এবারে আজকে রাতের মিশন শেষ করে বাসায় ফেরার পালা। তাই তখন আম গাছ তলাতে বসেই আম আর ডাবের ভাগ সাজ্জাদকে দিয়ে আমরা তিন রুমমেট বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আর এতক্ষণ পর্যন্তও কিন্তু ঐ কুকুর ছানাটি আমাদেরই সাথে ছিল।
এবারে যখন আমরা ভার্সিটির বয়েজ হোস্টেলের পিছন থেকে ঘুরে গেটেরে কাছাকাছি এসে গেছি তখনই গেটের সামনে থাকা কুকুরের দল আবারো ঐ কুকুর ছানাটিকে দেখে ঘেউ ঘেউ করতে করতে দৌঁড়ে আসলো। এবারও আমি,সিফাত আর নাজমুল মিলে কুকুর ছানাটিকে বাঁচাতে ঐ তেড়ে আসা কুকুরগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়তে আরম্ভ করলাম।
কিন্তু এবারে কুকুরগুলো কিছুতেই যেন থামছে না। ওরা যেন আজ ঐ কুকুর ছানাটিকে মেরে তবেই শান্ত হবে। এসব দেখে আমাদের মাঝে একটু খটকা লাগে। যে ওটাও তো একটা কুকুরের ছানা তো কেনই বা এই কুকুরগুলো ওর ওপর আক্রমণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাও বুঝলাম হয়তো এক এলাকার কুকুর অন্য এলাকায় চলে এসেছে কিন্তু তাই বলে এতোটা হিংস্রাত্মক আচরণ দেখে সত্যিই তখন বেশ অবাক হচ্ছিলাম আমরা।
তখন হঠাৎই সিফাত বলে উঠলো-" আচ্ছা এটা কি আসলেই কুকুরের ছানা?"
ওর এমন প্রশ্ন শুনে আমি আর নাজমুল একটু অবাক হলাম। এরপর নাজমুলও বলে উঠলো হতেই পারে সিফাতের সন্দেহই সত্যি। এমনও তো হতে পারে এটা কোনো কুকুর ছানাই নয়। কারণ অনেক সময় জ্বীনেরা কুকুর বিড়ালের রূপ নিয়েই আমাদের মাঝে ঘুরে বেড়ায়। আমরা হয়তো মানুষেরা সেটা সবসময় বুঝতে পারি না। কিন্তু কুকুর বা অন্যান্য প্রাণী ঠিকই ওদের চিনতে পারে। হয়তো তাই কুকুরগুলো যখনই ঐ ছানাটিকে দেখছে ঠিক তখনই ওরা ওর দিকে তেড়ে আসছে।
নিজেদের মধ্যে এসব কথা নিয়ে আলোচনা করার মধ্যে খেয়ালই করতে পারিনি হঠাৎ কখন সেই ছানাটি আমাদের মাঝ থেকে সরে গিয়েছে। এরপর আমি নাজমুল আর সিফাতকে ডাকতেই দেখি ছানাটি আর আমাদের মাঝে নেই। হঠাৎ করে কর্পূরের মতো যেন উড়ে গেল ছানাটি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর দেখি ছানাটি দূরে দাঁড়িয়ে একটা ঝোপের কাছে।
এটা দেখে আমি আর নাজমুল ঐ ছানাটির কাছে ছুটে যেতেই ছানাটি অন্ধকারে থাকা ঝোপের আড়ালে মিলিয়ে গেলো। আমি আর নাজমুল ঝোপের আড়ালে ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে আরো বেশ কিছুক্ষণ ঐ ঝোপের মধ্যে কুকুর ছানাটিকে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু অবাক করা বিষয় এই যে সামান্য ঝোপের আড়ালে একটা কুকুর ছানা কিছুতেই হারানো সম্ভব নয় আর লুকিয়ে থাকলেও এতক্ষণে খুঁজে পাওয়ার কথা। এসব ভেবে যখনই আমি চোখ গেলো নাজমুলের পায়ের দিকে তখনই দেখি ওর পায়ের থেকে কিছু মাত্র দূরে একটা কালো সাপ ফনা তুলে রয়েছে।
এটা দেখা মাত্রই আমি নাজমুলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম। তারপরেই দেখি সাপটা আবার ঝোপের আড়ালে চলে গেলো।
তখন ঐ অন্ধকারে আর ঝোপের আড়ালে খুঁজে দেখার সাহস হলো না। আমি আর নাজমুল চলে আসলাম। এসে দেখি সিফাত আমাদের জন্য তখনও বস্তা হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
###
(আপনাদের করা লাইক, কমেন্ট এবং রেটিং পয়েন্টই আমাদের নতুন গল্প লেখার উৎসাহ জাগায়। তাই গল্পটা কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না এবং সেই সাথে সাথে রেটিং দিয়ে গল্পটা মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো 🥰)
রহস্যময় কুকুর ছানা (চতুর্থ পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
267
Views
9
Likes
2
Comments
4.8
Rating