ভয়ানক জম্বি‌র‌ আক্রমণ ( পর্ব ১৬ )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পাপিয়া ‌ : আমি বলতে চাচ্ছি ,,, তখন আমার বান্ধবীরা যে তখন বলেছিল আমার প্রেমিক কেমন হতে হবে ,, আমার ইচ্ছে ছিল জানো কি ? সেটা হল তোমার মত করে বিপদের মধ্যে আমাকে সাহায্য করবে,,, আমার খেয়াল রাখবে ঠিকমতো । নায়েকের মত করে আমাকে উদ্ধার করার জন্য বিপদের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়বে ,,এগুলো আমার স্বপ্ন ছিল আমার মনের মানুষকে নিয়ে । কেমন যেন তোমার সাথে সবকিছু মিলে যাচ্ছে  । প্লিজ আমার কথায় কিছু মনে করিও না ,,,,

নোবেল ‌ পাপিয়ার এই কথা শুনে হেসে ফেললো ,,,

নোবেল ‌ : এটা কি বল ,, আমি আবার কি মনে করবো আমার তো ভীষণ ভালো লাগছে তোমার মুখ থেকে এই কথাটি শুনে ,,,, জানো আমি কখনো প্রেম করিনি ভেবে নিয়েছিলাম আমি কখনো প্রেম করবো না একেবারে বিয়ের পর বউয়ের‌ সাথেই প্রেম করবো । ইচ্ছে ছিল যাকে ভালো লাগবে তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিব ।

জানিনা আমি কতদিন এই বিপদের মধ্যে টিকে থাকতে পারবো । কিন্তু মরে যাওয়ার আগে তোমাকে আমি একটি কথা বলতে চাই ,,সেই‌ কথা হলো তোমাকে আমি ভীষণ ভালবেসে ফেলেছি প্রথম দেখাতেই । তোমার দিকে তাকালেই মনের মধ্যে কেমন যেন ধুকধুক করা শুরু হয়ে যায় ।

কিন্তু আমি এভাবে বিয়ের আগে প্রেম করে গুনাহে থাকতে  চাই না,, কারণ কখন মরে যাই কখন কি হয়ে যায় সেটা তো আর বলা যায় না ।

পাপিয়া ‌ : হ্যাঁ ঠিকই বলছো ,,, আর তুমি অনেক ভালো ছেলে ,, তোমার মত স্বামী পাওয়া সব মেয়ের ভাগ্যের ব্যাপার । আমারও অনেক ইচ্ছে ছিল মনের মত একটি ছেলেকে বিয়ে করার জন্য ।

কিন্তু আমার বাবা কখনো আমার পছন্দে বিয়ে দিত না কারণ আমার বাবা মনে করত আমাকে কোন গরিব ছেলে সুখে রাখতে পারবে না ,, আমার বাবার মত কোটিপতি দেখে আমাকে বিয়ে দিয়ে দিত আমার বাবা,, কিন্তু তোমার মত এমন ভালো মনের মানুষ আমি কখনো পেতাম না । এই বাচ্চাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করার পর ইনশাআল্লাহ আমরা সর্বপ্রথম বিয়ে করে নিব । এরপর যা হওয়ার হবে আমার কোন ভয় থাকবে না কারণ আমার পাশে আমার স্বামী থাকবে ।

নোবেল ‌: কিন্তু আমি তো গরিব ,, আমার মা একজন নার্স এই কাজ করে আমাদের দুই ভাইকে আমার মা‌ মানুষ করেছে ,, আমি অনেক গরিব ফ্যামিলির ছেলে ,,, তোমার বাবা জানতে পারলে আমাদের বিয়ে কখনো মেনে নেবে না ।

পাপিয়া ‌ : তোমার কথা শুনে আমার হাসি পাচ্ছে ,, আমার বাবা মনে করছে আমি মারা গিয়েছি ,,, আমার বাবাতো জানেনা আমি বেঁচে আছি ,, আর‌ এখন আমি কাকে বিয়ে করবো এটা বাবা কিভাবে জানবে । এগুলো চিন্তা করিওনাতো ,,, টাকা দিয়ে কখনো ভালোবাসা কেনা যায় না , টাকা দিয়ে মানুষের জীবনে কখনো সুখ আসে না ,,, প্রকৃত সুখী হওয়া যায়তো‌ তখন যখন ভালো মানুষের সাথে সারা জীবন কাটানো‌ যায় । দেখতো এখন পৃথিবীর কেমন খারাপ অবস্থা ,, মানুষ নিজের জীবনকে বাঁচাচ্ছে টাকা-পয়সাকে না ।

এখানে যতগুলো জম্বি আছে সেই জম্বি গুলোর মধ্যে হয়তো এমনও একজন জম্বি আছে ,, সেই জম্বি যখন মানুষ ছিল তখন হয়তো আমার বাবার থেকে বেশি টাকাওয়ালা মানুষ ছিল । কিন্তু আজকে সেই লোক জম্বি কি লাভ এই টাকা পয়সা দিয়ে বলো ,,,,,

নোবেল ‌ : হ্যাগো জ্ঞানী মানুষ ,,, যেভাবে বললে আমি সব বুঝতে পেরেছি ,,, আমরা যদি আজকে এই বাচ্চাদেরকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারি তাহলে আমরা আজকেই বিয়ে করে ফেলব । আমি মরার আগে আমার এই স্বপ্নটি আমি পূরণ করতে চাই ।

পাপিয়া ‌ : আচ্ছা আচ্ছা তাই হবে । আমার ভীষণ খুশি লাগছে, এটা ভেবে আজকে আমার বিয়ে ।

তাহলে আজকে রাতে আমরা এক হোটেলে ভালো কিছু খাওয়া দাওয়া করবো, সেটা তোমার মনে থাকবে তো ।

নোবেল ‌ : হ্যাঁ জম্বিদের হাতের রান্না খাবো মনে থাকবে না কেন ?

পাপিয়া ‌ : এই বিপদের মধ্যে তুমি মজা করতে পারলে ,,,

নোবেল ‌ : তো কি করব বল ,,, তুমি দেখতেই পাচ্ছ চারি দিকে শুধু জম্বি আর জম্বি । যারা সুস্থ তারা রুম থেকেই বের হচ্ছে না ,,, তাহলে আমাদের বিয়ের উপলক্ষে কে হোটেল খুলে রাখবে সেটা কি তুমি বলতে পারবে ?

পাপিয়া ‌ : তাইতো এটা তো ভেবে দেখিনি ,,, হোটেলে মানুষ নাও থাকতে পারে কিন্তু আমরা তো থাকবো ,, তুমি আমাদের বিয়ে উপলক্ষে রান্না করবে ।

নোবেল ‌ :  আচ্ছা সোনা,, আমি আমার ব‌উয়ের‌ জন্যে এই টুকুতো‌ করতেই পারবো ,,,আর‌ আমি সব রান্না করতে পারি ,,, আমার মা যখন হসপিটালে চলে গিয়েছে কাজ‌ করার জন্য তখন বাসায় আমার‌ই রান্না করতে হতো ,,, আমি রান্না করে নিজের হাতে আমার ভাইকে খাইয়েছি ,,, এই কথা বলে নোবেল কান্না করা শুরু করে দিল।

পাপিয়া নোবেলের চোখের পানি মুছে দিল‌ ,,, এরপর কিছুক্ষণ সান্ত্বনা দিল ।

আর এতোক্ষণে প্রচুর রোদ উঠে গিয়েছে ,,, সাবরিনা আর মিনা তারা এই গরমের মধ্যে ছাদে থাকতে পারছেনা,, এর মধ্যে তাদের অনেক খিদে পেয়েছে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ।

মিনা  পাপিয়াকে ডেকে বলল : পাপিয়া আমাদেরকে তাড়াতাড়ি এখান থেকে নিচে নামা ,,, আমাদের এখানে অনেক কষ্ট লাগছে ‌ ।

পাপিয়া ‌ : আর‌ একটু‌ কষ্ট কর‌ তোরা ,এখনই তোদেরকে যেভাবেই হোক নিচে নামাবো ।

নোবেল ‌ : ওরা যদি জানে তুমি এখানে বসে বসে প্রেম করছ আর ওরা ওইখানে কষ্ট পাচ্ছে,, তাহলে তোমাকে মেরে শেষ করে ফেলবে ।

পাপিয়া হেসে ফেলল ,,,

পাপিয়া ‌ : একটি বুদ্ধি পেয়েছি ,,, এই সাইটে তো কোন গাড়ি নেই, ঔ সাইটে রাস্তা ব্লক হয়ে আছে কিন্তু আমরা চাইলেই তো ওই স্কুল বাসটি এখানে নিয়ে আসতে পারবো ,,,, যেভাবেই হোক একটি বড় শক্ত রশি জোগাড় করার পর সাবরিনাদের‌ কাছে ছুঁড়ে দিবো ,,, আর এখানে বাস গাড়ি আনবো, ওরা ওই রশিটি ধরে আস্তে আস্তে করে পিছলে নেমে আসবে ,, আর এরপর সরাসরি স্কুল বাসের উপর নামবে । এর পরেরটা পরে দেখা যাবে আগে তো আমরা সবাই একসাথে হই ।

নোবেল ‌ : চলো আমরা ওই স্কুল বাসে প্রথমে যাই ,,,,

পাপিয়া ‌ : কিন্তু এই পা নিয়ে আমি কিভাবে ওইখানে যাবো ,,, এখন তো আমার হাঁটতেই‌ কষ্ট হচ্ছে ।

নোবেল ‌ : একদম আমাদের কাছেই স্কুল বাসটি রাখা ,,, একটি কাজ করো তুমি আমার কাঁধে উঠো ,,,, ভয় পেয়ো না আমি শুকনা থাকলে কি হবে আমার শরীরে প্রচুর শক্তি । তোমার মত দুটি মেয়েকে আমি একসাথে কাঁধে করে নিয়ে যেতে পারবো ।

পাপিয়া ‌ : কি বললে ,,, তুমি আরো একটি‌ মেয়েকে কাঁধে তুলবে ,,, এটা যদি করো তাহলে তোমাকে একদম মেরে ফেলবো ,,, এখন থেকে তোমার কাঁধে শুধু আমি একাই উঠবো । আমার ভীষণ ভালোই লাগবে তোমার কাদে উঠতে ,,, চিন্তা করবে না তোমার কাঁধে আমি শুধু শুধু উঠে থাকবো না তোমার কাঁধে বসেই‌ তোমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করব ।

নোবেল ‌ : এটা আর করতে হবে না ,তোমার মাথা থেকে বের হ‌ওয়া‌ রক্ত মাখা কাপড় আমি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলাম ,,, এখন এই কাপড়ের টুকরোগুলো দূরে ছুরে ফেলবো , এরপর ওই দিকে যখন জম্বি‌ গুলো যাবে তখনই আমি তোমাকে কাঁদে তুলে নিয়ে দৌড়ে ওই বাসে উঠে পড়বো । জানি‌ এই কাজটি অতটা সহজ না ,,, কিন্তু ইনশাআল্লাহ পারবো ।

নোবেল কাপরের টুকরোটি দূরে ছুরে ফেললো ,,,

আজকে এই পর্যন্তই থাক

চলবে

171 Views
4 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: