এদিকে জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে তখন রাত প্রায় সাড়ে নয়টা। খাওয়া দাওয়া শেষ করে রূপা যখন বাড়ি ফিরবে তখন পূজা এসে বললো যে তার আরেক বান্ধবীকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসার পথে তাদের গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে গেছে। আর তাই ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে গ্যারেজে গিয়েছে। সেজন্য গাড়ি আসতে এখানো বেশ খানিকটা দেরী হতে পারে।
এদিকে এত রাত হয়ে গেছে দেখে রূপার বাবা মা নিশ্চয়ই চিন্তা করছে তাই পূজা রূপাকে বললো ফোন করে যেন সে তার বাবা মা কে বলে দেয় যে রূপার ফিরতে একটু দেরী হবে।
কিন্তু রূপা তখন ভাবলো এখন যদি রূপা তার বাড়িতে ফোন করে বাড়িতে ফিরতে দেরী হওয়ার কথা বলে তাহলে হয়তো এত রাতে রূপার বাবাই আবার তাদের গাড়ি নিয়ে চলে আসে। অযথাই আবার তার বাবাকে ঝামেলায় ফেলতে চায়নি বলে রূপা তখন বলে উঠলো-" বেশ তো। আমি না হয় একটু এগিয়েই দেখি। হয়তো হাইওয়ে রোডে উঠলেই কোনো না কোনো গাড়ি বা ট্যাক্সি নিশ্চয়ই পেয়ে যাবো। কিন্তু এখন গাড়ির অপেক্ষা করলে আরো দেরী হয়ে যাবে। ফলে বাবা মা ও আরো দুশ্চিন্তা করবে।"
পূজা বললো -" তাহলে আমি যে আঙ্কেল আন্টিকে বললাম তোকে গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবো। তাহলে? আর এত রাতে যদি তুই কোনো গাড়ি না পাস তখন এতোটা রাস্তা কি করে যাবি শুনি?"
রূপা বললো-" ও আমি বাবা মা কে ম্যানেজ করে নেবো তুই চিন্তা করিস না। আর এমনিতেও গাড়ি না পেলে ক্যাব বুক করে নেবো।"
এই বলে রূপা পূজাকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর bye! বলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
এদিকে পূজা তখন রূপাকে বললো-" সাবধানে যাস। আর বাসায় পৌঁছে জানাবি কিন্তু একবার।"
রূপা মাথা নেড়ে পূজার কথায় সম্মতি জানালো আর হাইওয়ে রোডের দিকে হাঁটতে শুরু করলো।
রাত তখন দশটা বেজে পাঁচের কাঁটা ছুঁই ছুঁই। রাতের ঘন অন্ধকারে চারপাশটা তখন দেখা যাচ্ছিলো না তেমন। গলির মোড়ের রাস্তাটাও বেশ শুনশান। গাড়ি ঘোড়া তো দূরের কথা একটা জনমানবের চিহ্ন ছিল না সেখানে। চারপাশের নিস্তব্ধ পরিবেশে একা একা হাঁটতে হাঁটতে রূপার তখন বেশ ভয় করতে লাগলো। ভাবলো একা একা এসে কোনো ভুল করলো না তো!
ঠিক সেই মুহূর্তেই রূপার মনে হতে লাগলো রূপার পিছন পিছন কে বা কারা রূপাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু এত রাতে পিছনে ঘুরে দেখার সাহস হচ্ছিলো না রূপার। এদিকে হাইওয়ে রোডও তখন খানিকটা দূরে। তাই কিছু না ভেবে রূপা গলির শুনাশান রাস্তা দিয়ে তাড়াতাড়ি হাঁটা শুরু করলো।
কিছুদূর হাঁটতে না হাঁটতেই রূপা তার পিছনে ঘন অন্ধকারে আবারো কারো উপস্থিতি অনুভব করলো। সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই একটা লোক শিস্ দিয়ে উঠলো। রূপা এবার ভয়ে ঘামতে শুরু করলো। তাই সে দৌঁড়ে একটা রোড লাইটের নিচে গিয়ে আলোর মধ্যে দাঁড়ালো। আর ফোন বের করে কাউকে ফোন করার চেষ্টা করছিলো।
রূপা যখন কাউকে ফোন করতে ব্যস্ত ছিল ঠিক তখনই রূপার সামনে দুটো অপরিচিত লোক ছুরি হাতে নিয়ে এসে দাঁড়ালো। যাদের মুখ ছিল কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা।এসব দেখে রূপার কিছু বলে ওঠা বা চিৎকার করার আগেই ঐ দুজনের মধ্যে থাকা একটি লোক রূপার গলায় ছুরি ধরে বললো-" কোনোরকম চিৎকার চেঁচামেচি করবি না। তাহলে একদম জানে মেরে ফেলবো। চুপচাপ যা আছে টাকা পয়সা , ফোন সবকিছু দিয়ে দে। যদি বাঁচতে চাস তাহলে যা বলছি তাই কর।"
রূপা ভয়ে ভয়ে ওর হাতে থাকা ব্রেসলেট,ঘড়ি, কানের দুল আর ব্যাগে থাকা টাকা পয়সা তাদের হাতে তুলে দিলো এবং বলতে লাগলো ওকে যেন তারা প্রাণে না মেরে ছেড়ে দেয়।
টাকা পয়সা আর দামি জিনিস পেয়ে ছিনতাইকারী দুটো বেশ খুশি হলো। কিন্তু এতটুকুতেই তারা সন্তুষ্ট হতে পারলো না। তাদের আরো কিছু চাই।
তারা লালসা ভরা চোখ দিয়ে রূপাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত বেশ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। কারণ তাদের মনে এবার পাপ জেগে উঠেছিলো।
এদিকে রূপাও তাদের অভিসন্ধি অনুমান করতে পেরে দৌঁড়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। রূপা যখনই সেখান থেকে দৌড়ঁ দিলো তখনই ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজন রাস্তায় পড়ে থাকা একটা গাছের ডাল রূপার পা বরাবর ছুঁড়ে মারলো। আর সেই ডালটাই রূপার পায়ে আটকে রূপা রাস্তার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলো।
এবার নিস্তব্ধ রাস্তায় অসহায় রূপার সামনে দুটো মানুষরূপী নরপিশাচ দাঁড়িয়ে। যাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য রূপা এবার মনে প্রাণে ভগবানকে স্মরণ করতে লাগলেন। কারণ তিনিই এখন অসহায় রূপার একমাত্র ভরসা। আর এমন দুরবস্থা দেখে ভগবানও হয়তো তার ভক্তের সহায় হয়েছিলেন।
চলবে.....
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভুলবেন না এবং সেই সাথে সাথে লাইক, কমেন্ট এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। আপনাদের উৎসাহই আমার লেখালেখির অনুপ্রেরণা। তাই সকলেই আপনাদের মতামত জানিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।
খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে 🥰)
প্রতিদান (পঞ্চম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
201
Views
11
Likes
2
Comments
5.0
Rating