হারানো জনকে খোঁজা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সকাল হতেই সবাই মুক্তবে পড়তে গিয়েছে কিন্তু একজন যেন অনুপস্থিত সামিউল এই ছেলেটা প্রায় সময় মক্তবে পড়তে আসে না ।
সামিউলরা জমিদার। তার বাবার বিশাল জমি বাড়ি ধানের গোলা এক রাজকীয় কারবার। কিন্তু সামিউল ছেলেটা হয়েছে একদম ফাঁকিবাজ পড়াই নেই মন । সারাদিন এই গ্রামে গ্রামে ছোটে বেড়ানো অন্যর গাছের ফল তেরে পালানো এই হল তার কাজ সকালে পড়তে যায় না বাড়ি থেকে ঠিক সকালবেলা পড়ার নাম করে বাহির হয় কিন্তু মুক্তবে তার নাম গন্ধ নেই ঠিক আজও তার কোন খোঁজ নেই মুক্তবে সে অনুপস্থিত ।
মুক্তবের মৌলভী আজ খুব করে রেখে গেছে দুজন ছেলেকে পাঠালো সামিউলের বাড়িতে ।
সামিউল এর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারলো সামিউল পড়ার নাম করে সকালবেলা বাড়ি থেকে বাহির হয়ে গিয়েছে। যখন ছেলে দুইজন সামিউলের বাড়িতে গেছে তখন পুরো বাড়ি হয়ে গেছে সামিউল মুক্ত বে যায়নি তাহলে ও প্রতিদিন এরকম করে পড়ার নাম করে বাইর হয় কিন্তু পড়তে যায় না। সামিউল এর বাবা খুবই রাগী মানুষ তিনি জানতে পেরে তো পুরো বাড়িতে তুলকালাম করে দিয়েছে আজ ও বাড়িতে আসলে খবর আছে পুরো বাড়িতে উদ্যম গরম হয়ে উঠলো ।

সামিউল তো ওই দিকপুরো এলাকা ঘুরে রাজা হয়ে বাড়ি ফিরল বাস শুরু হলো মাইর । অনেক মারলো তার বাবা আবার সামিউল রাগ করে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে গেল । তার বাড়ির পাশে বাড়ি ছিল ফাইজাদের ও সকালে মুক্তবে পড়তে গিয়েছে ও মৌলভীর কাহিনী সবটাই জানে সেও জানে ,যে আজ সামিউল এর উপর দিয়ে ঝড় যাবে সামিউল বাহির হয়ে ফাইজাদের বাড়িতে গেল । ফাইজারা খুবই গরিব দিন আনতে দিন খায় দিনমজুর তার বাবা বলতে গেলে ফাইজারার সাথে সামিউল এর একটা ভালো বন্ধুত্ব মুক্তবে পরে একসাথে বাড়ি তাই আর কি ।

বাড়ির কাছে গিয়ে ডাক দিতে ফাইজা এসে হাজির । কিরে সামিউল আজকে মুক্তবে পড়তে গেলি না কেন তোদের বাড়িতে তো আজকে মৌলভী হুজুর পোলাপান পাঠাইছিল । সামিউল বুঝতে পারল যে তার মাইর খাওয়ার কারণ হচ্ছে মৌলভী পোলাপাইন পাঠানো। তাই সে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাইলো সে ফাইজারেও বুঝাতে শুরু করল যে তুইও পড়তে যাইস না । এগুলো পরে কি হবে এই সেই বিভিন্ন কথা বলে ফাইজা বললো মারে বুঝাবো কেমনে এটার বুদ্ধি ও সামিউল মাথায় রেখেছিল । সে বলল তুই বাড়িতে বলবি মৌলবি তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে তোর দিকে খারাপ নজর দিছে । যেই কথা সেই কাজ পরদিন সকালবেলা ফাইজা পড়তে যাবে না মা জিজ্ঞেস করতে বলল মৌলভী আমাকে খারাপ কথা বলে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। বিভিন্ন কথা বলায় ফাইজার মা রেখে গিয়ে মক্তবে মৌলভীর কাছে গিয়ে বলল মৌলভী সাহেব আপনারে বালা ভাবছিলাম আপনি দেখি আমার ছোট মাইয়াডার উপর নজর দিছেন আপনার নামে রহমত সাহেবের কাছে গিয়ে বিচার দিব পোলাপাইন পড়ানোর নামে মাইয়াগো দিকে কুনজর দেন মৌলভী সাহেব কি বলবে বুঝতে পারছি না ।
সে ফাইজাকে ডাক দিয়ে বলল মা ফাইজা তোমার মা এগুলো কি বলছে। ফাইজা বলে উঠলো আপনি তো এরকমই কালকে সামিউল রে ও মাইর খাওয়াইছেন আমাদের অনেক মারেন ফাইজার মা সোজা চললো রহমত সাহেবের বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে বিচার দিলো। রহমত সাহেব তো রেগে মেগে উদ্যাম মৌলবির নামে বিচার হাকলেন বটতলায়।
বটতলায় সালিশ হলো মৌলভীর দশেক টাকা জরিমানা করা হলো সাথে মুক্তব থেকেও বহিষ্কার করা হলো কিন্তু মৌলভী মনের দুঃখে সামিউল আর ফাইজারে মনে মনে তো অভিশাপ দিয়ে গেল সেখান থেকেই তাদের জীবন নেমে আসলো কালো মেঘ ।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে তারা ভালই ছিল দুজন মিলে প্রতিদিন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতো এই পুকুর ওই পুকুরের মাছ ধরত মানুষের গাছে আম চুরি করত এভাবে করে তাদের দিন কাটতেছিল। কিন্তু এভাবে আর কয়দিন দিন যাওয়ার সাথে সাথে তাদের বাধা ঘনিয়ে আসলো ।

রহমত সাহেব চিন্তা করলেন তিনি গ্রামের মোড়ল তার ছেলে যদি হয় বখাটে তাহলে কিভাবে হবে তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সামিউলকে লেখা পড়ার জন্য তার ছোট ভাই করিমের কাছে কলকাতায় পাঠাবেন। সেখানে হয়তো চেনা পরিচয় না থাকার কারণে চাচার চাপে পড়ালেখা করবে এদিক সামিউল তো যেতে নারাজ তার হাত পা বেঁধে রেখে দিল দুই দিন যাতে সে বাড়ি থেকে বের হতে না পারে ।
দুইদিন পর তার চাচা এসে তাকে নিয়ে গেল কলকাতা । যাওয়ার সময় সামিউল অঝর নয়নে কেঁদেছিলো তার মনটা চেয়েছিল একটাবার যদি ফাইজার সাথে দেখা করতে পারতাম ।
চলে গেল কলকাতায় অন্যদিকে ফাইজার প্রচন্ড মন খারাপ সামিউলের সাথে দেখা নেই দুইদিন । পরে ভয়ে ভয়ে সামিউলের বাড়িতে হাজির হয় ওখানে যেতেই কাজের মেয়েগুলো খোটা দিয়ে বলল কিরে কপাল পোড়াই বাড়িতে তোর কি ?
ওইদিকে মোড়লের বউ ফাইজা কে দেখে ফেলে মোড়ল অনেক রাগি হলেও তার বউ ছিল অনেক মায়াবিনী, তাকে দেখে ডাকলো কি গো মা তুমি আমার বাড়িতে হঠাৎ করে আসো আসো ডেকে কাছে নিলো পাশে নিয়ে বললো বসো বসো একটা মোরা আগাইয়া দিল ।
কিগো মা কি মনে করে আমার বাড়িতে তুমি ফাইজা বলল না চাচি দুই দিন দরে সামিউলকে দেখছি নাতো তাই আসলাম ও কোথায় ?

আসলে মা বাড়ি থেকে তো টুইটার করে ঘুরে বেড়াই আমাদের একটাই পোলা এটা যদি বখাটে হয় তাই তোর চাচায় ওরে পড়ার জন্য কলকাতায় ওর চাচার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে ।
কথা শুনতেই যেন ফাইজার শরীর ঝকনি দিয়ে উঠলো কি শুনলো সে এটা সামিউল কলকাতা চলে গেল কিন্তু সে আমারে একবারও বলে গেলো না ।

সে ওখানে আমাকে ছাড়া কেমনে থাকবো আমাদের কাটানো দিনগুলো কি মনে পরবো না কত মজা কয় দিনগুলো কাটছিল। সেদিন থেকে ফাইজা একদম চুপচাপ হয়ে গেল আর পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে না ঘর থেকে বাহির হয় না মার কথা শুনে ।

এদিক সামিউল কলকাতায় গিয়ে নতুন স্কুলে ভর্তি হল। ফাইজা কে ছিল সে ভুলে গেল নতুন শহর নতুন স্কুল নতুন বন্ধু লেখাপড়া করতে থাকে। এভাবে করে প্রায় ৭ টি বছর কেটে গেল ওই দেখ সামিউল মেট্রিকপাশ করেছে।

সাতটি বছর সে একবারও বাড়িতে যাইনি । মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার মনস্তাব করল। চাচা চাচি তার ছেলে মেয়ে নিয়ে সাত বছর পর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল। এদিক মোড়ল রহমত সাহেব গ্রামে ডাক ভোর পিঠয়ে ফুলের মালা নিয়ে রাস্তায় হাজির হয়ে রয়েছে সামিউল তার ছেলে মেট্রিক পাশ করে কলকাতা থেকে গ্রামে আসতেছে। গ্রামের সকল জোয়ান বুড়া পোলাপাইন সবাই হাজির সাথেফাইজা ও চুপ করে মুখ গুছিয়ে আছে সে চিন্তা করতেছে সাত বছর পর কেমন হয়েছে সামিউল ।
দেখবে সে কি আমায় ভুলে গেছে বলতে বলতে ঘোড়ার গাড়ি এসে হাজির হলো। সামিউল গাড়ি থেকে নামতে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে ,নিল বাড়ির ভিতর চলে গেল তারা। কিন্তু আজ ব্যাপার হলো সে একটিবার ফাইজাকে দেখতে চাইল না । ফাইজা তো চিন্তায় পড়ে গেল তাহলে সে কি আমায় ভুলে গেল না কি বলি কিভাবে বলবে ছোটকালের সেই গ্রামে ঘুরে বেড়ানো দিনগুলি। কিন্তু সে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে দেখতে কেমন লাট সাহেবের মত কোট টাই পড়েছে মুখে গোফদাড়ি উঠেতে শুরু করেছে কি সামিউল কি হয়ে গিয়েছে সবাই বাড়িতে চলে গেল দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল ।

কিন্তু ফাইজার খবর নিচ্ছে না তাহলে কি ভুলে গেল না কিভাবে ভুলবে কেন এদিক সারাদিন কেটে গেল ফাইজার সামিউলার কথা ভাবতে ভাবতে। বিকেল বেলা কাখে কলস নিয়ে বের হলো বড় দিঘির পাড় পানি আনার জন্য বড় দিঘিটা অনেক পুরনো শুনেছি ।
আগে রাজাদের আমলেগড়া চারদিক জঙ্গল ফাইজার পানি আনতে গেলেও মাঝে মাঝে ভয় ও ধরে কিছু করারও নাই সারা গ্রামে মাত্র একটাই পুকুর তাই এখান থেকে পানি নিতে হয় কলস কাখে পুকুর ঘাটে এসে ফাইজা পুকুরের ওইপার কাকে যেন দেখতে পেল ।

কোট হাট পরা মনে হচ্ছে লাট সাহেব আকাশ দেখছে ফাইজা আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল কাছে যেতে ভদ্রলোকটা ফিরে তাকালো একি এতো সামিউল ।
সামিউল ফিরে তাকিয়ে বললো তোদের বাড়িতে সন্ধ্যায় যাবো এখানে দেখা হয়েছে ভালো এখানে কী করিস ।
ফাইজার আমতা আমতা গলায় উত্তর দিল পানি নিতে এসেছি। আমতা আমতা বলার কারণ হলো সামিউলার কন্ঠ কিরকম পুরুষালী হয়ে গেছে কত বড় হয়ে গিয়েছে কেমন যেন কাছে গেলে পুরুষালী গন্ধ বের হয় তার শরীর থেকে ।

পানি নিতে এসেছি বলে ফিরে আসতে চাইলে সামিউল পিছন দিক থেকে হাত টেনে ধরে এতে ফাইজার হাতে থাকা কাছে চুরি থাকায় ছুরি ভেঙে হাত কেটে যায় ।
সামিউল ভয় পেয়ে যায় ফাইজা বলে সমস্যা নেই মনে কর এটা তুই আমাদের সম্পর্কের চিহ্ন দিয়ে গেলি ।
এই বলে ফাইজা ফিরে এসে কলস কাকে নিয়ে বাড়ির ফিরে এর দুইদিন পর সামিউল কলকাতা চলে যায় আর দেখা হয়নি। এদিক ফাইজার বাড়িতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে ।
ফাইজা তো আর কম বড় হলোনা ।
কিন্তু সামিউল কে আর মনের কথাটা বলতে পারলো না আর বলবেই বা কি করে তারা অনেক বড়লোক।
এ সম্পর্ক কে মেনে নিবে না ।

অনেক বিয়া আসতে থাকলো ফাইজাদের বাড়ি অবশেষে সামিউলের বাবা রহমত সাহেব একটা বিয়ে এনে দিলেন বনগাঁও থেকে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বর আগে একটা বিয়ে করেছে সেই ঘরে তিনটা কন্যা সন্তান আছে তিন কন্যা সন্তান রেখে তার গিন্নি গত হয়েছে। টাকা পয়সার কোন অভাব নাই তাকে নিয়ে রানী করে রাখবে ঘোলা ভরা ধান বড় অট্টালিকা সবকিছুই ভেবে ফাইজার বাবা রাজি হয়ে গেলেন । তাছাড়া গ্রামের মোড়ল সাহেব বিয়েটা এনেছেন তার মান সম্মান তো আছে ।
তাছাড়া ফাইজার বাবা ভাবলেন আমরা গরিব মানুষ নুন আনতে পান্তা ফুরায় ফাইজারে যদি ওই ঘরে বিয়া দেই আমগো আর কষ্ট করা লাগবে না ।
অবশেষে বিয়ার দিন ধার্য হল বিশাল পালকি করে ফাইজাকে নিয়ে যাওয়া হল বনগাঁও। পালকি থেকে নেমে দেখলেন বিশাল অট্টালিকা শতক মানুষ কাজ করছে সেখানে তার সম বয়সী তিনটা মেয়ে এসে তাকে সালাম করল পায়ে ধরে ।
সে বুঝতে পারল এটাই হল তার তিন মেয়ে যার কথা বিয়ার আগে বলা হয়েছে যাক রানীর মতোই চলল তার দিনকাল প্রায়।

তিন বছর পার হয়ে গেল ফাইজা ও আর তার নিজ গ্রামে আসে না আসবি বা কেন যা ভিটা ছিল তা বিক্রি করে বাপ-মা কে ও নিয়ে গিয়েছে নিজের অট্টালিকায় সেখানে তারা রাজমহল নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।
এদিক দিয়ে তিন বছর পর সামিউল কলেজ পাস করে বাড়িতে আসে বেড়াতে। প্রথম দুই দিন ঘরে বসেই কাটান। পরের দিন গ্রাম ঘোরার জন্য বের হল গ্রামের মানুষ সবাই দেখে থাকে সালাম জানানো কর্তা সাহেব বলে অবশেষে ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে ওঠেন ফাইজার বাড়িতে ।
বাড়িতে উঠতেই অবাক হন সেখানে কোন ঘর নেই আছে কয়েকটা গাছ শুধু দাঁড়িয়ে । তারপর বাড়িতে এসে তার মাকে তাদের কথা জিজ্ঞেস করেন তার মা বলে তাকে তো বনগাঁয়ের কর্তার সাথে বিয়ে দিয়ে দিছে। তার বাপ-মা সহ এখন সে সেখানে কর্তা হয়ে আছে। সে সময় সামিউল আর কিছু বলেনি চুপ করে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে রাত হয়ে যায় অনেক ডাকার পর ও রাতের খাবার না খেয়ে ঘুমিয়ে যায় ।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির বড় গেটের সামনে হাজির বাড়ির সবাই অবাক কি ব্যাপার কর্তা মাত্র দিন তিনেক হল এসেছেন।
তিন বছর পর এসেছেন কোথায় যাচ্ছেন তার মা দৌড়ে গিয়ে বলে বাবা কোথায় যাস মাত্র তিন দিন হল এখন যাওয়ার দরকার কি আর কয়টা দিন থেকে যা।
সামিউল শুধু এতটুক বলে মা কলকাতায় অনেক কাজ আছে। বলে বের হয়ে যায় তবে সে যে গেল সে আর কলকাতা থেকে ফিরেনি। সে যে তার চাচার বাসায় থাকত সেখানেও আর যায়নি । বাড়ি থেকে কলকাতায় কথা বলে যে কোথায় গিয়েছে কেউ জানে নি। তার বাবা চাচা অসংখ্য লোক দিয়ে তাকে পুরো কলকাতা শহর তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে কিন্তু আর পাওয়া হয়নি । কেউ কেউ বলেছে সে ঘত হয়েছে কেউ বলে আসার সময় হয়তো গাড়ির এক্সিডেন্ট হয়ে ঘত হয়েছে অথবা ডাকাত দলেরা তাকে পাচার করে দিয়েছে আর ফিরেনি কখনো। সামিউলের না ফেরাতেই সামিউলের জীবনের ইতি টানে ।
1.82K Views
39 Likes
2 Comments
4.3 Rating
Rate this: