তুমি আছো তাই (পর্ব ৩)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নানা ধরনের দম্পতি বেড়াতে আসে ‌। মাহিমদের বাড়ি থেকে মাত্র 10 মিনিট পায়ে হাঁটার রাস্তা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার ‌।

অন্তরার মন যখনই খারাপ হয়ে যায় তখনই মাহিম অন্তরাকে এই সমুদ্র সৈকতে নিয়ে আসে ‌। এক ঘণ্টার মতো সময়‌ দুজনে পাশাপাশি হাত ধরে সমুদ্রের ঢেউ গুনে ‌ ।

সমুদ্রের ঢেউ দেখে যেন অন্তরার মনটা ভালো হয়ে যায় "

মাহিম‌ : কেমন লাগছে বুড়ি এখন তোমার" এখন তো একটু হাসো ‌। যদি আমি সমুদ্রের ঢেউ হতাম তাহলে অনেক ভালো হতো ‌তাইনাগো‌ ।

অন্তরা‌ : কেনো ? কি এমন হতো তুমি সমুদ্রের ঢেউ হলে ‌।

মাহিম ‌ : সমুদ্রের ঢেউ হলে ভালো হতো "একটি বিশেষ কিছুই হতো ,,, যেমন আমার বুড়ির প্রিয় জিনিস হতে পারতাম ‌। আমার বুড়ির তো প্রিয় ওই সমুদ্রের ঢেউ গুলো,, এখানে যে তার পাশে একটি বুড়া বসে আছে, সেদিকে তার কোন খেয়ালই নেই সে শুধু তাকিয়ে আছে ওই সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে ‌ ।

অন্তরা ‌ : একটি মুচকি হেসে দিল এ কথা শুনে‌ । তুমি কি বুড়া হচ্ছ নাকি আরো ইয়াং হচ্ছ আমি তো কিছু বুঝতে‌ পারছি‌ না‌ তোমার এমন রসোকি মার্কা কথা শুনে ।  তুমি পারোও বটে ‌ । এটা বলে অন্তরা মন খুলে হাসতে লাগলো ‌। এই সমুদ্র সৈকতে বাতাসে যেন অন্তরার মনটা প্রশান্তি পাচ্ছে ‌।

মাহিম ‌ : জানো বুড়ি তুমি আমার পাশে থাকলে আমার আর কিছু লাগে না ‌। হঠাৎ করে একটি কথা মনে পড়ে গেল ‌। আমাদের বিয়ের পর আমরা এখানে বেড়াতে আসছিলাম রাতে দুজন লুকিয়ে। মনে আছে কি তোমার সে‌ কথা‌ ‌‌।

অন্তরা ‌ : সেদিনের কথা মনে না থাকলে কি হয় বলো ‌। আজও সেই দিন আমার চোখে চোখে ভাসছে ‌। আমার শাশুড়ির ভয়ে আমরা দুজনে রাতে বেড়াতে আসছিলাম ‌। কারণ তখন আমার শাশুড়ি মনে করেছে বিয়ের পর কোথাও গেলে আমাকে জীনে ধরবে ‌। কিন্তু আমার এখানে   না‌ আসলে যে হয় না । আমার মন তো শান্তি পায় না এ সমুদ্র সৈকতে না আসলে‌ । তুমি আমার ইচ্ছে পূরণ করার জন্য বিয়ের পরের দিন রাতে আমাকে এখানে বেড়াতে নিয়ে আসছিলা ‌ । তুমি আমার জীবনের অনেক বড় একটি পাওয়া যে আমার সব চাওয়া পাওয়া পূরণ করার জন্য এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকছে সব সময় ‌।

মাহিম ‌ : আরে‌ বুড়ি‌ তোমার চোখে পানি কেন‌ ? ,,, আমিতো এখনো তোমার পাশেই আছি আমি কি মারা গেছি নাকি ‌?

অন্তরা‌ : একথা শুনে অন্তরা মাহিমের মুখ চেপে ধরল ‌। আর কোনদিন এমন ভাবে কথা বলবে না আমার অনেক কষ্ট লাগে আমি তোমাকে ছাড়া এই দুনিয়াতে বাঁচতে পারব না ‌। আমি আগে মারা গেলে ভালো হবে তোমাকে হারানো কষ্টটা আমাকে আর ফিল করতে হবে নাগো‌ ।‌

মাহিম ‌ : তুমি এটা কেমন কথা বললে তুমি আগে মারা গেলে আমি কেমন করে থাকবো ,,এই দুনিয়াতে আমি কি শান্তিতে থাকতে পারবো‌ তুমি বলো  । আমি হয়তো পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো ‌ তোমার জন্য ‌ ।

অন্তরা‌ : মুসকি‌ একটি হাসি দিয়ে বলবো ,, তুমি এই বয়সে রাস্তায় ঘুরতে পারবে ‌। তুমি যে তখন আরো অনেক বুড়া হয়ে যাবে । এখনই তো চুলগুলো সব পেকে গেছে তখন তো রাস্তায় বের হতে পারবে না তো ,,ঘুরবে কেমন করে । এটা বলে অন্তরা হাসতে লাগলো ‌ ।

মাহিম ‌ : এখন এগুলো কথা বাদ দাও তো তুমি এখানে বসো আমি তোমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকবো ‌। আমার যেন কেমন লাগছে এখন একটু আরাম করতে হবে ‌।

অন্তরা‌ : এগুলো কি বলো এখানে তুমি আমার কোলে শুবে, সেটা যদি কেউ দেখতে পায় তাহলে কি হবে জানো ‌।‌ সবাই হাসবে ।

মাহিম ‌ : ওই যে একটু ওই দিকে তাকিয়ে দেখতো ।

অন্তরা‌ : কি দেখব ওই দিকে কি আছে ? আচ্ছা দেখছি ‌,,, এই বলে অন্তরা একটু দূরে তাকালো তাকিয়ে দেখলো একটি কাপল‌ ,,স্ত্রীর কোলে স্বামী মাথা দিয়ে শুয়ে আছে ‌। তুমি আমাকে এটা দেখিয়ে কি বোঝাতে চাচ্ছ বুড়া‌ । আমাদের সাথে তাদের তুলনা হয় কি তারা হলো আমাদের ছেলে মেয়ের বয়সি ‌। এটা বললেও ভুল হয়ে যাবে আমাদের বড় নাতি ক্লাস সেভেনে পড়ে ‌।

মাহিম ‌ : আচ্ছা একটা কথা বলি তোমার কি সেই বিয়ের পরের দিনের কথা মনে আছে ,,,

অন্তরা‌ : হ্যাঁ মনে আছে তো । কিন্তু কেন ‌?

মাহিম ‌ : তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে সারাজীবন এভাবেই থাকবে আমাকে ভালবেসে আমার পাশে ।  এখন তুমি বুড়া হয়ে গেছো ‌। আর সব কথা ভূলে গিয়েছো । আমি যদি আগে জানতাম বুড়ি তুমি সব কথা ভুলে  যাবে তাহলে আমি আরো কয়েকটি‌ বিয়ে করতাম ‌। একটার মনে না রাখতে পারলে আরেকটা মনে রাখত ঠিকই তাকে নিয়ে আমি বেড়াতাম ‌।

অন্তরা‌ : মাহিমের এগুলো কথা শুনে হাসতে শুরু করল ‌। আগে বিয়ে তো‌ এখন করো‌ ।  তুমি না বলো তোমার মন বুড়ো হয়নি ‌। চলো তোমাকে একটি বিয়ে করিয়েই দিবো‌ । তা কেমন মেয়ে বিয়ে করতে চাও আমার মত বুড়ি‌ ,, নাকি আরো কম বয়সি ‌। তুমি বলো আমি পাত্রী খুঁজি ‌।

মাহিম ‌ : জানো কেমন মেয়ে বিয়ে করতে চাই আমি ‌ । তোমার মত ,,,তোমার মত চোখ থাকবে দুটো,, তোমার মত এমন টুকটুকে ঠোঁট থাকবে,,, তোমার মত এমন সাদা সাদা লম্বা চুল থাকবে ,,, তোমার মত এমন লম্বা থাকবে ,,, হুবহু তোমার মত থাকবে । এখন খুঁজে এনে দাও ।

অন্তরা‌ : এত ফাজলামো না করে চলো বাড়ি চলে যাই বাড়িতে কিনা কি হচ্ছে আমরা তো এখানে বেড়াচ্ছি ‌। আমার খুব চিন্তা লাগছে চলো তো তাড়াতাড়ি ‌। নাতিটা কেমন হলো ,,, কিছু জানিনা এই সমুদ্র সৈকতে আসলে আমি সবই বলে যাই ,,তুমি জানো তারপর কেন আমাকে নিয়ে আসলে ‌। চলো‌ গো‌ তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাই আমরা‌ ।

মাহিম ‌ : হ্যাঁ চলো গো, অনেক তো হলো এখন বাড়ি যাই আমার নাতিটা কেমন হলো রনি তো অনেক চোট পেয়েছে ,, ভুলেই গিয়েছিলাম । এখন আর কোন কথা হবে না ,, শুধু বাড়িতে চলো ‌।

আর এদিকে ফাহাদ অফিস থেকে বাড়ি আসছে সে তার মাকে খুঁজে না পেয়ে ডাকা শুরু করছে‌ । পায়েল বলে দিল মা আর বাবা বেড়াতে গিয়েছে সমুদ্র সৈকতে ‌।

ফাহাদ ‌ : ও আচ্ছা তাহলে সমস্যা নেই যাক মা তো প্রায় প্রায়ই যায় মার অনেক প্রিয় জায়গা সমুদ্র পার ‌। সমস্যা নেই তুমি আমাকে খেতে দাও ‌।

পায়েল ‌ : তোমার আবার কোনটায় সমস্যা তুমি বলতো ,,, তোমার ছেলে অনেক অসুস্থ সেটা জেনেও কেমন করে তোমার মা বাবা বেড়াতে চলে গেল এই বয়সেও ‌। লজ্জা থাকার দরকার ‌।

ফাহাদ ‌ : মুখ সামলিয়ে কথা বলবে আমি অফিস থেকে এসে সারলাম না ,, আমার মায়ের সম্বন্ধে আজেবাজে কথা বলতে শুরু করলে । আর যেন কোনদিন এমন কথা না শুনি আমার মায়ের ‌ সম্বন্ধে ‌। আর আমার ছেলে অসুস্থ মানে আমি তাকে সুস্থ সবর রেখে গেলাম অফিসে ‌। হেটে খেলে বেড়ালো একদম সুস্থ যা বলবে আমি তাই বিশ্বাস করব ‌।

পায়েল ‌ : কান্না করতে শুরু করল আর বলতে লাগলো আমি জানি তুমি আমার কথা কোনদিনও বিশ্বাস করবে না চলো আমাদের রুমে চলো ‌। এই বলে দুজন রুমে গেল রুমে যেয়ে দেখলো ‌ রনি বিছানায় শুয়ে আছে ‌। আর পায়ে ব্যান্ডেজ করা ‌ । পা দিয়ে গরিয়ে রক্ত পড়ছে সেটাও দেখা যাচ্ছে । এত ব্যথা পাওয়া দেখে তো ফাহাদ অনেক চিন্তিত হয়ে গেল ।‌

পায়েল ‌ : তোমার মা-বাবার বয়সকালে ভীমরতি ধরছে এটা আর সহ্য করা যাচ্ছে না ‌।

ফাহাদ ‌ : এটা শুনার সাথে সাথে পায়েলের গালে একটি ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিল ।

এবার কি হতে যাচ্ছে এই চৌধুরী বাড়িতে ?‌ জানার জন্য পাশে থাকার অনুরোধ রইলো ‌।

যদি আমার গল্পটি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমার গল্পটিতে একটি সুন্দর রিভিউ দিবেন এতে আমার গল্প লেখতে অনেক ভালো লাগে 🙏🙏🙏 ‌।

চলবে,,,,,,,

183 Views
3 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: