আব্দুল কালাম ভারতের অন্যতম প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৩১ সালে তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম হলো অবুল পাকির জয়নুলাবদিন আব্দুল কালাম।
ছোটবেলায় আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা কালাম তাঁর জীবন শুরু করেন একটি সাধারণ পরিবারে। তাঁর বাবা জয়নুলাবদিন একজন নৌকার মালিক ছিলেন, আর মা আশিয়াম্মা ছিলেন একজন গৃহিণী।
শিক্ষাগত জীবন
আব্দুল কালাম তাঁর স্কুল শিক্ষা শেষ করেন রামেশ্বরম এলিমেন্টারি স্কুল থেকে। এরপর তিনি সেন্ট জোসেফস কলেজ, তিরুচিরাপল্লি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর, আব্দুল কালাম ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-তে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। এখানেই তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয়।
আইএসআরও ও ডিআরডিও-তে কাজ
কালাম পরে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)-তে যোগদান করেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে SLV-III এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ গবেষণায় একটি মাইলফলক।
কালাম ডিআরডিও-তে ফিরে আসেন এবং ভারতের মিসাইল উন্নয়ন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর অধীনে 'অগ্নি' ও 'পৃথ্বী' মিসাইলের সফল পরীক্ষা হয়, যা তাঁকে 'মিসাইল ম্যান' উপাধি এনে দেয়।
২০০২ সালে, আব্দুল কালাম ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি একজন সাদামাঠা জীবনযাপনকারী মানুষ ছিলেন এবং তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘটনাটি সারা দেশে এক বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন, কালাম শিক্ষা এবং তরুণদের প্রেরণা দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি ভারতকে ২০২০ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
কালাম তাঁর জীবদ্দশায় বহু বই লিখেছেন, যার মধ্যে 'উইংস অফ ফায়ার' এবং 'ইন্ডিয়া ২০২০' উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা বইগুলি তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা দেয় এবং স্বপ্ন দেখার উৎসাহ প্রদান করে।
তরুণদের উদ্দেশ্যে কালামের বার্তা ছিল, "স্বপ্ন দেখো এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করো।"
কালাম তাঁর জীবদ্দশায় বহু সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে 'পদ্মভূষণ', 'পদ্মবিভূষণ', এবং 'ভারতরত্ন' উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক মহলেও তাঁর অবদান এবং অর্জনগুলো প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননাও লাভ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমাদের হৃদয়ে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন একজন মহান নেতা, যিনি সবসময় জাতির উন্নতি ও প্রগতি নিয়ে চিন্তা করতেন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কথা ছিল মানুষের মঙ্গল ও ভবিষ্যতের জন্য।
তিনি সবসময় তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের মনে একটি গভীর বেদনা রেখে গেছে, কিন্তু তাঁর কাজ ও আদর্শ আমাদের সর্বদা প্রেরণা দেবে।
আমাদের উচিত তাঁর শিক্ষাগুলি স্মরণ রাখা এবং তা অনুসরণ করা, যাতে আমরা তাঁর স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলতে পারি। তাঁর আত্মা চির শান্তিতে থাকুক।

কোন মন্তব্য নেই