নিক ভুইয়টসিক একজন যুবক যে পা ছাড়াই জন্মেছে। কিন্তু তার এই অক্ষমতা কখনোই তার আসল পরিচয় হয়ে যায় নি। শারীরিক অক্ষমতা সত্ত্বেও সে সব সময়েই একজন ভালো খেলোয়াড়, অ্যাথলিট হতে চেয়েছিলো। অদম্য ইচ্ছা শক্তির বলে সে কিছু কিছু খেলা শিখতে থাকে। ফুটবল, স্ক্যাটিং শিখতে থাকে। শরীরের উপরের অংশ কে আরো মজবুত করতে থাকে।
একদিন তার স্কুলে একজন বিখ্যাত খেলোয়াড় আমন্ত্রিত হয়ে আসেন। তিনি সেখানে অনুপ্রেরণা দায়ক একটি ভাষণ দেন। তার কথা শুনে নিকের মন আশায় ভরে উঠে। সে ভাবে জীবন যুদ্ধে সেও জিততে পারবে।
খেলোয়াড়টি নিজের জীবন যুদ্ধের কথা বলেছিল। সে জানিয়ে ছিল কিভাবে সে শত আঘাত সত্ত্বেও জিতে দেখিয়েছে। বার বার বাধা এসেছে তার পরও সে লক্ষ্য থেকে সরে যায়নি। হাজারো ব্যাথা সত্ত্বেও সে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আজ সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছো।
এই খেলোয়াড়ের ভাষণ নিকের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনে। সে বুঝে যায়, সকলের জীবনেই বাধা আসে। যারা এটা কে কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে চলে তারাই সফল হয়। নিক মনে অদ্ভুত জোর অনুভব করে।
দ্বিগুন উৎসাহে নিক ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের লক্ষ্য পূরণে।
অটল সংকল্প নিয়ে সে খেলা অনুশীলন করতে থাকে। অবশেষে সে একটি সার্ফ খেলার টিমে স্থান পায়। এটি এমন একটি খেলা যাতে সমুদ্রের ঢেউয়ের উপর একটি ছোট বোর্টে চেপে থাকতে হয়। বোর্ট টি পা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু নিকের তো কোনো পা নাই। এটা তার জন্য কতটা মারাত্মক ছিল!! তবুও সে সফল হয়ে দেখালো।
নিকের এই অদম্য সাহস, নির্ভিক মানসিকতা, তার সফলতা হাজারো মানুষ কে অনুপ্রাণিত করলো। তার গল্প ছড়িয়ে পড়লো। বিশ্বময় নিকের কথা আলোচিত হতে থাকলো। সে অসংখ্য মানুষের কাছে আদর্শে পরিণত হলো।
কয়েক বছর পর, খেলাতে তার অবদানের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছিলো। পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে দাড়িয়ে নিক তার সামনে উপস্থিত অসংখ্য মানুষকে লক্ষ্য করে ছোট্ট একটি ভাষণ দেয়। আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠে সে বলে "আমি শুধু মাত্র একজন খেলোয়াড় নয়,
আমি আশার আলো। আমি প্রমান করেছি ধর্য্য ও অধ্যাবসায় দিয়ে অনেক কিছুই করা যায়।"
আজ নিক একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। মানুষ কে আশার কথা শোনাচ্ছে। সফলতার কথা শোনাচ্ছে।
দুঃসাহসিক সফলতা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
203
Views
3
Likes
1
Comments
4.5
Rating