ছায়ার আক্রমণ

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রাচীন বাংলার এক নিরিবিলি গ্রাম ছিল সোনারপুর। গ্রামের মানুষেরা সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত ছিল। তারা দিনভর কাজ করত আর রাতে প্রশান্তিতে ঘুমাত। কিন্তু এক পূর্ণিমা রাতে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল। হঠাৎ করেই মানুষের ছায়াগুলি জীবন্ত হয়ে উঠল এবং তাদের প্রভুদের হত্যা করার চেষ্টা শুরু করল।

প্রথম আক্রমণটি ঘটে গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক শীতল মণ্ডলের সাথে। সেই রাতে, তিনি চাঁদের আলোয় নিজের ঘরে বসে ছিলেন। হঠাৎ করেই দেখলেন, তাঁর ছায়া মেঝেতে অদ্ভুতভাবে কাঁপছে। তিনি অবাক হয়ে ছায়াটির দিকে তাকালেন। একটু পরেই ছায়াটি ধীরে ধীরে উঠে এসে শীতল মণ্ডলকে আক্রমণ করে বসে। শীতল মণ্ডল ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু তখন আর কেউ তাঁকে সাহায্য করতে পারে না। তার ছায়াটি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, এবং তাঁর প্রাণশক্তি শুষে নিতে শুরু করে। সকালে, গ্রামের মানুষ শীতল মণ্ডলকে নিথর অবস্থায় খুঁজে পায়।

এরপর প্রতিদিনই গ্রামের কোনো না কোনো মানুষের সাথে এমন ঘটনা ঘটতে লাগল। ছায়াগুলি রাতে জীবন্ত হয়ে উঠে এবং তাদের প্রভুদের আক্রমণ করে বসে। গ্রামের মানুষ ভয়ে কাঁপতে থাকে। তারা রাতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখলেও ছায়াগুলি কোনোভাবে তাদের কাছে পৌঁছে যায়।

গ্রামের প্রধান, বংশীবদন চক্রবর্তী, এই ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে শুরু করেন। তিনি প্রাচীন গ্রন্থাবলী এবং বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে শুরু করেন। একদিন তিনি একটি প্রাচীন মন্ত্র খুঁজে পান, যা ছায়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। কিন্তু মন্ত্রটি প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজন ছিল পূর্ণিমার চাঁদ এবং সমস্ত গ্রামের মানুষকে একত্রিত করে মন্দিরে উপস্থিত থাকা।

পূর্ণিমার রাত এলে, বংশীবদন চক্রবর্তী সমস্ত গ্রামবাসীকে মন্দিরে ডেকে পাঠালেন। সবাই একত্রিত হয়ে বংশীবদনের নির্দেশনা অনুসারে মন্ত্র পাঠ শুরু করল। কিন্তু, মন্ত্রের উচ্চারণ শুরু হতেই ছায়াগুলি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠল। তারা মন্দিরে প্রবেশ করতে শুরু করল। গ্রামের মানুষ তাদের ছায়ার আক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে উঠল, কিন্তু বংশীবদন চক্রবর্তী শান্ত ও স্থির থাকলেন। তিনি পূর্ণ শক্তিতে মন্ত্র পাঠ করে যেতে থাকলেন।

ধীরে ধীরে মন্ত্রের শক্তি ছায়াগুলির উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করল। ছায়াগুলি ক্রমে দুর্বল হতে শুরু করল এবং শেষ পর্যন্ত তারা অদৃশ্য হয়ে গেল। গ্রামবাসীরা বংশীবদন চক্রবর্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল এবং সেই রাতের পর থেকে ছায়াগুলি আর কখনোই জীবন্ত হয়ে ওঠেনি।

সোনারপুর গ্রাম আবার শান্তি ফিরে পেল, কিন্তু সেই ভয়ঙ্কর রাতগুলোর স্মৃতি গ্রামের মানুষের মনে চিরকালীন দাগ রেখে গেল। তারা জানল, কিভাবে তাদের নিজেদের ছায়া একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছিল।
178 Views
8 Likes
2 Comments
4.0 Rating
Rate this: