মিনি কক্সবাজার চাঁদপুর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অনেকদিন পর প্রায় বাড়ি ফেরা বাড়িতে গেলাম পুরনো বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা হল ছুটি পেয়েছি মাত্র চার দিন
তার মাঝে একদিন ঢাকা থেকে বাড়িতে যেতেই শেষ বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে পরে একটু রেস্ট নিয়ে বিকালে গ্রামে হাঁটতে বের হয়েছিলাম রাত হতে ফিরে আসি আবার ঘরে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা করতে গেলাম আর এক বন্ধুর সাথে যদি সম্পর্ক কাকা হয় তবে সমবয়েসের একসাথে লেখাপড়া ছোট থেকে একসাথে থেকে বন্ধু সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
সকাল সকাল গিয়ে দেখি বেচারা ঘুমাচ্ছে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললাম ডেকে অনেকক্ষণ বিভিন্ন কথার জুরি‌ উঠিয়ে দিলাম এই কথা সেই কথা পুরনো যত কথা আছে বলতে শুরু করলাম এর মাঝখান দিয়ে আবার ছোট ভাই শাহাদাতকে কল করে বলে দিলাম আমরা দুইজনে একসাথে হয়েছি তোর বাড়ির পাশে ওই দিক তুই ও আয়।
ও বলা হয়নি আমি মোঃ শহিদুল ইসলাম ঢাকায় থাকি ছুটিতে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর মতলব উত্তরে গিয়েছি তো বলতে বলতে এ শাহাদাত হাজির সেখানে বিভিন্ন কথা হলো এক সময় কথা উঠলো আমরা বন্ধু একটা পিসি বানাবে কি করা যায় আমি বললাম চল তাহলে আজ আমরা বাইর হই একটু ঘুরাও হবে তোর কাজও হবে যাবে ।
ওরা বলে উঠলো কোথায় যাবি ?
বললাম চাঁদপুর।
ওরা বলল চাঁদপুর কাজ হবে যে কথা সেই কাজ যাব কখন দশটার দিকে গাড়িতে তো সবাই বাসায় চলে যাও সবাই রেডি হয়ে ১০ টা কালভার্টে চলে আসবে সবাই বাসায় চলে গেলাম দশটা রেডি হয়ে কালকে এসে হাজির হলাম ।
এখান থেকে গাড়িতে করে প্রথম মতলব যেতে হবে সেখান থেকে চাঁদপুর।
কিছুক্ষণ পর সিএনজি এসে দারালো আমাদের সামনে তিনজন উঠে পড়লাম গন্তব্য মতলব সিএনজি চলতে আরম্ভ করল সিএনজিতে আমরা চুপচাপে ছিলাম কারণ আমাদের সাথে আরো দুইজন অপরিচিত মহিলা ছিল তাই ভদ্রতার খাতিরে কোন কথাই বলিনি।
আধা ঘন্টা পর সিএনজি এসে পৌঁছালাম মতলব টুল স্টেশনে মানে আমাদের এখান থেকে অন্য গাড়িতে উঠতে হবে আমরা নেমে ভাড়া‌ চুকিয়ে চাঁদপুরের সিএনজি স্টেশনের দিকে হাটা ধরলাম তো আগের গাড়ির মতোই এই গাড়িতেও দুইজন মহিলা ছিল তাই চুপচাপ এসে রয়ে গেলাম গাড়িতে আধাঘন্টা পর গাড়ি এসে পৌঁছালো চাঁদপুর কালীবাড়ি ।
গাড়ি থেকে নেমে ভারা চুকাতেই টের পেলাম প্রাকৃতিক ডাক পড়েছে মানে এক নম্বরে যেতে হবে আশেপাশে কোন পাবলিক ওয়াশরুমও পেলাম না তাই ভাবলাম একটু কষ্ট করে বড় স্টেশন চলে যায় সেখানে না হয় খুঁজে বের করব ।
অটো ধরলাম ১০ মিনিটের দূরত্ব গাড়ি থেকে নেমে ওয়াশরুম খুঁজা ধরলাম প্রায় মিনিট পাচেক পর একটা মসজিদ পেলাম সেখানে ওয়াশরুমে চাপ শেষ করে প্রেসার মুক্ত হলাম ।এবার ঘুরাঘুরির পালা চারদিক ঘুরাঘুরি করলাম আমার বন্ধুর আইফোন
থাকার ছবি তুলতে অসুবিধা হলো না কিন্তু সব থেকে বেশি অসুবিধা হলো ক্যামেরা ম্যান কিছু ছেলে ওখানে কিছু ছেলে ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে এসে বলে একটা ছবি তুলে দেই অনেক বুঝানোর পরও বুঝতে চায় না বললাম ভাই আইফোন আছে না তারা ছবি তুলবে আমাদের স্যাম্পল দেখাবে এরকম কতজন যে আসলো আর ডিস্টার্ব করে গেল
কি আর করা ওদের ব্যবসা ভাই এটা।
ঘুরাঘুরি করতে করতে দুপুরে বেঁচে গেল দুইটা প্রচন্ড ক্ষুধা লেগে গেল একটা রেস্টুরেন্ট দেখে খাবার খেয়ে নিলাম যদিও সেরকম সুবিধার না খাবার তবুও খেয়ে নিলাম ক্ষুধা প্রচন্ড তাই
খাবার শেষ করে কিছুক্ষণ নদীর পাড় বসে রইলাম হঠাৎ মাথায় ভুত চাপলো মিনি কক্সবাজার যাবো সেটা বড় স্টেশন থেকে ট্রলার ৩০ মিনিটের রাস্তা হবে আর কি ট্রলার রিজার্ভ করলাম পার হেড ১০০ টাকা করে মানে আমরা তিনজন ৩০০ টাকা রিজার্ভ আপডাউন মানে নিয়ে যাবে আবার নিয়ে আসবে।
মাঝখানে ৩০ মিনিট আমাদের ঘুরার সময় দিবে মিনি কক্সবাজার দেখার জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে রওনা হলাম। প্রায় মিনিট 25 চলার পর বিশাল একটা চর দেখতে পেলাম দুই কিলোমিটারের মতো তো হবেই ট্রলারওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম বলল এটাই নাকি মিনি কক্সবাজার
আমি তো রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লাম এত শালা একটা ফাঁকা চর আর কিছুই নেই সাথে করা রৌদ্র মনে মনে নিজেকে গালি দিয়ে উদ্ধার করছিলাম সাথে যে চরের নাম মিনি কক্সবাজার দিচ্ছিল তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করলাম শুধু খালি একটা চর এর উপরে একটা পুরনো স্পিডবোটের ঘাট এই হলো মিনি কক্সবাজার ৩০০ টাকায় জলে ।
না চাওয়াতেও চরে নামলাম বুঝতে পারলাম বৃষ্টির সময় চরে পানি থাকে কিছুক্ষণ হাঁটলাম এত রোদ নিজে নিজের গালি দিচ্ছিলাম হাটাহাটি শেষ করে আবারো ট্রলারে কাছে ফিরে আসলাম বড় স্টেশন এবার আমাদের ফিরার পালা।
ফির সিএনজি ধরে ফিরে আসলাম তবে সারা দিনের ঘুরাঘুরির মাঝে বড় স্টেশন টাই ছিল মনোমুগ্ধকর কত ছেলে মেয়ে কত মানুষ যদিও সবাই ছেলে মেয়ে জোড়া জোড়া আমরা শুধু তিনজনই ছেলে তারপরও মনমুগ্ধ করছিল অবশেষে শেষ হলো সারাদিনের মুগ্ধকর পরিবেশ শেষ গাড়িতে ফেরার মাধ্যমে ।
1.22K Views
46 Likes
3 Comments
4.2 Rating
Rate this: