সেই আমি।

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ত্যাদর ছাত্র
Writer: মেহেরাব মাশুক

ভার্সিটি লাইফের গল্প। টিউশনি করে চলি। ধনী ফ্যামিলির ক্লাশ সেভেনের ত্যাদর এক ছাত্র পড়াই। পড়ালেখায় মন নেই। সারাক্ষন আংসাং প্যাঁচাল। পড়ার শুরুতে ওকে একটা গল্প বলতে হবে। গল্প যদি ভাল লাগে তাহলে সে পড়বে। আর না হয় পড়বে না। প্রতিদিন গল্প বলতে বলতে আমার গল্পের ভান্ডার শেষ। ত্যক্ত-বিরক্ত আমি।

একদিন বললাম, আগে এই দুটো অংক করে দেখাও তারপর গল্প বলব।

ছাত্র বলল, স্যার এগুলো সহজ অংক পারি, আপনি আগে গল্প বলেন।

মুখে পারি বললে হবে না, আগে করে দেখাও।

এমন সময় ওদের অল্প বয়সি কাজের মেয়েটা দুই পিরিচে ছাত্র আর আমার জন্য দুটো করে চারটি মিস্টি দিয়ে গেল।

ছাত্র মিস্টির দিকে একবার তাকিয়ে বলল, ঠিক আছে তাইলে বাজি হয়ে যাক।

কি বাজি?

যদি অংক দুটি পারি তাহলে আমি নিজের মিস্টিও খাব, আপনার মিস্টিও খেয়ে ফেলব।

বললাম, আর যদি না পারো?

না পারলে আমার মিস্টিও আপনি খেয়ে ফেলবেন।

আমি বললাম, ঠিক আছে যাও বাজি।

আধা ঘন্টা হয়ে গেছে। অংক দুটি করতে গিয়ে ওর গলদঘর্ম অবস্থা।

অবস্থা বুঝে এতক্ষনে আমি মিস্টি খেতে শুরু করেছি।

ছাত্র বলল, আগেই মিস্টি খাচ্ছেন কেন? বাজিতে যদি হেরে যান?

ও আচ্ছা তাইতো! ভুলেই গিয়েছিলাম!

আধ ঘন্টা বাদে ছাত্র বলল, নেন স্যার করেছি-

খাতা দেখে বললাম, একটা অংকও তো হয়নি। সারাক্ষন খালি বক বক করো। ফাজিল কোথাকার!

ছাত্র রেগে উঠে বলল, বকাবকি করছেন কেন?

কি করব?

আপনার সাথে বাজি ছিল অংক না পারলে আপনি আমার মিস্টি খেয়ে ফেলবেন।
ওর মিস্টি এগিয়ে দিয়ে বলল, নেন খান-

সত্যি খাব?

হ্যাঁ, খান।

সত্যিই খাব?

হ্যাঁ, সত্যিই খাবেন।

ছাত্রের পীড়াপীড়িতে নিজের মিস্টির সাথে ওর একটা মিস্টিও খেয়ে ফেললাম।

ছাত্র অবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল। তারপর হটাৎ কান্না জুড়ে দিল।

আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।

ওর মা পাশের ঘর থেকে দৌড়ে আসলো।

কি হয়েছে বাবা?

দেখো না স্যার আমার একটা মিস্টি খেয়ে ফেলেছে।

লজ্জায় আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। আমতা আমতা করতে লাগলাম। ও যে এমন কিছু করবে ভাবতেই পারিনি।

ছাত্রের মা বলল, ছিঃ বাবা এমন করতে নেই। স্যারের বোধহয় খুব ক্ষিধে পেয়েছিল তাই খেয়েছে। পড়া শেষ কর, তোকে আরেকটা দিব।

লজ্জায় আমার মরি মরি অবস্থা।

হটাৎ ছাত্রের বড় বোনের আবির্ভাব।
বলল, পর্দার আড়াল থেকে আমি সব শুনেছি। তুই স্যারের সাথে বাজি লেগেছিস। বাজিতে হেরে জোর করে মিস্টি খাইয়েছিস। এখন আবার নিজেই কাঁদছিস। তোরে থাপড়ান দরকার।

আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। ছাত্রের বড় বোন যে পর্দার আড়াল থেকে আমাকে খেয়াল করতো এই প্রথম সেটা বুঝলাম। মনে মনে তাকে লক্ষ, কোটি ধন্যবাদ জানালাম। বাকিটা কেবলই ইতিহাস।


355 Views
7 Likes
1 Comments
4.8 Rating
Rate this: