ভাবতেই অবাক লাগছে এই জঙ্গলে এত রাতে একা একজন নারী কি করছে? আর এমন নিস্তব্ধ ভয়ানক পরিবেশে এভাবে হঠাৎ করেই কারো দর্শন পাওয়াটাও আমার জন্য ছিল কল্পনাতীত।
তবে যাই হোক এমন নিস্তব্ধ ভয়ানক পরিবেশে অন্তত নিঃসঙ্গতার মাঝে কারো সঙ্গ পেয়ে ভয়টা একটু কাটলো। আমি ঐ অজ্ঞাত নারীকে জিজ্ঞেস করলাম - " বোন কে তুমি ? আর এত রাতে এই জঙ্গলে করছোই বা কি ?
বেশি কিছু বললো না সে । শুধু বললো-" আজ্ঞে, আমার একটা বাছুর হারিয়ে গেছে। বিকালেই জঙ্গলের কাছে মাঠে বেঁধে রেখেছি। কিন্তু সন্ধ্যা হওয়ার পরেও ওর কোনো খোঁজ না পেয়ে ওকে খুঁজতে খুঁজতেই এই জঙ্গলে ঢুকে পড়া ।"
আমি বললাম -" তাও তুমি একা একা এত রাতে এই নির্জন জঙ্গলে বাছুর খুঁজতে এসেছো কেন? অন্তত কাউকে সাথে করে তো নিয়ে আসতে পারতে। জঙ্গলের রাস্তায় কত না বিপদ হতে পারে।"
আমার এ কথা শুনে মেয়েটা মাথা নিচু করে রইলো কিন্তু প্রত্যুত্তরে সে কিছু বললো না।
এরপর সেও আমার সাথে আমার পিছন পিছন হাঁটা শুরু করলো। বেশ কিছুক্ষণ আমরা জঙ্গলের রাস্তায় হাঁটতে লাগলাম । হাঁটার মাঝেই হঠাৎ মেয়েটা নীরবতা ভেঙে প্রশ্ন করে বসলো । বললো -" বাবু আপনি কি ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন?"
প্রশ্নটা শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে রইলাম যে এই মেয়েটা কিভাবে জানলো আমার হাতে থাকা বাজারের ব্যাগে ইলিশ মাছই আছে। যাই হোক আমি বললাম হ্যাঁ।
উত্তর শুনে মেয়েটা বলে উঠলো -" এত রাতে এই নির্জন জঙ্গলের রাস্তায় একা একা মাছ নিয়ে যাওয়াটা খুবই বিপজ্জনক। যে কোনো সময় যা কিছু ভালো মন্দ ঘটে যেতে পারে ।"
আমি জানতে চাইলাম -" কেন? ভালো মন্দ বলতে কি বোঝাতে চাইছো পরিষ্কার করে বলো তো?"
এবারে মেয়েটা আর কোনো কথা বললো না। চুপ করে রইলো। আমিও আর ওকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। তবে একটা জিনিস খেয়াল করে আমার বেশ খটকা লাগছিলো। আমার পিছনে পিছনে মেয়েটা হাঁটলেও কোনো আওয়াজ পাচ্ছিলাম না। মানে একটা মানুষের হাঁটার নূন্যতম আওয়াজটাও টের পেলাম না। মনে হচ্ছিলো যেন মেয়েটা মাটিতে না হেঁটে হাওয়ায় উড়ছিলো। যাই হোক সেটা নিয়ে আর আমি তেমন মাথা ঘামাই না। কারণ আমার তখন একটাই চিন্তা কতক্ষনে আর বাড়ি পৌঁছাবো।
তবে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পরেও যখন জঙ্গলের রাস্তায় কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না তখন ভাবলাম মেয়েটা যেহেতু এই গ্রামের তাই ওকেই জিজ্ঞেস করি যে জঙ্গল থেকে বের হওয়ার পথটা কোথায়। হয়তো ও নিশ্চয়ই কিছু জানবে।
এই কথা বলেই যেই পিছনে ঘুরলাম দেখলাম আমার পিছনে সেই অজ্ঞাত মেয়েটা আর নেই। আমি রীতিমতো অবাক হলাম ঐ মেয়েটার এমন রহস্যজনক ভাবে আগমন আর প্রত্যাবর্তনের। ভাবলাম হুট করেই মেয়েটা আবার কোথায় চলে গেলো। তার ওপরে এই ঘন জঙ্গলে একা একা । কোথাও কোনো বিপদ আপদ হলে? যাক গে আমার কি এই ভেবে যেই না সামনে ঘুরে হাঁটা দেবো তখনই আমি রীতিমতো ঝটকা খেয়ে গেলাম।
কারণ সামনে ঘুরেই দেখি ঐ মেয়েটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। একটু আগেই যার কোনো চিহ্ন পাচ্ছিলাম না সে যেন হঠাৎ করেই আমার সামনে মাটি ফুঁড়ে বের হলো। এবার আমার একটু খটকা লাগা শুরু করলো সাথে ভয়ও। তবে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম -" হঠাৎ করেই তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে?"
মেয়েটা উত্তরে কিছুই বললো না। নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো। এবার আমি একটু বিরক্তি স্বরেই বললাম -" আচ্ছা অন্তত এটা কি জানো এই জঙ্গল থেকে বের হবার রাস্তা?"
এবার মেয়েটা হ্যাঁ সূচক ভাবে বললো-"আমার সাথেই আসুন। আমি আপনাকে পথ দেখিয়ে দিচ্ছি ।"
চলবে.......
***(পরবর্তীতে কি হতে চলেছে আর আপনি কি অনুমান করছেন জানিয়ে ফেলুন কমেন্ট বক্সে। আর সেই সাথে গল্পটি পড়ে কেমন লাগলো এবং সেই সাথে রেটিং দিয়ে গল্পটা মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো।)
মুণ্ডুহীন নারী মূর্তি (দ্বিতীয় পর্ব)
471
Views
14
Likes
3
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (3)
very nice.
এখন পর্যন্ত গল্পটা অসাধারণ লেগেছে ।
গল্পটা আস্তে আস্তে বেশ ভালো লাগছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।