সাইকোলজি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমাদের গ্রামের নায়ক আরিফ ‌ । নামাজ গ্রামের ছেলে, যার বয়স মাত্র ১৭ বছর। সে ছিল খুবই কৌতূহলী এবং সবসময় নতুন কিছু শেখার আগ্রহে মগ্ন। তার পড়াশোনায় মনোযোগ ছিল বেশিরভাগ সময়ই, কিন্তু তার একটি বিশেষ আগ্রহ ছিল মানুষের মন ও তার কার্যকলাপ বোঝার প্রতি। সে সবসময় ভাবত, মানুষ কেন এবং কিভাবে চিন্তা করে, অনুভব করে এবং আচরণ করে।

একদিন আরিফের এক বন্ধু, হাসান, একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার পর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। হাসান হয়ে ওঠে উদ্বিগ্ন, ভীত এবং বন্ধুভাবাপন্ন হতে অস্বাভাবিক। এই পরিবর্তন আরিফের মনে প্রচণ্ড কৌতূহল সৃষ্টি করল। সে ঠিক করল, সে সাইকোলজির মাধ্যমে এই রহস্যের সমাধান করবে।

আরিফ তার স্কুলের লাইব্রেরিতে সাইকোলজির বই খুঁজতে শুরু করল। সেখান থেকে সে প্রথমবারের মতো সিগমুন্ড ফ্রয়েডের লেখা পড়ল এবং জানতে পারল অবচেতন মনের গুরুত্ব সম্পর্কে। ফ্রয়েডের তত্ত্বের মাধ্যমে আরিফ বুঝতে পারল, মানুষের অনেক আচরণের পেছনে অবচেতন মন কাজ করে।

১. **বায়োলজিক্যাল সাইকোলজি:** আরিফ জানল, মানুষের আচরণে বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টরগুলো যেমন মস্তিষ্ক, নার্ভাস সিস্টেম, হরমোন এবং জিন প্রভাব ফেলে। সে বুঝতে পারল, হাসানের দুর্ঘটনার পর তার মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন হয়েছে, যা তার আচরণকে প্রভাবিত করছে।
২. **কগনিটিভ সাইকোলজি:** এটি মানুষের চিন্তা, স্মৃতি, বিচারবোধ এবং সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে। আরিফ শিখল, মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়া কিভাবে তার আচরণকে প্রভাবিত করে।
৩. **বিহেভিয়রাল সাইকোলজি:** এই শাখা মানুষের দৃশ্যমান আচরণ নিয়ে কাজ করে এবং শেখানো আচরণ ও পরিবেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। আরিফ দেখল, হাসানের পরিবেশ এবং ঘটনার প্রভাব তার বর্তমান আচরণের জন্য দায়ী হতে পারে।
৪. **হিউম্যানিস্টিক সাইকোলজি:** এই শাখা মানুষের স্বকীয়তা, সম্ভাবনা এবং আত্মসিদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। আরিফ বুঝল, হাসানের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা সমাধানে তার আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আরিফ তার বন্ধুদের এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে এবং তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে সাইকোলজির তত্ত্বগুলো পরীক্ষা করতে লাগল। সে শিখল কিভাবে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন প্রভাবকের অধীনে গঠিত হয় এবং পরিবর্তিত হয়।

একদিন, আরিফ তার এলাকার একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিল। তিনি আরিফকে আরও গভীরভাবে সাইকোলজির বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানালেন। বিশেষজ্ঞ তাকে ব্যাখ্যা করলেন কিভাবে থেরাপি এবং কাউন্সেলিং মানুষের মানসিক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে।

আরিফ জানল, থেরাপি বা কাউন্সেলিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে:
১. **কগনিটিভ বিহেভিয়রাল থেরাপি (CBT):** এটি মানুষের নেতিবাচক চিন্তাধারা ও আচরণ পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা হয়।
২. **সাইকোডায়নামিক থেরাপি:** এটি মানুষের অবচেতন মনের দ্বন্দ্ব ও সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্যবহৃত হয়।
৩. **হিউম্যানিস্টিক থেরাপি:** এটি মানুষের ব্যক্তিগত বিকাশ ও আত্মসিদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়।

আরিফ তার শেখা তথ্যের ভিত্তিতে হাসানের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করল। সে হাসানকে তার চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার উৎসাহ দিল। ধীরে ধীরে হাসান তার ভয় ও উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেতে শুরু করল।

আরিফ তার গ্রামে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি কর্মশালা আয়োজন করল। সে সবার কাছে সাইকোলজির গুরুত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করল। তার এই উদ্যোগ গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলল এবং সবাই তাকে সমর্থন করল।

432 Views
10 Likes
2 Comments
4.4 Rating
Rate this: