এত সুখে আর কান্না করতে হবে না অন্তরা,, আমার ভালোবাসা তোমার জন্য কোনদিনও ফুরাবে না ,, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এমনই থাকবে ।
অন্তরা : আচ্ছা বুড়া তুমি এত ভালো কেন ?
মাহিম : আচ্ছা আমাকে বুড়া বল কেন আমি কি সত্যি সত্যি বুড়া হয়ে গেছি নাকি । আমি এখনো তোমার সেই মাহিম । যে মাহিম একসময় তোমার জন্য পাগল ছিল ,,, এখন যে পাগল এর থেকে বেশি পাগল ছিল তখন । আমি তোমার সেই মাহিম । আমি কিন্তু বুড়া হইনি ।
অন্তরা : মিষ্টি একটি হাসি দিয়ে বলল ,, আচ্ছা তুমি যে বললা তুমি বুড়া হওনি ,, আয়নাটা এনে তোমার চুলের দিকে তাকাও তো ,, দেখতো তোমার কাচা চুল কয়টি আছে আর পাকা চুল কয়টি আছে । এই কথা বলে অন্তরা হাসতে শুরু করলো ।
মাহিম : একদম হাসবে না বুড়ি ,,, আমার শরীর বুড়া হতে পারে কিন্তু আমার মন এখনো বুড়া হয়নি ।
এইগুলো কথা নিয়ে ডায়রিং টেবিলে এখনো বসে বসে গল্প করছে দুজনে তারা । তখনই তাদের ছোট নাতি রনি এসে বলল দাদু তোমরা এখানে কি কর ? এত হাসাহাসি করছ যে বসে বসে । চলো আমরা বাগানে যাই আমার সাথে তোমরা খেলবে ।
অন্তরা : রনি দাদু আমি না গেলাম আজকে খেলতে তোমার দাদুকে নিয়ে যাও ,,, আমার বেশি ভালো লাগছে না ।
রনি : না তোমরা দুই জনই খেলবে তা না হলে আমি কান্না করব ,,, চলো চলোনা দাদু ,,,, এভাবে রনি দুজনকে জোর করে বাগানে নিয়ে আসলো ।
অন্তরাদের বাগান অনেকটা সুন্দর একপাশে ফুল গাছ আরেক পাশে ফল গাছ একদম বাগান বাড়ির মত । ফুল গাছের মাঝখানে অনেকগুলো চেয়ার ফালানো । সেখানে বসে বসে চৌধুরী বাড়ির সবাই প্রাকৃতিক অনুভব করে । আরেক পাশে সুইমিংপুল । অন্তরা দের বাড়ি অনেকটা সুন্দর ।
পায়েল : রনি একদম যেন কোন গাছ নষ্ট না হয় । সাবধানে খেলবি । আব্বা মা আপনারা রনিকে দেখে রাইখেন ।
মাহিম : আচ্ছা বৌমা চিন্তা করিও না রনির কিছু হবে না আমরা আছি তো । আমরা ঠিকই রনিকে দেখে রাখবো । এগুলো কথা শুনে পায়েল আবার রুমে চলে আসলো ।
আর এদিকে অন্তরা মাহিম তাদের নাতির সাথে খেলতে শুরু করছে । ,,, ফুটবল খেলছে ,, তখনই হঠাৎ করে রনি মাটিতে পড়ে গেল , পড়ার সাথে সাথে রনির পায়ের হাটুতে অনেকটা ছিলে গিয়েছে রক্তও বের হচ্ছে ,,, । রনিতো ব্যথা পেয়ে অনেক জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো ,,, অন্তরা অনেক চেষ্টা করল রনিকে কান্না থামানোর জন্য ,, কিন্তু পারলো না । আর 8 বছরের রনি অনেকটা ব্যথা পেয়েছে তার পায়ে ।
আর রনির কান্না শুনে রনির মা বাহিরে বের হল ।
পায়েল : আমার ছেলের কি হয়েছে এতো কান্না করছে কেন ? দেখি দেখি কি হয়েছে । এই বলে পায়েল রনির পায়ের দিকে তাকাল । তাকিয়ে তো পায়েলও চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল ,,, অন্তরা কে পায়েল অনেক বোকা শুরু করলো ,,,
পায়েল : মা আপনি এটা কি করলেন আপনারা দুজন থাকতেও আমার ছেলে কিভাবে ব্যথা পেল । আপনারা বুড়া হওয়ার সাথে সাথে কি আপনাদের মাথাও চলে যাচ্ছে নাকি । এতোটুকু একটি বাচ্চাকেও দেখে রাখতে পারেন না আপনারা দুজনে মিলে । আমার ছেলে কে আপনারা ইচ্ছা করে ব্যথা দিয়েছেন । আহারে আমার ছেলেটা কতো ব্যাথা পেয়েছে । আপনাদের আর আমার ছেলেকে নিয়ে খেলার দরকার নেই ।
মাহিম : বৌমা তুমি এমন করে বলছো কেন রনি ব্যথা পেয়েছে আমাদেরও তো অনেক কষ্ট লাগছে এই কারনে আর আমরা কেন ইচ্ছে করে আমাদের নাতিকে ব্যথা পেতে দেব । খেলার সময় হঠাৎ করে পা পিছলে পড়ে গেল । আর তোমার শাশুড়ি তো অনেক টা দূরেই ছিল রনির,,,। তাহলে কেমন করে ধরবে বৌমা তুমিই বলো । তোমার কথায় যে তোমার শাশুড়ির মনে কষ্ট পেল তুমি কি বুঝতে পারো না।
পায়েল : শাশুড়ির কষ্ট দেখলেই শুধু হবে আমার ছেলেটার পা দিয়ে গড়িয়ে রক্ত পড়ছে আর আপনি শাশুড়ির মনের কষ্ট নিয়ে পড়ে আছেন । দূর এদের আদিখ্যেতা আর ভালো লাগেনা । এই বলে পায়েল রনিকে নিয়ে ঘরের ভেতর চলে গেল ।
অন্তরার মনে অনেকটা কষ্ট পেয়েছে পায়েলের এমন কথায় ,,, অন্তরার চোখ দিয়ে জ্বলজ্বল করে পানি গড়িয়ে পড়ছে,,, অন্তরা তার রুমে চলে গেল । রুমে এসে অন্তরা মন খারাপ করে শুয়ে আছে ,,।
মাহিম : ওগো তুমি মন খারাপ করিও না । কেঁদো না তুমি কাঁদলে আমারও অনেক কষ্ট লাগে । রনির ব্যাথা ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে । তুমি চিন্তা করিও না । এতেও যেন অন্তরার মন একটুও ভালো হচ্ছে না । চুপচাপ বসেই আছে । মাহিম অন্তরাকে আরো বললো তুমি কাঁদলে কিন্তু আমার অনেক কষ্ট লাগে ,,,,
এটা শুনে অন্তরা বললো ,,, তুমি আর আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলবে না আমাদের বয়স হয়েছে বুড়াবুড়ি হয়ে গিয়েছি,, সেভাবেই কথা বলবে তুমি। এতো ভালোবাসার জন্য আরো কথা শুনতে হয় বৌমাদের মুখে । এই কথা বলে অন্তরা চুপচাপ শুয়ে রইলো ।
মাহিমও মন খারাপ করে বসে রইল জানালার দিকে তাকিয়ে । কিছুক্ষণ পর অন্তরা মাহিম কে বলল আমার ভুল হয়ে গিয়েছে মাফ করে দাও । আসলে আমার অনেক রাগ উঠে গিয়েছিল এর জন্য এমন করে কথা বললাম । তুমি চুপচাপ থাকলে আমারও ভালো লাগেনা । আমরা আমাদের মতই সারা জীবন এমন ভাবেই থাকবো ,,, তাতে ছেলেমেয়েরা যা বলে বলুক ।
মাহিম : এইতো আমার বুড়ির মতো কথা বলছো ,, আমার লক্ষ্মী বুড়িটা । জানো সেদিনের কথা মনে পড়ে গেল যেদিন আমি তোমাকে বলছিলাম,, বুড়া হওয়ার পরেও আমি তোমাকে এভাবেই ভালবাসবো সেদিনের কথা কি তোমার মনে আছে ।
অন্তরা : হ্যাঁগো আমার মনে আছে । তখন তো তোমার 20 বছর ছিল,, আমার 17 বছর ছিল । আমাদের ভালোবাসা কতো মিষ্টিই না ছিল গো ।
মাহিম : এখন তুমি বুড়ি আমি বুড়া এই বলে দুজনে হাসতে শুরু করলো ।
অন্তরা : এখন কথা বাদ দিয়ে চলোতো রনিকে দেখে আসি আমরা ,, এই বলে অন্তরা আর মাহিম তার নাতিকে দেখতে গেল ছেলের রুমে । ছেলের বউ আরও কথা শোনালো ,, এখন দেখতে আসতে হবে না যখন ব্যথা পেল তখন তো আপনারা দেখে রাখতে পারলেন না । এখন আর দেখতে হবে না রনি ঘুমাচ্ছে । কথা বললে উঠে পড়বে ঘুম থেকে । এখন এখান থেকে চলে যান । পায়েলের এই কথা শুনে অন্তরা আরো কষ্ট পেল । মাহিম অন্তরা কে শান্ত হতে বলল ।
মাহিম : চলো বুড়ি আমরা একটু সমুদ্র পাড়ে ঘুরে আসি ,, তোমার তো আবার সমুদ্র পাড়ে গেলে মন ভাল হয়ে যায় ,,, অন্তরা অনেকবার না করল কিন্তু মাহিম শুনলো না অন্তরাকে জোর করে নিয়ে গেল সমুদ্র পারে হাঁটতে ,,।
সমুদ্র মাহিমদের বাড়ির কাছেই,,আর মাহিমদের বাড়ি কক্সবাজার ,, তাদের বাড়ির পাশেই সমুদ্র সৈকত ,,। প্রায় ৫৫ বছর ধরে তাদের সংসার জীবন একসাথে থাকা। অন্তরার মন ভালো না থাকলে মাহিম অন্তরাকে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে নিয়ে আসতো । আজও দুজন মিলে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেল ।
আর এদিকে ফাহাদ অফিস থেকে বাড়ি ফিরল ফিরে তার মাকে ডাকতে শুরু করলো মা মা বলে । পায়েল এসে বললো তোমার মাকে কই পাবে তারাতো সমদ্র সৈকতে বেড়াতে গেছে । তোমার ছেলে অসুস্থ এটা জেনেও ।
এবার কি হবে জানার জন্য সবাইকে পাশে থাকার অনুরোধ রইলো 🙏🙏🙏🙏
চলবে,,,,,,
তুমি আছো তাই (পর্ব ২)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
210
Views
4
Likes
1
Comments
5.0
Rating