গভীর রাতজাগা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে❓👇🆗👇
✍উত্তর: বর্তমান সময়ে অধিক রাতজাগা মানুষের ব্যাধিতে পরিনতো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবক সম্প্রদায়ের মধ্যে এর প্রবোনতা খুব বেশি। এর বড়ো একটা কারণ প্রত্যেকের হাতে হাতে থাকা এন্ড্রয়েড ফোন। বিশেষ করে ফেসবুক আর ইউটিউব দেখার পিছোনে আমরা অযথা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করে থাকি।
⭕গাইয়ে মাহরামদের সাথে চেটিং, মুভি সিনেমা দেখা, টিভি দেখা ইত্যাদি বিভিন্ন পাপাচারের মাধ্যমে রাতের সময়গুলো পার করে থাকি। এদিকে গভীর রাত পর্যন্ত না ঘুমানো ফলে দিনে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলাম এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মোটেও সমীচীন নয়।
❇নিম্নোক্ত এ বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহের আলোয় উপস্থাপন করা হলো--⤵
☝আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
وَّجَعَلۡنَا نَوۡمَکُمۡ سُبَاتًا. وَّجَعَلۡنَا الَّیۡلَ لِبَاسًا. وَّ جَعَلۡنَا النَّہَارَ مَعَاشًا.
আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্ৰাম। এবং রাত্রিকে করেছি আবোরণ। আর করেছি দিনকে জীবিকা আহরণের সময়। (সূরা: নাবা ৯, ১০, ১১)
🌅সারাদিন কর্মের ক্লান্তির পর ঘুম আমাদের স্বস্তি, আরাম ও শান্তি দান করে। অথচ আমরা রাতে না ঘুমিয়ে দিনের জীবিকা নির্বাহের বরকতময় সময়ে ঘুমাচ্ছি।
📚সখর গামেদি (রাঃ) সূত্রে বর্ণিতো, রাসূল (সাঃ) এ দোয়া করেছেন,
اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا.
‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরু বরকতময় করুন।’
وكان إذا بعث سرية أو جيشا بعثهم في أول النهار . وكان صخر رجلا تاجرا وكان يبعث تجارته من أول النهار فأثرى وكثر ماله.
বর্ণনাকারী বলেন, এ জন্যই রাসুল (সাঃ) কোনো যুদ্ধ অভিযানে কোনো ক্ষুদ্র বা বিশাল বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন। আর সখর (রাঃ) ছিলেন একজন ব্যাবসায়ী। তিনিও তাঁর ব্যাবসায়ী কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তাঁর ব্যাবসায় অনেক উন্নতি হয় এবং তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য লাভ করেন। (সুনানে আবু দাউদ ২৬০৬)
📘অন্য বর্ননায় আছে, আর রাসূল (সাঃ) তিনি,
وكان يكره النوم قبلها والحديث بعدها .
ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং ঐ সালাতের পর কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। (বুখারী ৫৪১, মুসলিম ৬৭৪, তিরমিযী ১৬৮)
🌌তবে প্রয়োজনে রাতজাগা যাবে এতে সমস্যা নেই। কেনোনা এমনটি এক হাদিসে পাওয়া যায়,
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْمُرُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ فِي الأَمْرِ مِنْ أَمْرِ الْمُسْلِمِينَ وَأَنَا مَعَهُمَا.
উমার (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর (রাঃ) এর সাথে মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাত জেগে কথাবার্তা বলতেন এবং আমিও তাদের সাথে থাকতাম। (তিরমিজি ১৬৯)
✳নিম্নোক্ত রাত জাগায় কুফল বর্ননা করা হলো--⤵
✅১. সারাদিন শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি ভাব অনুভব হওয়া।
✅২. চোখে অধিক প্রেশার পড়া। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মরণ শক্তিও কমে যাওয়া।
✅৩. দিনদিন শরীর দূর্বল ও শক্তিহীন হয়ে যাওয়া।
✅৪. এমনকি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা।
✅৫. যৌন দূর্বলতা অনুভব হওয়া।
✅৬. মাথাব্যাথা বৃদ্ধি পাওয়া।
✅৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
✅৮. এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে হতাশা বেড়ে যাওয়া।
✅৯. হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হওয়া।
✅১০. ধীরে ধীরে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। আর আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ.
তোমরা স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসে দিকে নিক্ষেপ করো না এবং কল্যাণকর কাজ করে যাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ কল্যাণকারীদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা: বাকারা ১৯৫)
🔰ইত্যাদি অনেকগুলো কারণ পাওয়া যায়, যা একেবারে বলা সম্ভব নয়। সুতরাং আমার উচিত কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করা। আল্লাহ আমাকে তৌফিক দান করুক। (আমিন)🔚
গভীর রাত জাগা নিয়ে ইসলাম কী বলে.....
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
273
Views
5
Likes
3
Comments
4.8
Rating