সালটা তখন ২০২৪। কিছুদিন হলো মাত্র এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তাই এই সময়টাতে কলেজে ভর্তির আবেদন করা নিয়ে কমবেশি সকলেই বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কেউ বা শহরের কোনো কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করছিলো আর কেউবা এলাকাতেই থেকে যাচ্ছিলো গ্রাম্য কলেজে ভর্তি হয়ে।
দেখতে দেখতে কলেজে ভর্তির পর কলেজ শুরু হওয়ারও দিন এগিয়ে আসলো। কলেজ শুরু হয়েছে বলে অনেকেই ইতোমধ্যে শহরেও চলে গেছে।
আমারও সামনের সপ্তাহেই কলেজ শুরু হওয়ার কথা। তাই রীতিমতো গোছগাছ সেরে ফেলেছিলাম শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
তবে শহরে গিয়ে স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো আর পুরানো বন্ধুদের খুব মিস করবো বলে সেই সময়টা মন খুব খারাপ হয়ে গেছিলো।
তাই যে কয়টা দিন গ্রামে ছিলাম প্রায় প্রতিটা বিকালেই স্কুল জীবনের পুরানো বন্ধুদের সাথে দেখা করে ওদের সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটাতাম। অবশ্য সব বন্ধুদের সাথে তো আর দেখা হতো না। কারণ ইতিমধ্যে অনেকেই তখন শহরে চলে গিয়েছিলো তাই যারা গ্রামেই পড়ে ছিল তাদের সাথেই বিকালে কিছুটা সময় কাটাতাম একসাথে।
এদিকে দেখতে দেখতে সময় কেটে যেতে লাগলো। গ্রামে থাকার দিন যতই ফুরাচ্ছিলো শহরে যাওয়ার দিনও ততটাই এগিয়ে আসতে লাগলো।
তাই আমি শহরে যাওয়ার ঠিক দুইদিন আগে এক দুপুরে খেয়েদেয়ে যখন বিশ্রামের জন্য বিছনায় শুয়ে পড়লাম তখনই হঠাৎ ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে থাকা নম্বর দেখেই বুঝতে পারলাম রুদ্র ফোন করেছে। রুদ্রও আমার স্কুল জীবনের খুব কাছের একজন বন্ধু ।
তো তৎক্ষণাৎ আমিও ফোনটা ধরলাম। তখন ফোনের ওপার থেকে রুদ্র বলে উঠলো- " তন্ময় আগামী পরশু তো তুমিও শহরে চলে যাচ্ছো তাই আমি আর খালিদ ভাবলাম আজকে আমরা বন্ধুরা মিলে যদি বিকালে একটু ঘোরাঘুরি করি । আরকি সবাই মিলে শেষবারের মতো একসাথে বেশ কিছুটা সময় কাটাতাম । তা তুমি কি আজকে আমাদের সাথে ঘুরতে যেতে পারবে?"
আমি বললাম - " তা বেশ। আমি না হয় মা কে বলে ম্যানেজ করে নেবো। সমস্যা নেই। কিন্তু তোমরা সবাই মিলে কোথায় ঘুরতে যেতে চাইছো সেটা তো আগে বলো।"
রুদ্র বললো- " সে ব্যাপারে তো এখনো তেমন কিছু ভাবা হয়ে ওঠেনি। তবে আগে তো আসো তারপর না হয় সবাই মিলেই ঠিক করবো যে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়।"
আমি বললাম -" আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে বিকালে দেখা হচ্ছে।" এই বলে ফোন রেখে দিলাম।
এদিকে বন্ধুদের দেওয়া কথা মতো আমিও আজ একটু তাড়াতাড়িই মা কে বলে বের হলাম বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্যে। তখন বিকেল প্রায় সাড়ে চারটার কাছাকাছি। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি।
প্রায় দশ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন রুদ্রকে ফোন দিতে যাবো তখনই পিছন থেকে খালিদ আমাকে ডাক দিলো।
পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখি রুদ্রও খালিদের সাথেই এসেছে।
এবারে আমরা তিনজন বন্ধু মিলে একটা গাছতলায় বসলাম। আর রুদ্র ও খালিদের সাথে কুশল বিনিময় করে এবারে জানতে চাইলাম যে তারা সবাই মিলে কোথায় ঘুরতে যেতে চায়। তখনই খালিদ বলে উঠলো- "চলো তন্ময়; আজ তুমি, আমি আর রুদ্র মিলে নদীর পাড়ে ফেরিঘাটের ওদিকটা ঘুরতে যাই। "
আমি বললাম -" ফেরিঘাট ! সে তো এখান থেকে অনেকটা দূরে।"
তখন রুদ্র বলে উঠলো-" সমস্যা কোথায়? আমরা বন্ধুরা মিলে গল্প করতে করতে হেঁটে গেলে আর বেশিদূর মনে হবে না। আর তাছাড়াও আর কবে কি একসাথে সবাই মিলে এমন একসাথে ঘুরতে যেতে পারবো তারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।"
ওদের কথা শুনে শেষমেশ আমিও বললাম - " আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে চলো যাওয়া যাক ফেরিঘাট। নদীর পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে এই বিকালটাকেও বেশ উপভোগ করা যাবে আর তোমাদের সাথে সময়ও কাটানো যাবে।"
চলবে......
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ রইলো। সেই সাথে সাথে রেটিং দিয়ে গল্পটা মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। আপনাদের উৎসাহমূলক মতামতই আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই সবাইকে গল্পটি পড়ে মতামত জানানোর অনুরোধ রইলো 🥰। ধন্যবাদ)
ভয়ানক রাতের অভিজ্ঞতা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
853
Views
28
Likes
4
Comments
4.4
Rating