কথিত প্রগতিশীল ও নারীবাদীদের একটা কথাই যে ধর্ষণের জন্য পোশাক,উলঙ্গপনা,বেহায়াপনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা দায়ি নয়,দায়ি হচ্ছে পুরুষের হীন মানসিকতা। আবার যখন কোনো ইসলামিক বক্তা এই বিষয়টাকে নবী করিম (সঃ) এর হাদিসের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে কেয়ামতের আলামত হিসেবে তখন অনেকে প্রশ্ন করে ঐ ৫ বছরের বাচ্চা মেয়েটি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে,সে তো কোনো খারাপ পোশাক পড়ে নি, এটাকে তারা কোন কেয়ামতের আলামতের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করবে?
ঠিকই তো ঐ বাচ্চা মেয়েটি যার পোশাক, উলঙ্গপনা,বেহাপনা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই, সে কেন ধর্ষণের স্বীকার হলো,তার মানে ধর্ষণের জন্য পোশাক, উলঙ্গপনা,বেহায়াপনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা দায়ি নয়,দায়ি পুরুষের খারাপ দৃষ্টি,হীন মানসিকতা! চলুন একটু পর্যালোচনা করা যাক।
আচ্ছা যখন একটা শক্তিশালী চৌম্বুকের সংস্পর্শে একটা লোহা রাখা হয় ও বেশ কিছুক্ষন পর লোহাটিকে আলাদা করা হয় তখন দেখবেন লোহাটির ভিতরে চৌম্বুকটির আকর্ষণ বল রয়ে গেছে,এখন এই লোহাটিকে অন্য কোনো লোহার কাছে আনলে তাকে আকর্ষণ করবে আর এই আকর্ষণ বল অনেকটা সময় থাকবে।
ঠিক তেমনি মোবাইল ফোনের স্কিনে ভেসে ওঠা পর্নোগ্রাফি,নাটক-সিনেমার নোংরা দৃশ্যটি,টিভি চ্যানেলের পর্দায় ভেসে ওঠা অর্ধ-উলঙ্গ নারীটি,রাস্তায় হেটে চলা খারাপ পোশাক পরিহিতা নারীটি,নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাটা হচ্ছে ঐ শক্তিশালী চৌম্বকটি আর এসব প্রত্যক্ষ করা পুরুষটি হচ্ছে লোহাটি। সে যখন এগুলো প্রত্যক্ষ করে তখন তার ভিতর একটা উত্তেজনা কাজ করে আর এখান থেকেই তৈরি হয় বিকৃত মানসিকতা। যা দেখে পুরুষটির এই বিকৃত মানসিকতার সৃষ্টি হয় তার দ্বারা স্বপ্নাতায়িত হয়ে সে তার উত্তেজনা পূরণ করার জন্য উঠেপড়ে লাগে,হাতের কাছে তখন দুর্বল যাকেই পাবে তার দ্বারাই উত্তেজনাটা পূরণ করবে,তখন কে ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে আর কে ৬০ বছরের বৃদ্ধা তার বিকৃত মস্তিষ্ক পার্থক্যই করতে পারবে না।
আর যখন একটা দেশে আইন-শৃঙ্খলা,বিচার ব্যবস্থা নামকাওয়াস্তে হয়ে যায় তখন এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হয় আর দিনশেষে ঐ কথিত প্রগতিশীলরা ও নারীবাদীরা বিকৃত মানসিকতার পুরুষটিকেই সমর্থন করবে আর সে যদি হয় কোনো প্রভাবশালী তাহলে তো কোনো কথাই নাই আর বিশেষ করে বাংলাদেশে নারীবাদী আছে কিন্তু তারা হচ্ছে পেইড নারীবাদী অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে নারীবাদীতা,আসলে নারীদের উন্নতি নিয়ে এদের কোনো মাথাব্যথা নেই,এরা টাকার বিনিময়ে একটা পক্ষের হয়ে কথা বলে আর বিশেষ করে যেখানে ইসলামি ফ্লেভার পায় সেখানে তাদের নারীবাদ নামক গ্রেনেডের হামলা শুরু হয় তাই এদেরকে ইসলামবিদ্বেষী নারীবাদী বললেও ভুল হবে না আর এদেশীয় মিডিয়া,সরকার,বিভিন্ন দেশী-বিদেশী এনজিও এদের সমর্থনে কাজ করে যাচ্ছে। আসলে এরা সবগুলো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এরা নারী অধিকার,নারী স্বাধীনতা,নারী-পুরুষ সমান অধিকারের নামে মেয়েদের ঘরের বাইরে আনে আর যখন তাদের কোনো ক্ষতি হয় তখন বলে আপনি কে?
যাইহোক,ধর্ষণ রোধ করতে অনেকগুলো বিষয় ঠিক করতে হবে। প্রগতিবাদ,নারীবাদের বয়ানে শুধু পুরুষের হীন মানসিকতার দোষ দিয়ে সমাধান কখনো হবে না।
পরিশেষে নবী করিম(সঃ) এর একটা হাদিস দ্বারা শেষ করছি,
{সাহ্ল ইব্নু সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূল (সঃ) বলেছেন,যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে,আমি তাঁর জান্নাতের যিম্মাদার}
ধর্ষণ ও কিছু কথা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
144
Views
3
Likes
1
Comments
3.3
Rating