নিজের এক্স গার্লেফ্রন্ড যে আমার মামাতো বোন সেটা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম । আমার এক্স গার্লেফ্রন্ড মানে মিম ও আমাকে এখানে আশা করে নি । সেও অনেক অবাক হয়েছে ।
মামাতো ভাইয়ের সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠানের জন্য আজ জীবনের প্রথমবারের মতো আমার মামার বাসায় বেড়াতে গেলাম । কেননা আমার আব্বু আম্মু প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছে । আমার আব্বু মামাদের থেকে তুলনামূলকভাবে কম সম্পদশালী তথা আমরা মধ্যবিত্ত । আর আমাদের বাসা গ্রামে । এজন্য উনারা মেনে নেন নি ।
কিন্তু তাদের বিয়ের প্রায় পঁচিশ বছর পর মেনে নিয়েছে । তাই আমরা সবাই মিলে মামার বাসায় বেড়াতে আসছি ।
আম্মু তো মামা মামি আর নানি কে দেখে অনেক ইমোশনাল হয়ে কান্না করছে । কিন্তু আমি মিমের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি এটা কি করে সম্ভব ।
তারপর আম্মু আমাকে উনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো,,,
আম্মুঃ এটা তোর মামা,,এটা মামি,,আর এটা নানি
আমি সবাইকে সালাম দিলাম । আর কুশল বিনিময় করলাম । হঠাৎ মিম বলে উঠলো,,,,
মিমঃ আসসালামু আলাইকুম ফুপি ।
আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । এ কে ভাইজান ?
মামাঃ এটা আমার মেয়ে মিম ।
আম্মুঃ এদিকে এসো মা । কত বড় হয়েছো । একদম ভাইজানের মতোই হইছো ।
মিমঃ কেমন আছেন ফুপি ?
আম্মুঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তুমি কেমন আছো,,?
মিমঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । এটা আপনার ছেলে বুঝি ।
আম্মুঃ হ্যাঁ মা ।
মিমঃ হাই (আমার দিকে হাত বাড়িয়ে) ।
আমিঃ হ্যালো ।
তারপর নানি বললো,,,,
নানিঃ তোরা এখানেই কথা বলবি নাকি ভিতরে যাবি ।
তারপর সবাই মিলে ভিতরে চলে গেলাম । আমাদের প্রত্যেকের রুম দেখিয়ে দেয়া হলো । আমি রুমে আসলাম । শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । আমার মামাতো বোনের সাথে এতোদিন প্রেম করলাম তবুও জানলাম না । আগের সেই প্রেমিক জীবনের কথা মনে পড়ে গেল,,,,,,
চলুন একটু ঘুরে আসি ফ্লাশব্যাক,,,,,
ফ্লাসব্যাক
"
"
"
"
আমি রাকিব । বাসা বগুড়া । আমাদের বাসা গ্রামে হলেও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে । অনার্স ২য় বর্ষে পড়তেছি । বগুড়ার বিখ্যাত সরকারি আজিজুল হক কলেজে ।
তখন আমি মেসে থাকতাম । মেস থেকে কলেজে হেটে যেতে দশ মিনিট লাগতো তাই হেঁটেই যেতাম । প্রতিদিনের মত সেদিনও হেঁটে যাচ্ছিলাম কলেজে ।
রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময়
কে যেন আমায় ধাক্কা দিয়ে রোডে ফেলে দিল ।রোডে পড়ার কারনে হাত পা ছিলে
গেছে । উঠতে কষ্ট হচ্ছে,,,
উঠে দেখি একটা মেয়ে আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে । কে এই মেয়ে একে তো আগে কোনদিন দেখিনি । মনে হয় এই মেয়েটাই আমাকে ধাক্কা দিয়ে রোডে ফেলে দিয়েছে,,,
মেয়েটাঃ এই যে মিঃ মরার এতো সখ
কেন ?
আমিঃ কে আপনি ? আর আমাকে ধাক্কা
দিলেন কেন ? দেখেন তো কতজাগা ছিলে
গেছে,,,
মেয়েটাঃ আপনার ভাগ্য ভালো আমি ধাক্কা দিয়েছি । ট্রাকে দিলে তো সোজা উপরে যেতে হতো ।
হয়তো রাস্তা দিয়ে হাটার সময় ট্রাকের সামনে চলে গিয়েছিলাম । তাই হয়তো মেয়েটা আমাকে ধাক্কা দিয়েছে,,,
আমিঃ ধন্যবাদ ।
মেয়েটাঃ হুম । চলুন গাড়িতে উঠে বসুন ।
আমিঃ কেন ?
মেয়েটাঃ দেখছেন না কত জায়গা ছিলে রক্ত বের হচ্ছে ।
আমিঃ না ঠিক আছে ।
মেয়েটাঃ কি ঠিক আছে ? উঠুন বলছি ।
অনেক জোরাজুরি করার পর গাড়িতে উঠলাম ।গাড়িতে উঠার পর মেয়েটি আমাকে বললো,,,,,
মেয়েটাঃ আপনার নাম কি ?
আমিঃ রাকিব
মেয়েটাঃ আমি মিম ।
আমিঃ হুম ভালো ।
মিমঃ আপনাকে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবো ?
আমিঃ করেন ।
মিমঃ সঠিক উত্তর দিবেন কিন্তু ।
আমিঃ আমি যদি উত্তর টা জানি তাহলে দিব ।
মিমঃ আপনি আত্মহত্যা করতে কেন গিয়েছিলেন ?
আমিঃ না তো ।কলেজে যাচ্ছিলাম । রাস্তা পার হচ্ছিলাম । হয়তো একটু আনমনস্ক ।
মিমঃ ও । এভাবে কেউ রাস্তা পার হয় । আর কোন কলেজে পড়েন ।
আমিঃ সরকারি আজিজুল হক কলেজে ।
মিমঃ ওহ আচ্ছা ।
কথা বলতে বলতে অবশেষে হাসপাতালে এলাম ।
হাসপাতাল থেকে ছিলা যায়গা গুলোতে ব্যান্ডেজ করে হাসপাতালের বাইরে এলাম ।
বিলটাও মিম ই দিল । পোশাক আশাক গাড়ি দেখে বুঝায় যাচ্ছে মেয়েটা কোনো বড়লোক ঘরের মেয়ে । কিন্ত এতক্ষন তার সাথে থেকে যা বুঝলাম মেয়েটার মধ্যে কোন অহংকার নেই ।
মিমঃ চলো তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আসি ।
আমিঃ আপনি আর কত করবেন আমার জন্য ?আমি একাই যেতে পারবো ।
মিমঃ হ্যাঁ যান আর এবার বাসের সামনে পড়িয়েন ।চুপচাপ উঠে পড়ুন ।
আমি গাড়িতে উঠে বসলাম ।
আজ আর কলেজে যাওয়া হলো না । আমি যেখানে থাকি সে যায়গাটা বলে দিলাম । মিম গাড়ি চালাচ্ছে ।
মেসের সামনে এসে দাড়ালাম ।
আমিঃ ধন্যবাদ ।
মিমঃ ইটস্ অল রাইট । আসছি । আল্লাহ্ হাফেজ ।
আমিঃ আল্লাহ্ হাফেজ ।
তারপর মিম গাড়ি নিয়ে চলে গেল । আমিও মেসে এসে শুয়ে পড়লাম । কয়েকদিন আর কলেজে গেলাম না ।
তিনদিন পর কলেজে গেলাম । গিয়ে তো আমি অবাক । কারন,,,,,,,,,
পর্বঃ ০১
চলবে,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,
জানি না ভালো লাগবে কি না প্রথম পর্ব তাই ছোট করে দিলাম । ভালো লাগলে পরের পর্ব দিবো । আর না হলে এখানেই বন্ধ করে দিবো । সবাই অবশ্যই জানাবেন । ধন্যবাদ ।
তুই আমারই
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
1.09K
Views
28
Likes
4
Comments
4.5
Rating