পবিত্র ভালোবাসা

কখনো কী দেখেছেন কোনো এক সুস্থ মহিলা আপনার চোখের সামনে ধীরে ধীরে পাগলের মতো হয়ে যাচ্ছে? অদ্ভুত আচরণ করছে?

হ্যাঁ, আমি দেখেছি, এক সুস্থ এবং স্বাভাবিক মহিলাকে হঠাৎ পরিবর্তন হতে দেখেছি।

যার কথা বলছি --
{জানিয়ে রাখি, মহিলার দুই ছেলে।}

মহিলাটি প্রতিদিন ছাদের কর্ণারে গিয়ে গান করে, শুধু গান নই, কখনো গজল, কখনো মাহফিল, কখনো বা বক্তৃতা সবই বলে।
কিছু মুখস্ত করে বলে আবার কিছু ঠাঁই এক জায়গায় দাড়িয়ে নিজের মতো করে বানিয়ে বলে। আর তার গানের গলা ও অসাধারণ। খানিকটা মমতাজ বেগমের মতো। তবে, আমাদের ধারণা মমতাজ বেগমের চাইতে তার গানের গলা আরো সুমধুর।

লোকে তাকে পাগল হয়ে গিয়েছে ভেবে খুব একটা কথা বলে না ঠিকই কিন্তু বিকেল হয়ে এলে সবাই ছাদে উঠে তার গান শুনতে। আমরা ও উঠি। কারণ, সবার বাড়ির ছাদগুলো ফাঁকা হলে ও প্রায় কাছাকাছি।
মহিলাটির বাড়ির পিছনে একটি বাগান আছে। মহিলা রোজ সেই বাগানে গিয়ে কাকে যেনো নানা কথা বলে, আমরা ও কৌতুহলী হয়ে গিয়ে দেখতাম কার সাথে এভাবে চিল্লিয়ে কথা বলে। দেখতাম কেউ নেই। কিন্তু তার ভাবটি এমন যেনো কেউ একজন তার পাশেই আছে, আর তার সাথে খুব সিরিয়াসলি ভংগিতে কথোপকথন চলছে।
প্রায় তাকে বলতে শোনা যায়, "তোমাকে চিঠি পাঠিয়েছি, সময় করে উত্তর দিও, উত্তর না পেলে খুব রাগ করবো।"

মূলত এইসমস্ত পাগলামি গুলো করে শুধুমাত্র তার স্বামীর জন্যে।

মহিলার স্বামী ছিলো রুক্ষ মেজাজের একজন মানুষ। তিনি পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর।
যা কাজ পেতেন তাই করতেন।

একদিন একটি দালানের কাজ করতে গিয়ে উনার পায়ে কয়েকটি ইট একসাথে পড়ে প্রায় পঙ্গুর মতো হয়ে গেলেন।
সাথে সাথে চিকিৎসা ও পেলো। কিন্তু অতো চিকিৎসার মাঝে ও উনার পায়ে পচন ধরে গেলো। উনার হাঁটাচলা ও বন্ধ হয়ে গেলো।

তখন থেকেই উনি সারাদিন হুইল চেয়ারেই বসে থাকতেন। উনার পায়ে পচন ধরার কারণে বিদঘুটে গন্ধ বের হতো। তাই উনার আশেপাশে মানুষ-জন খুব একটা যেতো না।

কিন্তু মহিলাটি তার স্বামীর সেবা যত্নের কোনো অবহেলা করেনি। সারাদিন-রাত তিনি অবিশ্রান্ত ভাবে স্বামীর সেবা করে গিয়েছিলো।
তারপরে ও তার স্বামীর অবস্থা দিনদিন বেগতিক হচ্ছিলো।

এভাবে কয়েক মাস যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন উনি মারা গেলেন।

মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর তার একছেলে বিদেশ পাড়ি জমায়।
বিদেশে যাওয়ার পর ভালোই টাকা কামায় তার ছেলে। তাই তিন বছরের মাথায় পাকা বাড়ি ও উঠে যায়।

অন্যদিকে ধীরে ধীরে মহিলাটির মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সারাদিন তিনি বকবক করেন, নিজে নিজেই কথা বলেন। এক পর্যায়ে মানসিক ভাবে সত্যিই পাগল হয়ে গেলো।
বর্তমানে মহিলাটি সারাদিন আনমনে গান, গজল ইত্যাদি করেন। লোকে পাগল ভেবে তার সাথে কথা বলা ও বন্ধ করে দিয়েছে।

আসলে মহিলাটি তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই এমন অদ্ভুত আচরণ শুরু করেন।

স্বামীকে কতোটা ভালোবাসলে একটি মহিলা এমন হয়ে যেতে পারে তা আমার জানা নেই।

"আজীবন বেঁচে থাকুক এমন পবিত্র ভালোবাসাগুলো।"

(বিঃদ্রঃ আশ্চর্য ব্যাপার হলো পাড়ার কোথাও মাহফিল হলে সেই দিন তিনি পুরো - দিন ধরে তা শুনে আর তার পরদিনই মাহফিলে হুজুরদের বলা ঐ সমস্ত কথা নিমিষেই বলে দিতে পারেন)
182 Views
5 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(2)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
Tamanna Chowdhury
26-Oct-2024, 10:47 PM

very nice.

Reader photo
Chowdhury Tamanna
10-Sep-2024, 07:40 PM

very nice.