মিনা : জম্বি গুলোর দাতে তো অনেক শক্তি ,, ওরা যদি বসে মনিকে রাখা কাটুন কামড়ে কাটুনটি ছিরে মনিকে কামড়ে দেয় তাহলে কেমন হবে পাপিয়া ?
পাপিয়া : এটাও চিন্তা করেছি,,, কিন্তু একটি জিনিস খেয়াল করে দেখ ,,, এই জম্বি গুলো কখনো বসে না তারা সব সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষকে আক্রমণ করে ,,, আমি ঠিক সঠিক জানিনা ওরা বসে কিনা,, কিন্তু আমি অনেক খেয়াল করে দেখেছি ওদেরকে বসে থাকতে আমি এখন পর্যন্ত দেখিনি ।
এত চিন্তা করলে হবে না আমি যাচ্ছি ওই পিকআপ থেকে কার্টুন আনার জন্য তোরা সাবধানে গাড়িতে থাক ।
সাবরিনা : আচ্ছা তুই সাবধানে যা করার করিস ,,,
পাপিয়া কথা না বারিয়ে আবার তলোয়ার হাতে নিয়ে জম্বিদের সাথে লড়াই করতে চলে গেল ,,, ওদের গারি থেকে অন্য গাড়িতে যেয়ে বড় একটি কার্টুন ওদের গাড়িতে নিয়ে আসলো । মনিকে খুব সাবধানের সাথে কাটুন এর ভিতর বসালো কাটুনের ভেতর দুইটি ছেদ্রি করে দিল যাতে করে মনি নিঃশ্বাস নিতে পারে ভালোভাবে ,,,
মনি অনেক কান্না করলো ভেতরে যেতে চাইলো না জম্বির ভয়ে । কিন্তু পাপিয়ারা অনেক বুঝিয়ে এরপর মনিকে রাজি করিয়েছে । কার্টুনের বাহির থেকে ভালোভাবে টেপ পেঁচিয়ে ফেলল ,,, আর কার্টুনের দুই সাইডে শক্ত করে একটি দড়ি বেঁধে বাঁধল ,, দুইজন যেন দুই সাইট থেকে কাটুনটি ধরে সাবধানের সাথে নিয়ে যেতে পারে ।
পাপিয়া : মিনা,, সাবমিনা, তোরা দুইজন দুই সাইড থেকে কাটুন ধরে রাখবি আর আমি জম্বিদের সাথে মোকাবেলা করব ,,, যখন তোদের কাছে জম্বি গুলো আসবে তখন হাত থেকে কাটুন মাটিতে রেখে তোরাও জম্বি গুলোকে আক্রমণ করবি ,,আর প্রিয়া তুই শুধু নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করবি ,,, আর এখান থেকে দেখা যাচ্ছে স্কুল বিল্ডিংয়ে গেটের মধ্যে তালা দেওয়া নেই ,,, সুযোগ মতো কেউ একজন ছিটকারিটি খুলে ফেলবি ,,,যেমন কথা তেমন কাজ ,, শুরু করে দিলো জম্বিদের সাথে লড়াই করা, তারা চারজন মিলে,,,
প্রিয়ার তো হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছে ,, জম্বি গুলো তিরে আসছে প্রিয়ার উপর আক্রমণ করার জন্য ,, কিন্তু পাপিয়া সব দিক অনেক রেখাল রেখে পরিশ্রম করে চেষ্টা করে যাচ্ছে সবাইকে উদ্ধার করার জন্য ।
পাপিয়া একাই সব দিক সামাল দিচ্ছে ,,, কারণ তার মত করে আর কেউ তোলোয়ার চালাতে পারে না । মিনা তো ভয় পায় জম্বিদেরকে আঘাত করতে তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য ।
শত শত জম্বি একে একে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে পাপিয়াদেরকে আক্রমণ করার জন্য ,, বিশেষ করে প্রিয়াকে সেকে ধরেছে জম্বি গুলো ,,, প্রিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ,,, এভাবে এক সময় তারা স্কুল বিল্ডিংয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছে ,, সাবরিনা ছিটকারি খোলার চেষ্টা করছে ,,, এই কয় সেকেন্ডের মধ্যে জম্বি গুলো তাদের উপর হামলা করা বেশি করে চালিয়ে দিয়েছে ,,, মিনা ,সাবরিনা তারা নিজেদেরকে রক্ষা করার তালে তালে মনিকে রাখা কাটুনটি মাঝপথে রেখে চলে এসেছে ,,, এভাবে ছিটকানি খুলে একজন একজন করে ঢুকছে ,,
তখনই প্রিয়ার বাম হাতে একটি জম্বি কামড়ে দিয়েছে ,,, কিন্তু এই বিষয়টা কেউ লক্ষ্য করেনি ,, এমনকি প্রিয়াও নিজে লক্ষ্য করিনি তার হাতে যে জম্বি কামড়ে দিয়েছে । প্রিয়াও ঢুকে পড়লো তাদের সাথে স্কুলের ভেতর ,,,
তারা স্কুলে ঢোকার সাথে সাথে গেটটি আবার বন্ধ করে দিল ,,,
পাপিয়া : আমার যেন কেমন লাগছে ? আমার শরীরটা অনেক খারাপ লাগছে ,, আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাই সুস্থ ভাবে আসতে পেরেছি ।
মিনা : শরীরতো তোর খারাপ লাগবে কারণ,সেই রাত থেকে জম্বিদের সাথে লড়াই করে যাচ্ছিস এমনকি সকালে কিছু খাস নি তুই , আবার রাতেও কিছু খাস নি । রাতে তোকে খেতে বললাম তুই আমাদেরকে তোর খাবারও ভাগাভাগি করে দিয়ে দিলি ,,, তুই মিথ্যে বললি তোর খিদে পায়নি । এত পরিশ্রম তোর শরীর নিতে পারছে না এর জন্য তোর শরীর এমন লাগছে ,,,
পাপিয়া : কথা বাদ দিয়ে,, তাড়াতাড়ি মনিকে কার্টুন থেকে বের কর ,,
সাবরিনা : পাপিয়া সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে ,,, আমরা তো ভূলে মনিকে রাখা কাটুনটি মাঝপথেই রেখে এসেছি ।
এই কথা শুনে পাপিয়া অনেক রাগারাগি করতে লাগলো তাদের সাথে ,, অনেক বকাবকিও করছে তাদেরকে ,,,
পাপিয়া : তোরা এটা কি করলি ? আর এটা কেমন করে করতে পারলি ? আমি বারবার তোদেরকে বলে দিয়েছিলাম মনিকে সাবধানে আনবি ,, তোরা এটা কিভাবে ভুলে গেলি ,,
পাপিয়ারা বাহিরে তাকিয়ে দেখতে পেল ,, কাটুনের চারপাশ দিয়ে জম্বি গুলো হেটেই চলেছে ,,, হয়তো জম্বি গুলোর নাকে ,, মানুষের কোন রকম গন্ধ গিয়েছে ,, এর জন্য এমন ভীর করে রেখেছে কাটুনটি ।
স্কুলের এক তালার উপরে ,,, সেই ছেলেটি পাপিয়াদের এখনো ফলো করছে ,,,,
আর ঐদিকে প্রিয়ার শরীরটা যেন কেমন অন্যরকম লাগছে ,,, প্রিয়া এখনো খেয়াল করিনি তার হাতে জম্বি কামড় দিয়েছে ,,, কামড় দিয়েছে বলতে জম্বিটির একটি দাঁত শুধু গেঁথেছিল প্রিয়ার হাতে । কিন্তু ভাইরাসটি ঠিকই ঢুকে গিয়েছে প্রিয়ার শরীরে ,,,
পাপিয়া : থাক তোরা টেনশন করিস না ,, আমি মনিকে ঠিকই ওখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসবো ,, প্রিয়া তুই এভাবে বসে আছিস কেন ? তুই ঠিক আছিস তো?
প্রিয়া : হ্যাঁ ঠিক আছি ,,, কিন্তু আমার শরীরটা কেমন যেন লাগছে ,,, শরীর প্রচন্ড ব্যথা করছে ব্যথায় মনে হচ্ছে আমার শরীরের মাংসগুলো ছিড়ে ছিড়ে পড়ে যাচ্ছে ,,,
মিনা : এমনিতে না খেয়ে আছিস ,,, তার মধ্যে না খেয়ে থাকতে পারিস না ,, আর এতো দৌড়াদৌড়ির কারণে হয়তো তোর শরীল এমনটা ব্যথা হয়েছে ।
প্রিয়া : হ্যা তাও হতে পারে ,,, এখানে একটু বসে থাকি ,, এরপর ঠিক হয়ে যাবো ।
পাপিয়া : তোরা থাক আমি মনিকে নিয়ে আসি ,,,
সাবরিনা : পাপিয়া, এটা আগের মত এতটা সহজ না ,, দেখতে পাচ্ছিস কতগুলো জম্বি একসাথে হয়েছে,,, তুই পারবি না এতগুলো জম্বির সাথে লড়াই করতে ,,,
পাপিয়া রেগে গেল সাবরিনার কথা শুনে ,,,
পাপিয়া : এটা বলে তুই কি বুঝাতে চাচ্ছিস,,, মনিকে আমরা ওখানে রেখেই স্বার্থপরের মতো নিজেকে রক্ষা করব ,,, এটা যদি তুই ভেবে থাকিস তাহলে একদম ভুল ভেবেছিস ,, আমি যাব মনিকে উদ্ধার করার জন্য ।
সাবরিনা : আমি তা বলতে চাইনি,,, তুই তো বললি তোর শরীর একদম ভালো লাগছে না ,,, আমরাও যাই তোর সাথে,, একা বিপদে পড়ে যাবি তুই ,,এটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম তুই শুধু শুধু রাগ করিস ।
পাপিয়া আর কোন কথা না বলে সবাইকে স্কুলের ভেতরে আটকিয়ে রেখে,একাই তলোয়ার হাতে নিয়ে চলে গেল ,,, কিন্তু এখন জম্বি দের সাথে লড়াই করা অতটা সহজ না ,,, পাপিয়ার মাথা আগে থেকেই ব্যথা করছে ,, এর মধ্যে ওখানে জম্বির সংখ্যা অনেক,,,পাঁচ মিনিট জম্বিদেরকে মারার পর পাপিয়ার হাত থেকে তলোয়ার টি ছিটকে পরে গেল ,,, পাপিয়ার ঔখানেই মাথা ঘুরে পড়বে পড়বে ,, তখনই তলোয়ার হাতে নিয়ে এক ছেলে এসে পাপিয়াকে তার হাত দিয়ে ধরে ফেলল ,, সাথে সাথে পাপিয়াকে তার কোলে তুলে নিল ,, এরপর অনেক ভয়ঙ্কর ভাবে এক হাত দিয়েই জম্বি গুলোর ঘার থেকে মাথা আলাদা করে ফেলছে ঔ ছেলেটি ,,,
এতক্ষণে পাপিয়া বেহুঁশ হয়ে পড়েছে ওই ছেলেটির কোলেই ,,,,
ছেলেটি পাপিয়াকে তার বুকের মধ্যে শক্ত করে ধরে এক হাত দিয়ে অনেকগুলো জম্বিকে মেরে ফেললো ,, ,,
আজকে এই পর্যন্তই থাক ❤️ ❤️ ❤️
চলবে,,,,
ভয়ানক জম্বির আক্রমণ ( পর্ব ১০ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
165
Views
4
Likes
1
Comments
5.0
Rating