রিটার্ন ইন পাস্ট
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
হাসপাতালের বেডে শুইয়ে সিস্টেমে পয়েন্ট চেক করছিলো শুভ্র, এই মুহুর্তে তার সিস্টেমে ১৬ হাজার ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট যোগ হয়েছে। তার চিগিৎসা করাতে আর এই ভিআইপি ক্যাভিন দেওয়াতে অনেক টাকা খরচা করা হয়েছে তাই সব মিলিয়ে ১৬ হাজার পয়েন্ট জমা হয়ে গেছে। এখন শুইয়ে শুইয়ে এই পয়েন্ট কোথায় কিভাবে খরচ করা যায় সেই চিন্তায় ব্যাস্ত হয়ে আছে শুভ্র। তখনি রুমের দরজা খুলে আরশি ভিতরে প্রবেশ করে।
আরশি '- হাই এখন কেমন আছো?
শুভ্র '- জ্বী এখন ভালো আছি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে সাহায্য করার জন্য।
আরশি '- ওই ছেলেটা আমার জন্যই তোমাকে মেরেছে, আমি সত্যি সরি।
শুভ্র '- আরে না না, মিস। আপনি কেন সরি বলছেন। আপনি আমাদের স্কুলের সব থেকে সুন্দরী মেয়ে। আপনি সবাইকে তো আর পাত্তা দিয়ে ঘুরতে পারবেন না। কাউকে পাত্তা না দিলে সে যদি রেগে আরেকজন কে আঘাত করে তাহলে সেই দায়ভার অবস্যই আপনার হবে না তাই না!
আরশি '- আমরা কি সেইম স্কুলে পড়তাম? ওহ্ তাইতো তোমার মুখটা দেখা দেখা লাগছিলো। এখন মনে পড়ছে আমরা তো সেইম ক্লাসেই পড়তাম।
শুভ্র '- হ্যা, আপনি লাইক এ এঞ্জেল আর আমি সাধারণ এক ছেলে, আপনি আমাকে নোটিস করেছিলেন এটাই আমার কাছে অনেক কিছু।
আরশি '- আহ তুমি এমন এমন কথা এখন কেন বলছো! রিকোভার হওয়ার দিকে ধ্যান দেও।
শুভ্র '- হ্যা আমি রিকোভার হওয়ার প্রতি ধ্যান দিবো এর পর এক্সারসাইজ করে বডি তৈরি করার দিকেও ধ্যান দিবো যেন পরের বার কেউ আমার সামনে কোন মেয়েকে বিরক্ত করলে তাকে আটকাতে পারি।
আরশি '- হুম গুড। ওহ্ হ্যা তোমার চশমা ভেঙে গিয়েছিলো তাই না! এই নাও আমি তোমার জন্য একটা নতুন চশমা নিয়ে এসেছি।
শুভ্র ওই চশমা টা হাতে নিতেই ৫০০ পয়েন্ট আরো এড হয়ে যাওয়ার নোটিফিকেশন আসে সিস্টেমে। যা দেখে শুভ্র খুশি হয়ে চশমা টা চোখে পড়ে নেয়।
শুভ্র '- চশমা আনার জন্য ধন্যবাদ মিস আরশি। (মনে মনে)- আগের জীবনে এর সাথে এভাবে কথা বলাতো দূর এর কাছে গিয়েও দেখার কোনো সুযোগ ছিলো না কিন্তু আজ ও আমার কেয়ার করছে। এই সব কিছু হয়েছে জিহানের জন্য, মাঝে মধ্যে মাইর খাওয়াতেও ভালো কিছু হয়।
আরশি '- আচ্ছা শুনো না, তুমি আমাকে আপনি করে ডাকছো এটা আমার কাছে ভালো লাগছে না। চলো আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ডস, এখন থেকে আমাকে তুমি করে ডাকবে। ঠিক আছে।
শুভ্র '- আচ্ছা ঠিকআছে।
আরশি '- আচ্ছা শুনো আমার আব্বু তোমাকে দেখতে আসছে। তোমার ফেইসবুক আইডি দেও এড হয়ে থাকি।
শুভ্র '- আমার মনে হয় আমি আগে থেকেই তোমাকে ফলো করে রেখেছি এখন তুমি একসেপ্ট করলেই হয়ে যাবে। আমার ফোন টা ভেঙে গিয়েছিলো ফাইটের কারনে। পরে আমি নতুন ফোন কিনে চেক করে নিবো।
আরশি '- ওহ্ আমি জানতাম না তোমার মোবাইল টাও ভেঙে গেছে, তানাহলে আমিই একটা নতুন ফোন কিনে আনতাম। সরি,,
শুভ্র '- আরে এতে তোমার দোষ নেই তুমি কেন সরি বলছো। আমি সুস্থ হয়ে একটা ফোন কিনে নিবো। আমার আইডির নাম “শুভ্র আহমেদ”
এর মধ্যে সেই রুমে আরশির আব্বু প্রবেশ করে আর তার পিছনে জিহানের বাবা মাও।
'- আরশি মামুনি তুমি ঠিক আছো?
আরশি '- হ্যা আব্বু আমি ঠিক আছি। আমার কি হবে।
এইদিকে জিহানের বাবা শুভ্রর সামনে মাথা নুইয়ে বলতে থাকে,,,
'- সরি সরি, আমার ছেলে তোমাকে মেরেছে, আমারি দোষ আমি আমার ছেলেকে ভালোমতো শিক্ষা দিতে পারিনি। আমার ছেলের জন্য আমরা জিহানের বাবা মা তোমার কাছে মাফ চাইছি। প্লীজ আমার ছেলেকে মাফ করে দাও।
শুভ্র '- আরে না না আঙ্কেল আপনারা কেন মাফ চাইছেন, আপনারা আমার থেকে বড়। আমার কাছে মাফ চেয়ে আমাকে সরম দিবেন না। আর এতে আপনাদের কোনো দোষ নেই। (শুভ্র বেড থেকে উঠতে উঠতে বলতে লাগলো)
'- আরে আরে তোমার উঠার দরকার নেই তুমি বসো, আহারে আমার ছেলে কি নিষ্ঠুর ভাবে মেরেছে তোমাকে। এমন খারাপ জানোয়ার ছেলে না জানি কিভাবে পয়দা হয়েছে আমার ফ্যামিলিতে।
পাশ থেকে জিহানের মা বলতে লাগলো,,,
'- হ্যা আমিও মাফ চাইছি আমার ছেলের পক্ষ থেকে। কোনো ব্যাপার না তোমায় যে মারা হয়েছে এর জন্য ক্ষতিপূরন আমরা দিয়ে দিবো।
শুভ্র '- আসলে সম্পূর্ণ দোষ জিহানের না। আমিই মার খাওয়ার পর রাগে জিহান কে উল্টা পাল্টা কথা বলার কারনে ওর আরো বেশি রাগ উঠে আমাকে আরো বেশি পিটিয়েছে। তাই দেখতে গেলে দোষ আমারো ছিলো। সরি আন্টি।
জিহানের বাবা '- তবুও বেশিরভাগ দোষ আমাদের ছেলেরই। তাই আমরা ঠিক করেছি ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমরা তোমাকে ১ মিলিয়ন টাকা দিবো।
এক মিলিয়ন সমান ১০ লাখ, এতো টাকা শুভ্র একসাথে মনে হয় না দুই জীবন মিলিয়েও কামিয়েছিলো কখনো। তাই এতো বড় এমাউন্টের কথা শুনে চোখ চকচকে হয়ে উঠে তার। তার পরেও নিজের মন কে শান্ত করে বলে,,,
শুভ্র '- money Doesn’t matter. মূল বিষয় হলো টাকা দিয়ে আজ আপনি আপনার ছেলেকে ছাড়িয়ে নিবেন ঠিক আছে কিন্তু পরবর্তীতে আপনার ছেলে আবারো আমাকে মারতে আসবে না এই গ্যারান্টি দিতে হবে।
'- তুমি চিন্তা করো না, একবার আসুক আমার হাতের কাছে, মেরে মেরে ওকে জন্মের শিক্ষা দিয়ে দিবো যাতে আর তোমার কাছে যাওয়ার কথাও যেন না চিন্তা করে।
'- আচ্ছা আচ্ছা চলো এখন এখান থেকে ছেলেটাকে আরাম করতে দাও।
এর পর জিহানের বাবা মা বের হয়ে যায় আর তাদের পিছনে আরশির আব্বুও বের হয়ে যায়।
জিহানের বাবা '- দেখো সম্পূর্ণ ভুল আমার ছেলেরই ছিলো, তবে আমি কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতে আমার ছেলে তোমার মেয়েকে একদমি বিরক্ত করবে না। বাচ্চাদের ঝামেলার জন্য আমাদের ফ্যামিলি বিজনেস খারাপ করার কি দরকার!
আরশির আব্বু '- আচ্ছা বিজনেস খারাপ করবো না, যেভাবে চলছিলো সেভাবেই চলবে বিজনেস। (মনে মনে)- ভবিষ্যতে এর ছেলে যদি আমার মেয়েকে ডিসট্রাব করে তাহলে এর ছেলে কে আমি নিজ হাতে পিটাবো। যতোটা না ওই ছেলেকে পিটিয়েছে তার থেকেও বেশি আমি ওকে পিটাবো। হাহ্
'- আহ ধন্যবাদ। তাহলে কালকে মিট করে ওখানেই বিজনেস মিটিং কন্টিনিউ করবো। এখন আসি।
কথা শেষ করে জিহানের মা বাবা সেখান থেকে চলে যায়। তারপর সেখানে আরশি আসে, তার ফেস এক্সপ্রেশন সেড লাগছিলো তাই তার বাবা জিজ্ঞেস করে “কি হয়েছে? তোমাকে সেড মনে হচ্ছে!”
আরশি '- না কিছু না। ওই ছেলেটাকে আমার একদম পছন্দ না, আম্মু কি মনে যে করে ওই ফালতু ছেলেটাকে আমার খেয়াল রাখার দায়িত্ব দিয়েছিলো!
'- তোমার মা একটা পাগল, কখন কি করে বসে কি জন্য করে সেটা সে নিজেও জানে না। তুমি চিন্তা করো না আজকের পর ওই ছেলেটা তোমাকে আর বিরক্ত করবে না। আমি ওই ছেলেটাকে দেখে আসছি।
শুভ্র আধশুয়া হয়ে সিস্টেম এর ফাংশন দেখায় ব্যাস্ত ছিলো তখনি দরজা খুলে আরশির আব্বু প্রবেশ করে রুমে। আরশির আব্বু এসে পাশে রাখা চেয়ারে বসতে বসতে বলতে লাগে,,,
'- তা ইয়াং ম্যান, এখন তুমি কেমন আছো?
'- জী আঙ্কেল এখন ভালো আছি।
'- ডাক্তারের সাথে আমি কথা বলে নিয়েছি তুমি চাইলে কালকেই ডিসচার্জ নিতে পারো। তবে কয়েকদিন ব্রেড রেস্ট নিলে ভালো হয়।
'- ধন্যবাদ আঙ্কেল। তবে কালকেই আমাকে কলেজে ভর্তী কনফার্ম করতে হবে। তাই আমি কালকেই চলে যেতে চাই।
আরশির বাবা চলে যেতেই আরশিও বিদায় নিয়ে চলে গেলো। এর পর শুভ্র চশমা চোখে লাগিয়ে ওয়াশরুমে চলে আসে, সেখানে আয়নার সামনে দাড়িয়ে এক চোখে সিস্টেম উইন্ডোর দিকে তাকিয়ে আছে আর অন্য চোখে নিজেকে আয়নায় দেখছে।
'- ৪৮ হাজার পয়েন্ট হয়ে গেছে। এখন সময় পয়েন্ট খরচ করার।
তখনি শুভ্রর নজর যায় তার চোখের চশমার উপর, এই চশমার জন্য আগের জীবনে অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছিলো, এর জন্য তার অনেক গুলো নিক নেইমও দেওয়া হয়েছিলো।
'- এই লাইফে সবার আগে এই চশমা সরাতে হবে চোখ থেকে।
এটা চিন্তা করতেই সিস্টেমের নোটিফিকেশন বক্সে একটা মেসেজ চলে আসে, আর সেটা ওপেন করতেই লেখা চলে আসে
❝সিস্টেম এর সহজ ব্যাবহারের জন্য হোস্টকে সিস্টেমের থেকে একটা গাইডার দেওয়া হলো, হোস্ট চাইলেই গাইডার এর থেকে সিস্টেমের ফাংশন জানতে পারবে এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে পয়েন্ট ডিস্টিবিউশন করতে পারবে। গাইডার কে এক্টিভেট করার জন্য একটা নিকনেইম দিতে হবে ❞
'- সিস্টেম গাইডার! হুমম...নাম এক্সেল রাখলে সুবিদা হয়।
শুভ্র নিকনেইম দিতেই সিস্টেম উইন্ডোতে থেকে একটা ইমোজি বলতে লাগলো,,,
'- হ্যালো মাস্টার আমি এক্সেল আপনার সিস্টেম গাইডার। আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
শুভ্র '- আমাকে এমন কিছু দাও যার কারনে আমার চোখে চশমা যেন না পড়তে হয়।
'- সার্চ কমপ্লিট, সিস্টেম এর লেভেল কম হওয়ায় সবচেয়ে নিন্মমানের টেলেন্ট খুজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
আই ওফ অবজারভেশন নামক স্কিলটি আপনি কি সিস্টেমের মধ্যে রেজিস্ট্রার করতে চান! এর জন্য ১০০ পয়েন্ট দিতে হবে।
শুভ্র '- হ্যা রিজিস্টার করে দাও।
'- আই ওফ অবজারভেশন টেলেন্টটি সিস্টেমে রেজিস্ট্রার হয়ে গেছে। এখন আপনার বর্তমান স্টেটাস টা এইরকম....
×××স্ট্যাটাস ×××
নেইম:- শুভ্র আহমেদ
টাইটেলঃ (কিছুই নেয়)
সিস্টেম লেভেল:- 0.0
স্ট্রেন্থ : ৪ → এজিলিটি : ৪
স্ট্যােমানা : ৩ → মেন্টাল স্ট্রেন্থ : ৩
চার্ম : ১ → ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট :- ৪৭৯০০
সিস্টেম লেভেলআপ :- ১০০০ পয়েন্ট• (UP)
ট্যালেন্ট:- আই ওফ অবজারভেশন'L1(১০০০•UP).
××× ×××
শুভ্র '- এক্সেল! টেলেন্ট লেভেলআপ করো।
'- সরি মাস্টার, এই টেলেন্ট আপগ্রেড করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার মেন্টাল স্ট্রেন্থ বৃদ্ধি করে ৯ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে তাহলেই আপনি আই ওফ অবজারভেশনের লেভেল 2 তে যেতে পারবেন।
শুভ্র '- তাহলে আমার মেন্টাল স্ট্রেন্থ ১০ পর্যন্ত আবগ্রেট করো।
'- সরি মাস্টার, সিস্টেমের লেভেল কম থাকায় আপনার স্ট্যাট পয়েন্টে ১ সংখ্যা বাড়ানোর পর ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে, ১ঘন্টা পরেই আপনি আবার আপনার স্টেট পয়েন্টের সাথে ১ যোগ করতে পারবেন।
শুভ্র '- হোয়াট দ্যা ফা*ক সিস্টেম! আমাকে এখনো ৭ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে?
শুভ্রর মাথা রাগে ফেটে যাচ্ছে সিস্টেমের এমন নিয়ম শুনে। কিন্তু তবু এই সব কিছুই তার ধরা ছুয়ার বাইরে। তাই আপাতত বিছানায় শুইয়ে মুখের উপর বালিশ রেখে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে আর নিজের মন কে বুঝ দিচ্ছে যে "মাগনা জিনিস আর কতোই ভালা হইবো! যেত্তানি পাইতাছি অত্তানিতেই খুশি থাকোন লাগবো। বেশি লুভ করলে এত্তানিও নাও পাইতে পারি"
।৷৷
।।
To bee continued.....!
194
Views
1
Likes
1
Comments
0.0
Rating