে?\"\r\nকবে আমি স্বাধীন ভাবে চলতে পারবো? না থাকবে কোন বাঁধা না থাকবে ভাইয়ার মতো কোন সাইকো। \r\n\r\n\"আমি কি কোন দিন মুক্তি পাবো না?\"\r\n\r\n#চলবে.......\r\n
16 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই