প্রেম আমার ( সিজন-২ {পর্ব-১২} )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আলিয়া ছাদের এক কর্ণারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে আর ভাবছে তার ভাই আজকে যে কথাটা বলল সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে আলিয়া কি করবে ভেবে উঠতে পারছে না।তার ভাইকে রাফাতের কথাটাও বলতে পারছে না কারণ খুব বেশি ভয় পায় তার ভাইকে। রাফাতকে ছাড়া তার পক্ষে থাকাটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রয়োজন পড়লে রাফাতের সাথে অনেক দূর পালিয়ে চলে যাবে তারপরও তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা কোনভাবেই সম্ভব নয় আলিয়ার পক্ষে।

কথা বলে ভাবছে আর চোখের পানি মুচছে। আলিয়া তার কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করল। দ্রুত চোখটা মুছে নিয়ে পিছন ফিরে দেখল মাইশা দাঁড়িয়ে আছে। মাইশা আলিয়া কে দেখে বুঝতে পারল ও এতক্ষণ কাঁদছিল। আলিয়ার চোখগুলো ফুলে একদম লাল টকটকা হয়ে আছে।

মাইশা খুব শান্ত কণ্ঠে আলিয়া কে জিজ্ঞেস করল,
" কিরে তুই কাঁদছিস কেন আলিয়া কি হয়েছে।

আলিয়া বিষয়টা মাইশাকে বুঝতে না দিয়ে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে এনে বলল,
" কই না তো কে বলল আমি কাঁদছিলাম ভালো লাগছিল তাই ছাদে দাঁড়িয়ে আছি।

" কেন মিথ্যা বলছিস বলতো।

"তোর কাছে মিথ্যে কেন বলব।

"দেখ এই বাড়িতে আমার সব থেকে ভালো বন্ধু তুই। তাহলে কেন আমার কাছ থেকে লুকিয়ে যাচ্ছিস।

আলিয়া নিশ্চুপ। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। মাইশা আলিয়ার মুখ টা উপরের দিকে তুলল। আলিয়ার সারা মুখ জুড়ে এক বিষাদের চিহ্ন। যে মেয়েটা এত হাসি খুশি আর চঞ্চল তার মুখে আজ বিষাদের চিহ্ন যেন মাইশার মনটাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

মাইশা আলিয়ার দুই গালে হাত দিয়ে ইস্মিত কণ্ঠে কে বলল,
" খুব ভালবাসিস রাফাত ভাইকে তাইনা।

মাইশার কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে আলিয়া। আলিয়ার মনের ভেতর কষ্ট টা মুখে ব্যথার ছাপ হয়ে স্পষ্ট আকারে ফুটে উঠেছে। যা দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে আলিয়ার মনের ভেতর কি ঝড় চলছে।

আলিয়া মাইশাকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে কেঁদে উঠলো।

"আমি ওকে খুব ভালোবাসি রে ওকে ছাড়া আমার পক্ষে বেঁচে থাকাটা সম্ভব নয়। আমি ভাইয়াকে বলতেও পারছি না কারণ আমি জানি ভাইয়া হয়তোবা আমাদের এই সম্পর্কটা কখনোই মেনে নেবে না। আমি এখন কি করবো বলে দে তুই।

মাইশা আলিয়াকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আলতো করে ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,
"কাঁদছিস কেন বোকা মেয়ে। আমি তো আছি। তোর বেস্ট ফ্রেন্ড।

মাইশার কথায় আলিয়া মনের ভেতর অন্যরকমের শান্তি পেল। আলিয়া এই ভেবে অনেকটা নিশ্চিন্ত হচ্ছে মাইশার কথা তার ভাই কোনদিন ফেলতে পারবে না। কারণ মাইশা যে তার ভাইয়ের প্রাণ।

মাইশা আলিয়ার গালটা হালকা করে টেনে দিয়ে বলল,
"তুই জানিস তোকে কাঁদলে একদম ভুতুম প্যাঁচার মতো লাগে। একটু হাস না হলে কিন্তু এরপর পেত্নীর মত লাগবে।

মাইশার কথা শুনে আলিয়া হেসে দিল।

" অনেক গরম পড়েছে চল কাঁচা আমের শরবত করে খাওয়া যাক।

"নারে আমার ভালো লাগছে না তুই খা।

"খাবি না মানে? তুই খাবি তোর ঘাড় খাবে।

কথাটা বলে মাইশা আলিয়াকে টেনে নিচে নিয়ে গেল।

*******************

ঘন্টাখানেক পর রিয়াদকে হসপিটাল থেকে রিলিজ করে দিয়েছে। রিয়াদ বাসায় এসে খাটের সাথে হেলান দিয়ে হাত কপালে ঠেকিয়ে আছে। রিয়াদ অনেক চেষ্টা করেও তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটার খোঁজ পায় নি। সে এখনো পর্যন্ত জানতে পারল না তাকে কে হসপিটালে নিয়ে এডমিট করেছে তার চিকিৎসা করেছে। রিয়াদের অবচেতন মন আনচান আনচান করছে একটা বারের জন্য তার পরিচয় পাওয়ার জন্য। রিয়াদ তার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ নতুন করে এক বাঁচার সম্ভাবনার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে তার জীবনের সেই অজানা মানুষটা। কিন্তু তার জীবন প্রদীপটা যে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল তার পরিচয়টা ভালো করেই সে জানে। রিয়াদকে তার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াতে হবে কেন রিয়াদের সাথে এমন একটা জঘন্য কাজ সে করতে পারলো। তার উত্তর সেই আরিয়ান চৌধুরীকে দিতেই হবে।

সীমা রিয়াদের একটা ছবিতে হাত বোলাচ্ছে আর ছল ছল চোখে ছবিটা দেখে তাকিয়ে আছে। এই ছবিটা সীমা লুকিয়ে একদিন তার ফোনে তুলেছিল। তারপর সে ফোন থেকে ছবিটা বের করে ফটো করে তার কাছে রেখে দিয়েছে। এই দুইটা দিন সীমা রিয়াদের মোটামুটি কাছে ছিল কিন্তু নিজের ভালো বাসাটাকে প্রকাশ করার মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। হয়তো সীমার মনের অব্যক্ত ভালোবাসা সারা জীবন অব্যক্ত হয়েই থেকে যাবে। তবে সীমা সব সময়ই চায় রিয়াদ যাকে ভালবাসে যাকে চায় তাকে নিয়ে যেন সারা জীবন ভালো থাকে। কারণ ভালোবাসার মানুষটা ভালো থাকলে এর থেকে বড় পাওয়ার এ পৃথিবীতে আর কিছুই থাকেনা। সীমার মনের ভেতর আকাশ পরিমাণ কষ্ট। ছোটবেলায় তার মা মারা যাবার পর থেকে তার জীবনের সব সুখ শেষ হয়ে গেছে। তার বাবা আবার বিয়ে করার পরে সৎ মায়ের সংসার থেকে সে বিতাড়িত হয়েছে। তারপর থেকে তার জীবন শুরু হয় এতিমখানায়। পড়ালেখার সূত্রে পরিচয় হয় মাইশার সাথে। মাইশার ওকে সব সময় অনেক সাহায্য সহযোগিতা করতো এমনকি তার সহযোগিতায় এ চাকরিটাও সে পেয়েছে। তাই হাজার কষ্ট হাজার রাগ আর অভিমান মনের ভেতর থাকা সত্ত্বেও সে মাইশাকে কিছুই বলতে পারছে না। কারণ মাইশার কাছে সে চির ঋণী আর কৃতজ্ঞ।

সীমা আনমনে ভাবছে,
"থাকুক না, আমার ভালোবাসার মানুষটা যার সাথে ভালো থাকবে তার সাথেই ভালো থাকুক। দূর থেকে না হয় সারা জীবন আমি তার সুখ দেখে একটু সুখ উপলব্ধি করার চেষ্টা করব।

রিয়াদের ছবিটা সীমা তার বালিশের নিচে রেখে দিল কারন এই ছবির দিকে সে যত তাকাবে তত তার কষ্ট হু হু করে বাড়বে। সীমার জীবনটাই কষ্টে ভরা সেখানে সুখ পাওয়ার আশাটা একটা মরীচিকা মাত্র।

***********************

মাইশা আর আলিয়া মিলে খুব সুন্দর করে কাঁচা আমের শরবত বানালো। সবাই মিলে খুব তৃপ্তি সহকারে শরবতটা খেলো। মাইশা লুকিয়ে আরিয়ানের জন্য কিছুটা শরবত তুলে রাখলো। কারণ আরিয়ান যে মাইশার এই হাতের এই শরবত টা খেতে খুব পছন্দ করে।মাইশার কেন যেন মোটেও ভালো লাগছে না খুব একা একা লাগছে খুব মিস করছে সে আরিয়ানকে। আরিয়ানের শাসন, খুনসুটি ভালোবাসা, খুনসুটি ঝগড়া আরিয়ানকে আরো বেশি মিস করাচ্ছে মাইশা কে।যে মানুষটা মাইশাকে এতটা কেয়ারিং করে এতটা যত্ন করে তার হৃদয়ের মধ্যিখানে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে তাকে ছাড়া কি আর কোন কিছু ভালো লাগে।

মাইশা ও ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ের থেকে আরিয়ানের একটা ছবি বের করল। আরিয়ানের ছবির দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে মাইশা। কেন যেন আরিয়ানের প্রতি অন্যরকম একটা অনুভূতি অনুভব হচ্ছে আজ মাইশার মনে। আরিয়ানের ছবিটা বুকে নিয়ে আরিয়ানের করা প্রত্যেকটা স্পর্শ মাইশা খুব গভীরভাবে অনুভব করার চেষ্টা করছে। তবে কি মাইশা আরিয়ানের ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিল।

মাইশা আরিয়ানের ছবিতে ছোট করে একটা চুমু খেলো। আরিয়ানের ছবির দিকে তাকিয়ে মাইশা নিজে নিজে বলল,
"এই ছেলেটার ভালোবাসায় জাদু আছে। কিভাবে আমাকে সে নিজের করে নিলো। সত্যি আমি চেয়েছিলাম তোমার ভালোবাসায় ধরা না দিতে। কারণ তোমার ভালবাসাটা হয়তো আমার জন্য নয় অন্য কারো জন্য ছিল। কিন্তু তোমার পাগলামি, তোমার ভালোবাসা,তোমার ছোঁয়া, তোমার শাসন সব কিছু আমাকে তোমাকে ভালবাসতে বাধ্য করেছে। সত্যি তুমি আমার জীবনে প্রেম হয়ে উঠেছো সারা জীবন আমাকে এভাবে বেঁধে রেখো তোমার ভালোবাসায়। সত্যি আমি সারা জীবন তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই। তোমাকে আমার জীবনের প্রেম আমার করে তুলতে চাই।

**********************

অফিস শেষ করে বিকালের দিকে আরিয়ান বাসায় ফিরল। আজ একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরলো সে।মাইশা ফ্রিজ থেকে শরবত টা বের করে নিয়ে আরিয়ানের রুমের দিকে গেল। মাইশা রুমে গিয়ে দেখল আরিয়ান রুমে নেই। ওয়াশরুম থেকে পানির কল কল শব্দ আসছিল। মাইশা বুঝতে পারল আরিয়ান ওয়াশরুমে আছে। অফিস থেকে এসেই আরিয়ান তার জিনিসপত্র এখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রুমটাকে একদম অগোছালো করে রেখেছে। মাইশা সুন্দর করে রুমটা গোছাতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর আরিয়ান একটা তোয়ালে পড়ে ওয়াশরুম থেকে বেরোলো। আরিয়ানকে এই অবস্থায় দেখে মাইশা কিছুটা বিব্রত অবস্থায় পড়ে গেল।

মাইশা সঙ্গে সঙ্গে তার দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলল,
"ছি ছি এইভাবে কেউ ওয়াশরুম থেকে বের হয়।

আরিয়ান মাইশার দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে বলল,
"তো কিভাবে বের হয়।

মাইশা তার আঙ্গুল কিছুটা ফাঁক করে চোখ পিটপিট করে দেখল আরিয়ান তার খুব সামনে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
"ইশ লজ্জা করছে না তোমার এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে। দ্রুত চেঞ্জ করো, আমি যাচ্ছি।

মাইশা রুম থেকে বের হবার জন্য পা বাড়াতে নেবে অমনি আরিয়ান ওর হাত টাকে খপ করে ধরে ফেলল। মাইশা তো লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আরিয়ান মাইশার হাত ধরে সজোরে একটা টান দিয়ে তার কাছে নিয়ে আসলো।

"কিগো বউ আমাকে দেখে এত লজ্জা পাচ্ছো কেন গো। আমার সবকিছু তো তোমারই।

"আরে কি করছো কি ছাড়ো তো।

আরিয়ান মাইশা কে পিছন দিকে জড়িয়ে ধরে বলল,
"আমি অন্য কাউকে ধরেছি না কি আমার কাগজে-কলমে কাবিন করা বউকে ধরেছি।

মাইশা কিছুটা জোরে বলে উঠলো,
"হ্যাঁ মামি আসছি।

আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে ছেড়ে দিল। মাইশা একটা ভেংঞ্চি কেটে আরিয়ানকে একটা ধাক্কা মেরে চলে গেল। আরিয়ান বুঝতে পারল মাইশা তাকে বোকা বানিয়ে চলে গেছে।

আরিয়ান মাইশার যাওয়ার পানে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে বলল,
"আমাকে বোকা বানিয়ে চলে যাওয়া তাইনা। আর তো মাত্র কিছুদিন। তারপরে এসব কিছু সুদে আসলে উসুল করে নেব।

কথাগুলো বলে আরিয়ান আনমনে কিছুটা হাসলো। হঠাৎই আরিয়ানের চোখ গেল গ্লাসের দিকে। আরিয়ান গ্লাসটা হাতে নিয়ে দেখল কাঁচা আমের ঠাণ্ডা শরবত। আরিয়ান ঢক ঢক করেই শরবত টা খেয়ে নিল। এই গরমে কাঁচা আমের ঠাণ্ডা শরবত জানো ওর ভিতরটা একদম ঠান্ডা করে দিল।

তৃপ্তির একটা ঢেকুর তুলে বলল,
"বাহ বউ আমার তো খুব সুন্দর করে শরবত বানায়। বিয়ের পর এভাবেই তৃপ্তি নিয়ে......

আরিয়ান মাইশা কে উদ্দেশ্য করে একটা ফ্লাইং কিস দিল।

************************"

সাব্বির অফিসে বসে সবগুলো মৃতদের পোস্টমর্টেম একটার সাথে একটা মিলিয়ে দেখলো সবগুলো একই প্যাটার্নে খুন করা হয়েছে। সবাইকে মার্ডার করার আগে নিশা জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে তারপর মাথায় ভাড়ি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তারপর ছুরি দিয়ে এলো পাথাড়ি জখম করে মারা হয়েছে। তাতেও সেই সাইকো কিলারের মনের জ্বালা মিটেনি শেষ পর্যন্ত লাশ গুলিকে সে পুড়িয়ে ফেলেছে।

সাব্বিরের মাথায় কিছু ঢুকছে না কেন এই গুলা করছে সেই সাইকেল কিলার। তবে সবগুলো খুন একই প্যাটার্নের করা হয়েছে তাহলে এদের সাথে কোন না কোন যোগসূত্র আছে। আর খুনগুলো এত জঘন্য ভাবে করা হয়েছে প্রত্যেকটা লোককে খুব কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। এর পিছনে অনেক বড় এক রহস্য লুকিয়ে আছে হয়তো কেউ প্রতিশোধ নেবার জন্য এই খুনগুলো করছে।

সাব্বিরের প্রচন্ড মাথা ব্যথা করছিল। সাব্বির চেয়ারের সাথে হেলান দিয়ে মাথায় স্ক্রল করতে করতে স্কেচে আঁকানো চোখের কথা ভাবছিল। হঠাৎই তার যেন কিছু একটা মনে পড়ে গেল। সে তার ফোনটা বের করে খুব ভালোভাবে কিছু একটা দেখছে।

সঙ্গে সঙ্গে সে এক কনস্টবল কে ডেকে বলল,
"আজ থেকে পাঁচ/ ছয় বছর আগের যত ফাইল আছে। মিসিং, ধর্ষণ, পাচার এই জাতীয় সমস্ত ফাইল আধ ঘণ্টার মধ্যে আমার টেবিলে চাই।

কনস্টেবল চলে যেতেই সাব্বির জয়নাল নামের একজন এসআই ফোন দিয়ে বলল,
"দ্রুত পাঁচ সদস্যের একটা টিম গঠন করে ওদেরকে আগামীকাল সকালের মধ্যে আমার অফিসে এনে হাজির করবে।

সাব্বির ফোনটা রেখে নিজ মনে বলছে,
"আমি যা ভাবছি তা যেন সত্যি না হয়। যদি তা সত্যি হয়...
না না আমি আর ভাবতে পারছি না। তবে সত্যি মিথ্যা যাই হোক এটা শেষ অব্দি যেতে হবে আমাকে।

*************************

পড়ন্ত বিকেল। সন্ধ্যা হাতছানি দিয়ে প্রকৃতিকে ডাকছে তার বুকে সন্ধ্যা কে জড়িয়ে নেবার জন্য। আকাশে লাল আভা বিচরণ করছে। সন্ধ্যা ছুই ছুই। হালকা মৃদু বাতাস বইছে চারিদিকে। আকাশে মেঘে রা ভেসে বেড়াচ্ছে আপন মনে। হয়তো আকাশের বুক চিরে বৃষ্টি নামতে পারে এই মৃত্তিকায়।

সন্ধ্যার সময় প্রকৃতি যে রূপ ধারণ করে তা যে কারো মন ভালো করার জন্য যথেষ্ট। আর এইরকম প্রকৃতিতে মন খুলে গান গাইতে ইচ্ছে করছে মাইশার। তাই মাইশা আপন মনে ছাদে দাড়িয়ে গান গাইছে,
"আমারো পরানো যাহা চায়
তুমি তাই তুমি তাই গো"
তুমি সুখ যদি নাহি পাও
সুখের ও সন্ধানে যাও
তুমি ছাড়া এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো
আমারো পরানো যাহা চায়"

মাইশার গান মনমুগ্ধ হয়ে পিছনে দাঁড়িয়ে এক মনে শুনছে আরিয়ান।

আরিয়ার মনে মনে ভাবছে,
"মাইশা যে এত সুন্দর গান করতে পারে তা আজকেই জানলাম। মেয়েটার গানের গলাটা মন্দ নয়। সব দিক থেকে এক্সপার্ট রূপে গুনে তাইতো এই আরিয়ান চৌধুরীর মনটা চুরি করে নিয়ে গেছে অনেক আগেই।

মাইশা গান শেষ করে তাকিয়ে দেখে আরিয়ান তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান যে কখন তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মাইশা তা একদমই খেয়াল করে নি। গান শেষ হতেই আরিয়ান আস্তে করে তালি দিয়ে উঠলো।

"বাহ তুমি তো খুব সুন্দর গান করো আমার পিচ্চি বউ।

আরিয়ানের মুখে পিচ্চি কথাটা শুনতে একদম ভালো লাগে না মাইশার। এত বড় হয়ে যাবার পরেও যদি কেউ কাউকে পিচ্চি বলে তখন সেটা শুনতে আসলেই যেন কেমন লাগে। মাইশা আরিয়ানের উপর কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল,

" তুমি আমাকে সবসময় পিচ্চি বলো কেন। আমাকে কি তোমার কাছে পিচ্চি মনে হয়।

আরিয়ান একটু হেসে বলল,
"পিচ্চি কে পিচ্চি বলবো না তো কি বুড়ি বলবো।

মাইশা কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে আরিয়ানের কলার ধরে বলল,
"একদম আমাকে পিচ্চি বলবে না আমি কত বড় হয়ে গেছি তুমি জানো।

"ও আচ্ছা তাই বুঝি খুব বড় হয়ে গেছো। তাহলে তো দেখতে হচ্ছে ঠিক কতটা বড় হয়েছো।

কথাটা বলে আরিয়ান মাইশার কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে আরো কাছে নিয়ে আসলো। হালকা করে মাইশার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট টা ছুঁইয়ে দিল।

কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে বলল,
"I love you. I love you so much. You are my heart, you are my life. I cannot leave without you. Do you love me.

মাইশা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। আরিয়ান মাইশা কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
" তোমার উত্তরের অপেক্ষায় আছি বল।

"কি বলবো।

"ভালোবাসি কথাটা বলো।

মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। আরিয়ানের চোখ দুটো তার কাঙ্খিত উত্তরের অপেক্ষায় পিপাসিত হয়ে আছে। আরিয়ান মাইশার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছে মাইশার ঐ কাজল টানা চোখ গুলো যেন অনেক কথা বলতে চাচ্ছে। কিন্তু তা মুখে প্রকাশিত হচ্ছে না। হালকা মৃদু বাতাসে মাইশার চুলগুলো উড়ছে। সামনের ছোট চুলগুলো কপালে এসে এলোমেলো হয়ে পড়ছে। মাইশা কে অপূর্ব লাগছে আরিয়ান এর কাছে। আরিয়ানের মনের পিপাসা বেড়েই যাচ্ছে কাঙ্খিত উত্তর টার আশায়।

চলবে....

আপনাদের কি মনে হয় মাইশা কি তার মনের কথাটা বলতে পারবে আরিয়ানকে।
377 Views
10 Likes
3 Comments
4.3 Rating
Rate this: