তারাগুনিয়ার কথা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বসিরহাট মহাকুমার অন্তর্গত তারাগুনিয়া নামক একটি গ্রাম আছে। গ্রামটি ছিল ইছামতি নদীর তীরে। প্রতি বছর বর্ষণে নদীতে ভাঙন দেখা যেত।
এবং গ্রাম বাসীর খুব ক্ষতি হতো। প্রতি বছর বর্ষার সময় গ্রামবাসীরা থাকত আতঙ্কে। তারা বহু চেষ্টা করেও নদী ভাঙন রোধ করতে পারেনি।
বসিরহাটে বাস করতেন এক আল্লাওলা বুজুর্গ ব্যক্তি। যেনাকে সবাই পীরসাহেব বলে মানতেন। আবার অনেকে তাঁকে ভণ্ড মনে করতেন। যারা সেই বুজুর্গ মানুষটিকে বিশ্বাস করতেননা তারা সকলে মিলে ঠিক করলেন যে ওই হুজুরের কাছে যাবেন এবং নদী ভাঙনের ব্যাপারটা জানাবেন। হুজুর যদি নদী ভাঙন রোধের কোনো উপায় করতে পারেন তবে তারা সকলে সেই হুজুরকে পীর হিসাবে মেনে নেবেন। নয়ত তাকে গ্রাম ছাড়া করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ । গ্রামের কিছু লোক এলেন হুজুরের কাছে এবং সব খুলে বললেন। হুজুর সব কিছু শোনার পর সেই লোকদের সঙ্গে চলে গেলেন তাড়াগুনিয়া গ্রামে।
সেখানে গিয়ে নদীর পারে জায়নামাজ বিছিয়ে বসে রইলেন। মুহুর্তের মধ্যে গ্রামের সমস্ত মানুষ সেখানে হাজির হয়ে গেলেন। হুজুর কি করেন সেটা তারা দেখতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ হুজুর বলে উঠলেন একটি ছেলে লাগবে । হুজুর একটি চিঠি লিখলেন এবং গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন , কোনো একজন যুবক এগিয়ে এসো এবং আমার এই চিঠিটি নিয়ে নদীতে ডুব দাও। নদীর গভীরে একজন আল্লার বন্ধু আছে তার কাছে আমার এই চিঠিটি পৌঁছে দাও। সবাই এই ধরনের কথা শুনে বলাবলি করতে লাগলো যে হুজুরের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কেউ তাদের ছেলেকে দিতে রাজী নয়। কারণ নদীতে ডুব দিয়ে যদি আর না ওঠে? এই প্রশ্নই সবার মনে ঘুরতে লাগলো। সবাইতো ভয় জড়োসড়ো হয়ে গেছে। হঠাৎ এক মহিলা এগিয়ে এসে বললেন হুজুর আপনি আমার ছেলেকে দিয়ে চিঠি পাঠান নদীর গভীরে। আমার একমাত্র ছেলে,ও ছাড়া আমার আর কেউ নেই দুনিয়াতে। তবুও গ্রাম রক্ষার জন্য যদি আমার ছেলেকে বিসর্জন দিতে হয় দিলাম, তবু যেমন করে হোক আপনি এই গ্রাম রক্ষা করুন। অনেকে বৃদ্ধা মহিলাকে নিষেধ করলেন এবং হুজুরকে ভণ্ড বলে গালি দিতে লাগলেন।কিন্তু বৃদ্ধা তার সিদ্ধান্ত থেকে অনড়। হুজুর ছেলেটির হাতে চিঠিটি দিয়ে নদীতে ডুব দিতে বললেন। তিনি আরো বলেন যে নদীর গভীরে একজন বুযুর্গের সঙ্গে দেখা হবে তার হাতে চিঠিটি দিয়ে আমার সালাম জানবে।
ছেলেটিও হুজুরের কথা মত কাজ করল।
সমস্ত গ্রাম বাসীর মধ্যে একটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে অনেক সময় পার হয়ে গেলো কিন্তু ছেলেটি উপরে ওঠেনা। কিছু মানুষ তো হুজুরকে মারার পরিকল্পনা করছে। কেউ কেউ হুজুরকে সরাসরি বলেই দিলো যদি এই ছেলে উঠে না আসে তবে হুজুরকে সবাই মিলে মেরে ফেলবে।
সবাই অপেক্ষা করছে ছেলেটি উপরে ওঠে কিনা।হুজুর মোরাকাবা করছেন।
হঠাৎ ছেলেটি সবাইকে অবাক করে দিয়ে পানির উপরে ভেসে উঠলো ,হতে আর একটি চিঠি।চিঠিটি হুজুরের হাতে দিলেন।হুজুর জিজ্ঞাসা করলেন বাবা তোমার এত দেরি হলো কেন?ছেলেটি তখন বললেন হুজুর আমিতো আসতেই চাইছিলামনা। কিন্তু নিচে যিনি বাস করেন উনি আমাকে জোর করে ফেরত পাঠালেন ।উনি বললেন যে আমি যদি ফিরে না আসি তবে গ্রামের মানুষ আমনাকে মেরে ফেলবে। এবং এই চিঠিটি নাকি আপনার কাছে পৌঁছানো জরুরি। তাই ফিরে এলাম এবং কিছুটা দেরি হয়ে গেলো। হুজুর বলুন নদীর গভীরে যিনি আছেন উনি কে ? আমিতো আমার জীবনে এত সুন্দর মানুষ দেখিনি। হুজুর উনি কে? হুজুর বললেন উনি হলেন খিজীর আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
সমস্ত গ্রাম বাসী এক বাক্যে জিজ্ঞাসা করলেন হুজুর চিঠিতে কি লেখা আছে। হুজুর জানালেন
এ চিঠিতে আছে কিয়ামত পর্যন্ত তাড়াগুনিয়ার বাঁধ আর ভাঙ্গবেনা।
সমস্ত গ্রামবাসী হুজুরের প্রশংসা করতে লাগলেন এবং তারা বুঝতে পারলেন যে তিনি সত্যিই পীর।

এই পীর আর কেউ নয় বসিরহাটের বড় মাওলানা, বাংলার বাঘ পীর আল্লামা রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বসিরহাট হুজুর)
32 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: