একটা চিকোন রোগাটে শরীরের লোক চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, চুলগুলো লম্বা হয়ে চোখের উপরে পড়ে আছে এটা অবস্য কোনো স্টাইল নয়, সাভাবিক ভাবে চুল সময় মতো না কাটার ফলে এই অবস্থা হয়েছে। মুখে হালকা বড় বড় দাড়ি চোখের নিচে কালো দাগ যা চশমার ভিতর দিয়েও স্পষ্ট বুঝা যায় এমন খ্যাত লুক নিয়ে একটা কম্পানিতে জব ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বসে আছে এই গল্পের মেইন ক্যারেক্টার শুভ্র। তার বায়োডেটার ফাইল টা সামনে বসা দুইজন ইন্টারভিউ পরিচালক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিলো। দেখা শেষ হলে ফাইল টা বন্ধ করে একজন বলতে লাগে,,,
...সরি মিস্টার শুভ্র, আপনার যে পরিমান কোয়ালিফিকেশন আর যে পরিমান এক্সপেরিয়েন্স আছে ওই হিসেবে আমরা আপনাকে কোনো জব আপাতত দিতে পারছি না। কিন্তু... মিস্টার জিহান আপনাকে রিকমেন্ডেশন করেছেন তাই আমরা এখন জব টা দিতে না পারলেও আপনার সাথে কনটাক্টে থাকবো। পরবর্তীতে আপনার প্রয়োজন পড়লে আমরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। আমাদের কাজ শেষ হয়েছে এখন আপনি যেতে পারেন।
তখনি আরেক মহিলা পরিচালক বলে উঠলো,,,
...আমিও বের হচ্ছি যাওয়ার জন্য, আপনার জন্য কি টেক্সি ডেকে দিবো?
শুভ্র'- না আমি পায়ে হেটে চলে যেতে পারবো। আমার জন্য চিন্তা করার জন্য ধন্যবাদ। আসি,,।
এই বলে শুভ্র বের হয়ে গেলো। কিন্তু যাওয়ার সময় পিছন থেকে শুনতে পেলো সেই দুই পরিচালকের মধ্যকার কথা, যা শুনে মন টা আবারো বিষিয়ে উঠলো।
...আমাদের কোম্পানির সিইও স্যার আর এই লোকটা একই স্কুলে পড়তো। এর পর আমাদে স্যার ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে চলে গিয়েছিলো আর এই লোকটা একটা খারার ইউনিভার্সিটিতে। পরে লোকটার গার্লফ্রেন্ড লোকটাকে ধোঁকা দিয়ে তার সব টাকা পয়সা খরচ করিয়ে ছেরে চলে যায়। পুরাই বরবাদ লোকটা, সিইও স্যার বন্ধুত্বের খাতিরে লোকটাকে আমাদের কোম্পানিতে রিকমেন্ডেশন লেটার দিয়েছিলো। যদি আমি এর বন্ধু হতাম না তাহলে তো আমি এর মুখও দেখতাম না।
এইসব কথা শুভ্রও শুনে ফেলে,,,-এতোগুলো বছর যাবৎ স্ট্রাগল করে যাচ্ছি, আজ পর্যন্ত একটা জবও খুজে পেলাম না। মনে হয় না আমি কোনো জব খুজে পাবো। আমার জীবন পুরটাই নষ্ট। আমার জীবনে অনেক গুলো আফসোস আছে, এতো এতো আফসোস নিয়ে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আই উইশ আমার এই জীবনটা শেষ হয়ে যাক, আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার একটা সুযোগ আসুক আর কোনো আফসোস করার কারণ না থাকুক।
এতটুকু বলতেই শুভ্র সহো সেখানের আশেপাশে থাকা সব কিছু একবারেই থেমে যায়। শুধু শুভ্রই নিজেকে রঙিন দেখতে পারছে আর বাকি সবকিছু সাদাকালো হয়ে গেছে হঠাৎ শুভ্রর সামনে একটা সাদা আলোর গোলা প্রকট হয় এরপর সেখান থেকে একটা আওয়াজ ভেসে আসে।
...“ইকোয়াল ভেলু সিস্টেম” তার হোস্ট বেছে নিয়েছে। সিস্টেম তার হোস্টের সাথে ফিউস হওয়ার সাথে সাথেই হোস্টের মনের সব থেকে বড় একটি সুপ্ত বাসনা পূরণ করা হবে। এর জন্য হোস্টের থেকে কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেয়।
এতোটুকু আওয়াজ করার পর ওই সাদা গোলা টা শুভ্র ভিতরে ডুকে পড়ে এর পর শুভ্র তার চোখ বন্ধ করে নেতিয়ে পড়ে। পরের বার যখন চোখ খুলে তখন নিজেকে একটা চলন্ত ট্রেনের মধ্যে আবিষ্কার করে। সামনের সিটে বসা সুন্দরী মেয়েটাকে পরিচিত মুখ মনে হচ্ছে তার, মস্তিষ্কে একটু চাপ দিতেই মনে পড়ে গেলো এই সিচুয়েশনের কথা। শুভ্র সিট থেকে উঠে ট্রেনের ওয়াশরুমে চলে গেলো। সেখানে আয়নায় নিজের ফেইস দেখে তার চোখে অশ্রু চলে এলো, এটা খুশির অশ্রু।
শুভ্র '- আবার...আবার একটা সুযোগ পেয়েছি আমার আগের জীবনের সকল আফসোস এবার প্রশান্তিতে পরিনত করবো। আগের ভুল গুলো এইবার সংশোধন করবো। এই জীবনে লুজার নয় জিনিয়াস হয়ে উঠবো। হা হ হা ধন্যবাদ জানাই সেই সিস্টেম নামক জিনিস টাকে যে আমাকে সমস্ত আফসোস শুরু হওয়ার আগে পৌঁছে দিয়েছে।
শেষের লাইন টুকু বলতেই শুভ্রের সামনে সিস্টেম উইন্ডো প্রকট হয় সেখানে প্রথমে লেখা ভাসে এরপর একটা Ai ভয়েস সেটা পড়ে শোনায়।
❝ওয়েলকাম টু ইকোয়াল ভেলু সিস্টেম। সিস্টেম তার হোস্টের সাথে ১০০% ফিউস কমপ্লিট করেছে। এখন থেকে হোস্ট সিস্টেম বলে ডাক দিলেই হোস্টের সামনে সিস্টেম উইন্ডো দেখা দিবে যা হোস্ট ব্যাতিত অন্য কেউ দেখতে পারবে না। ❞
লেখা টা পড়া শেষ হতেই উইন্ডো আবার গায়েব হয়ে যায়। শুভ্রর মুখ থেকে আশর্চ ভঙ্গি সরে গিয়ে এবার একটা স্মাইল চলে আসে আর সেই সাথে "সিস্টেম" বলতেই তার সামনে কিছুটা এমন উইন্ডো দেখা দেয়...।
×××স্ট্যাটাস ×××
নেইম:- শুভ্র আহমেদ
টাইটেলঃ (কিছুই নেয়)
সিস্টেম লেভেল:- 0.0
স্ট্রেন্থ : ৪ → এজিলিটি : ৫
স্ট্যােমানা : ৪ → মেন্টাল স্ট্রেন্থ : ৩
চার্ম : ১ → ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট :- ০০
সিস্টেম লেভেলআপ :- ১০০০ পয়েন্ট• (UP)
ট্যালেন্ট:- কিছুই নেয়...
××× ×××
আরও বিস্তারিত জানুন...
শুভ্র হাওয়ার মধ্যে হাত নাড়িয়ে বিস্তারিত জানার জন্য চাপ দিতেই আবারো কিছু লেখা ভেসে উঠলো।
❝নাম শুভ্র আহমেদ, টাইটেল আপাতত কিছুই নেয় তবে ভবিষ্যতে কিছু কাজের মাধ্যমে টাইটেল পেতে পারেন। সিস্টেম এখন 0.0 লেভেলে আছে নেক্সট লেভেল 0.1 লেভেলে আপগ্রেট করার জন্য ১০০০ ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট লাগবে। স্ট্রেন্থ, এজিলিটি, স্টেমিনা ইত্যাদি এগুলো ১ পয়েন্ট করে বাড়ানোর জন্য প্রথমবার ১০০ ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট দিতে হবে কিন্তু পরবর্তীতে বাড়ানোর জন্য আগের পয়েন্টের থেকে দ্বীগুন পয়েন্ট দিতে হবে। ট্যালেন্ট আপগ্রেড করার শর্তও সেইম। কিন্তু আপাতত হোস্টের কাছে কোন টেলেন্ট নেয়। প্রথমত হোস্ট কে সিস্টেমের মধ্যে টেলেন্ট কে রেজিস্ট্রার করাতে হবে, রেজিস্ট্রার করানোর দুইটা উপায় আছে প্রথমত কোন কাজ করার চেষ্টা করলে সিস্টেম সেটা যদি কোন টেলেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে তাহলে পয়েন্ট দিয়ে সেটা সিস্টেমে রেজিস্ট্রার করাতে পারবে হোস্ট। অথবা হোস্ট চায়লে পয়েন্ট দিয়ে সিস্টেম থেকে নর্মাল টেলেন্ট কিনে সিস্টেমে রেজিস্ট্রার করাতে পারবে। ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট কামানোর উপায় হলো আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে অথবা অন্যকাউকে আপনার উপর টাকা খরচ করতে হবে। যতোটাকা খরচ করবেন তার অর্ধেক সংখ্যা আপনার ইকোয়াল ভেলু পয়েন্ট হিসেবে কাউন্ট হবে। যখন সিস্টেমের লেভেল 10.0 হয়ে যাবে তখন সিস্টেমের পুরনো সব ফাংশন আবগ্রেট হয়ে সুপারন্যাচরাল সিস্টেমে পরিনত হবে এবং সিস্টেম নিয়ে আরো কিছু রহস্য হোস্টের কাছে খোলাসা করা হবে। হোস্টের কাছেও সুপার ন্যাচরাল ট্যালেন্ট চলে আসবে। সিস্টেম এ শপ স্টোর খুলে দেওয়া হবে। তাই হোস্টের কাছে নিবেদন দ্রুত সিস্টেমকে 10.0 লেভেলে আপগ্রেড করার চেষ্টা করুন।❞
এইসব কিছু পড়ার পর শুভ্র সিস্টেমের ফাংশন গুলো বুঝতে পারলো। পয়েন্ট দিয়ে যদি ট্যালেন্ট কিনে সে গুলোর লেভেল বাড়াতে পারি তাহলে আমার জিনিয়াস এবং পারফেক্ট হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু সমস্যা হলো এতো টাকা কোথায় পাবো খরচ করার জন্য! আমি তো মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকক্ষণ যাবৎ ওয়াশরুমে এসেছে শুভ্র বাইরে থেকে বের হওয়ার জন্য লোকজন তাগাদা দিতেই শুভ্র বের হয়ে তার সিটে গিয়ে বসে। তার সামনের সিটে বসা মেয়েটা তারই ক্লাসমেট আর তার হাইস্কুল জীবনের একমাত্র ক্রাস আরশি। মেয়েটা একটা ম্যাগাজিন পড়ছিলো, আরশির দিকে ভালো করে তাকাতেই আগের জীবনে এই দিনে কি ঘটেছিলো সব মনে পড়ে যায়।
ফ্ল্যাসব্যাক....
শুভ্র '-হ্যালো মিস আমাকে চিন্তে পেরেছো?
আরশি '- ওমমম...হ্যা তোমাকে কয়েকবার ক্লাসে নোটিস করেছি, আমরা তো সেইম হাইস্কুলের সেইম ক্লাসেই পড়েছি আর এখন আমরা সেইম শহরের কলেজে যাচ্ছি তাইনা!
শুভ্র '- হ্যা কিন্তু সরি ম্যাম তুমি তো ভুল রাস্তায় চলে যাচ্ছো।
আরশি '- ভুল রাস্তা! আমি সঠিক ট্রেন ছেরে ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছি নাকি?
চোখের চশমা টা আঙুল দিয়ে নাকের ডগা থেকে আরেকটু উপরে উঠিয়ে স্মাইল করে...
শুভ্র '- না বরং তুমি আমার মনের রাস্তায় চলে এসেছো, ওহ মাই সুইটহার্ট বাবু জানু কলিজা আসো ভাগ্য আমাদের মিলিয়ে দিয়েছে এখন আমার বুকে এসে পড়ো।
এইবলে আরশির কাছে চলে আসে।
আরশি '- ইয়াক ছিঃ দূরে থাকো আমার থেকে। কেউ বাচাও একটা লুচ্চা বদমাইশ আমাকে ইভটিজিং করছে। প্লীজ জিহান সেইভ মি।
তখনি পিছন থেকে জিহান নামের ছেলেটা এসে শুভ্র কে অনেক মারে।
।।
তো এটা আগের জীবনে হয়েছিলো শুভ্রর সাথে। এখন বর্তমানে...
'- ছিঃ আগের জীবনে এমন এমন কাজ আমি করেছিলাম। আজও ওইগুলো মনে পড়লেই সরমে মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করে। কতো বড় গর্ধব ছিলাম আমি আগের জীবনে। তবে এই জীবনে আর এমন কিছু করবো না। আমি এখন কুমিল্লা থেকে ঢাকা যাচ্ছি সেখানেরই একটা ছোট সরকারী কলেজে আমার এডমিশন হয়েছে। এসএসসি তে রেজাল্ট অনেক খারাপ হওয়ায় ভালো কোনো কলেজে চান্স পাইনি এর পর কলেজেও ভালো রেজাল্ট না করার কারনে ভালো ইউনিভার্সিটিতেও চান্স পাইনি। এইবারো এসএসসির সময় টা চলে গেছে, সেটাতে তো কিছু করতে পারবো না তবে এখন থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবো। এর পর দেশের নাম্বার 1 ইউনিভার্সিটিতে চান্স হবেই। হঠাৎ এমন খিদে পাচ্ছে কেন!
শুভ্র তার ব্যাগ হাতড়ে একটা ভন রুটি বের করে খাওয়া শুরু করে তখনি সেখানে জিহান নামের ছেলেটা এসে আরশির পাশে বসতেই বলতে লাগে,,,
'- গরীব কোথাকার, রুটি খেয়েয় নিজের পেট ভর।
শুভ্র '(মনে মনে)- এটাই সেই জিহান চৌধুরী, যে আগের জীবনে আমাকে পিটিয়ে ছিলো। আরশির উপরে এরও ক্রাস আছে তাই আরশিকে ইমপ্রেস করার জন্য আগে পিছে ঘুরঘুর করে। তবে আমার এখনো মনে পড়ে আরশির বিয়ে একটা বড় পরিবারে হয়েছিলো। আরশির বিয়ের ইভেন্ট টা অনেক ঝাকজমক আর বিলাশবহুল ভাবে হয়েছিলো।
আগের আমি অনেক রাগী ছিলাম কথায় কথায় ঝগড়া লাগিয়ে দিতাম কিন্তু এখন এইসব ছোটখাটো কথায় আমার কিছু যায় আসে না। আমি আমার মতো করে খাচ্ছি।
জিহান নামের ছেলেটা আরশি কে ইমপ্রেস করার জন্য বলতে লাগলো,,,
'- শুনো না, বলছি কি তোমার কোনো আপত্তি না থাকলে তোমাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য কোনো ফাইস্টার হোটেলে চলোনা যাই।
আরশি '- না প্রয়োজন নেয় । আমার নরমাল ভন রুটিই খেতে পছন্দ। আমি ফাইস্টার হোটেলে যেতে ইচ্ছুক না।
'- আরে চলই না। আমি খাওয়াবো এতো টেনশন কেন নিচ্ছো!
আরশি '- আমার ইচ্ছা আমি যাবো না। আমার যা ইচ্ছা খাবো তোমার আমাকে কোনো কিছুতেই ভাদ্য করার অধিকার নেই।
শুভ্র তাদের ঝগড়া করতে দেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে, এটা জিহানের নজরে পড়তেই সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে।
জিহান '- ওই শালা তুই হাসছিস কেন! তর দাত ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবো, সর এখান থেকে।
শুভ্র '- সরি এটা আমার সিট আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না।
আরশি '- তুমার যা করার করো, আমি গেলাম ট্রেনের ফ্রুড স্ট্রল থেকে খাবার আনার জন্য। খবরদার একদম আমার পিছনে আসবে না।
এই বলে আরশি সেখান থেকে উঠে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর খালি হাতে এসে বলতে লাগলো,,,
'- ওহ সিট,,সব খাবার শেষ হয়ে গেছে আমি দেরি করে ফেলেছি।
এই শুনে শুভ্র তার ব্যাগ থেকে দুইটা এক্সট্রা বাটার ভন রুটির প্যাকেট আর কলা বের করে,,,
শুভ্র '- তুমি চাইলে এগুলো নিতে পারো, আমার কাছে এক্সট্রা ছিলো।
আরশি '- থেংক্স তবে আমি এমনি এমনি নিতে পারবো না, এর দাম বলো আমি দাম দিয়ে দিচ্ছি।
শুভ্র '- ৪৫ টাকা।
আরশি '- আমার কাছে ভাঙতি নেই, এই নাও ১০০ টাকা রাখো।
শুভ্র '- কোনো ব্যাপার না এটাও চলবে। এর বদলে একটা কমলা নিয়ে নাও।
আরশি '- থ্যাঙ্ক ইউ। (স্মাইল দিয়ে)
শুভ্র '- (মনে মনে) ওহ গড, স্মাইল করলে একে আরো বেশি সুন্দর লাগে।
তাদের এইসব কথা শুনে জিহান নামের ছেলেটা প্রচুর রেগে যায়,,,
জিহান '- ফা*ক ওফ। আমি তোমাকে ফাইস্টার হোটেলে খাবার খাওয়াতে চেয়েছিলাম আর তুমি সেটা না করে এই খ্যাত মার্কা ছেলের থেকে কলা রুটি নিয়ে খাচ্ছো! তুমি আমার ফিলিংক্স এর দামই দিচ্ছ না কেন! আমার কাছে এতো টাকা আছে যে তোমার জন্য সম্পূর্ণ ফাইস্টার হোটেলই কিনে নিতে পারবো।
আরশি '- আরে আজব, তুমি চিল্লাচ্ছো কেন?
জিহান '- চিল্লাবো না তো কি করবো? তুমি আমার সাথে ঠিক করছো না।
আরশি '- দূরে গিয়ে মরো, তুমার সাথে কথা বলারই ইচ্ছে করছে না আমার। আমি গেলাম এখান থেকে, একদম আমার পিছু নিবে না।
এই বলে আরশি সেখান থেকে চলে গেলো। জিহানের নজর যায় শুভ্রর দিকে, আরশির উপরের সব রাগ শুভ্রর উপর এসে পড়ে।
জিহান '- শালা কু*ত্তার বাচ্চা, সব তর জন্য হয়েছে, সব দোষ তর।
এই বলে জিহান শুভ্রর কলার ধরে টান দিয়ে নিচে ফেলে কয়েকটা লাথি মারে শুভ্রকে। পেটে লাথি লাগায় মুখ দিয়ে রক্ত এসে পড়েছে।
জিহান '- শালা আবার আমার চোখের সামনে পড়লে আরো মারবো তকে।
শুভ্র '- (মনে মনে) আরে বাপরে,,কি দূর্বল আমার শরীর, আমি চাইলেও ফাইট ব্যাক করতে পারবো না... কিন্তু আমার ফাইট ব্যাক করার দরকারও পড়বে না। আমার মাথায় দাড়ুন একটা আইডিয়া আসছে। এই জিহান এর দ্বারাই অনেকগুলো টাকা ইনকাম করবো আর ওই টাকা খরচ করে অনেকগুলো পয়েন্ট বৃদ্ধি করবো।
হাহ হা হা হা
কিছু সময় পর,,,
শুভ্র কে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার হালকা একটু স্বজ্ঞানে আছে শুধু, সেই অবস্থায় দেখছে আরশি কিভাবে তার জন্য ব্যাস্ত হচ্ছে। আসলে কিছুক্ষণ আগে শুভ্র ইচ্ছা করে জিহান কে উল্টা পাল্টা কথা বলে ইচ্ছে করেই রাগিয়ে দিয়েছে আর এর ফলে জিহান শুভ্র কে প্রচুর মেরেছে মারতে মারতে ২ টা দাতও ভেঙে দিয়েছে শুভ্রর, পরে আরশি এসে মারা থেকে আটকায়। তখনি আশে পাশের লোকের কথা শুনে বুঝতে পারে এইসব কিছু তার জন্যই হয়েছে। তার উপরের সকল রাগ জিহান এই ছেলেটার উপর শোধ তুলেছে তাই আরশি পুলিশ কে কল করে এম্বুল্যান্স আসতে বলে আর সেই সাথে তার বাবাকেও এই বিষয়ে ফোন করে সব জানিয়ে দেয়। তার বাবাই সব সামলে নেয়, পুলিশ দিয়ে জিহান কে গ্রেফতার করিয়ে শুভ্র কে একটা প্রায়বেট হসপিটালের ভিআইপি ক্যাভিনে চিকিৎসা করায়।
।।।
।।
To Bee Continue.....!
রিটার্ন ইন পাস্ট
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
337
Views
4
Likes
2
Comments
4.8
Rating