এভাবে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে চিন্টুর শোকে রূপা নাওয়া খাওয়া সব ভুলতে বসেছে। সারাদিন শুধু চিন্টুর কথাই ভাবে আর থেকে থেকে কান্না করে।
এদিকে মেয়ের এমন অবস্থা দেখেও রূপার বাবা মা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। দিন দিন মেয়ের খারাপ অবস্থার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো উপায়ও ছিল না। কারণ ঐদিন রাতের ঘটনার পর চিন্টুরও আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বেচারা কোথায় আছে কি করছে কেউই জানে না।
দেখতে দেখতে এভাবেই কেটে গেলো আরো দুটো দিন। তারপর হঠাৎ একদিন দুপুরে রূপার বান্ধবী পূজা আসলো ওদের বাড়িতে। রূপা তখনো নিজের রুমে উদাসীন হয়ে বসে ছিল।
পূজা আসতেই রূপার মা পূজাকে নিয়ে রূপার রুমে গেলো। প্রথম প্রথম রূপা রুমের দরজা খুলতে রাজি হয়নি। পরে রূপার মা আর তার বান্ধবীর অনেক বলাবলির পর একটা সময়ে দরজা খোলে রূপা।
অনেকদিন পর বান্ধবী পূজাকে পেয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রূপা তার সাথে কথা বললো। বেশ খানিকক্ষণ কথাবার্তা বলার পর পূজা রূপাকে বললো-" রূপা আগামী পরশু আমার জন্মদিন। এবারে খুব একটা বড় করে কোনোরকম অনুষ্ঠান করবো না। তাই ক্ষুদ্র পরিসরে কাছের লোকজন নিয়েই স্বল্প আয়োজন করবো। যেহেতু তুই আমার খুব কাছের বান্ধবী। তাই তোকে কিন্তু আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসতেই হবে। দেখ প্লিজ না বলিস না তুই। আমি অনেক আশা করে এসেছি। প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিস না। কিরে যাবিতো বলো আগামী পরশু আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে?"
পূজা রূপার অনেক দিনের পুরনো বন্ধু । তাই সরাসরি পূজার মুখের ওপরে না বলতে পারলো না সে।
প্রথম প্রথম পূজাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলো রূপা, বললো-" দেখ আমার মনের অবস্থা এই মুহূর্তে খুব একটা ভালো নয়। তাই আমার কোথাও যেতে ভালো লাগছে না।"
কিন্তু পূজার নাছোড়বান্দা জেদের কাছে অবশেষে রূপাকে হার মানতেই হলো আর কথা দিতে হলো যে আগামী পরশু সে পূজার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে।
এবারে রূপাদের বাড়ি থেকে ফেরার সময় পূজা রূপার মা কে বললো-" আন্টি আপনার যদি কোনো আপত্তি না থাকে তবে কি আগামী পরশু আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে রূপাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি? প্রয়োজনে রাতে আমি রূপাকে আমাদের গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেবো। প্লিজ আন্টি না করবেন না। আমি অনেক আশা নিয়ে এসেছি।"
রূপার মা পূজার অনুরোধ ফেলতে পারলো না। আর মনে মনে ভাবলো রূপার এখন যা মানসিক অবস্থা সেক্ষেত্রে বন্ধু বান্ধবীদের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটালে হয়তো আস্তে আস্তে ও চিন্টুকে হারানোর শোক ভুলতে পারবে। আর ক্রমশই নিজের স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসতে পারবে। তাই রূপার মা পূজার এই প্রস্তাবে আর বিশেষ কোনো আপত্তি না দেখিয়ে বরং পূজার প্রস্তুাব মেনে নিলো।
অবশেষে পূজার জন্মদিন এসে উপস্থিত। বিকাল থেকেই বেশ কয়েকবার ফোন এসেছে পূজাদের বাড়ি থেকে। কিছুক্ষণ আগে পূজা নিজেই আবারো ফোন দিয়ে রূপাকে জিজ্ঞেস করলো -" কি রে আজ আসসিছ তো?"
রূপাও বললো -" হ্যাঁ। এইতো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রওনা হবো।"
অবশেষে নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চিন্টুকে হারানোর শোক নিয়ে রূপাকে পূজার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই হলো। তবে অনুষ্ঠানের পুরোটা সময়ই কেক কাটা থেকে শুরু করে ছবি তোলা, খাওয়া দাওয়া সবখানে তেই রূপাকে বেশ অন্যমনস্ক লাগছিলো। চিন্টুর চিন্তা এখনো রূপার মনে গেঁথে আছে যা কিছুতেই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
চলবে.........
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ 😊। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে)
প্রতিদান ( চতুর্থ পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
250
Views
10
Likes
2
Comments
5.0
Rating