জমিদার চলে যাওয়ার সাথে সাথে মাধুরী ঘরের এক কোনে টেবিলের উপর বসে ডায়েরি লেখা শুরু করে৷
তারিখ: ১৮৯৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি
জমিদার তার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়৷ আমার আজ মন ভীষণ খারাপ৷ আমি জানি না আমি এই নয়দিন কিভাবে এই ঘরে একা থাকবো৷ তাকে ছাড়া আমি যেনো অসহায় হয়ে পড়েছি৷ সে আমার চোখের সামনে নেই৷ আমার বুকের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগছে৷
এমন যদি হয় আমি তাকে সবসময়ের জন্য হারিয়ে ফেলি,তখন আমার কি হবে৷ এটা ভাবতেই আমার চোখ দিয়ে অজস্র জল পড়তে লাগলো৷ বুকে এক অদ্ভুত ব্যাথা অনুভব করতে পাচ্ছি৷ শ্বাস-প্রশ্বাস যেনো আটকে যাচ্ছে৷ সবকিছু কেমন হাহাকার করছে৷ কি আছে তার ভেতরে৷ সে আমার সামনে যতক্ষণ থাকে আমি কেনো এতো দুর্বল হয়ে যাই৷ তাকে ছাড়া কেনো আমি কিছু ভাবতে পারি না৷
কিছুক্ষণ পর দরজায় ঠকঠক শব্দ৷ মাধুরী টেবিলে ডায়েরি রেখে উঠে দাঁড়ায়৷
মাধুরী ভয় পেয়ে যায়৷ সে কোনো সাড়াশব্দ করলো না৷ বাহিরে থেকে কারা যেনো বলছে দরজা খোল, আমরা জানি তুই ভেতরে আছিস৷ মাধুরী চুপ করে সব শুনছে ভেতর থেকে৷
তারা ছিলো জমিদারের বন্ধু৷ রামচন্দ্র মিত্র আর দ্বীনেশ পাল৷ তারা চায় জমিদারকে মেরে জমিদার এর এই প্রাসাদ,ধন,সম্পদ সব হাতিয়ে নিতে৷ এবং মাধুরী দেবীকে চায় তাদের ভোগের জন্য৷ কিন্তু জমিদারের কারনে তা কখনো হয়ে উঠেনি৷
দুইজন মিলে দরজা বারি দিতে থাকলো৷ কিন্তু সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা চলে যাচ্ছে৷ তারা ভেবেছে এখানে কেউই নেই৷ তাদের মনের ভুল৷
মাধুরী কোনোরকম করে নয়দিন কাঁটিয়ে ফেলে৷
আজ জমিদারের আসার পালা৷ তার সাথে কি হয়েছে সে আজ সব বলবে৷ শুধু কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরার পালা৷
জমিদার কয়েক ঘন্টা পর মহলে আসে৷ সে দৌড়ে আসে মাধুরীর কাছে৷
আবারো দরজার ঠকঠক আওয়াজ৷ মাধুরী শুনছো,"আমি এসেছি"৷
মাধুরী জমিদারের গলার কন্ঠ শুনে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে তাকে হাত ধরে ভেতরে নিয়ে আসে এবং দরজা লাগিয়ে দেয়৷
জমিদার নিজেকে স্থির না রাখতে পেরে মাধুরীকে জড়িয়ে ধরে৷ মাধুরী ও তাকে জড়িয়ে ধরে৷ মাধুরী আস্তে আস্তে তাকে সব বলা শুরু করে যা হয়েছিলো তার সাথে৷
আপনি যাওয়ার পর আপনার বন্ধুরা এসেছিলো৷ অনেক বার তারা দরজায় কড়া নেড়েছে৷ কিন্ত আমি খুলিনি৷ তারা আপনার ক্ষতি করার জন্য ফাঁদ পেতে বসে আছে৷ আপনাকে তারা মেরে ফেলতে চায়৷ আর আমাকে এইটুকু বলার পর জমিদার মাধুরীকে চুপ করিয়ে দেয়৷
জমিদার বলে,আমি জানি ওরা কি করতে চায়৷ কিন্তু ওরা যে এই ঘরের ব্যাপারে জেনে গেছে তা আমার জানা ছিলো না৷ আমি আজ এর কোনো ব্যাবস্থা নিবো৷
তুমি তোমার আগের কক্ষে চলে যাও৷ আমার কিছু কাজ আছে৷ আর এখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে৷ একটু পর আসর বসবে৷ আজ তুমি কোনোভাবেই নৃত্য করবে না এবং নিচে ও নামবে না৷
মাধুরী সম্মতি জানিয়ে চলে যায়৷ আর জমিদার ও তার কাজে চলে যায়৷মাধুরী নিজের কক্ষে এসে উপস্থিত হয়৷ সে বাহিরে বের হয়ে উপরে থেকে লুকিয়ে সব দেখছে৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচে আসর বসে যায়৷
তার দুই বন্ধু নিচে বসে আছে৷ নর্তকী রূপা তাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়৷ রূপা নৃত্য আরম্ভ করেন৷ রামচন্দ্র আর দ্বীনেশ নেশায় মশগুল হয়ে পড়ে৷ তারা দুইজন রূপার শরীরে হাত দিয়ে বসে৷ রূপা নৃত্য বন্ধ করে দেয়৷
কি করছেন আপনারা৷ ছাড়ুন আমায়৷ রামচন্দ্র রূপার শাড়ীর আঁচল নিয়ে টানাটানি করছে৷ দ্বীনেশ রূপার পেটে হাত দিয়ে বসে৷ রূপা দ্বীনেশ এর মুখে চড় বসিয়ে দেয়৷ দ্বীনেশ রাগে রূপার চুলের মুঠি ধরে আর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে৷ রূপা তাদের কাছে থেকে দৌড়ে পালায়৷ রাম আর দ্বীনেশ হাতে হাতুড়ি নিয়ে রূপার পিছু নেয়৷ মাধুরী ও লুকিয়ে তাদের পিছে যায়৷ রূপা সেই কাঠের দরজার ভেতরে প্রাচীনঘরে প্রবেশ করে এবং দরজা লাগিয়ে দেয়৷ রূপা আরো সামনে যেয়ে দেখে আরেকটি দরজা রামচন্দ্র আর দ্বীনেশ দরজা বারি দিয়ে খুলে ফেলে৷ রূপা সেই দরজা খুলতেই দেখে নিচে ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ রূপা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে পড়ে যায়৷ তার নাক, মাথা,মুখ ফেঁটে র*ক্ত
বেড়িয়ে আসে৷ আর তারা দুইজন ভেবেছে রূপা মারা গেছে৷ তাই তারা পালিয়ে যায়৷
তারা যাওয়ার পর মাধুরী দেবী এসে রূপা,রূপা বলে চিৎকার করতে থাকে৷
চলবে!
বি:দ্র: (কেউ কপি করে নিজের বলে চালিয়ে দিবেন না)৷
নর্তকীর মহল
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
312
Views
5
Likes
6
Comments
3.0
Rating