বললাম মা তুমি এতো কষ্ট কেনো করো কে বলেছে তোমাকে দাড়াতে? তুমি বসে থাকো।
মা বলে উঠলো সাড়া দিন বাহিরে থাকিস বাড়িতে এসে একটু আরাম করবি সেখানে তোর আমাকে সেবা করা লাগে এক গ্লাস পানি দেয়ার মতো লোক নাই, দেখলাম মা বলতে বলতে চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত করে ফেলেছে, আমি বললাম মা তুমি আমাকে নিয়ে টেনশন করো না আমি একদম ঠিক আছি।
মাকে খাবার ও ওষুধ খাওয়ানো শেষ করে বিছানায় পিঠ লাগাতেই কে যেনো দরজায় কড়া নাড়লো, কয়েকবার নাড়ার পর এগিয়ে গিয়ে দরজা খুললাম মনে মনে বললাম কে আসলো আবার এতো রাতে, দরজা খুলতেই দেখলাম নীলার পিছনে লাগানো গোয়েন্দা ছেলে দুইটা, ওদের দেখে বলে উঠলাম কি খবর? দুইজনের মুখ চিতল মাছের মত করে আছে, আবার জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার, দুই জন একসাথে বলে উঠল স্যার খবর বেশি ভালো না, ভালো না শুনে ওদের আমার ঘরে নিয়ে বসালাম,বল কি হয়েছে?
একজন বলা আরম্ভ করলো, কিন্তু যেটা বললো সেটা শুনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না ওরাও নীলাকে ডাইরেক্ট বললো ভূত, বললো স্যার ওতো একটা ভূত,ভূত বলায় রেগে গিয়ে একটাকে দিয়ে দিলাম এক থাপ্পর এতো সুন্দর মেয়েকে ভূত বলে মূর্খ কথাকার, থাপ্পর খেয়েও বলতেছে স্যার সত্যি বলতাছি ও একটা ভূত, আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম বল কাহিনী কি?
স্যার আপনি তো জানেন ওর বাবা মা এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে কিন্তু ঐদিন কিন্তু ঐ গাড়িতে ও ছিলো,আর সেদিন শুধু ওর মা বাবাই মরে নাই সাথে ও মারা গিয়েছিল, আমি ওদেরকে বললাম দূর ব্যাটা পাগল হয়েছিস একটা জল জ্যান্ত মানুষ
আবার বললো হ্যাঁ স্যার মারা গিয়েছিল এমন কি ওরে কবর ও দেয়া হয়েছিলো, ওদের কথা শুনে মনে হচ্ছে কসায়ে আরেকটা দেই, যদি কবর দিতো তাহলে এখনো দুনিয়ায় কি করে?
ওরা বলে উঠলো স্যার আগে তো পুরাটা শুনেন ওকে নাকি কবর দেওয়ার পরের দিন থেকে ঐ কবর থেকে অদ্ভুত আওয়াজ বের হতো রাস্তার পাশে দিয়ে যে যেতো সে শুনতে পেতো, তার কয়েকদিন পর থেকে দেখা গেলো কবরটা গর্ত করা এলাকাবাসী ভেবেছে হয়তো শিয়াল বা অন্য কোন জানোয়ার নিয়ে গেছে, কিন্তু কবর গর্তের কিছু দিন পর নাকি সে তার মামার বাসায় গিয়ে হাজির হয়, এবং তাকে কবর দেওয়ার আগে পর্যন্ত তার চেহারা দেখতে শ্যামলা বর্ণের ছিল কিন্তু কবর থেকে উঠে আসা পর থেকে তার চেহারা ফেকাশে ফর্সা রুপ ধারন করে, তার মামা তাকে তার বাসায় থাকতে দিতে চায়নি কিন্তু সে নানা ভাবে বুঝিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে নিজে,এতোখন যা শুনেছি কল্পনা মনে হলেও ফর্সার কথা একটু বিশ্বাস হতে লাগলো।
একজন মানুষ কখনো এতো সুন্দর হতে পারে না, সেটা আমিও প্রথম দিন থেকেই সন্দেহ করেছিলাম, তারপর ওদের দুজনকে বিদায় দিয়ে শুয়ে পড়লাম কিন্তু চোখে ঘুম আসছিলোনা এপাশ ওপাশ করতে করতে শেষ রাতে ঘুম আসলো, ঘুম আসার পর স্বপ্নে নীলাকে আবিষ্কার করলাম,সে নীল শাড়ী তার নীল চোখ অদ্ভুত চরিত্র নিয়ে হাজির এসে বললো তুমি আমার পিছনে মানুষ লাগিয়ে তথ্য জেনেছো তবে এটা বেশি ভালো করোনি, এটা বলেই সে চলে গেল সাথে সাথে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, দেখলাম প্রচুর ঘেমে গেছি তাহলে আমার সন্দেহ কি সঠিক, আমি যে তার পিছনে গোয়েন্দা লাগিয়েছি তা কি করে জানলো,ছোট বেলায় শুনেছি অদৃশ্য জগতকে নাকি
ভূতেরা দেখতে পায়,আর ঘুম হলো না, সকালে ডিশিশান নিলাম কোচিং থেকে আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হয়ে নীলার সাথে দেখা করতে যাবো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কোচিং গেলাম দুইটা ক্লাস করিয়ে ছুটি নিয়ে ছুটলাম নীলাদের বাসার উদ্দেশ্যে, মনে আমার প্রচুর আনন্দ সাথে থাকলো একটু ভয় ও তারাহুড়া, মনে মনে ভাবলাম বাসটা এতো আস্তে আস্তে চালাতেছে ক্যান? মনের অজান্তেই ড্রাইভারকে ডাক দিয়ে বললাম কি ব্যাপার মামা গাড়ি এতো আস্তে আস্তে চালাচ্ছো কেনো?
মামাতো রেগে আগুন বলে দিলো এতো দরকার হলে হেলিকপ্টার ভাড়া করে যান, পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম বাস তার নিজ গতিতে চলছে গতি মাত্রা অতিক্রম করেছে আমার মন, মনে শুধু ছটফট কখন পৌছাবো কখন দেখবো প্রিয় মানুষটিকে।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ খেয়াল করলাম বাহিরে বৃষ্টি নেমে গেছে, বৃষ্টির মাঝে গাড়িখানা আমাকে নামিয়ে দিলো,কোন রকম বিজতে বিজতে এসে পৌঁছালাম চির চিনা নীলার বাড়ি সামনে মনে কিছুটা দ্বিধা যদি নীলার মামা কিছু মনে করে, দূর মনে করূক ভাবতে ভাবতে দরজায় নক করলাম কিছুক্ষণ পর এসে নীলার পাকা মামাতো বোনটা দরজা খুললো।আমি আরো লজ্জায় পরে গেলাম,ও বলে উঠলো কি ব্যাপার দুলাভাই সহ্য হয়না নাকি?
শুনো মেয়ের কথা আমি আমতা আমতা করে উত্তর দিলাম না মনে, না মানে বলতে হবে না ঘরে আসেন ঘুরে ঢুকতেই দেখি নীলার মামা মামানি দাঁড়িয়ে আছে, আমাকে দেখে কি ব্যাপার শামিম সাহেব কি বলবো বুঝে উঠতে না পেরে বললাম এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম তো তাই চিন্তা করলাম একটু দেখা করে যাই, ভদ্রলোক বললো বসেন বসেন ওনাদের পাকা মেয়েকে বললো যা নীলাকে ডেকে দে আর ওনার স্ত্রী কে মানে নীলার মামানিকে বললো শামিম সাহেবর জন্য খাবাররে আয়োজন করো।
নীলার মামাতো বোন ঘুরে এসে জানালো নীলা রূমে নাই ভদ্রলোক বললো হয়তো ছাদে আছে, আমি হঠাৎ করে বলে উঠলাম মামা আমি ছাদে যাই?
হঠাৎ একথা শুনে একটু চুপ করে গেলেন কিন্তু পরক্ষনেই একটু হাসি দিয়ে বললো ঠিক আছে যান
বরফ কন্যা ৪
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
435
Views
10
Likes
1
Comments
4.0
Rating