বাড়ির গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে রূপা দরজার সামনে এসে কলিং বেল বাজাতে শুরু করলো। তখনো ছানাটা রূপার কোলেই ছিল। কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে রূপার মা দরজা খুলতেই তার চোখ পড়লো রূপার কোলে থাকা কুকুর ছানাটির ওপর।
এটা দেখার সাথে সাথেই রূপার মা বিরক্তির সহিত বলে উঠলো-" এ কি রূপা! এরকম একটা নোংরা কুকুর ছানা কোথায় পেলে আর ওটাকে কোলে তুলেই বা কেন বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছো ?"
মায়ের কথা শুনে রূপা গদ গদ কণ্ঠে বলে উঠলো-" মা ওকে রাস্তায় পেয়েছি। ওর মা একটা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। মা হারা ছানাটাকে দেখে আমার খুব মায়া হলো। তাই এমন অবুঝ প্রাণীটিকে একা একা রাস্তায় ফেলে আসতে মন চাইলো না। আর তাছাড়াও দেখো ও কত্ত কিউট! মা ও কি আমাদের সাথে আমাদেরই বাড়িতে থাকতে পারে না?"
তৎক্ষণাৎ রাগান্বিত হয়ে রূপার মা বলে উঠলো-" কিছুতেই না। একে তো রাস্তার নোংরা কুকুর তার ওপরে এত ছোট্ট ;ওর খেয়াল রাখা, নাওয়া খাওয়া কে করাবে? বরং আরো উটকো ঝামেলা। আবার কত রকমের রোগ জীবাণু ছড়ানোর ভয়। তাই ওকে এ বাড়িতে কিছুতেই রাখা যাবে না।"
এবার রূপা আবারো বায়না জুড়ে বসলো। ও কিছুতেই রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা সদ্য মাতৃহারা ছানাটিকে বাইরে ফেলে দিয়ে আসতে চাইছিলো না। তাই রূপা বার বার তার মায়ের কাছে অনুরোধ করতে লাগলো যাতে কোনো উপায়ে ছানাটিকে ঘরে রাখার অনুমতি পাওয়া যায়।
এদিকে মা মেয়ের আওয়াজ পেয়ে রূপার বাবা দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। জানতে চাইলো মা মেয়ের এত চিৎকার চেঁচামেচি কিসের জন্য।
বাবাকে দেখেই রূপার বায়না যেন আরো বেড়ে গেলো। কারণ রূপা জানে আজ পর্যন্ত তার বাবা তার কোনো ইচ্ছা কখনোই অপূর্ণ রাখেনি। তাই মা কে রাজি করানোর জন্য বাবা ই এখন তার শেষ ভরসা। তাই রূপা এবার তার বাবাকেই সবটা খুলে বললো আর খুব করে অনুরোধ করতে লাগলো যেন ছানাটি ওদের সাথে ওদের বাড়িতেই থাকতে পারে।
এদিকে রূপার বাবাও যেন মা-মেয়ে দুজনের তর্কের মাঝে এসে পড়লো মহাবিপদে। কার পক্ষে যাবে এটা নিয়েই এখন সে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছে। মায়ের পক্ষে গেলে মেয়ের মুখ ভার আর মেয়ের পক্ষে গেলে মায়ের অভিমান ।
অবশেষে রূপার বাবা মেয়ের পক্ষ নিয়েই রূপার মা কে খুব করে বোঝাতে লাগলো যেন মেয়ের অনুরোধটা সে রাখে। অন্তত তার মুখের দিকে তাকিয়ে যেন এবারের মতো রূপার এই আবদারটা রূপার মা পূরণ করে।
বাবা মেয়ের সম্মিলিত চেষ্টায় অবশেষে রূপার মায়ের মন একটু গললো। সে রাজি হলো ছানাটিকে বাড়িতে রাখার অনুমতি দিতে। তবে তার সাথে শর্তও জুড়ে দিলো। যদি কখনো বাড়ির কেউ ঐ কুকুর ছানার জন্য কোনো ঝামেলায় পড়ে তবে সেইদিনই হবে এই বাড়িতে ঐ ছানাটির শেষ দিন। তখন যেন তারা কেউই এর কোনো প্রতিবাদ না করে।
এখন শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প না থাকায় বাবা মেয়ে দুজনেই মায়ের কথায় সম্মতি প্রকাশ করলো।
এদিকে বাড়িতে থাকার অনুমতি পেয়ে ছোট্ট ছানাটিও যেন খুব আনন্দিত হলো যেটা তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো। ছানাটি তখন রূপার হাত চেটে দিয়ে যেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলো।
রূপা এবার মহা খুশি। ছানাটিকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই যেন এক নতুন বন্ধুকে পেয়ে গেছে রূপা। এখন রূপার সারাদিনই কাটে তার নতুন বন্ধুর সাথে খুনসুটি করে। আদর করে রূপা ছানাটির নামও দিয়েছিলো একটা।সে ছানাটিকে চিন্টু বলে ডাকতো। চিন্টুকে খাওয়ানো, ঘুম পড়ানো আর ওর সাথে খেলতে খেলতেই রূপার সময় পার হয়ে যায়। এদিকে চিন্টুও যেন রূপার কোলেই খুঁজে পেতো তার সবথেকে নিরাপদ আশ্রয়।
এমন খুনসুটির মাঝে থেকেই রূপা আর চিন্টুর সময় কেটে যেতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে রূপা আর চিন্টুর বন্ধুত্বও আরো গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগলো।
চলবে.........
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। আর সেই সাথে সাথে আমার নতুন গল্প পাওয়ার জন্য আমাকে ফলো দিয়ে রাখার অনুরোধ রইলো। সবাইকে ধন্যবাদ 🥰।
খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে)
প্রতিদান ( দ্বিতীয় পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
295
Views
13
Likes
2
Comments
5.0
Rating