সেই ভয়ংকর রাত

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রাত ৯টা। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো। পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে গেলো। কিছুক্ষণ পর, ১০টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে এলো, কিন্তু ততক্ষণে আমার ভেতরে অজানা এক শূন্যতা বোধ হচ্ছিল। বাড়িতে Wi-Fi নেই, তাই পাশের বাসার পেছনে গিয়ে Wi-Fi চালানোর জন্য বসে পড়লাম। মোবাইলের স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠেছে, আর আমি সেখানে ডুবে যাচ্ছি। সময় কখন কেটে গেছে টের পাইনি। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁতে না ছুঁতেই আশপাশের সবকিছু যেন থেমে গেলো। কোন শব্দ নেই, সব যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে।


হঠাৎ, আচমকা বাতাসের এক প্রবল ঝাপটা আমার শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে গেলো। পুরো শরীরটা যেন বিদ্যুৎপৃষ্ঠের মতো কেঁপে উঠলো। সেই মুহূর্তে আমার কাঁধে কি যেন ভারী কিছু পড়লো। কাঁধটা ভারী হয়ে আসছে, আর আমি দেখি, আমার শার্টটা পুরো ভিজে গেছে। কিন্তু এই ভিজে যাওয়া কেবল পানি নয়, এটা রক্ত! ভয় আর অবিশ্বাসে আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। চিৎকার করে কাউকে ডাকতে চাই, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। 


আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, কালো মেঘের আড়ালে কি যেন ভাসছে। সাদা চাঁদের আলোয় সেই কালো ছায়া যেন অস্বাভাবিকভাবে নড়ছে। ঠিক তখনই, আমি দেখি আমার বন্ধু সাব্বির, সে আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমি ওকে ডাকলাম, কিন্তু সাব্বির যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। সে একদম নিঃশব্দে বাঁশঝাড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি দৌড়ে গিয়ে সাব্বিরের হাত ধরলাম। 


সাব্বির ধীরে ধীরে আমার দিকে মুখ ফেরালো, তার চোখগুলো বড় বড়, একদম লালচে হয়ে গেছে। মুখের চারপাশে রক্ত লেগে আছে। সাব্বির আমাকে শক্ত করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, আর নিজেই বাঁশঝাড়ের ভেতরে ঢুকে গেলো।


আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম, আমি এখানে একা, এবং কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না। মনে পড়লো, আমার মোবাইলে একটা কবিরাজের নম্বর আছে। আমি তাড়াতাড়ি তাকে ফোন দিলাম। কবিরাজ আসার আগেই সাব্বির আলোর গতিতে এসে কবিরাজের গলায় ছুরি চালিয়ে দিলো, আর কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো। 


এখন আমি সম্পূর্ণ একা, চারপাশে কেবল নীরবতা আর অজানা ভয়। হঠাৎই আমার চারপাশে কালো ছায়াগুলো ঘিরে ধরছে। তারা যেন আমার আত্মাকে টেনে বের করে নিতে চায়। কিন্তু তখনই ফজরের আযানের আওয়াজ ভেসে এলো, আর সেই আওয়াজে সব অশরীরী হাওয়ায় মিশে গেলো। আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসলাম, আর প্রতিজ্ঞা করলাম, রাতে আর কখনো বাইরে বের হবো না।
299 Views
13 Likes
7 Comments
4.0 Rating
Rate this: