একদা এক কারারক্ষী ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলকে জালিম ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে জানতে চায় আর এ ঘটনাটি ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ) তার 'মানাকিবুল ইমাম আহমাদ (১/৪৩১)' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
- ইমাম ইবনু হাম্বল! বসুন।
- ওহে কারারক্ষী! আমাকে এখানে কেন নিয়ে এলে?
- আমি ইমামের নিকট রসূল (সঃ) এর একটি হাদীস সম্পর্কে জানতে চাই।
- কোন হাদীসের কথা বলছো?
- জালিম ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে যে হাদীসটি রয়েছে সেটি। সেটা কি সহীহ?
- জালেমদের সম্পর্কে হাদীস তো অগণিত। এই সম্পর্কে একটি সহীহ হাদীস হলোঃ (সনদের ধারা বর্ণনা)
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একদা নবীজি কা’ব বিন উজরাহকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে নির্বোধদের শাসনকাল থেকে রক্ষা করুন। কা’ব বললেন,নির্বোধদের শাসনকাল কী? তিনি বললেন,এক শ্রেণীর শাসক যারা আমার পরবর্তীতে আসবে;আমার আদর্শে আদর্শবান তারা হবে না এবং আমার পথও অবলম্বন করবে না। সুতরাং যারা তাদের মিথ্যাবাদিতা সত্ত্বেও তাদেরকে সত্যবাদী মনে করবে এবং জুলমের ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করবে তারা আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের নই। তারা আমার হাউজের পানি পান করতে পারবেনা।
- হে ইমাম! আমি কি জালিমের সহযোগী?
- না,তুমি জালিমের সহযোগী নও। জালিমের সহযোগী হলো তারা,যারা তাদের চুল আঁচড়ে দেয়,কাপড় ধুয়ে দেয়,সামনে খাবার পরিবেশন করে। জালিমের সহযোগী হলো তারা, যারা তাদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করে।
হে কারারক্ষী! তুমি জালিমের সহযোগী নও। বরং তুমি নিজেই জালেমদের একজন।
যারা আজ তাদের উপরস্থ জালিম শাসকদের কথামতো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বিভিন্ন অন্যায়-অবিচার,জুলুম-নির্যাতনে অংশ নিচ্ছে তাদের ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে,
“আর তারা বলবে-হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আমাদের নেতাদেরকে ও আমাদের প্রধানদেরকে মান্য করতাম। তারাই আমাদেরকে গুমরাহ করেছিল। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও,আর তাদেরকে মহা অভিশাপে অভিশাপ দাও” [সূরা আহযাবঃ ৬৭-৬৮]
অর্থাৎ আপনি এ কথা বলে আল্লাহর কাছে পাড় পাবেন না যে আমি নিরুপায় ছিলাম তাই তাদের কথামতো অন্যায়-অবিচার,জুলুম-নির্যাতনে নিজেকে শামিল করেছি,শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে তবে হয়তো শাস্তির পরিমাণে কম-বেশি হতে পারে। জীবনের পরিকল্পনাটা এতোটাই সহজ না,ধরুন আপনার মদের ব্যবসা আছে এখন এটা থেকে যে আয় হয় সেটার একটা ভালো অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করেন তাই বলে কি আপনার মদের ব্যবসাটা হালাল হয়ে যাবে! নিশ্চয়ই না,ঠিক তেমনি জালিমের কথামতো চলে নিজেকে স্রেফ জালিমের সহযোগী মনে করতে পারবেন না কারণ আপনারা ছিলেন বলেই জালিম নিরপরাধ মানুষের উপর জুলুম করতে সাহস পাচ্ছে। তাদের কথামতো আপনি কলমের এক খোঁচায় নয়কে ছয় করছেন,অপরাধীকে নিরপরাধী আর নিরপরাধীকে অপরাধী করছেন,আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা ভাইদের জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে নির্মূল করছেন অপরদিকে আল্লাহ ও তার নবীকে কটাক্ষ করা লোকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন,গুম-খুন ইত্যাদিতে মেতে উঠছেন। এখানে জালিম শুধু হুকুম দিচ্ছে আর পরবর্তী সবকিছু আপনারা সম্পূর্ণ করছেন।
যাইহোক,প্রত্যেককে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করতে হবে হোক সেটা আজ নাহয় কাল। দুনিয়াতে ক্ষমতার দাপটে হয়তো বেঁচে যাবেন কিন্তু পরকালে তার কাছ থেকে কিভাবে বাঁচবেন যার কাছে বিন্দু পরিমাণ খারাপ বা ভালো কাজের বিন্দু পরিমাণ অবিচার হবে না।
গুমরাহীর অভিশাপ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
267
Views
5
Likes
2
Comments
5.0
Rating