ভালোবাসি বাবা তোমায়

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
খাবার টেবিলে বসে মা কে চোখে ইশারা দিচ্ছি। আর আম্মু ভয়ে বৃথ শুরে আব্বুকে বলতাছে, ওগো শুনছো তোমার ছেলের দশহাজার টাকা লাগবে ।
বাবা প্রশ্ন করলো কেনো ও টাকা দিয়ে কি করবে? তখন আম্মু বললো, বন্ধুরা সবাই কক্সবাজার ঘুরতে যাবে, তিন দিনের জন্য ঘুরতে যাবে এজন্য দশ হাজার টাকা লাগবে। বাবা কোনো উত্তর না দিয়ে বললো, আমি তো ব্যবসার জন্য বাইরে যাবো, দুই দিন তোমার ছেলেকে বলো। আমার ব্যবসা টাকে একটু দেখাশোনা করতে আমি শেখান থেকে এসেই তাকে দশ হাজার টাকা দিবো। ছেলেটা এ কথা শুনে খুশি হয়ে গেলো , মনে মনে ভাবলো আব্বু এতো তাড়াতাড়ি কি রাজি হয়ে গেলো! খাওয়া দাওয়া শেষ করে টেবিল থেকে উঠে পরের সকালে দোকানে গেলো। বাবার ছোট একটা ব্যবসার দোকান ছিলো তখন দেখাশোনা করতেছি , হঠাৎ একটা কাষ্টমার আসলো অনেক গুলো জামা কাপড় দেখলো। দেখে কোনো টাই যেনো তার পছন্দ হচ্ছে না। তারপর একটা পছন্দ হলো বললো এটার দাম কত? দোকানে একজন কর্মচারী ছিল সে বললো! সাহেব , এটা তিন হাজার টাকা। তখন কাষ্টমার বললো পাঁচশত টাকায় দিবেন? তখন আমি অবাক হয়ে গেলাম তিন হাজার টাকার একটা প্রডাক্ট মাত্র পাঁচশত টাকা! আমি কিছু বললাম না। তারপর সে চলে গেল। পরে আরো একটা কাষ্টমার আসলো , দুজন মনে হচ্ছে গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড হবে। অনেক জামা কাপড় দেখে , হঠাৎ করে মেয়েটি বলতাছে এ কেমন দোকানে এনেছো ? ভালো কোনো জামা কাপড় নেই ! আরো দামি কোথায় যাইতে হবে । আমি নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম বলে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আরেক জন কাষ্টমার আসলো এসে বললো! অনেক গুলো জামা দেখার পর বললো। আচ্ছা এটার প্রাইস কত?
বললো পঁচিশ্ব । তখন সে বললো এগুলো তো সাত,আটশত টাকা হলেই পাওয়া যায়। তখন আমি নিজে আর আটকে রাখতে পারলাম না বললাম আপনি সেখান থেকেই নেন। তখন কর্মচারী বললো সাহেব কাষ্টমার রা বলবেই, তাদের সাথে আমাদের এমন ব্যবহার সাজে না। আমি অনেক টা রাগান্বিত হয়ে বললাম তুমি চুপ করো! হঠাৎ খেতে বসেছি আরেকটা কাষ্টমার আসলো তাড়াহুড়ো করে খেয়ে হাত দুয়ে সামনে চলে আসলাম , দোকানে আমি সব কাপড় একটা একটা করে দেখাচ্ছি , এটাতে ভুল ধরছে ওটাতে ভুল ধরছে আরো কত কিছু। শেষমেষ একটা কাপড় নিলো পাঁচশত টাকা দামের , ভাবতে থাকলাম তাহলে আমার আব্বু এতটাই পরিশ্রম করে! আর এতো কষ্ট করে উপার্জন করে! তখন নিস্তব্ধ হয়ে বাসায় ফিরে গেলাম , মুখ কালো দেখে মা জিজ্ঞেস করলো কিরে বাবা কি হয়েছে তোর? অনেক পরিশ্রম হয়েছে তাই না! আমি বললাম না, মা ঠিক আছে। দুই দিন পরে ফিরে আসলো, সকালে ঘুম থেকে উঠে মা আমার হাতে দশ হাজার টাকা ধরিয়ে দিলো, আমি টাকা টা দেখে ভাবতেছি আর আম্মু কে বললাম । বাবা কোথায়? তখন আম্মু বললো, ওপাশে রুমে বসে আছে। আমি টাকা টা নিয়ে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম , বাবা আমি বুঝতে পারিনি দশ টা হাজার টাকা, তোমার কতটা পরিশ্রম করে উপার্জনের টাকা! আমি কক্সবাজার যেতে চাই না বাবা, আমি আজ তোমার ব্যবসার সব দেখা শুনা করতে চাই। আমাদের দোকানে যে কর্মচারী টা আছে তাকে নিয়েই আমি ব্যবসা শুরু করবো। বুঝিয়ে দিয়েছো বাবা তুমি কতটা পরিশ্রম করে উপার্জন করো অর্থ আর সে অর্থ আমরা কত সহজেই নষ্ট করে ফেলি । যেদিন থেকে বুজতে পেরেছি বাবার উপার্জন করা অর্থ কতটা কষ্টের হয়, সেদিন থেকে শখের জিনিস গুলো কিনতেও ভুলে গিয়েছি। একটা সময় বাবার টাকায় হেলিকপ্টার কিনতে মন চাইতো , নিজে পরিশ্রম করার পর বুঝা যায় ওই টাকা টা কতটা পরিশ্রমের পরে আসে! আর আমরা বুঝে না বুঝে পরিস্থিতি না বুঝে , বাবা-মায়ের কাছে কত কিছু আবদার করে বসি, কত কিছু চেয়ে বসি । কতয় না কষ্ট দেই,কতয় না কষ্ট দিয়ে ফেলি তাদের মনে। ক্ষমা করে দিও বাবা। ভালোবাসি বাবা, ভালোবাসি তোমায় বাবা।
242 Views
9 Likes
2 Comments
4.3 Rating
Rate this: