সেই প্রত্যন্ত গ্রামের নাম ছিলো শ্যামপুর। গ্রামটি সবুজে ঘেরা, নদীর কোল ঘেঁষে ছিলো তাদের বসতি। একদিন হঠাৎ করেই গ্রামের এক কোণে অজানা এক ফসল জন্ম নেয়। এই ফসল দেখতে অদ্ভুত সুন্দর; তার রঙ উজ্জ্বল লাল, আর তার গন্ধ মিষ্টি।
গ্রামের কৃষক, মধুসূদন, প্রথম এই ফসল আবিষ্কার করে। তিনি ভাবলেন, নতুন কোনো ফলের গাছ। ফসলটি কেটে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার স্ত্রী, শোভা, ফসলটি দেখে খুব খুশি হয়। তারা দুজনে সেই রাতেই ফসল রান্না করে খায়।
রাতে হঠাৎ মধুসূদন ও শোভা অস্বাভাবিক ব্যথায় জেগে ওঠে। তাদের শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন হতে থাকে। চোখের রঙ লালচে হয়ে ওঠে, মুখে দাঁতগুলো ধারালো হয়, আর মনোবৃত্তি হিংস্র হয়ে যায়। তারা গ্রামবাসীদের আক্রমণ করতে শুরু করে, তাদের রক্তপান করে।
গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারে, মধুসূদন ও শোভার এই পরিবর্তনের কারণ সেই অজানা ফসল। গ্রামপ্রধান, নারায়ণ, একটি সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নেন, ফসলের উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং তাকে ধ্বংস করতে হবে।
নারায়ণ ও তার দল ফসলের গাছ খুঁজে বের করে। তারা দেখে, গাছটি অস্বাভাবিক বড় হয়ে উঠেছে এবং তার চারপাশে মৃত পাখি ও প্রাণী পড়ে আছে। তারা বুঝতে পারে, এই গাছ বিষাক্ত।
নারায়ণ ও তার দল গাছটিকে কেটে ফেলে এবং গাছের সমস্ত অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গ্রামের সব ফসল পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হয়, অন্য কোথাও এই বিষাক্ত ফসল জন্মায়নি।
গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। মধুসূদন ও শোভা ধীরে ধীরে তাদের হিংস্রতা হারিয়ে ফেলে। তারা আবার তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু গ্রামের মানুষরা এই ঘটনার শিক্ষা নিয়ে, ভবিষ্যতে কোনো অজানা ফসল খাওয়ার আগে অনেক সাবধান হয়ে ওঠে।
শ্যামপুর আবারও শান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে, কিন্তু তাদের মনে এই ঘটনার স্মৃতি চিরকাল রয়ে যায়।
বিষাক্ত ফসল
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
294
Views
6
Likes
3
Comments
4.1
Rating