সামিয়া খুন ( সত্য ঘটনা )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
২০২৩ সালের ঘটনা,,সামিয়ার খুনের কথা ভাবতে গেলে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায় এখনো। এটা কোন গল্প না একদম সত্য ঘটনা । নয় বছরের সামিয়াকে‌ হত্যা করার ঘটনা ।  কত নিষ্পাপ ছিল বাচ্চাটি । আজও সামিয়ার মায়ের কান্না কাঁনে যেন বেজে‌ ওঠে‌। 

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় সখিপুর থানায় এ ঘটনাটি ঘটেছিল ‌ । যেগুলো পিক আমি এখানে দিব সবগুলো সত্যিকারের‌  পিক‌ । খুনির পিক,, সামিয়ার পিক,, এবং সামিয়ার বাবা মায়ের পিক ।

,,,,,,,,,,, সকাল 7 টা‌র‌ সময় দাড়িয়াপুর প্রাইমারি স্কুলে প্রাইভেট পড়ার জন্য যায় সামিয়া । প্রাইভেট পড়ার শেষে বাড়ি ফেরার পথে সামিয়া অপহরণ হয় ‌ ।  অবুঝ বাচ্চাটি কোনভাবে হয়তো বুঝেই উঠে পারছিল না সেদিন,,,আজকে তার সাথে একটি ভয়ানক ব্যাপার ঘটতে  চলেছে ‌। রোজদিনের‌ মত‌ই‌ সেদিনও সামিয়া প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল‌‌।  আর ফেরা হলো না সামিয়ার বাড়িতে ‌ ।

সকাল ৯ টায় থেকে সামিয়ার পরিবার সামিয়াকে খুঁজতে থাকে ‌ । পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনের সবাই সামিয়াকে খুঁজতে লাগলো ‌ । সামিয়ার মা বাবার জন্য পাগলের মত করে মেয়েকে খুঁজে বেড়াচ্ছে ‌ । কিন্তু কোথাও আর সামিয়ার দেখা মিলল না তাদের । খুঁজে না পেয়ে সামিয়ার  পরিবার পুলিশকে‌ অবহিত করে‌ ।

আর ইতিমধ্যে দশটা চল্লিশ মিনিটে সামিয়ার বাবার ইমুতে একটি ভয়েস মেসেজ আসে ‌। ভয়েস মেসেজে তার পরিবারের উদ্দেশ্যে মুক্তিপনের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে‌ । ‌ এরপর পরিবর্তী এই ইমু থেকে আর কোন ভয়েস মেসেজ বা কোন ফোন আসেনি ‌।

ঠিক তার একদিন পর সামিয়ার ‌ বাড়ি থেকে  এক কিলোমিটার পশ্চিম পাশে একটি ধান ক্ষেতের কিনারে এবং একটি জঙ্গলের কিনারে মাটির নিচ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। যে লোকটি প্রথমে সেই‌ লাশটি‌ দেখছিল সেই লোকটি গরুর‌ জন্য ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল সেখানে ‌ । সামিয়ার লাস দেখার সাথে সাথে  সেই লোকটি সবাইকে খবর দেয় ‌। এরপর সাথে সাথে পুলিশ ও সেখানে চলে যায় ।

সামিয়াকে দেখে কেউ চিনতে পাবে না এটি সামিয়ার লাস ‌। অনেক ভয়ানক দেখাচ্ছে । শরীরে যেন চামড়া নেই ,,, মাথার চুল নেই ,,যেন মনে হচ্ছে মাথার চুল গুলো চামড়া সহ তুলে ফেলছে‌ কেও ‌,,, পায়ের হাঁটু ভাঙ্গা ,,, নাকের মাংস যেন কেউ তুলে নিয়েছে । এক কথায় ভয়ানক দেখাচ্ছে লাসটি ।  একে একে সব মানুষ ভিড় করে ফেলছে লাশটির চারিপাশ দিয়ে ।

আহারে কত কষ্টই না দিয়েছে সামিয়াকে‌ । বাঁচার জন্য কতই না ছটফট করছে‌ হয়তো সামিয়া।  এগুলো ভেবেই যেন এখনো শরীরের নোম‌ দাড়িয়ে যায় । আল্লাহ যেন সামিয়ার বাবা মাকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করে সবাই সামিয়ার মা‌ বাবার জন্য দোয়া করবেন ।

সামিয়া লাশটি পোস্টমডানের‌ জন্য টাঙ্গাইল হসপিটালে পাঠানো হয় ।

1 সপ্তাহ পর পুলিশ একজনকে সন্দেহ ক্রমে জেল হেফাজতে নেয় ।  সেই‌ লোকটি শিকার করে বলেছে ৫ লাখ টাকার জন্য সেদিন সামিয়াকে অপহরণ করেছে‌ সে ‌। খুনির নাম হলো ছাব্বির‌ ।

সাব্বির স্বীকারোক্তিতে বলেছে যেদিন সামিয়াকে অপহরণ করেছে‌ ,, তার আগের দিন এক রাতে পাওনাদার অনেকজন লোকের সামনে সাব্বিরকে অপমান করেছে ‌। এর জন্য সাব্বির সিদ্ধান্ত নেই এমন কাউকে সে কিডন্যাপ করবে যার বাবার কাছে নগদ ক্যাশ টাকা আছে ‌।

তার বাবা যেন তাৎক্ষণিক ভাবে নগদ ক্যাশ টাকা দিতে পারে ‌। ছাব্বিরের‌ বয়স‌ ( 21) বছর ‌। সামিয়াদের স্কুলের পাশেই মোধির দোকানে কাজ করে সাব্বির ‌। সামিয়া প্রতিদিন সাব্বিরের দোকানের পাশ দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করত ‌। আটটা চল্লিশ‌ মিনিটে প্রাইভেট শেষ করে যখন সামিয়া বাসার দিকে রওনা দিয়েছে সাব্বির দোকান থেকে নেমে এসে সামিয়ার পিছে পিছে হাটঁতে থাকে ‌। সামিয়ার বাড়ি পৌঁছানোর 200 গজ‌ আগে সাব্বির সামিয়ার গলার মধ্যে চেপে ধরে বাশ‌ জারে নিয়ে যায় । সামিয়া নাকি অনেকবার আকুতি মিনতি করেছে সাব্বিরের পা ধরে ‌। একটু বাঁচার জন্য প্রাণ‌ বিক্ষে চেয়েছে‌ ।

অনেক নাকি কান্নাকাটি করেছে সামিয়া ‌। কিন্তু জানোয়ার সাব্বিরের একটু মায়া হয়নি‌ সামিয়ার কান্না দেখে ।  তখনই সাব্বির সামিয়ার গলা টিপে হত্যা করে রেখে দেয় ‌। সামিয়া মারা গিয়েছে নাকি এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার কোমরে থাকা চামড়ার বেল দিয়ে সামিয়ার গলার মধ্যে আটকে ধরে‌ রাখে‌ কিছুক্ষণ । যখন নিশ্চিত হলো সামিয়ার মৃত্যু তখন সামিয়াকে বাশের পাতা দিয়ে সেখানেই ঢেকে রেখে‌ যায়‌‌ ,,, মেরে বাড়ি ফিরে যায় সাব্বির । আর‌ জানেন‌ কি‌ ছাব্বির‌ সামিয়াকে‌ দিনের বেলায়‌ই‌ খুন‌ করছে‌ ‌ । ছাব্বির‌ বাড়ি ফিরে গোসল করে খাবার খায় সাব্বির যেন সে কিছুই করে আসেনি এইবাবেই‌ থাকছে‌ সব‌ সময়। খাওয়া দাওয়া করার পর দশটা বিশ মিনিটে একটি নতুন ইমু‌ আইডি খুলে একটি খোলা মাঠের মধ্যে ‌। 

দশটা বিশ মিনিটে সামিয়ার বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে ভয়েস মেসেজ পাঠায় ছাব্বির‌ ইমুতে ।

(‌ কত ভয়ানক মানুষ বলে এমন করতে পারে ‌। সামিয়া সাব্বিরকে চিনে ফেলছে এই ভয়ে মুক্তিপণ চাওয়ার আগেই সামিয়াকে হত্যা করে রেখে এসে,, বাড়িতে রিলাক্স করে তারপর মুক্তিপণ দাবি চেয়ে ফোন করে সামিয়ার বাবার কাছে। শুনে শরীরের নুম দাঁড়িয়ে যায় তাই না । ‌)  ফোন করে বাড়িতে আরাম‌ করে আবার  রাত 9 টার সময় সামিয়ার‌ লাশ কাঁদা দিয়ে ঢেঁকে রেখে আসতে যায়‌ ।


সখিপুর থানার পুলিশ অনেক পরিশ্রম করে সাব্বিরকে ধরতে পেরেছে ‌। প্রথমে কিছু শিখার না করতে চাইলেও সাব্বিরের মোবাইল আগেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল ‌ । শুধু সাব্বিরের ফোন না সন্দেহজনক কয়েকজনের ফোন পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল ‌। সব ফোনে সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু সাব্বিরের ফোনে সব কিছু ফরম্যাট দেওয়া ‌। যেন নতুন ফোনের মত ‌। এতেই পুলিশের সন্দেহ সাব্বিরের উপর ‌। সাব্বির অনেক সাদাসিধা ভাবে থাকছে খুন করার পরেও কেউ বুঝতেই পারেনি ‌। সাব্বিরের ফোন দেখে পুলিশের সন্দেহ হয় ‌। সন্দেহ থেকে সাব্বিরের মোবাইল তদন্ত করার জন্য চেষ্টা শুরু করে‌ । এভাবেই সাব্বিরের সব কর্ম ফাঁস হয় ‌। এখন সাব্বির পুলিশ হেফাজতে বন্দি ‌।

আর এদিকে সামিয়ার মা-বাবা যেন কোন ভাবে ধৈর্য ধারণ করতে পারছে না ,,,, ভুলতে পারছে না তাদের প্রিয় মেয়ে সামিয়াকে‌ । কিভাবেই বা ধৈর্যধারণ করবে । সামিয়ার হত্যা হওয়ার 15 দিন আগে সামিয়ার ছোট ভাই অনেক অসুস্থতায় মারা যায় ‌ ।  সামিয়ারা দুই বোন এক ভাই ছিল ‌ ১৫ দিন আগে সামিয়ার মা তাদের ছেলেকে হারায় আর ১৫ দিন পর তাদের মেয়ে সামিয়া কে হারায় । এগুলো কি ভুলার মতো‌ আর কত ভয়ানক ভাবে মারা হয়েছে সামিয়াকে ‌। ছেলে অসুস্থতায় মারা গিয়েছে এটা তো মেনে নিতে পারে মা বাবা ‌। আর মেয়েকে ভয়ানক ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এটা কি কোনভাবে কোন মা মেনে নিতে পারে ‌।


পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে সাব্বির নেশা করে,,, পাঁচ লাখ টাকার‌ রিন গোস্ত ছিল ।‌ সাব্বিরকে পুলিশ অ্যাটাক করেছে এখন ‌। এখন সামিয়ার বাবা-মার একটাই দাবি খুনির ফাঁসি চাই ।

আপনাদের কি মতামত আপনারা কি ‌ফাসিঁ‌ চান‌ সাব্বিরের ‌।
যদি এমন আরও সত্যি ঘটনা জানার‌ আগ্রহ থাকে আপনাদের তাহলে লাইক দিয়ে আমার পাশে থাকবেন,,,,

😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥😥



                          😥😥😥😥সামিয়া 😥😥😥😥

                                  ,,,,,,,,সমাপ্ত,,,,,,

125 Views
4 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: