ভয়ানক জম্বি‌র‌ আক্রমণ (পর্ব ১৪ )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পাপিয়া ‌ : আমরা তো ছাদে উঠে গেলাম ,, এখন দেখা যাচ্ছে ওই স্কুল মাঠের থেকে ‌ ,,,বাহিরের অবস্থাই বেশি খারাপ ,,, সব জায়গায় গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে আছে,, রাস্তাঘাট মানুষে ফাঁকা কিন্তু জম্বি দিয়ে ভর্তি ,, বাহিরের অবস্থা অনেকটা ভয়াবহ ,,,

মিনা ‌ : এগুলো দেখেই তো আমার ভয়ে হাত-পা কাঁপছে ,,, এরমধ্যে আমরা এত  উঁচুতে ,,,

নোবেল ‌ : আমিও তো ভাবিনি শহরেও এই অবস্থা,,, কি‌ হয়ে গেল আমাদের এই শান্তশিষ্ট শহরে ,,, চারিদিকে হাহাকার ,,,,

পাপিয়া ‌ : একটু খেয়াল করে দেখো এই রাস্তার মধ্যে অনেকগুলো মানুষ সুস্থ আছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি অনেকে গাড়ির মধ্যে বন্দী হয়ে আছে ,,, এই যে বাস গাড়িটি এক্সিডেন্ট হয়ে আছে ,,, সেটা হলো স্কুল বাস ,,, গাড়িটি ভর্তি ছোট ছোট বাচ্চা ,, যেভাবে হোক ওদেরকে আমাদের সাহায্য করতেই হবে ওদের আপনজনদের কাছে বাচ্চাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে ,, এটাই আমাদের প্রথম লক্ষ ।

নোবেল ‌ : হ্যাঁ পাপিয়া একদম ঠিক বলেছ ,,, এই বাচ্চা গুলো অনেক চেচামেচি করছে ওদের এই চেঁচামেচির‌ শব্দে জম্বি গুলো খুব তাড়াতাড়ি ওদের উপর আক্রমণ করে বসবে । বাস ড্রাইভার জীবিত আছে মনে হচ্ছে,, হতে পারে এক্সিডেন্ট হওয়ার কারণে মাথার মধ্যে আঘাত লেগেছে , এতে বেহুঁশ হয়ে আছে।।।

মিনা ‌ : আমার মনে হচ্ছে ড্রাইভারটি‌ মারা গেছে ভাইয়া ,, ঔই স্কুল বাসের সামনে অনেক গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে আছে চাইলেই এই গাড়িটি এগুনো যাবে না‌ ,,, আর বড় কথা হলো আমরা তো তিনতলা স্কুলের বিল্ডিং এর উপর আছি এখান থেকে নিচে নামার‌ওতো কোন উপায় নেই । এখন তো আমরাই আর বেশি ঝামেলায় পড়ে গেলাম ভাইয়া।

পাপিয়া ‌ : আমাদেরকে একতলা একতলা করে নিচে নামতে হবে সেটা যেভাবেই হোক ,, আমার মাথায় একটি বুদ্ধি এসেছে ,,, এখান থেকে কাউকে নিচে যেতে হবে এরপর নিচ থেকে মজবুত একটি রশি এনে সবাইকে উদ্ধার করতে হবে ।

সাবরিনা ‌ : পাপিয়া তোর কথা আমি কিছু বুঝতে পারছি না ,,, বুঝলাম একজনকে নিচে যেয়ে রশি আনতে পারলে সবাই কোনরকম ভাবে নামতে পারবে কিন্তু সেই একজন নিচে নামবেই বা কিভাবে ? একজন নামতে পারলেতো আমরা সবাইও নামতে পারতাম তাইনা ‌ ?

পাপিয়া ‌ : শোন আমাদের তিনজনের শরীরে ওড়না আছে ,, সেই তিনটি ওড়না একসাথে বেঁধে একটি রশি বানাবো ,,,

মিনা ‌ : পাপিয়া তোর মাথা কি নষ্ট হয়েছে‌ নাকি , তিনটি ওড়না দিয়ে আর কতটুকুই বা রশি হবে বল‌ আর,এটা তিনতলা বিল্ডিং এটা কি তুই ভুলে গিয়েছিস ,,কমপক্ষে এক তলা নিচে যেতে পারবি আরও দুই তলা বাকি থাকে ,,,

পাপিয়া মীনাকে অনেক জোরে করে একটি ধমক দিল ,

পাপিয়া ‌ : আমি যখন কথা বলবো সেই কথার মাঝখান থেকে কেউ কথা বলবি না ,,, আমি যে কথাটি বলবো এই কথার যুক্তি থাকবে সেটা মনে রাখিস ।

পাপিয়ার কথা শুনে এবং ধমকটা শুনে নোবেল হেসে দিল ,,,

পাপিয়া ‌ : এমন ৩২ টা দাঁত বের করে কেন হাসছেন ,,, আমি কি আপনাকে হাসানোর জন্য কোন কিছু করলাম নাকি ? বিনা কারণে হাসাও আমার একদম পছন্দ না ।

নোবেল ‌ : তোমার দমক শুনেতো আমিও ভয় পেয়ে গিয়েছি ,,,

পাপিয়া ‌ : তো ভয় পেয়েছো কান্না করো এভাবে দাঁত বের করে হাসছো কেন ?

নোবেল ‌ : হয়তো বেশি ভয় পেয়েছি বলে কান্নার বদল হেসে দিয়েছি । আচ্ছা বল শুনি তোমার পুরো কথা ,,,

পাপিয়া ‌ : ওকে ,,কিন্তু আমার সম্পূর্ণ কথা শেষ হওয়ার আগে কেউ কথা বলবে না ,,,,

সাবরিনা ‌ : আচ্ছা বলবো না ,,, এখন বল ,, বাচ্চাগুলো অনেক বিপদে আছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদেরকে কিছু করতে হবে ।

পাপিয়া ‌ : আমি ভালোভাবেই জানি ,, তিনটি ওড়না একত্রে বাদলে আমরা একতলা নিচ‌ ছাড়া বেশি নিচ পর্যন্ত যেতে পারবো না ,, কিন্তু এখানে আমাদের বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে ,,, যেমন এই রশিটি এই ছাদ থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বেধে রাখবো ,, এরপর আমি এই ওড়নার সাহায্যে দ্বিতীয় তলায় যাব ,, এরপর দ্বিতীয় তলার শিক ধরে আমি ঝুলে থাকবো ,, এতক্ষণে কেউ এই ওড়নাটি খুলে তাড়াহুড়া করে দ্বিতীয় তলায় যেয়ে আবার ওড়নাটি বেধে দিবে এরপর ওড়নার সাহায্যে আমি নেমে যেতে পারবো । বিপদের সময় নিজেদের বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে ,,,

নোবেল ‌ : বাহ‌ বাহ‌ বাহ‌ তোমার বুদ্ধির‌ প্রশংসা না করে পাড়লাম না আমি । তোমার মাথায় অনেক বুদ্ধি,,, কিন্তু এই‌ কাজটি অনেক রিক্স‌ যদি হাত পিছলে পড়ে যাও‌ তাহলে একেবারে জম্বির সামনে যেয়ে পড়তে হবে‌ আর‌ হাত‌ পা‌ তো‌ ভাঙবেই ,,,আর‌ জম্বিতো‌ আক্রমণ করার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবেই‌ । পাপিয়া তুমি সবার সাথে থাকো‌ এই কাজটি আমি করবো,, নিচে আমি যাব ,,,,

পাপিয়া ‌ : না তোমাকে ঐ‌ বিপদের মধ্যে পাঠাতে পারবো না ,, কারণ আইডিয়াটা‌ আমার ,, যদি কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে বিশাল সমস্যা হবে কারণ এই পৃথিবী জম্বি ভাইরাস মুক্ত করার জন্য তোমার অবদান অনেক বেশি থাকবে ,, তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে । আমার জন্য চিন্তা করিও না ,, আমার কিছু হলে আমার বন্ধুদেরকে দেখে শুনে রেখো‌ তুমি ।

নোবেল ‌ : না তোমাকে আমি একা যেতে দেবো না ,, আমরা দুজন একসাথে যাব ,,, আমি প্রথমে দ্বিতীয় তলায় যেয়ে শিক ধরে ঝুলে থাকবো ,, এরপর আমাকে ফলো করে তুমি দ্বিতীয় তলায় নামবে ,,, আর এখান থেকে মিনা তুমি আমাদের বানানো রশিটি এই‌ ছাদ থেকে খুলে খুবই দ্রুত দৌড়ে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে বেঁধে ফেলবে ,,, এরপর আমরা আবার নিচে নামতে শুরু করব ,,, আর সাবরিনা তুমি মনিকে দেখে শুনে রাখবে আর আমাদের দুজনের তলোয়ার নিচে ফেলে দিবে খুব দ্রুত ,যেন আমরা নামার‌ সাথে সাথে তোলোয়ার‌ আমাদের হাতে পেয়ে যাই ।

সাবরিনা ‌ : আচ্ছা ভাইয়া ,,, পাপিয়া অনেক সাবধানে নামবি ওড়না গুলো কিন্তু পিচলে‌ ,, ভাইয়া তুমিও অনেক সাবধানে নামবে‌ ।

ওই স্কুল বাসটি ওই স্কুলের ছাদ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ,,,

পাপিয়া ‌ : বাচ্চাদেরকে আগে আমাদের সাহস যোগাতে হবে  ,, তারা যেন হাউ কাউ না করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে ,,, তা না হলে খুব তাড়াতাড়ি কোন একটা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে ওদের ‌ । বাচ্চারা এগুলো দেখে অনেক ভয়ে আছে এর মধ্যে,, ড্রাইভার রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়িতেই পড়ে আছে ,,,

পাপিয়া বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বাচ্চাদেরকে‌ ডেকে বলতে লাগলো : এই যে বাচ্চারা তোমরা উপরে তাকাও ,,, এই কথাটি অনেক জোরে বলল পাপিয়া ,,, সব বাচ্চারা স্কুলের ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে ,,,, আর হ্যাঁ এই বাচ্চারা এই স্কুলের না ,,, এই বাচ্চাদের স্কুল এখান থেকে অনেকটা দূরে ।

বাচ্চারা ‌ : আন্টি আমাদেরকে এখান থেকে নিয়ে যাও,,, এই রাক্ষস গুলো আমাদেরকে খেয়ে ফেলবে , আন্টি তুমি আমাদেরকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও ।

পাপিয়া ‌ : হ্যাঁ আমরা তোমাদেরকে খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধার করবো ঐখান থেকে ,,, শুধু আমি যা বলি তোমরা সেভাবে থাকো ,,,

বাচ্চারা ‌ : আচ্ছা আন্টি বল তুমি যেটা বলবে আমরা সেটাই শুনবো । এই কথা বলে বাচ্চারা কান্না করতে লাগলো,,,

পাপিয়া ‌ : একদম কান্না করবে না ,,, আগে বল তোমরা ঐ গাড়িতে কয়জন আছো ,,?

বাচ্চারা ‌ :‌ আমরা 50 জন‌ আছি ,, ড্রাইভার কথা বলছে না ড্রাইভার হয়তো মারা গিয়েছে ,,, আর আমরা এই গাড়িতে 50 জন‌  আছি ,,, আন্টি আমরা সবাই অনেক ব্যথা পেয়েছি ,,, আমাদের মধ্যে10 জন‌ কোনভাবেই দাঁড়াতে পারছে না , আন্টি তোমরা তাড়াতাড়ি এসে আমাদেরকে হসপিটালে নিয়ে যাও ।

আজকে এই পর্যন্তই থাক

চলবে

168 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: