রহস্যময় কুকুর ছানা (তৃতীয় পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পিছনে ঘুরে দেখি সেই কুকুর ছানাটিও আমাদের সাথে পিছন পিছন আসছে। দেখে সবাই খুশিই হলাম আর ভাবলাম যাক তাও একজন পেয়ে দল ভারী হলো।

এবার কিছুদূর এগোতে না এগোতেই দেখি ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করা বাকি কুকুরের দল আমাদের দেখেই ডাকাডাকি করা শুরু করলো। এবার রীতিমতো আমরা একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। ভাবলাম এই কুকুরগুলোর ডাকাডাকির জন্য না আবার শেষমেশ ধরা পড়ে যাই। তাই রাস্তার পাশে থাকা ঢিল ছুঁড়ে কুকুরগুলোকে তাড়াতে যখন ব্যস্ত হয়ে পড়ি । ঠিক তখনই লক্ষ্য করলাম কুকুরগুলো আমাদের ছোঁড়া ঢিল গুলোকে উপেক্ষা করে যেন ঐ কুকুর ছানাটার দিকে তেড়ে আসছে।

আমি আর নাজমুল বুঝতে পারলাম যে কুকুরগুলোর হাবভাব সুবিধার নয়। ওরা নিশ্চয়ই কুকুর ছানাটিকে ধরতে পারলে কমড়ে ছিঁড়ে মেরে ফেলবে। তাই আমরা দুজন ঐ কুকুর ছানাটির সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ওটাকে প্রতিরক্ষা করতে লাগলাম। আর এদিকে সাজ্জাদ আর সিফাত কুকুরগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়ে সেগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর অবশেষে কুকুরগুলো পালিয়ে যায় আর আমরা কুকুর ছানাটিকে ওদের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হই। কিন্তু তখনও দেখলাম কুকুরগুলো একটু দূরে সরে গিয়ে ঐ কুকুর ছানাটির দিকে তাকিয়ে রাগের সুরে ডাক ছাড়ছে।

এরপর আমরা চারজন মিলে কুকুর ছানাটিকে ঘিরে নারকেল বাগানের দিকে হাঁটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে নারকেল বাগানে পৌঁছেও গেলাম।

এবার সাজ্জাদ তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়েই নারকেল গাছে ওঠা শুরু করে দিলো। আর আমরা তিনজন ঐ কুকুর ছানাটির সাথে নিচেই ডাব কুড়ানোর জন্য রয়ে গেলাম। প্রায় বিশ পঁচিশ মিনিট ধরে ডাব পাড়ার পর সাজ্জাদ নিচে নেমে আসলো আর আমরাও ততক্ষণে ডালগুলো কুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করে ফেললাম।

এবার চারজন মিলে পরবর্তী মিশন আম চুরি করার জন্য রওনা দিলাম। তবে আমগাছ ছিল ক্যাম্পাসের আরেক প্রান্তে। টিচার্স কোয়াটারের কাছেই আম বাগানে আজকে রাতের আম চুরির মিশন পরিচালনা করবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।

এবারে আমরা ডাবের বস্তা হাতে টিচার্স কোয়াটারের পিছনে থাকা আম বাগানের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। হাঁটার মাঝেই আমরা আজকে রাতের ডাব চুরির সাক্ষী স্বরূপ নিজেরাই নিজেদের বেশ কিছু ছবি তুলতে লাগলাম। সাথে ভিডিও করতে লাগলাম। আর এসব করতে করতেই আমরা পৌঁছে গেলাম সেই আম বাগানের কাছে। এবার আম বাগানের আশেপাশে ছিল খুব ঝোপঝাড় আর অন্ধকার। তাই একা কারো ঐ অন্ধকার ঝোপঝাড় পেরিয়ে আম গাছে ওঠার সাহস হলো না। তাই ঠিক করলাম দুজন ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে রাখবো আর বাকি দুজন গাছে উঠবে।

সেই কথা মতোই আমি আর সিফাত গাছের নিচে বসে ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে ধরে রাখলাম আর ওদিকে নাজমুল এবং সাজ্জাদ গাছে উঠে পড়লো। গাছ থেকে ওরা আম ছুঁড়ে নিচে ফেলছে আর আমরাও নিচে বসে আম কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এদিকে বেশ কিছুক্ষণ এমন আম কুড়ানোর পর নাজমুল আর সাজ্জাদকে নিচে নেমে আসতে বললাম। ওরা যতক্ষণে নিচে নেমে আসলো ততক্ষণে আমরাও নিচে পড়ে থাক সব আম বস্তায় চালান দিয়ে দেই।


চলবে........

#
(গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে 🥰)
292 Views
13 Likes
3 Comments
5.0 Rating
Rate this: