তিশা আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আকাশের নীলাভ রং ক্রমশ গাঢ় হয়ে রাতের কালোয় মিশছে। তিশার চোখে জল, মনে বেদনার সুর। প্রতিটা মুহূর্ত মনে করিয়ে দেয় অতীতের সেই সুখময় দিনগুলো।
তিশা আর আরাফাতের পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি। আরাফাতের মিষ্টি হাসি, তিশার চঞ্চলতা—দুজনের মধ্যে মিল ছিল অসীম। একসময় বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়। তারা স্বপ্ন দেখত একসাথে সুন্দর একটা ভবিষ্যতের।
কিন্তু জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই যে সুখের হয় না, সেটা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি তিশার। একদিন হঠাৎ করেই আরাফাত জানিয়ে দিল, সে বিদেশে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে। তিশা কিছু বলতে পারল না, শুধু চোখে জল এল। আরাফাত তিশাকে আশ্বাস দিল, সে ফিরে আসবে, আবার একসাথে থাকবে তারা।
বছর দুয়েক কেটে গেছে। আরাফাতের কোনো খোঁজ নেই। প্রথমে চিঠি, তারপর ফোন, সবই বন্ধ। তিশা বুঝতে পারল, আরাফাতের জীবনে তার আর কোনো জায়গা নেই। তিশার হৃদয় ভেঙে গেছে। প্রেমের সেই প্রতিশ্রুতি আজ শুধুই ধূসর স্মৃতি।
একদিন তিশা সিদ্ধান্ত নিল, সে আর কাঁদবে না। জীবনের এই কঠিন সত্যিকে মেনে নেবে। নিজের জন্য নতুন একটা পথ খুঁজবে। তিশা চাকরি পেয়ে গেল একটি বড় কোম্পানিতে। তার কাজের দক্ষতা তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলল। তবুও, রাতে একা থাকলে মনটা কেমন যেন খালি খালি লাগে।
একদিন, হঠাৎ করেই আরাফাতের ফোন। তিশা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারল না। আরাফাত বলল, সে ফিরে এসেছে, এবং তিশাকে আবার দেখতে চায়। তিশা দ্বিধায় পড়ল। পুরনো সেই স্মৃতিরা ফিরে এলো মনের মধ্যে। কিন্তু সে জানে, তার হৃদয় আবার ভাঙতে দিতে পারে না।
তিশা দেখা করতে গেল আরাফাতের সাথে। আরাফাত বলল, সে ভুল করেছে, তিশাকে ছাড়া সে বাঁচতে পারে না। কিন্তু তিশা এবার শক্ত মন নিয়ে বলল, "আরাফাত, আমি তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছি অনেক। কিন্তু এখন আমি নিজের জন্য বাঁচছি। আমি আর তোমার ছায়ায় ফিরে যেতে পারব না।"
আরাফাত কিছু বলল না, শুধু মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইল। তিশা ফিরে এল, মনে শান্তির এক সুর। সে জানে, জীবনের প্রতিটা অধ্যায়ই আমাদের কিছু শেখায়। আর ভাঙা হৃদয়ও একদিন নতুনভাবে সুস্থ হয়ে উঠে, নতুন পথে চলতে শেখায়।
তিশা আবার আকাশের দিকে তাকাল। নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায়, নতুন জীবনের স্বপ্নে।
ভাঙা হৃদয়
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
362
Views
6
Likes
2
Comments
5.0
Rating