পাপিয়া : হ্যাঁ আমরা খুব তাড়াতাড়ি আসবো তোমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য,, কিন্তু তোমাদের চুপচাপ থাকতে হবে ,,, একদম হাওকাও করা যাবে না ,,,, এভাবে কান্নাকাটি করলে ওই রাক্ষস গুলো তোমাদের উপর আক্রমণ করবে ।
বাচ্চারা ভালো ছেলে মেয়ের মত করে চুপচাপ হয়ে গেল ,,, তারাও বুঝতে পেয়ে গেল তাদের কথা বলা যাবে না ।
নোবেল : পাপিয়া তোমার কথায় বাচ্চা গুলো শান্ত হয়েছে। এবার চল আমাদের কাজ আমরা খুব তাড়াতাড়ি করে ফেলি ,,,
সবাই সবার গলা থেকে ওড়না খুলে একসাথে বেঁধে মজবুত একটি রশি বানিয়ে ফেলবো ,,, এরপর রশিটি শক্ত করে ছাদে থাকা একটি রটের মধ্যে বেঁধে ফেললো ,,,
তারা যেমন প্লান করেছিল তেমনভাবে সব কাজ করছে ,,, প্রথমে নোবেল ওড়না ধরে আস্তে আস্তে দ্বিতীয় তলায় চলে গেল ,,, এরপর পাপিয়ার পালা ,,, পাপিয়া মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষের ভয় জিনিসটা একটু বেশিই থাকে । নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো নিচে শুধু জম্বি আর জম্বি চলাচল করছে ,, সেখান থেকে পরে যাওয়া মানে নির্গাত মৃত্যু ।
এই ভয় পাওয়াটা পাপিয়া কাউকে বুজতে দিচ্ছে না ,, কারণ সবাই বুঝতে পেলে তাকে নিচে নামতে দিবে না ,,,
পাপিয়া তার মনকে সান্ত্বনা দিয়ে ভয়ভীতি দূর করে বাসে থাকা বাচ্চাদের কথা ভাবতে লাগলো ,,,
আর আল্লাহর নাম নিয়ে ওড়না ধরে আস্তে আস্তে করে নিচে নামতে লাগলো ,, নোবেল ও ঝুলে আছে ,,, প্রায় পাপিয়া নোবেল এর কাছাকাছি চলেই যাচ্ছে তখনই তার হাত থেকে পিছলে ওড়নাটি ছুটে গেল ,, উপর থেকে সাবরিনা আর মিনা ভয়ে অনেক জোরে জোরে চিল্লাতে লাগলো ,, কিন্তু নোবেল প্রস্তুত হয়েছিল আগে থেকেই ,, যেভাবেই হোক পাপিয়া যেন এখান থেকে পড়ে না যায় । ওড়না থেকে পাপিয়ার হাত যখন ছুটে গেল সাথে সাথে নোবেল পাপিয়াকে ধরে ফেললো ,,, এরপর পাপিয়াকে নোবেল তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল ,, পাপিয়াও এক নজরে নোবেলের দিকে তাকিয়ে আছে ।
আর ওইদিকে ছাদের উপর মিনা ,সাবরিনা আর মনি অনেকটা খুশি হয়ে গেল ,,, মিনা ওড়নাটি তাড়াহুড়া করে খুলে স্কুল রুমের ভেতরের দিকে ছুটে যেতে লাগলো ,,, কিন্তু মিনা কোনভাবে বুঝতে পারছে না পাপিয়ারা যেখানে জুলে আছে সেইখানে কোথা দিয়ে যেতে হয় ,, কারণ এই স্কুলটি অনেকটা বড় ,,, এভাবে জুলে থাকা পাপিয়াদের অনেক কষ্ট হচ্ছে ।
অনেকক্ষণ টাইম খোঁজাখুঁজি করার পর অবশেষে মিনা সেই জায়গাটি খুঁজে পেল,, সাথে সাথে রশিটি অনেক শক্ত করে বেঁধে দিল ,, আর রশির শেষ প্রান্ত যেখানে সেখানে রাস্তায় একটি গাড়ি রাখা আছে ,, তাও গাড়ি থেকে ৬ ফুট উপরে ওরনাটি জুলে আছে । ঐ 6 ফুট উপর থেকে গাড়িতে লাভ দিতে হবে ,,, সরাসরি রাস্তায় নামা যাবেনা ,, সরাসরি রাস্তায় নামলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জম্বিরা আক্রমণ করে বসবে ।
এইবারও নোবেল আগে চলে গেল ,,, অনেক কষ্ট করে নোবেল গাড়ির উপর লাভ দিয়ে নেমে পড়লো ,,,
পাপিয়াও গাড়িতে নামার জন্য ওড়নাটি ধরে আস্তে আস্তে নিচে নামতে লাগলো ,,, আর ওপর থেকে সাবরিনা অনেক সহজ দিতে লাগলো ,,,
প্রায় নেমে গিয়েছে,,,
বাসে থাকা বাচ্চারা খুশিতে তাদের হাতে তালি বাজাতে লাগলো ,,,
যখন পাপিয়া গাড়ির মধ্যে লাভ দিবে,, তখনই হঠাৎ করে সরাসরি রাস্তায় পড়ে গেল ,,, এভাবে অনেকটা উঁচু থেকে পড়ার কারণে ,, অনেকটা ব্যথা পেল পাপিয়া,, বলা চলে ভালো ভাবে হাঁটতেই পারছে না ,,
এই কারণে সবাই ভয় পেতে লাগলো ,,,, ছাদের উপর থেকে সাবরিনা আর মিনা অনেক জোরে জোরে চিল্লাতে লাগলো ,,, আর তাদের বান্ধবীর জন্য কান্না করতে লাগছে।
নোবেল গাড়ির উপর থেকে বলছে : পাপিয়া তাড়াতাড়ি দৌড়ে এখানে আসো আমি তোমাকে গাড়ির মধ্যে তুলে নেব ,,,
আর ওদিকে জম্বি গুলো পাপিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে পাপিয়াকে কামুড় দেওয়ার জন্য ,,, পাপিয়া তো ভালোভাবে হাঁটতেই পারছে না । এর মধ্যে পড়ে যাওয়ার কারণে পাপিয়ার মাথায় গাড়ির সাথে আঘাত লেগেছে ,, খানিকটা রক্ত বের হয়েছে ,,,এই রক্তের ঘ্রাণে জম্বি গুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে পাপিয়ার দিকে ,,,
গাড়িতে থাকা বাচ্চা গুলো চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলতে লাগলো : আন্টি তুমি পারবে ,, তুমি দৌড়ে আসো ।
সবার এমন উৎসাহ পেয়ে ,,, ব্যথার কথা ভুলে যেয়ে পাপিয়া দাঁড়িয়ে পরলো ,, ছাদ থেকে সাবরিনা তলোয়ারটি পাপিয়ার দিকে ছুড়ে ফেললো ,,,, পাপিয়া অনেক কষ্টে দৌড়ে তলোয়ারটি হাতে নিয়ে তার কাছে আসা জম্বি গুলোর ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে ফেললো ,, বাচ্চারা এগুলো দেখে তাদের চোখ তাদেরই হাত দিয়ে বন্ধ করে ফেললো ,,, এরপর যে গাড়ির উপর নোবেল নেমেছিল ,,, নোবেল পাপিয়ার হাত ধরে ঔ গাড়ির উপরে পাপিয়াকে তুলে নিল ।
পাপিয়ার পা মচকে গিয়েছিল ,, পাপিয়া ব্যাথাতে অনেক কান্না করছে ,,, আর ওদিকে জম্বি গুলো পাপিয়ার রক্তের ঘ্রাণে জম্বি গুলো পাগল হয়ে যাচ্ছে ,,, ওই গাড়ির চতুর সাইড দিয়ে শত শত জম্বি দাঁড়িয়ে আছে । নোবেল তারপরনের গেঞ্জি খুলে ছিরে ,, পাপিয়া মাথার রক্ত মুছে দিলো,,, এরপর খানিকটা কাপড় ছিরে পাপিয়ার মাথার কাঁটা স্থানে বেঁধে দিল যাতে করে পাপিয়ার মাথা থেকে রক্ত পড়া যেন বন্ধ হয়ে যায় ।
রক্ত মোছা কাপড় গুলো নোবেল তার কাছেই রেখে দিলো ,,, কিসের জন্য রেখে দিল এটা পরেই বুঝতে পারবেন ।
বাচ্চাদের স্কুল বাস ওই গাড়ি থেকে মাত্র কিছুটা দূরে ,,, আর ওইখানে ফাঁকা তেমন গাড়ি নেই ,,, গাড়ি গুলো সব ঔ গাড়ির সামনেই কারণ ওইখানেই একের পর এক গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়েছে ।
নোবেল টুকটাক ডাক্তারের বিষয়ে ভালোই জানে ,, কারণ তার মা একজন নার্স । পা মচকে গেলে কিভাবে চিকিৎসা করতে হয় এটা নোবেল ভালোভাবেই জানে । ওই গাড়ির উপরে নোবেল পাপিয়ার পা টা ঠিক করার চেষ্টা করছে । কারণ এই বিপদের মধ্যে তাসনিম যদি হাঁটতে না পারে তাহলে তারা এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে না । তাদের সামনেই ছোট ছোট ৫০ টা বাচ্চা বিপদে আছে,, এভাবে আরো সময় গেলে বাচ্চারা না খেয়েই মারা যাবে ,, আর ওইদিকে স্কুল ছাদের উপর মিনা ,সাবরিনা আর মনি দাড়িয়ে আছে ,,, বুক ভরা আশা নিয়ে ,,
আল্লাহর রহমতে পাপিয়া তার পা কিছুটা সুস্থ অনুভব করছে ।
পাপিয়া : একটি কথা তোমায় বলি তুমি কিছু মনে করবে না তো ,,,
নোবেল : বল একটি না বল আরো অনেকগুলো কথা বলো আমার এতে কোন সমস্যা নেই ,, সত্যি বলতে তোমার কথা শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে ।
আজকে এই পর্যন্তই থাক
চলবে
ভয়ানক জম্বির আক্রমণ ( পর্ব ১৫ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
136
Views
4
Likes
0
Comments
5.0
Rating