গল্পটা আমার এক কাজিনের, ও যেভাবে বলছে আমি সেভাবেই বর্ণনা করছি।
একদিন রাতে আমি আর আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে শুয়ে আছি, তখন আমার মনে হলো কে যোনো বারবার আমাদের রুমের দরজা দিয়ে উকি দিচ্ছে, আমি নিজে কয়েকবার গিয়ে দেখেছি কেউ নেই। তারপর মনে হলো হয়তো বা আমার মনের ভুল রাতে ঘুমিয়ে পড়লাম, তখন মনে হলো কে যেনো আমার শরীরে হাত দিচ্ছে, আগে বলা রাখা ভালো আমি আর আমার এক চাচাতো বোন
আমাদের ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট আছে, সেখানে থাকি। পুরো ফ্ল্যাটে শুধু আমি আর সিমরান ( আমার চাচাতো বোন) থাকি। আর তখন সিমরান আমার পাশে ঘুমাচ্ছিলো । তো যাই হোক কে যেনো বারবার আমার গায়ে স্পর্শ করছিলো। তখন আমার ঘুম ভেঙে যায় আমি তাকিয়ে দেখি একটা কালো ছায়া উধাও হয়ে গেলো।
আমি সিমরানকে ঘুম থেকে উঠালাম, ওকে নিয়ে পুরো ফ্ল্যাটে দেখে আসলাম কেউ আছে কী না। কিন্তু কেউ নেই, তবে কিচেনের প্লেট বাটি নিচে পড়ে আছে, আমরা ভেবেছি বিড়াল ঢুকেছে, কিন্তু ৫ তলার উপর বিড়াল কোথা থেকে আসবে।
আমরা আমাদের বেড রুমে ঢুকার সময় খেয়াল করি আমাদের খাটের উপর একটা ছায়া বসে আছে। দুজনেই প্রচন্ড ভয়ে ঘামতে লাগলাম,
কীছু সময় পর ঐটা একাই উধাও হয়ে গেলো আর সাথে সাথে ফজরের আজান হয়ে গেলো।
আমার আব্বুকে কল দিয়ে জানালাম, আব্বু আমার আংকেল আন্টিকে বলে বাসায় হুজুর নিয়ে এসে ঘর বন্ধ করে দিলো।
এর কীছুদিন পর, আমার একটা ফুফাতো ভাইয়ের বিয়ে আমরা গ্রামে গিয়েছি বিয়ে খেতে আমরা হলুদের দিন রাতে বৌয়ের বাড়ীতে হলুদ দিয়ে ফিরতে অনেকটা রাত হয়ে গেছে। গ্রামের রাস্তায় সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না, আর ৮ পর তো অসম্ভব গাড়ী পাওয়া। আমরা হেটে আসছিলাম, আমাদের পা ব্যাথা হয়ে গেছে, আমরা তিনজন পিছনে পরে গেছি। হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে একটা তাল গাছের নিচে বসছিলাম, এর কীছু সময় পর যখন আমরা হাটছিলাম তখন দেখলাম ছোট্ট একটা বাচ্চা রাস্তার উপরে হামাগুড়ি দিয়ে জংগলের দিকে যাচ্ছে। বাচ্চাটাকে ধরতে গেলাম কিন্তু হঠাৎ করে বাচ্চাটা উধাও হয়ে গেলো। আমরা একটু ভয় পেয়ে গেলাম, আমরা একে অপরের হাত ধরে হাটছিলাম। সামনে গিয়ে কত গুলো কালো বিড়াল দেখতে পেলাম রাস্তার উপর বসে আছে, আমি সামনে না গিয়ে দাড়িয়ে থাকলাম,,
আধ ঘন্টা পরে ওরা নিজেরাই সরে গেলো। আমরা হাটতে হাটতে কবরস্থানের কাছে চলে আসলাম, তখন দেখলাম আমার বাবার কাকা মানে আমাদের দাদু উনি দাড়িয়ে আছেন,
আমরা কাছে যেতেই উনি ভাড়ি কন্ঠে বলে উঠলেন কোথায় যাওয়া হয়েছিলো শুনি,,,,,,।
আমরা ভয়ে ভয়ে তাকে সব খুলে বললাম, উনি বললেন তোমরা সামনে যাও, আমি তোমাদের পিছনে হাটছি, পিছনে তাকাবা না তাহলে সমস্যা হবে। আমরা কীছুটা ভরসা পেয়ে হাটতে লাগলাম। বাড়ির দরজার সামনে গিয়ে উনাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য পিছন ফিরতেই দেখলাম উনার চেহারা কী ভীবৎষ হয়ে গেছে।
চোখ গুলো লাল, মুখে রক্ত। আমরা দৌড়ে বাড়ীর ভিতরে গিয়ে চিৎকার দিতে লাগলাম। সবাই বের হয়ে আসলো। আমরা ধীরে ধীরে ঙান হারিয়ে ফেললাম। যখন ঙান ফিরলো তখন সবাইকে সব কীছু বললাম। তখন বাবা জানালো উনার কাকা ২ মাস হয়েছে মারা গেছে। আমরা আতকে উঠলাম, পরে কবিরাজ ডাকা হলো, কবিরাজ তাবিজ দিলো, মিস্টি নিয়ে কবরস্থানে রেখে আসতে বললো। ঐ রাস্তায় রাতে যেতে নিষেধ করলো। এখন আমরা ঠিক আছি।
ছায়া,
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
179
Views
4
Likes
2
Comments
4.5
Rating