শারমিনের অসুখটা প্রথম যখন ধরা পড়ল, তখন সে ষোল সতেরো বছরের তরুণী। তখনও গ্রামের বাড়িতে যৌথ পরিবার ভেঙে যায় নি। বিরাট বড় পাকের ঘরে বড় খড়ির চুলার আগুনের ধোঁয়া খেতে খেতে সব বউরা রাঁধতেন।
বাচ্চারা স্কুল ছুটি হয়ে গেলে পাকের ঘরের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকত। বারান্দায় বিশাল সারি করে থালা পড়ত।
বাচ্চারা হাপুসহুপুস করে খেত।
শারমিন ছিল যে কোনো হিসেবে খুব ভালো মেয়ে । আম্মা আর চাচীরা ভালো মেয়ের উদাহরণ হিসেবে তার নাম উল্লেখ করতেন।
ম্যাট্রিক পাসের পরে ঘরে বসে রান্না, সেলাই করায় হাত পাকাচ্ছিল আর পাত্রপক্ষের সামনে বসছিল। বালিশের কাভারে সেলাই করা তার ফুলের নকশা যেমন তার আম্মাকে গর্বিত করত তেমনি বসার ঘরে সাজিয়ে রাখা তার সেলাই করা কাবাঘরের সূচিকর্ম পাত্রপক্ষকে দেখানো ছিল অবধারিত।
পর পর দুইবার পাত্রপক্ষকে নাকচ করে দেওয়া সেই আমলের লোকজনের জন্য দুঃসাহসিক কাজ, কিন্তু তার আদরের সন্তানের জন্য তার বাবা সেই কাজটাই করলেন। একজনের বয়স বেশি, অন্যজন এক বউ তালাক দেওয়া পাত্র।
তার বাবা সেই ঘরে মেয়ের বিয়ে দেবেন না।
ঠিক এমন সময় তার অসুখটা ধরা পড়ে। তাদের বিশাল বাড়ির পেছনে পাকের ঘরের পাশে বটি পেতে বসে মাথা নামিয়ে মাছ কুটছিল শারমিন ।
হঠাৎ করে তার মেঝো চাচী এসে দাঁড়িয়ে কী যেন দেখে আকাশ ফাটিয়ে দিলেন এক চিৎকার। চিৎকার শুনে ছুটে এল সবাই।
সেই অপার্থিব দৃশ্য দেখে সবার ভয়ে প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড়। বটির নিচে কাটা মাছ রাখার জন্য থালা পাতা আছে, কিন্তু সেই থালা শূন্য।
শারমিন তখন কচকচ করে কাঁচা মাছ চিবিয়ে খাচ্ছে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে খেয়ে খুব তৃপ্তি পাচ্ছে।
ওদিকে মেঝো চাচীর চিৎকার কান্নায় রূপ ধারণ করেছে। চেঁচামেচির শব্দ শুনে শারমিনের আম্মা আর চাচীরা চলে এসেছে।
শারমিনের মা এসে দাঁড়িয়ে চোখ কপালে তুলে বললেন, "শারমিন? ও কী? তুই কাচা মাছ খাস ক্যারে?"
শারমিন তখনও খুব মন দিয়ে গোগ্রাসে গিলতে থাকে। শারমিনের মা এসে তার সামনে থেকে মাছের খালুই সরিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যত হয়।
শারমিন খপ করে তার মায়ের হাত ধরে ফেলে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর ফোঁস ফোঁস শব্দ করে বড় বড় শ্বাস নেয়। মুহূর্তেই দুই চোখ টকটকে লাল হয়ে গেছে তার।
সব সময় লক্ষ্মী মেয়ে বলে খ্যাত সেই শারমিনের মাথার কাপড় পড়ে গেছে। দুই চোখের মণি ঘুরতে শুরু করেছে ভাঁটার মতো।
শারমিনের মা সভয়ে দূরে চলে যেতে চাইলেন। কিন্তু তার হাত ধরে রেখেছে শারমিন। তার সামনে রাখা মাছ শেষ হয়ে গেছে। শারমিন তখন তার মায়ের হাতে কামড় বসিয়ে দিল।
শারমিনের মা গগনবিদারী চিৎকার শুনে ততক্ষণে সবাই এই দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। এই অবিশ্বাস্য ব্যাপার দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে গেছে।
প্রথম সম্বিত ফিরে পেলেন শারমিনের বাবা। কিংবা তার মেয়ের এই অবস্থা দেখে নিজের ভয় চাপা দিয়ে মরিয়া হয়েই এগিয়ে এসে বললেন, "শারমিন! কী করতেছিস তুই! আম্মারে ছাড়!"
কে শোনে কার কথা। শারমিনের বড় ভাই শাহেদ এগিয়ে এসে মাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো।
কে একজন বললো, "হলুদ পোড়া দেও! ওর নাকের সামনে হলুদ পোড়া দেও! "
কে একজন পোড়া হলুদ এনে শারমিনের নাকের সামনে এগিয়ে দিল। শারমিন তখন তার মায়ের হাত ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল।
তার চেহারা রাগে ফেটে পড়ছে। চোখের সাদা অংশ দেখে মনে হচ্ছে এখনই ফেটে রক্ত পড়তে শুরু করবে।
শারমিনের মায়ের হাত থেকে রক্ত পড়তে শুরু করেছে। তিনি আহত হাত নিয়ে কোনো মতে উঠে দাঁড়ালেন।
শারমিনের মুখ থেকে তখন গোঁ গোঁ শব্দ বের হচ্ছে। মাথার চুল খুলে ছড়িয়ে গেছে।
এমন সময় শাহেদ এগিয়ে এসে বলল, "এই, খবরদার!" শারমিনের কোনো ভাবান্তর ঘটে না তাতে।
শাহেদ এদিক ওদিক তাকিয়ে পাকের ঘরে ঢুকে বড় একটা খড়ি হাতে নিয়ে এগিয়ে আসতে শুরু করে দেয় শারমিনের দিকে। শারমিন তখনও দাঁড়িয়ে আছে, গোঁ গোঁ শব্দ করেই যাচ্ছে।
শাহেদ তার চুলের মুঠো ধরে পিঠের ওপর চ্যালাকাঠের আঘাত করতেই শারমিন চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল, "কী হইছে? আমারে তুই মারোস ক্যান ভাই? "
পুরো স্বাভাবিক গলা। দেখা গেল তার একটু আগের ঘটনা কিছুই মনে নেই।
এই ঘটনার পরে শারমিনের বিয়ে আটকে গেছে। পাড়া প্রতিবেশী সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে সেই ঘটনা।
সবাই আফসোস করে, "আহারে, এতো ভালা আছিলো ছেরিডা! সময় মতো বিয়া দিয়া দিলে তো আর পেততুনিডা আইলয় না!"
হ্যাঁ, পেততুনি ছাড়া আর কী? এমন করে কাঁচা মাছ চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারে আর কে?
তবে তাদের গলায় আফসোসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় চাপা আনন্দ। শারমিনের বাবার মধ্যে মেয়ে নিয়ে যে অহংকার ছিল তা চূর্ণ হয়ে গেছে সেই আনন্দ।
এই ঘটনার পরে শারমিনকে খুব একটা ঘর থেকে বের হতেও দেওয়া হতো না।
এর মধ্যে একদিন শারমিন আবারও ধরা পড়ে গেল। কোন ফাঁকে ঘর থেকে বের হয়ে পাকের ঘরে ঢুকে কড়মড় করে কাঁচা মাছ চিবিয়ে খাচ্ছে।
এবার আর কোন ঝুঁকি না নিয়ে শাহেদ তার চুলের মুঠো ধরে টেনে নিয়ে যায় দোতলায়। বোনকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে তালা দিয়ে রাখল শাহেদ।
শারমিন তখন কর্কশ গলায় চিৎকার করে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। শারমিন ওই ঘরেই বন্দী থাকল দুই দিন।
শারমিনের মা দুই দিন ধরে পানিও স্পর্শ করলেন না। মেয়ের এই অবস্থা, মেয়েকে না খাইয়ে রেখে নিজে কীভাবে খাওয়া যায়!
দুটো দিন ধরে বার বার শাহেদ সেই ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। ভেতর থেকে শুনতে পাওয়া যায় শারমিন তখনও বিজাতীয় হুম হুম করে শব্দ করছে।
দুই দিন ধরে বাড়িতে মাছও আনা হয় না। অবশেষে দুই দিন পরে হাটবারে ছোট মাছ আনা হয়েছে।
শারমিনের ছোট চাচী মাছ নিয়ে পুকুরঘাটে চালুনি দিয়ে ধুয়ে আনতে গেছে। শারমিনের কয়েকজন চাচাত ভাই বোন তখন পুকুরে গোসল করছে।
শারমিনের ছোট চাচী ঘাটলায় বসে মাছগুলো ধুয়ে নিয়ে গেল। চালুনির ফুটো দিয়ে গোটা কয়েক কেঁচকি মাছ পিছলে পড়ে গেল ঘাটের সিঁড়ির ধাপে।
এদিকে দুই দিন ধরে বন্ধ থাকার পরে শারমিনের আর কোন সাড়া শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে না। শারমিনের মাও না খেয়ে নেতিয়ে পড়েছেন।
শাহেদ আর সহ্য করতে না পেরে দোতলার ঘর খুলে দিয়ে শারমিনকে মুক্ত করে দেয়। ঘর থেকে বের হয়েই এক ছুটে আলুথালু চুলে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে গেল শারমিন।
কেউ ধরার আগেই ছুটে চলে গেল পুকুর ঘাটে। সবাই সভয়ে দূর থেকে দেখল, পুকুর ঘাটের সিঁড়ির ধাপে পড়ে থাকা মাছগুলো দু'হাতে তুলে নিয়ে অস্থির হয়ে মুখে পুরছে শারমিন।
দোতলার ঘরে বন্ধ থাকা অবস্থায় শারমিন ওই পুকুর ঘাটে পড়ে থাকা মাছগুলোর কথা জানল কীভাবে? শারমিন যখন ঘাটলার সিঁড়িতে বসে বুভুক্ষুর মতো মাছ চিবিয়ে খাচ্ছে তখন কে একজন বলল, "ওই খাড়ায়া আছস ক্যান? পাগলারে খবর দে কেউ! "
শারমিন টকটকে লাল চোখ তুলে তাকাল। উপস্থিত জনগণ ভয়ে একটু পিছিয়ে গেল।
অবশেষে বেশ কিছুক্ষণ পরে পাগলা ওঝাকে খবর দিয়ে আনা গেল। ওঝা হলেও তার অন্য অনেক ধরনের কাজ করতে হয়।
ওঝাগিরি করে যথেষ্ট আয় হয় না বলে সে অন্য মানুষের জমিতে বর্গা চাষী হিসেবেও কাজ করে। কামরূপ কামাখ্যা থেকে ভূত তাড়ানো শিখে এসেছে বলে দাবি করে।
পাগলা ওঝা বাড়িতে পা দিয়েই চমকে উঠল। শারমিন কোথায়, তাকে কেউ বলে দেয়নি।
কিন্তু সে সরাসরি পুকুর ঘাটে এসে উপস্থিত হলো। শারমিন তাকে দেখেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল।
গমগমে গলায় বলল, "ভালা চাস তো বাড়িত যা।" বলে ঘাটলা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে দেয় শারমিন।
পাগলা ওঝা এতো সহজে দমে যাবার পাত্র না। পুকুর ঘাটে আসার আগে সে উঠোনে বড় আগুন করতে বলে এসেছে।
পাগলা ওঝা কিছুক্ষণ সময় শারমিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর আবার উঠোনে গিয়ে তার সাথের ঝোলা ব্যাগ থেকে বের করে আনে একটা মাটির মালসা।
সেখানে কী কী জানি ছিটিয়ে দিয়ে একটা পাটখড়ি চেয়ে নিল সে। উঠোনে বড় আগুন করা হচ্ছে।
একটা পাটখড়ি দিয়ে সেখান থেকে আগুন নিয়ে মাটির মালসায় আগুন ছোঁয়াতেই দপ করে আগুন জ্বলে উঠল। তারপর আবার সেই ব্যাগ থেকে কীসের গুঁড়া বের করে আগুনে খানিকটা ছিটিয়ে দিতেই বুনকা বুনকা ধোঁয়া বেরুতে শুরু করে দেয়।
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল সেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীর রঙ নীল। সেই নীল রঙের ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে পাগলা ওঝা আফসোসের সুরে বলল, "লক্ষণ ভালা না। লক্ষণ খুব খারাপ।"
মাটির মালসায় করে সেই নীল রঙের ধোঁয়ার আগুন এনে শারমিনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে পাগলা ওঝা। তার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই শারমিন তখন উঠে দাঁড়িয়ে প্রাণপণে ছুটে গিয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু তাকে ধরে ফেলে লোকজন।
উঠোনে বড় একটা চেয়ার নেওয়া হয়েছে। শারমিনের দাদার চেয়ার।
ভারি, মজবুত, হাতলওয়ালা। দুই তিনজন মানুষ মিলে টানাটানি করে চেয়ার নিয়ে যাওয়ার পরে শারমিনকে সেখানে বসিয়ে গরু বাঁধার দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হলো।
হাতের উপর কেটে কেটে বসে গেল গরু বাঁধার দড়ি। শারমিনের মায়ের চোখ দিয়ে জল পড়ছে অঝোর ধারায়।
শারমিন ফোঁসফোঁস করছে। পাগলা ওঝা তার মালসার আগুন এনে শারমিনের দিকে এগিয়ে গেল।
শারমিন চিৎকার করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপরের ঘটনা বড়ই করুণ।
গরু তাড়ানোর লাঠিটা দিয়ে শারমিনকে মেরে, নাকের সামনে শুকনো মরিচ পোড়া দিয়ে আর সেই সাথে সাথে গালিগালাজ করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শারমিনকে নিস্তেজ করে ফেলে পাগলা ওঝা। শারমিনের মাথাটা ঝুলে পড়ে যায় বুকের উপর।
পাগলা ওঝা তখন ইন্টারভিউ নিতে শুরু করে দেয়। "ক তুই কেডা?"
"কমু না!"
"তুই অহন যা!"
"যামু না!"
"ওরে, অহনো তর শিক্ষা হয় নাই?"
পাগলা ওঝা তখন তার ব্যাগ থেকে কীসের গুঁড়া বের করে আগুনে ছুঁড়ে মারল। শারমিন গগনবিদারী চিৎকার করে বললো, "যাইতাছি, যাইতাছি!"
"যাবি যে বুঝবাম কেমনে? ওই কলসিডা দাঁতে কামড়ায়া দরজার বাইরে লইয়া যা!"
যে চেয়ারটা টেনে তুলতে দুই তিনজন মানুষ মিলে গলদঘর্ম হয়ে যায়, শারমিন অনায়াসে সেই চেয়ারসহ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। সবাই তাকে দেখে অস্ফুটস্বরে চিৎকার করে ওঠে।
শারমিনের শরীরে তখন যেন অসুরের শক্তি ভর করেছে। চেয়ারসহই হেঁটে হেঁটে গিয়ে সে পানিভর্তি কলসিটা দাঁত দিয়ে কামড়ে তুলে নিয়ে রওনা দিল গেটের দিকে।
কিন্তু সেই দরজা পর্যন্ত যাওয়ার আগেই শারমিন আপা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। দাঁত থেকে কলসি পড়ে উঠোন ভিজে একেবারে কাদা কাদা হয়ে গেল।
শারমিন মাটিতে পড়ে আছে মুখ থুবড়ে। তার পিঠের ওপর চেয়ার তখনও শক্ত করে বাঁধা।
মারের চোটে নাক মুখ থেকে রক্ত পড়ছে। উঠোনের পানিতে মিশে যেতে থাকে শারমিনের রক্ত।
পাগলা ওঝা তখন হতাশ ভঙ্গিতে বলল, "আমি পারলাম না কত্তা। এইডা আমার খেমতার বাইরে।"
ঠিক তখন মাগরিবের আজান দিতে শুরু করেছে। কর্কশ শব্দে ডাকতে ডাকতে উড়ে যাচ্ছে কয়েকটা কাক।
উঠোন জুড়ে সবার নীরবতা খানখান করে দিয়ে শারমিনের মা চিৎকার করে কেঁদে উঠে বললেন, "হায়রে আমার সেরিডা মইরা যাইব! আমার সেরিডারে চেয়ারের নিচেত্থে বাইর কর কেউ!"
এই কথায় সম্বিত ফিরে এল সবার। দুই তিনজন মানুষ মিলে টানাটানি করে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা দড়ি কেটে চেয়ার তুলে নিয়ে গেল শারমিনের উপর থেকে। শারমিন তখনও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উঠোনে উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
মাছ!!!!
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
3K
Views
91
Likes
14
Comments
4.0
Rating