পাপিয়া : তুমি তো আমাদের মনে এতক্ষন সাহস জাগালে নোবেল ,, এখন তুমি এভাবে ভেঙ্গে পড়ছো । যতটুকু জানি তুমি অনেক সাহসী ছেলে ,, কিছু মনে করলে কি তোমাকে যে তুমি করে বললাম ?
নোবেল : না একদমই কিছু মনে করিনি , আমিও তো তোমাকে তুমি করে বললাম ,, হ্যাঁ আমাকে ভেঙ্গে পড়লে হবে না আমাদেরকে এখান থেকে বের হতে হবে ।
মিনা : ভাইয়া কিন্তু আমরা এখান থেকে কিভাবে বের হব ? কোন রাস্তায়ই তো নেই এখান থেকে বের হওয়ার । এই স্কুলটা 5 তালা তাও প্রত্যেকটা রুমে তালা দেওয়া ।
নোবেল : আমাদেরকে যেভাবেই হোক ছাদে যেতে হবে,, দরকার হলে প্রত্যেকটা তালা ভাঙতে হবে ,,,, পাপিয়া তুমি আগে তোমার বাবার সাথে কথা বলো আমার মোবাইল দিয়ে । হয়তো তোমাদের সবার ফ্যামিলির মানুষ চিন্তা করছে তোমাদের জন্য ।
পাপিয়া : না আমি বাবাকে ফোন দিবো না ,,, এবং কোন ধরনের কথাও বলবো না ।
নোবেল : কেন কথা বলবে না তুমি তোমার বাবার সাথে ?
পাপিয়া : বাবা হয়তো এতক্ষণে জেনেছে আমি মারা গিয়েছি,,, আমাকে হারানো সব কষ্ট হয়তো মন থেকে স্বীকার করে নিয়েছে আমার বাবা,,, আমার বাবা আমাকে অনেক ভালোবাসে,,, যদি শুনে আমি এখানে আছি তাহলে সাথে সাথে আমাকে উদ্ধার করার জন্যে ছুটে আসবে ,, এরপর বাড়িতে নিয়ে আমাকে বন্ধি করে রাখবে ,,, আমাকে রুম থেকে বের হতেই দেবে না । আর আমি এভাবে বন্ধি হয়ে থাকতে পারবো না ।
আমার বাবাকে আমি জানাতে চাই না আমি যে বেঁচে আছি এটা,,, যখন আমি জম্বি গুলোর সাথে লড়াই করে সফল হতে পারব তখনই আমি বাবার সামনে যাব । আমি মরে যাওয়ার দুইবার খবর আমার বাবা নিতে পারবে না ।
হয়তো যখন শুনেছে আমি মারা গিয়েছি তখন উনি নিজের মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে অনেক কষ্ট পেয়েছে ,,, এখন যদি বাবা শুনে আমি বেঁচে আছি তাহলে অনেক খুশি হবে, কিন্তু আমি যদি বাড়ি ফেরার আগেই আবার জম্বির আক্রমণে আমি মারা যাই তাহলে ,, আমি মারা যাওয়ার কষ্ট সম্পন্নটা আবার নতুন করে অনুভব করতে হবে আমার বাবার । আমি চাই আমার বাবা ভালো থাকুক । আর আমি বন্দি না হয়ে জম্বির সাথে লড়াই করতে চাই ।
সাবরিনা ওরা সবাই বুঝতে পেল পাপিয়ার কথা ,, তারাও সিদ্ধান্ত নিল তাদের পরিবারের কাউকে তাদের বেঁচে থাকার খবর দেবে না । যদি এ লড়াইয়ে বেঁচে বাড়ি ফিরতে পারে তাহলেই ফিরবে ।
নোবেল : তোমরা একদম ঠিক বলেছো ,,, আমাদের লড়াই আমাদেরই করতে হবে । এখন যেভাবেই হোক আমাদেরকে ছাদে যেতে হবে । কারণ এই স্কুলের পেছনেই রাস্তা যদি আমরা ছাদ থেকে নামতে পারতাম তাহলে আমরা এখান থেকে চলে যেতে পারতাম ,,, আর আমি তো নেটে শুনলাম এই স্কুল ঘরটি জ্বালিয়ে দেবে সরকার খুব তাড়াতাড়ি । আর এখানে চেক দেওয়ার জন্য কেউ আসবে না ,,, একবার এসেছিল তোমরা সবাই গাড়িতে ছিলে তোমাদেরকে দেখিনি আর আমি ইচ্ছে করে এখান থেকে যায়নি তোমাদেরকে রেখে এবং আমার ভাইকে রেখে ।
পাপিয়া : আমরা বুঝতে পারছি তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার কতটা ভালোবাসা । কিন্তু এই ভালোবাসা ত্যাগ করতে হবে নোবেল তোমাকে,,আমার মনে হয় না এই ভাইরাসের কোন ঔষধ আছে বা এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করেছে । তা না হলে তো তোমার এই জম্বি ভাই আমাদেরকে আক্রান্ত করে দেবে ।
নোবেল : হ্যাঁ ঠিকই বলছো ওকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেবো ,,, অন্য সকল জম্বিদের মত করেই ঘুরে বেড়াক আমি আমার হাত দিয়ে ওকে মারতে পারবো না ।
এর পর নোবেল ,,, পাপীয়াদের অন্য রুমে রেখে সে তার ভাইকে দরজার সামনে নিয়ে হাতের বাঁধন খুলে বাহিরে ঠেলে দিয়ে দরজাটি বন্ধ করে দিল ।
এরপর শুরু করে দিল তাদের নতুন মিশন ,,,, একটি বড় রট দিয়ে একের পর এক দরজার তালা ভেঙ্গে ছাদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এগুচ্ছে ,,
পাপিয়া মনিকে তার কোলে করে নিয়েই সব জায়গায় যাচ্ছে ,,, প্রায় ছাদের কাছে এসেই পড়েছে ,,, কিন্তু শেষের তালাটি অনেক মজবুত এগুলো ভাঙ্গা অনেকটা অসম্ভব । তারা চারজন অনেক কষ্ট অনেক পরিশ্রম করে তালা ভাঙতে শুরু করলো । যেভাবেই হোক তাদের ছাদে উঠতে হবে এই স্কুল ছাদে উঠলেই শহরে দৃশ্যটি অনেকটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে ।
তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লো ,,, একটু আরাম করার উদ্দেশ্যে সেখানে তারা বসে পড়লো ।
পাপিয়া : এত বড় তালা সামান্য এই রোড দিয়ে কিভাবে আমরা ভাঙবো সেটাইতো বুঝতে পারছি না ,, অনেক ক্লান্ত হয়ে গেলাম ।
নোবেল : তুমিও ক্লান্ত হও এটা তো আগে জানতাম না ,,, থাক ক্লান্ত হলেই তোমাকে দেখতে অনেক ভালো লাগে ,,,,
মিনা, সাবরিনা অন্যদিকে তাকালো লজ্জা পেয়ে ,,,
পাপিয়া : এই মিয়া লাইন কম মারেন ,,, এত লাইন মারা ভালো না বুঝছো জীবন চলে যাচ্ছে সেই চিন্তায় বাঁচি না ,,, আর তুমি লাইন মারার চেষ্টা করছো ,,,,
নোবেল : যেটা সত্যি সেটা বললাম লাইন মারার কি হলো ,,,, দেখা যাচ্ছে আজকাল মানুষকে সুন্দরও বলা যাবে না ,,, আচ্ছা আমি অনেক ভুল করে ফেলেছি তোমাকে সুন্দর বলে ,,, আর কিছু মনে করিও না ওই কথাটি মিথ্যে ছিল ।
পাপিয়া : মানে ? তুমি কি বলতে চাচ্ছ পরিষ্কারভাবে বল ? আমি সুন্দর এটা মিথ্যে ?
নোবেল : হ্যাঁ এই কথাটি মিথ্যে ,,, সত্যি হলো তোমাকে দেখতে জম্বির মত লাগে । এই কথা বলে নোবেল দৌড়ে অন্য সাইটে যেতে লাগলো ,,, আর পিছন পিছন পাপিয়া দৌড়াচ্ছে তাকে ধরার জন্য ,,, পাপিয়া দৌড়াচ্ছে আর বলছে আমাকে তো জম্বির মত লাগে দাড়াও তোমাকে কামড়ে দেবো ,,, এরপর বুঝবে তোমাকে দেখতে কার মতো লাগে ,,, এভাবে তারা খুনসুটি করতে লাগলো ।
মিনা আর সাবরিনা এগুলো দেখে হাসছে ,,,,
মিনা : এমনিতে বললি তোর ক্লান্ত লাগছে ,,, এভাবে আর দৌরাস না ,, এতে করে তুই আরো ক্লান্ত হয়ে পড়বি ।
নোবেল : আচ্ছা আমি দাঁড়িয়েছি এখন আমাকে কামড়ে দাও ,, এরপরেও আর বেশি ক্লান্ত হওয়ার জন্য দৌড়াতে হবে না তোমাকে । বেশি ক্লান্ত হলে এই তালা কে ভাঙবে । এই কথা বলে নোবেল তার হাত বাড়িয়ে দিল পাপিয়ার দিকে ।
পাপিয়া অনেক দুষ্ট সত্যি সত্যি নোবেলের হাতে অনেক জোরে করে কামড়ে দিল ,,, নোবেল তো ব্যথাতে চিৎকার করে উঠলো ।
নোবেল : আমি মাফ চাই আমার অনেক ভুল হয়ে গিয়েছে জম্বি ম্যাডাম ।
পাপিয়া : আবারও আমাকে জম্বি বললে ,,
নোবেল : সরি সরি সরি আর বলবো না সুন্দরী ।
এভাবে তারা হাসি তামাশা করার পর ,,, আবার চেষ্টা চালিয়ে দিল তালা ভাঙ্গার জন্য । অবশেষে তালাটি ভেঙ্গে তারা ছাদে পৌছালো ,,,, কিন্তু সেখানে যেয়ে তারা যেটা দেখতে পেল এটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না তারা ,,,,
আজকে এই পর্যন্তই থাক ❤️ ❤️
চলবে ,,,,,,,
ভয়ানক জম্বির আক্রমণ (পর্ব ১৩)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
162
Views
5
Likes
1
Comments
5.0
Rating