""কিশোর জীবনে প্রেমনদী"" পর্ব-৪
পাঠশালার কাছাকাছি পৌঁছাতেই দেখি রিয়া একা-একা চুপিচুপি করে আমার বিপরীতের এক পথ দিয়ে ছুটে আসতে ছিলেন। মেয়েটি রিয়া বুঝতে পেরে দ্রুত গতিতে ওর কাছাকাছি ছুটে গেলাম। তখন রিয়া রাস্তা পার হওয়ার সময় দিক-বেদিক দৃষ্টিপাত করতেই আমাকে তাঁর বিপরীতমুখী দেখতে পেয়ে খানিক হালকা কোমল হাসি ছেড়ে হাঁটার গতি কমিয়ে চুপিচাপি করে পাশ দিয়ে চলতে শুরু করলেন। এদিকে আমিও সহস্য বদনে অস্থিরচিত্তে রিয়ার পিছু পিছু ছুটে গেলাম। কয়েক মিনিটে ব্যবধানে উভয়ে শ্রেণির কক্ষে প্রবেশ করলাম। কক্ষের অভ্যন্তরে রিয়া আর আমি ছাড়া আর কেউ ছিলো না। রিয়া শুরুর দ্বিতীয় বেঞ্চের মাঝামাঝি এক আসনে বসে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। রিয়ার তাকানো দেখে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আজকে নির্ভয়ে লজ্জা-তজ্জা ফেলে অবশ্য ওর সাথে কথা বলতেই হবে এ বলে রিয়ার কাছাকাছি ছুটে গেলাম। রিয়া তাঁর নৈকট্যে আমার উপস্থিতি দেখে কিঞ্চিৎ লাজুক রূপে বোধ করে নড়েচড়ে বসলেন। কোনো প্রকার সংকোচ না করে কাছাকাছি গিয়ে রিয়ার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিলাম, যেনো বিদেশ থেকে অনেকদিন পরে স্বামী এসে তাঁর স্ত্রীকে দেখছে। গোটা কক্ষটা ছিলো নিস্তব্ধ কেউ কারো সাথে কথা বলছি না। শুধু একে অপরের দিকে বেহায়ার মতো চেয়ে আছি।
এভাবে মিনিট দু-এক পশ্চাতে আমার বক্ষের গহিনে একটা কম্পন অনুভব হলো। বুকটা কম্পিত হওয়ার সাথে সাথেই "হাই আমি রিয়াদ! তুমি কেমন আছো?" এই বলে রিয়ার প্রতি তাকিয়ে রইলাম। আমার মুখ থেকে এমন কথা শুনে রিয়া একটুখানি বিলম্ব করে সে-ও জবাব দিলেন যে, "হাই আমি রিয়া! আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?" রিয়ার লাজুক মুখ থেকে এমন জবাব পেয়ে মনের মাঝে যেনো খুশির আমেজ জন্মাতে লাগলো। মনে মনে খুশি হয়ে রিয়াকে বলে দিলাম যে, "আমিও ভালো আছি"। আমার উত্তরের সাথে সাথে রিয়া পাল্টা একটা বাক্য বললেন যে, "আমার নাম রিয়া আর তোমার নাম রিয়াদ। এই নাম দুটো প্রায় মিল কেনো? রিয়ার এ প্রশ্নের প্রতিত্তোরে বললাম, জানি না, আমার নামটা আমার এক মামা রেখেছেন। তোমার নাম কে রেখেছে?" তখন রিয়া বললেন আমারটা আম্মু রেখেছে।" এভাবে উভয়ে একে অপরের সাথে হাসিমুখে আরো কিছু আলাপ-সালাপ করতেছিলাম। এরমধ্যে হঠাৎ রিয়া বলে উঠলেন যে, "আমরা কি বন্ধু হতে পারি? রিয়ার তরফ হতে এমন প্রস্তাব পেয়ে এদিকে মনে মনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম এবং ভাবলাম যে, প্রস্তাবটা আমিই দিবো ভেবেছিলাম কিন্তু এখন তো রিয়াই আমার আগে দিয়ে দিলেন। তাহলে কি রিয়াও আমাকে পছন্দ করেন ইত্যাদি এসব ভেবে সহস্যমুখে রিয়াকে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে দিলাম।
আকস্মিক শ্রেণির কক্ষে একাধিক শিক্ষার্থীদের আগমন হলো। আগত শিক্ষার্থীদের দু-এক জনে আমায় ও রিয়াকে দেখে কি যেনো ভাবতেছেন। শিক্ষার্থীদের আগমনে লজ্জা বোধ করে আপন আসনে গিয়ে বসে পড়লাম। এর খানিকক্ষণ পরে অন্য এক ছাত্রী রিয়ার পাশে গিয়ে বসলেন এবং পরস্পর কথোপকথন করতে আরম্ভ করলেন। এরমধ্যেই শ্রেণিতে অনেক ছাত্রছাত্রী এসে পুরো কক্ষটা ভরাট হয়ে গেলো। নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ের এক দপ্তর কর্মচারী টুনটুন সাংকেতিক ঘন্টাধ্বনি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করলেন। প্রত্যেক শ্রেণির কক্ষ থেকে একে একে সব ছাত্রছাত্রীরা মাঠে ছুটে গেলেন সমাবেশে যোগদান করতে। রিয়া অন্য একটি মেয়ের সাথে গিয়ে সমাবেশে যোগ দিলেন সেই সাথে আমিও ছুটে গেলাম। যাওয়ার ক্ষণে রিয়াকে নিয়ে অনেক কিছু এই সেই হাবিজাবি উল্টো পাল্টা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করতেছিলো। সমাবেশের এক সারিতে গিয়ে পিছন দিকে অবস্থান করলাম। সমাবেশের কার্যক্রম চলাকালে রিয়ার দিকে বারবার তাকিয়ে ওর বদনকান্তি প্রদর্শন করে যেনো প্রেমানলে পুড়ে যাচ্ছিলাম। শিক্ষকদের মনোনীত এক দলপতি তাঁর নিজস্ব মতিগতিতে আরো দু-এক জন সহপাঠী নিয়ে পনেরো মিনিট অবধি সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে সকল ছাত্রছাত্রীকে নিজ নিজ শ্রেণি কক্ষে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সারিবদ্ধ হয়ে চুপিচুপি করে সকল শিক্ষার্থীরা যে যাঁর যাঁর শ্রেণিতে চলে গেলাম।
অতঃপর শ্রেণির কক্ষে এসে নিজ নিজ আসনে বসতে না বসতেই শ্রেণি শিক্ষকের আগমন হলো। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মহোদয় এসে তাঁর অভিপ্রায় ও চেষ্টার দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু পাঠদান করে চলে গেলেন অন্য এক শ্রেণি কক্ষে। শিক্ষক সাহেব বেরিয়ে যাওয়ার খানিকক্ষণ পরে শিক্ষার্থীদের নানাবিধ গালগল্পের শব্দে গোটা কক্ষটা কোলাহলপূর্ণ হয়ে গেলো। ঐসব উপেক্ষা করে একপলকে রিয়ার দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করতেই দেখি সে-ও কবে থেকে জানিয়ে আমার দিকে আপাতদৃষ্টিতে চেয়েছিলো কী জানি। আমার চোখ ওর চোখে পড়া মাত্রই এমনি আলগা হাসি দিয়ে সে তাঁর দৃষ্টি সংযত করে নিলো। রিয়া যতই তাঁর সুশ্রী চেহারার মায়াবি চাহনির ভেলকি প্রদান করতেন, ততই তাঁর প্রতি আমার তীব্র আকর্ষণ বাড়তে লাগলো। আসলে সৃষ্টিকর্তা সকল সৃষ্টির মাঝে নারী নামক প্রাণীদের এমন একটা মায়াজাল দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা দিয়ে তাঁরা সহজেই পুরুষের মনটা নাড়িয়ে দিতে পারেন। কিছু মেয়ে কালো বর্ণের হলেও তাঁদের শারীরিক আকার-আকৃতি, সুন্দর মন, মানসিক শক্তি, বিবিধ বিষয়ে পারদর্শিতা, সুললিত কণ্ঠ প্রভৃতি গুণের কারণে অনেক সুদর্শন পুরুষরাই অনায়াসে এমন নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু উদীয়মান কিশোর অবস্থায় নবযৌবনপ্রাপ্ত টগবগে যুবক আকৃতির ছিলাম, সেহেতু বিপরীত লিঙ্গের এমনি নবযৌবনপ্রাপ্ত বালিকার চালচলন আর হাবভাব দেখে যে কেউ সহজে মায়ার ফাঁদে আটকে যেতে পারে।
আমিও রিয়ার প্রতি কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবল আসক্ত হয়ে গেলাম। হয়তো মনের কথাটা তখনো বলা হয়নি, তবে আমি যে রিয়ার প্রীতিতে হাবুডুবু খেতে আরম্ভ করেছি এর খবর নিশ্চয়ই রিয়াও কমবেশি জানেন। তাই তো সে-ও আমায় পছন্দ করেন বলে এরূপ ভঙ্গি দেখান। এসব চিন্তা করতে করতেই এদিকে শ্রেণির কক্ষে একজন ভদ্রমহিলা ডুকে পড়লেন। কক্ষের ভেতরে ভদ্রমহিলার আগমনে পুরো শ্রেণি নিস্তব্ধ হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসনে নড়েচড়ে ঠিকঠাক করে সংযত হয়ে বসলেন। দেখে মনে হলো মহিলাটি হয়তো শিক্ষিকা বা আমাদের ম্যাডাম হবে। কিন্তু এর আগে তো বিদ্যালয়ে ওনাকে কখনো দেখিনি। অথচ নতুন বছর আরম্ভ হয়ে পাঠদান চলতে চলতে প্রায় মাস দেড় এক হয়ে গেলো ইত্যাদি চিন্তাভাবনা করতে না করতেই দেখি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরও আগমন ঘটলো। তখনই...
চলবে কী...
বিঃদ্রঃ কাহিনির বাকি অংশ ধারাবাহিক পর্ব আকারে প্রকাশ করা হবে। কাজেই, সাময়িক সবুর করে "গল্প সমাহার" অ্যাপের সাথেই থাকুন এবং চোখ রাখুন সিরিজ গল্পে। ধন্যবাদ!
কিশোর জীবনে প্রেমনদী (পর্ব-৪)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
773
Views
4
Likes
2
Comments
5.0
Rating